খুঁজুন
                               
, ,
           

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্লিজ ছেলেটার চোখ ফিরিয়ে দিন: আর্জি পাটওয়ারীর

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্লিজ ছেলেটার চোখ ফিরিয়ে দিন: আর্জি পাটওয়ারীর

হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’য় হামলার ঘটনায় এক কিশোরের বাঁ-চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে ওই কিশোর। ছেলেটির চোখ ফিরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বুধবার (২৯ জুলাই) দিনগত রাত ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এই আর্জি জানান তিনি।

পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘ক্লাস টেনের যে ছেলেটির চোখে আঘাত করা হয়েছে, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় তার অপারেশন। সে এখনো বিশ্বাস করে, অপারেশনের পর আবার পৃথিবীকে দেখতে পারবে। অথচ চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার একটি চোখ আর কখনোই ফিরে আসবে না। তার চোখ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

এর পরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার আর্জি, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্লিজ তার চোখটা ফিরিয়ে দিন। আপনি যেভাবে ইচ্ছা ক্ষমতা চালান- আমরা চুপ করে যাব, তবে একটি নিরপরাধ শিশুর হারানো চোখ ফিরিয়ে দিন।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় স্থানীয় ছাত্রদল এবং যুবদল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। ওই হামলায় আহত হন এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ বেশি কয়েকজন।

আহতদের মধ্যে একটি কিশোর ছেলেকে দেখা যায়। তার বাম চোখে আঘাতে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই কিশোর চোখ দিয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি।

হবিগঞ্জের ওই হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। কর্মসূচি দেওয়া হয় হবিগঞ্জেও। তবে সেখানে পাল্টা কর্মসূচি ডাকে স্থানীয় ছাত্রদল-যুবদলও। পরিস্থিতি সামলাতে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

তবে সেই ১৪৪ ধারা উপক্ষা করেই বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরের দিকে গাড়িবহর নিয়ে হবিগঞ্জে রওনা হন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মীরা। কিন্তু শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।

এ নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নাহিদ ইসলামদের বাকবিতন্ডা হয়। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, তারা মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলা করতে এবং আহতদের দেখতে হবিগঞ্জে যাবেন। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি থাকায় তাদের যেতে বাধা দেয় পুলিশ।

পরে অবশ্য সন্ধ্যার পরে নাহিদ ইসলামসহ হাতে গোনা কয়েকজন হবিগঞ্জে পৌঁছান এবং মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ছাত্রসংগঠনটি শতাধিক নেতাকর্মীর নামে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা করেন তারা।

জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এসময় সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বুধবার (২৯ জুলাই) মালয়েশিয়ার চেন্নাহ এলাকার স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে মিয়ানমার বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ৫ রোহিঙ্গা শরণার্থীর একটি প্রাথমিক দলকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের এই চুক্তিটিকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধান এবং মালয়েশিয়ায় জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।

তবে কবে নাগাদ মিয়ানমার তাদের এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফেরত নেবে তার কোনো সময়সীমা জানাননি আনোয়ার ইব্রাহিম।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে পালায়।

প্রায় ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং অনেকে বিপজ্জনক সমুদ্র যাত্রা শেষে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

আরো দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
আরো দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে আরো দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। তিনি জানান, খিলগাঁও থানা এবং মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় রুল যথাযথ রেখে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন।

এর আগে তিনটি মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ স্থগিত চেয়ে আবেদন করায় তা শুনানির অপেক্ষায় আছে।

এ ছাড়া বিচারিক আদালতে তার বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা রয়েছে।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টায় রাজধানীর মিরপুর-৬ থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এবং হবিগঞ্জে বেশ কয়েকটি মামলা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

নৌপথে বাণিজ্য বাড়াতে খালগুলোর আন্তঃসংযোগ অপরিহার্য: পানি সম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
নৌপথে বাণিজ্য বাড়াতে খালগুলোর আন্তঃসংযোগ অপরিহার্য: পানি সম্পদমন্ত্রী

রাজধানীর চারপাশের খালগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রক্তনালীর মতো হলেও দখল ও দূষণের কারণে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তবে এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারাদেশের খালগুলোর মধ্যকার আন্তঃসংযোগ একান্ত অপরিহার্য।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি একথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধুমাত্র খাল খননই করছে না, পরবর্তীতে তা সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেছে।

এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খাল ও নদী খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিল্প বর্জ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ করে ছোট শিল্প-কারখানায় যেন স্বল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, নদীপথ পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন বর্তমানে সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদীভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনবে।

তিনি আরও জানান, সড়কপথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কম এবং এটি ৪ থেকে ৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে। ফলে ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

রাজধানীর চারপাশের ৪টি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, এর মাধ্যমে ঢাকার যানজট নিরসন ও নদীভিত্তিক পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব।

নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা কাজে লাগাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং এই খাতের বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীতে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে নিচু কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং খাল খননের ক্ষেত্রে পানির প্রবাহ কোন দিকে যাচ্ছে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রায় ১৫টি সরকারি সংস্থা নদীর সঙ্গে জড়িত থাকলেও এককভাবে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় একটি একক অভিভাবক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যকর ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন।

কাজী গোলাম নাসির বলেন, নদীর পানিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সব সংস্থার দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন বলেন, নদীপথের উন্নয়নে প্রকল্প থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তাই সংস্থাগুলোর কাজের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া জরুরি।

এছাড়া আলোচনায় নদী ও পলি জমে নাব্যতা হারানোর চিত্র তুলে ধরে মো. তানিম সারওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে মো. মোতালেব হোসেন সরকার নদী ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর কমিশন গঠন এবং পিপিপি মডেলের আওতায় বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রস্তাব জানান। নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত নজরদারির অভাব দূর করার ওপর তাগিদ দেন মো. আলমগীর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি