খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাপানো নোটের তীব্র সংকট

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
ছাপানো নোটের তীব্র সংকট

কোরবানির ঈদে ছাপানো টাকার চাহিদা অনেক বেড়েছিল। চাহিদা মেটাতে ঈদের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকশালের কাছে ১৬ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়। তবে টাকশাল দিতে পেরেছে অর্ধেকেরও কম। আবার ঈদের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংকটের কারণে টাকা উত্তোলন বেড়ে গেছে। মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ বেড়ে সংকট বেড়েছে। ঈদের পর শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে ছাপানো নোটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে অর্থ পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার মাধ্যমে তারল্য ও মুদ্রা সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকের কোনো শাখা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা ভল্টে রাখতে পারে না। বেশি হলেই তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় জমা দেয়। আবার যখন দরকার হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের বিপরীতে উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা জমা ও উত্তোলন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সব সময় ছেঁড়াফাটা, ক্রটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট ব্যাংকগুলোর কাছে এলে তা আলাদা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে থাকে। এ ধরনের নোট পুড়িয়ে ফেলে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমমূল্যের নতুন নোট দিয়ে থাকে।

সাধারণভাবে পুরোনো নোট এটিএম বুথে দেওয়া যায় না। ছাপানো নোটের সংকট আর তারল্য সংকট এক না। সব মিলিয়ে এখন সঞ্চয় রয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো। অথচ ছাপানো নোট রয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ছাপা নোটের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এ সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্দোলনের মুখে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট ছাড়া স্থগিত করা হয়। একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগের পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লেগে যায়। এতে করে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য তৈরি হয়ে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকাররা আরও জানান, ছাপা নোটের বড় একটি অংশ ব্যবসায়িক কাজে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষের কাছে থাকে। আর সারাদেশে ব্যাংকগুলোর ১২ হাজারের মতো শাখার ভল্টে থাকে ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো বাজার থেকে প্রতিনিয়ত পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগ বা ময়লাযুক্ত টাকা তুলে তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলা কিউআরের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ব্যাংকিংয়ের হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলা কিউআরের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ব্যাংকিংয়ের হিসাব

দেশে ব্যাংকিং সেবার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ব্যাংকের শাখা কিংবা ওয়েবসাইটের পরিবর্তে স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করেই এখন ব্যাংকিংয়ের বড় অংশের কাজ সারছেন গ্রাহকরা। এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা বাংলা কিউআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই শেষে দেশে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এক বছর আগে, গত বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ ৬৬ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ, যা প্রায় তিন গুণ।

২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেনের জন্য বাংলা কিউআর চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলা কিউআরের ফলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকের গ্রাহককে শুধু সেই ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন করতে হচ্ছে না। যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও কিউআরভিত্তিক লেনদেনের আগ্রহ বাড়ছে।

অ্যাপ ব্যবহারকারীর পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। গত জুলাইয়ে ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এক বছর আগে, গত আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। অবশ্য একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল গত জুনে—১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কমছে ব্রাউজারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার। গত জুলাই শেষে ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেবা নেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৮৯ হাজার। বিপরীতে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি।

অ্যাপ ও ব্রাউজার মিলিয়ে গত জুলাই শেষে মোট ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। গত বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, একসময় অ্যাপভিত্তিক লেনদেনকে মূলত এমএফএসের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হতো। বাংলা কিউআর চালুর পর ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছে। যেসব ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ ছিল না, তাদেরও এ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফলে বাংলা কিউআর এখন শুধু একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা নয়; এটি ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা, অ্যাপ ব্যবহার এবং গ্রাহকের দৈনন্দিন আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করছে।

ব্যাংকিং অ্যাপের ব্যবহার বৃদ্ধির এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে বাংলা কিউআর ও অ্যাপভিত্তিক সেবা আরও বিস্তৃত হলে স্মার্টফোনই হয়ে উঠতে পারে দৈনন্দিন ব্যাংকিংয়ের প্রধান মাধ্যম।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জরুরি সংকেতের পর নিখোঁজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, মিলল ধ্বংসাবশেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
জরুরি সংকেতের পর নিখোঁজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, মিলল ধ্বংসাবশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ন্যান্টাকেট দ্বীপের উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। তবে বিমানটিতে থাকা ছয় আরোহীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের জানায়, সি-জিআরজেপি টেইল নম্বরের একটি গালফস্ট্রিম জি১০০ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এরপর ন্যান্টাকেটের আশপাশের বিশাল সমুদ্র এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর বিমানটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধ্বংসাবশেষের এলাকা শনাক্ত করা হয়। কানাডাভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালিত বিমানটিতে চারজন ক্রু ও দুজন যাত্রী ছিলেন।

কোম্পানির মুখপাত্র ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ জানিয়েছেন, আরোহীদের মধ্যে ছিলেন দুজন পাইলট, দুজন চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী ও রোগীর পরিবারের একজন সদস্য। চার ক্রু কানাডার নাগরিক এবং দুই যাত্রী বারমুডার নাগরিক।

প্রাথমিক ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। পরে অল্প সময়ের মধ্যে এটি ১০ থেকে ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগে পাইলট জরুরি পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন।

নিখোঁজ ছয় আরোহীর সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। কোস্ট গার্ডের বিমান, হেলিকপ্টার ও নৌযান দিয়ে সমুদ্রে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ অভিযানে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে।

সূত্র: এনডিটিভি 

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শুধু বাঁধ নয়, উপকূলের মানুষের জীবনও বাঁচাবে ৭,৫০০ কোটির প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
শুধু বাঁধ নয়, উপকূলের মানুষের জীবনও বাঁচাবে ৭,৫০০ কোটির প্রকল্প

বন্যা, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় ১৪ জেলার মানুষের সুরক্ষায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নিরাপদ পানি, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু সহনশীল জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই হবে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

ঝুঁকির বলয়ে ১৪ জেলা

প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমের নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বন্যা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৪ জেলায় সমন্বিত প্রকল্প
  • গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপদ পানি ও জীবিকা

বৈঠকে ‘বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক ফ্লাড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (ফ্লাড এমপিএ)’ এবং ‘কোস্টাল রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগের অভিঘাত সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বাঁধের বাইরে নজর জীবিকা ও নিরাপত্তায়

প্রকল্পের আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লবণাক্ততার বিরুদ্ধে নিরাপদ পানির লড়াই

উপকূলের দীর্ঘস্থায়ী লবণাক্ততা সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পে পানি শোধন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

জলবায়ু অভিযোজনের বড় পরীক্ষা

উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা ও লবণাক্ততা এখন আর বিচ্ছিন্ন দুর্যোগ নয়; এগুলো মানুষের বসতি, আয়-রোজগার ও জীবনযাত্রার ওপর স্থায়ী চাপ তৈরি করছে। ফলে প্রস্তাবিত প্রকল্পে অবকাঠামোর সঙ্গে পানি, জীবিকা ও সামাজিক সুরক্ষাকে যুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা গেলে এটি উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

বৈঠকে পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে