খুঁজুন
                               
, ,
           

কওমি মাদরাসায় ৬ বোর্ড, দেশেই তৈরি হবে ড্রোন: জ্বালানি সংকটেও বড় পরিকল্পনা সরকারের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
কওমি মাদরাসায় ৬ বোর্ড, দেশেই তৈরি হবে ড্রোন: জ্বালানি সংকটেও বড় পরিকল্পনা সরকারের

দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে নির্দিষ্ট দুটি মাদরাসা পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস অনুসন্ধান, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল স্থাপনের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

কওমি মাদরাসায় ছয় শিক্ষা বোর্ড
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে আইন প্রণয়ন করা হয়।

ওই আইনের আওতায় ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডগুলো হলো—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

কওমি সনদে মিলবে চাকরির সুযোগ
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ তৈরির বিষয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় সহকারী মৌলভী (ক্বারী) এবং ইবতেদায়ি ক্বারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে কাম্য যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদধারীরাও সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে চাকরির জন্য নতুন সুযোগ পাবেন।

দেশেই তৈরি হবে ড্রোন
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার বিষয়েও সংসদে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘Instruction regarding In Aid to the Civil Power’-এর আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালীন সময়ে অসামরিক প্রশাসনকে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়। The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ১২৯ ধারার আওতায় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

গ্যাস সংকট কাটাতে ১৫০ কূপের কর্মসূচি
দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে সাইসমিক জরিপ
নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে বড় পরিসরে সাইসমিক জরিপের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আওতায় ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

অফশোর-অনশোর অনুসন্ধানে জোর
গ্যাস অনুসন্ধানে সমুদ্র ও স্থল—দুই ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াতেও রয়েছে। অফশোর ও অনশোর উভয় ক্ষেত্রে গ্যাসের নতুন মজুত পাওয়া গেলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

২০২৮ সালের মধ্যে বাড়বে এলএনজি আমদানি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোম এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই টার্মিনাল দিয়ে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে কওমি শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও চাকরির সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে—এমনটাই সরকারের প্রত্যাশা।

কালের আলো/এম/এএইচ

হরমুজ খোলা রাখতে সব পক্ষের আলোচনার প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
হরমুজ খোলা রাখতে সব পক্ষের আলোচনার প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশির কল্যাণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চলমান সংঘাতের কারণে তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।

হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ সব সময়ই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে চায়।

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা আগ্রাসনে বাংলাদেশের সমর্থন নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু কোনো একটি পক্ষের ওপর নির্ভরশীল বিষয় নয়। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বার্থের জায়গা থেকে পথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের যানবাহনসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আটকে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে জলপথটি খুলে গেলে এসব বিষয় দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রধানমন্ত্রী এখনো নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: রুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী এখনো নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: রুমন

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানুষিক নির্যাতন করার কথা তুলে ধরে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনো তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন, তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ বছরে যদি আমরা সেই প্রতিশোধগুলোই নিতে যাই তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের প্রিয় নেতাকে ভোটের মাধ্যমে তাদের যে আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রধানমন্ত্রী করেছেন সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান চান দুঃসহ স্মৃতিগুলো পেছনে ঠেলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যেতে।’

