খুঁজুন
                               
, ,
           

কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে ‘সমন্বয়ের রাজনীতি’, প্রশাসন-পুলিশকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে ‘সমন্বয়ের রাজনীতি’, প্রশাসন-পুলিশকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট নিরসন এবং সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

দায়িত্ব পাওয়ার পর কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে জেলার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার সমন্বয়েই জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমস্যা শুনলেন, দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস
সভায় কিশোরগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। জেলার রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেও উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জনদুর্ভোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বলেন, জেলার সাম্প্রতিক আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জের সার্বিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসন কার্যকরভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শুরুতেই গুরুত্বের সঙ্গে যে কাজটি করলেন প্রতিমন্ত্রী
বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম মতবিনিময় সভাতেই জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়গুলো সরাসরি শোনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ পরিবেশ, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং মাদকমুক্ত সামাজিক পরিবেশও একটি জেলার টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শুরুতেই এই কাজটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর আলম হত্যাকাণ্ডসহ জেলার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল এবং হত্যার হুমকির বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির নেতারা।

  • আইনশৃঙ্খলা, মাদক, যানজট ও সাম্প্রতিক সহিংসতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের তাগিদ
  • প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চান রাজনৈতিক নেতারা

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কঠোর এবং জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ ধরনের দাবি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোনো জেলার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, হুমকি, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড কিংবা মাদক বিস্তারের মতো বিষয়গুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যানজট-মাদকেও নজর জরুরি
কিশোরগঞ্জ শহরের যানজটও সভায় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। শহরের সড়কব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান চাপ, অপরিকল্পিত পার্কিং, সড়কের জায়গার যথাযথ ব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, মাদকের বিস্তারও শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বড় বাধা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

সমস্যা সমাধানে জোর সমন্বয়ে
জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই সভা থেকে একটি বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে সেটি হলো—কিশোরগঞ্জের সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের হাতে রয়েছে নীতিগত ও নির্বাহী ক্ষমতা, পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের রয়েছে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও স্থানীয় বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগ। এই তিন পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।

দলমতের ঊর্ধ্বে কিশোরগঞ্জের স্বার্থ
সভা শেষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। কিশোরগঞ্জের সামনে উন্নয়নের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা, মাদক, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু জেলার নিরাপত্তা, মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং উন্নয়নের প্রশ্নে একটি অভিন্ন অবস্থান জরুরি। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রথম মতবিনিময় সভা সেই সমন্বিত উদ্যোগের একটি প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো যত দ্রুত বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া এবং প্রশাসন-পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় আরও কার্যকর করার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন কিশোরগঞ্জবাসী।

কালের আলো/এমএএএমকে

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ফাইনালে মোহনপুর

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ফাইনালে মোহনপুর

রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম সেমিফাইনালে পবা উপজেলা ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মোহনপুর।

সোমবার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৭ হাজার দর্শক। ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারিতে ম্যাচজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। দুই দলই বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে দুই দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোল করে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই সফল হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

দুই দলই নিজেদের শক্তি বাড়াতে নাইজেরিয়ান ফুটবলার দলে নিয়েছিল। মোহনপুরের দলে ছিলেন দুজন নাইজেরিয়ান খেলোয়াড়, আর পবার দলে ছিলেন একজন। পবা মূলত তাদের নাইজেরিয়ান ফুটবলার বেনজামাকে দিয়ে আক্রমণ পরিচালনার চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।

শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে পবাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল।

ম্যাচটি পরিচালনা করেন রেফারি আক্তার হোসেন। খেলা উপভোগ করতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মুখোমুখি হবে পুঠিয়া উপজেলা ফুটবল দল ও দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল। ওই ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে মোহনপুরের প্রতিপক্ষ হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৪

জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৪

জামালপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রাজিব পরিবহনের বাসটি লাহেরীকান্দা এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। প্রাথমিকভাবে দুইজনের মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আরও দুইজনের মরদেহ ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে জানা গেছে। বাসের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর অভিযোগ তুলে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। উল্টে থাকা বাসটি সরানোর কাজও চলছে। দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। দীর্ঘ ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা।

তবে ফাইনালের পরপরই অবসরের ঘোষণা দেননি মেসি। বরং ২১ জুলাই দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, ফাইনালের পরের যন্ত্রণা কাটতে সময় লাগবে এবং বিশ্বকাপে দলের অর্জন ও সমর্থকদের ভালোবাসাকে তিনি স্মরণীয় করে রাখতে চান। তখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি।

এরপর আগস্টে বাবার মৃত্যু মেসির সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর মেসি নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন।

এবার সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন তিনি।

মেসি তার চিঠির শুরুতেই লিখেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভাবার পর তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের হলেও এটিই সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগেও প্রতিটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

মেসির ভাষায়, জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার কাছে সবসময়ই ছিল ভালোবাসার বিষয়। তবে এখন মনে হচ্ছে, তার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। একই সঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জায়গা করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।

সবচেয়ে আবেগঘন বার্তাটি এসেছে সমর্থকদের উদ্দেশে। দুই দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় সমর্থকদের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তিনি কখনো ভুলবেন না বলে জানিয়েছেন।

এখন থেকে মাঠের ভেতর নয়, গ্যালারির বাইরে থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করবেন তিনি। অর্থাৎ, জাতীয় দলের জার্সিতে আর নয়—একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবেই প্রিয় দলকে অনুসরণ করবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

মেসি তার পরিবার, জাতীয় দলের সতীর্থ, কোচ ও কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিঠির শেষদিকে মেসি লিখেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে পাওয়া সব অর্জন ও স্মৃতি নিয়ে তিনি গর্বিত। সতীর্থদের সঙ্গে মিলে দেশকে কিছু ‘স্বপ্নের মুহূর্ত’ উপহার দিতে পেরেছেন- এটাই তার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।

এরপর ভালোবাসা ও আবেগে তিনি লিখেছেন- ঈশ্বর তাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। শেষ করেছেন, ‘গো আর্জেন্টিনা!’ বার্তা দিয়ে।

তবে মেসির প্রকাশিত চিঠির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এর সময়কাল। তিনি জানিয়েছেন, চিঠিটি মূলত লিখেছিলেন ২১ জুলাই- বিশ্বকাপ ফাইনালের দুদিন পর। অর্থাৎ স্পেনের কাছে হারের পরই জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

দুই দশকের অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। দীর্ঘ দুই দশকে তিনি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমা জয়ের পাশাপাশি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। আসরে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এএফএ) উল্লেখ করেছে।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাও পূরণ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে শিরোপা ধরে রাখার শেষ সুযোগটি স্পেনের কাছে হেরে শেষ হয়।

এবার সেই হারের কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেন তিনি। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাচ্ছে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালটিই।

একটি যুগের শেষ- মেসি আর আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামবেন না। তবে তার রেখে যাওয়া স্মৃতি, অর্জন ও অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

কালের আলো/এম/এএইচ