খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক চাপে কাজের অভিযোগ জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক চাপে কাজের অভিযোগ জামায়াতের

স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা, নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে বিতর্কিত পদায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ তৈরিতে কমিশনের রাজনৈতিক চাপ ও নির্দেশনার সামনে নতিস্বীকারের অভিযোগ এনে সংস্থাটিকে কড়া বার্তা দিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের প্রতিনিধি দল মোট ৯টি প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি হস্তান্তর করে এবং ইসির স্বাধীন সত্তা ধরে রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধান প্রদত্ত বিপুল ক্ষমতার মালিক হলেও তারা সেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার সঠিকভাবে এক্সারসাইজ বা প্রয়োগ করতে পারছে না।

ইসির সাম্প্রতিক বেশকিছু পদক্ষেপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কমিশনের অঙ্গভঙ্গি ও কাজের ধারায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তারা মারাত্মক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে এবং চাপের মুখে পড়েই স্বাধীন সিদ্ধান্তের বদলে আজ্ঞাবহ ভূমিকা পালন করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সরোয়ার আলমের গেজেট ও শপথের দ্রুততার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আদালতের আদেশের কপি বা বিচারপতির সিগনেচার করা নির্দেশ হাতে আসার আগেই রাজনৈতিক প্রভাবে মাত্র দুই-চার ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে গেজেট জারি ও শপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা কমিশনের চরম অস্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক চাপের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রমাণ দেয়।

জামায়াত নেতার বক্তব্যে কমিশনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ও আজ্ঞাবহতার প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের প্রসঙ্গ। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাবেক সিনিয়র নেতা এবং বিগত নির্বাচনে সরাসরি আসন পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত কমিটির সদস্যকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদে থাকা এমন ব্যক্তিকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া আগামী যেকোনো নির্বাচনকে একপেশে ও পক্ষপাতমূলক করার সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত।

জামায়াত নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের আলোচনায় ইসি কর্মকর্তারা রাজনৈতিক পরিচয় আগে না জানার অক্ষমতা প্রকাশ করলেও জামায়াত প্রতিনিধি দল সাফ জানিয়ে দেয় যে, একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশন ইচ্ছা করলেই এই বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ গ্রহণে অসম্মতি জানাতে বা বাতিল করতে পারত।

ইসির নিরপেক্ষতা ও জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অপর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হলো এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত সুপারিশ। জামায়াত নেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে চরম বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা শিক্ষকরা যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য না হন তবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে তারা কেন প্রার্থী হতে পারবেন না। দীর্ঘদিনের সুসংগঠিত লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনের সংস্কৃতি ভেঙে কোনো স্টেকহোল্ডার বা রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ ছাড়াই কেন ইসি এমন শিক্ষকবিরোধী নীতি তৈরি করে সরকারের বিচার-বিবেচনার জন্য পাঠাল, তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিশন অবশ্য বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইসি বৈঠকে এটি পুনর্মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের সূচি ও তারিখ ঘোষণা নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত, সময়সূচি বা দিনক্ষণ নির্ধারণের একমাত্র আইনগত এখতিয়ার যে নির্বাচন কমিশনের, তা মনে করিয়ে দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, কমিশন নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করায় প্রতিদিন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা একেক রকম তারিখ বা মাস ঘোষণা করছেন। সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের এই বেআইনি হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার তাগিদ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা পদ-পদবিধারীদের ব্যক্তি পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধ করা, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় সুবিধাজনক রাজনৈতিক পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রার্থিতার অযোগ্য ঘোষণা করা। নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি প্রভাব বিস্তার বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ জারির আনুষ্ঠানিক দাবি জানান জামায়াত প্রতিনিধিরা।

রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যান্য সাম্প্রতিক বিষয়ের অবতারণা করে জামায়াত সেক্রেটারি সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত এক সংসদ সদস্যের পদ থাকা না থাকার ইস্যুটিকে পুরোপুরি সাংবিধানিক জটিলতা বলে উল্লেখ করেন এবং এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেন। তিনি জানান, ব্যক্তির কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত।

একই সঙ্গে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের পারিবারিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাড়িতে হামলা ও পরিবারকে হেনস্তা করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে গণমাধ্যমকে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

কালের আলো/এসএকে

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সবচেয়ে বেশি গরিবের কাঁধে: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সবচেয়ে বেশি গরিবের কাঁধে: সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, দেশে টানা চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সবচেয়ে বেশি বহন করতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষকে। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য কেনায় ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের দাম বাড়লে শুধু খাবার কেনাই কঠিন হয়ে পড়ে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সঞ্চয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও ব্যয় কমাতে বাধ্য হয় পরিবারগুলো।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘দ্য ফুড প্রাইস চেইন: মার্কেটস, মার্জিনস অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং চার বছর ধরে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। তবে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারের অদক্ষতা, মজুতদারি, সরবরাহ ঘাটতি এবং প্রতিযোগিতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণ একযোগে খাদ্যের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই এই সমস্যার সমাধানেও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের বড় ব্যবধানের প্রসঙ্গে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ফড়িয়া, বেপারি, আড়তদারসহ একাধিক অংশীজন থাকায় প্রতিটি ধাপে পণ্যের মূল্য পরিবর্তিত হয়। ফলে কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করেন, ভোক্তাকে তার তুলনায় অনেক বেশি দামে তা কিনতে হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডিএমপির তিন থানায় নতুন ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ডিএমপির তিন থানায় নতুন ওসি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) ৬ পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) (তদন্ত) ইয়াসিন মিয়াকে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. আজহারুল ইসলামকে কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামকে শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, রমনা থানার অফিসার

ইনচার্জ মো. রাহাত খানকে ডিএমপির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিসিস বিভাগে, কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ফারুককে ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগে এবং শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমানকে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না : মির্জা ফখরুল

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে ডিএফপি অডিটোরিয়ামে এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজের পরিবর্তন কখনো হঠাৎ করে আসে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, সংগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বড় পরিবর্তন অর্জিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনে মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনই ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও প্রত্যাশিত পরিবর্তন পুরোপুরি অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ একই সময়ে যাত্রা শুরু করে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের শুরুতে তরুণদের ন্যায্য দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন ছিল। পরবর্তীতে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। শহীদদের পরিবারের ত্যাগ ও বেদনা জাতিকে সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য ধারণ করতে না পারলে সেই ত্যাগ অর্থহীন হয়ে যাবে।

দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মূল্যবোধ, শিক্ষা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের মৃত্যুজনিত শোক বহন করতে না হয়।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না; পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেদের মধ্য থেকেই। দেশের মানুষ পরিশ্রমী ও ত্যাগী। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) সবসময় প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধ নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ ত্যাগ যেমন মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, তেমনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও দেশের প্রয়োজনে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

কালের আলো/এসএকে