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘বিগত সময় বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে ঠিক ওই সময় আমাদের প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের প্রিয় নেতার ভালো কাজগুলো ভূলুণ্ঠিত না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন সকলেই বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলসহ বিএনপি নেতাদের আমি বলব, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো যেন আমরা হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সফল করতে পারি।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন এ দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ সেই প্রমাণ রেখেছে একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। স্বৈরাচার এরশাদ ও ওয়ান ইলেভেন সরকারকে হটিয়েছেন তারা। সর্বশেষ ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জুলাইয়ে যুদ্ধ করে শেখ হাসিনার মতো দানব স্বৈরাচারকে হটিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের প্রিয় নেতার ১৯তম কারামুক্তি দিবসে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে দুঃসময়ের করুণ কথাগুলো। বিগত ১৯ বছরে এই দিবসটি যথাসময়ে আমরা পালন করেছি। আজও পালন করছি। কিন্তু আজকের চিত্র আর ওই দুঃসময়ের চিত্র এক ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিভাবে সে সময়ে অনুষ্ঠান সফল করেছিলাম আপনারা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। সে সময় এই দিবস পালন করতে গিয়ে স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি, কারাবরণসহ বিভিন্নভাবে আপনারা নির্যাতিত হয়েছেন। তবুও চুপ থাকেননি। আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল দিবসটি পালনে যথাযথ সহায়তা করেছেন।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান হবে, আমরা সাংবাদিকদের জানিয়েছি আর জানিয়েছি বিশ্বস্ত নেতাদের। আমরা অনেকটা গোপনে ডেকেছি, প্রশাসনকে জানতে দেইনি কোথায়, কখন অনুষ্ঠান হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের জানিয়েছি দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে। ওই সময় অনেক সাংবাদিকের কথা মনে পড়ে যারা আমাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন, যা অতুলনীয়। যাদের সহযোগিতায় আমরা প্রচার পেয়েছি, আমরা উদ্দীপনা পেয়েছি এবং আমরা অনুষ্ঠানগুলো সফল করতে পেরেছি।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিএনপি কোনো বট-বাহিনী চালায় না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
বিএনপি কোনো বট-বাহিনী চালায় না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিএনপি কোনো বট-বাহিনী পরিচালনা করে না বলে দলটির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের তথ্য তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।  একইসঙ্গে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে ম্যানুয়াল ফ্যাক্ট চেকিংয়ের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে শেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুলের সম্পূরক প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনও বট-বাহিনী চালায় না। যার কারণে বিএনপির ছয় মাসের ৬০টি।  অন্যান্য দলের যেই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষভাবে করি এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য শুধু ম্যানুয়াল নয়, আমরা অটোমেটেডভাবে ফ্যাক্ট চেকিং করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। অচিরেই এই বিষয়ে আমরা সংসদকে অবহিত করতে পারব বলে আশা করি।’

এর আগে বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানো অপতথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক নিউজের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র অভিযোগ করা যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট মিডিয়া যারা চালায়, তারা অনলাইন মিডিয়ার দিকে আক্রমণ করে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ালেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। যেহেতু কেবল প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, এই বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল যেটি রয়েছে, সেটিকে যুগোপযোগী করা হবে কি না? এবং অনলাইন ভার্সনে কাউকে যদি ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়, যেমন আমি এই সংসদে বসুন্ধরা মিডিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক কথা বলার পরে ৪৮ ঘণ্টায় আমার বিরুদ্ধে ১০৯টি উদ্দেশ্যমূলক নিউজ করানো হয়েছে।

এখন প্রেস কাউন্সিলে সেটি নিয়ে অভিযোগ দেওয়া যায়নি। কারণ এগুলো যেহেতু প্রিন্ট মিডিয়ায় আসেনি। তো আজকে আপনার কাছে প্রশ্ন, বিরোধী দলকে টার্গেট করে এভাবে যে অপতথ্য সবসময় করে যাওয়া হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা প্রেস কাউন্সিলে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি এবং এই আইনটি সংশোধন করা হবে কি না।’

জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত বলতে গেলে একটি নোটিশের প্রয়োজন। তারপরও আমি একটু বলতে চাই, যদি শুধু বিরোধীদলীয় সদস্যদের আক্রমণ করা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের মা-বোনদেরকেও আক্রমণ করা হচ্ছে। আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দলের সদস্যদেরকেও এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। প্রেস কাউন্সিল আমরা রিভ্যাম্প করছি। সুন্দরভাবে প্রেস কাউন্সিল গঠন করা হবে এবং আপনি যেই অনলাইনের কথা বলেছেন, সেটাও আমাদের বিবেচনার মধ্যে আছে। আমরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে।’

অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেই বিষয়ে অন্যান্য দেশে কী কী পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেছে, বিষয়টি আমরাও বিবেচনা করছি। আমরা এই বিষয়ে কনসালটেশন করছি। আমরা একটি সুন্দর কাঠামো দাঁড় করাতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