খুঁজুন
                               
, ,
           

কলকাতার আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: শোকের পাশাপাশি চাই জবাবদিহি

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
কলকাতার আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: শোকের পাশাপাশি চাই জবাবদিহি

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে গভীর রাতে আগুনে শিশুসহ অন্তত নয় বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনার খবর নয়; এটি একই সঙ্গে একটি মানবিক বিপর্যয়, হোটেল নিরাপত্তাব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি সংবেদনশীল পরীক্ষা। ১৯ আগস্ট ভোররাতের এ ঘটনায় বিভিন্ন প্রতিবেদনে অন্তত ছয় থেকে আটজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুই নারী ও একটি শিশু রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। পরবাসে প্রাণ হারানো এসব নিরপরাধ মানুষের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো—যে মানুষগুলো উন্নত চিকিৎসার আশায় দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, তাদের জীবনই শেষ হয়ে গেল একটি হোটেলের অগ্নি নিরাপত্তাহীনতায়। আগুনের তীব্রতা হয়তো সীমিত ছিল, কিন্তু ধোঁয়া দ্রুত পুরো ভবন গ্রাস করে। সরু পথ, পর্যাপ্ত বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকা, জানালাবিহীন বা দুর্বল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তোলে। প্রাথমিক তদন্তে এসি বিস্ফোরণ ও শর্টসার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।

এখানেই আমি প্রশ্ন তুলতে চাই যে,এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো নাশকতা, অপরাধমূলক অবহেলা কিংবা পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের সম্ভাবনাও ছিল?

আমি কোনো প্রমাণ ছাড়া নাশকতার অভিযোগকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে চাই না। বরং ঠিক উল্টোটা বলছি—নাশকতার সম্ভাবনা থাকলে যেমন তা তদন্ত করতে হবে, তেমনি দুর্ঘটনা হলে দুর্ঘটনার কারণও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে হবে। আগুনের সূত্রপাত কোথায়, বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থা কী ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ কী বলছে, দরজা-জানালা ও জরুরি বহির্গমনপথ সচল ছিল কি না, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও অ্যালার্ম ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, হোটেলের অনুমোদন ও ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছিল কি না—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আগুন লাগার আগে হোটেলটির নিরাপত্তা পরিদর্শন হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে সেই পরিদর্শনের নথি কী বলে। কারণ কোনো ভবন যদি বছরের পর বছর নিরাপত্তা বিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, তাহলে শুধু হোটেল মালিক নয়—নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে ভবনটির চরিত্র। একই পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল বা গেস্টহাউস পরিচালিত হওয়ার তথ্য এসেছে। স্থানীয়ভাবে এসব আবাসিক স্থাপনায় বাংলাদেশি চিকিৎসাপ্রার্থীদের অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে।

অতএব তদন্ত শুধু ‘কীভাবে আগুন লাগল’—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রশ্ন করতে হবে—কেন এত মানুষ বের হতে পারলেন না?

নিহতদের পরিবারগুলোর সামনে এখন সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা। স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে তাদের মোকাবিলা করতে হবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, চিকিৎসা ব্যয়, আহতদের চিকিৎসা, যাতায়াত, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তার নির্মমতা।

এখানে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব শুধু মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করে লাশ দেশে পাঠানো নয়। বরং যদি হোটেল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, ভবন ব্যবস্থাপনার ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো দায় প্রমাণিত হয়, তাহলে নিহত ও আহত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ে রাষ্ট্রকে সক্রিয় হতে হবে।

সুতরাং বাংলাদেশ সরকারের উচিত কলকাতায় একটি আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা সেল গঠন করা, যাতে নিহত ও আহতদের পরিবার প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পায়। শুধু কাগজপত্রের কাজ করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না; ক্ষতিপূরণ দাবি, বীমা, চিকিৎসা ব্যয়, মরদেহ পরিবহন এবং প্রয়োজনে আদালতে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নানা কারণে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ বিষয়টিকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখেছে; ভারত জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং দুই দেশই সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এই সম্পর্ককে নিঃসন্দেহে সংবেদনশীল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় নয় বাংলাদেশির মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘটনা।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী—যিনি দীর্ঘদিনের কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান ও বাংলাদেশি অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে পরিচিত—তার সরকারের সময় এই ঘটনা ঘটেছে। তাই কোনো ধরনের রাজনৈতিক পূর্বধারণা দিয়ে ঘটনাটিকে বিচার করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি রাজনৈতিক পরিবেশের বাস্তবতাকে তদন্তের বাইরে রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

আমার বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার: নিহতরা বাংলাদেশি বলেই তাদের সঙ্গে কোনো বৈষম্য হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত; আবার বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই ঘটনাটিকে নাশকতা হিসেবে ধরে নেওয়াও যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি না।

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা সামনে এসেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে তারাপীঠের একটি হোটেল অগ্নিকাণ্ডেও বহু প্রাণহানি ঘটেছিল।

একই সপ্তাহে পরপর প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড হলে প্রশাসনের উচিত এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি কাঠামোগত নিরাপত্তা সংকেত হিসেবে দেখা।

বিশেষ করে যেসব হোটেলে বাংলাদেশি চিকিৎসাপ্রার্থীরা নিয়মিত থাকেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নিরাপত্তা অডিট করা প্রয়োজন। জরুরি বহির্গমনপথ, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা, রান্নাঘর ও এসি ইউনিটের ঝুঁকি, ভবনের ধারণক্ষমতা এবং অতিথিদের জরুরি নির্দেশনা—সবকিছু নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

এই ট্র্যাজেডির আরেকটি বেদনাদায়ক দিক হলো যে , নিহতদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাত, তাহলে কি তাদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে হতো?

প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এর ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যায়। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের আস্থা হারানো।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে এসে আমাদের প্রশ্ন করতেই হবে—কেন এখনো জটিল চিকিৎসার জন্য মানুষকে দেশের বাইরে যেতে হয়? কেন সরকারি হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল, বিশেষায়িত চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকবে? কেন এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি করা যাবে না, যেখানে একজন সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করতে পারেন—দেশেই তার চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা হবে? কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড আমাদের সেই ব্যর্থতার কথাও মনে করিয়ে দিল।

নয়জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক দায়িত্ব। কিন্তু তার সঙ্গে তাদের পরিচয়, চিকিৎসা ইতিহাস, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি নথিপত্র সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনও নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, পরিবারগুলো যেন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ে একা না হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সহায়তা কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন। ভারতের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময়, পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, হোটেলের লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তা নথি পরীক্ষা এবং দায় নির্ধারণ—সবকিছু স্বচ্ছতার সঙ্গে হওয়া দরকার। এই তদন্তে বাংলাদেশকে শুধু দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না।

এখানে আরেকটি লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো যে, বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কূটনৈতিক টানাপোড়েন থাকবে, সীমান্ত ও পানি থেকে শুরু করে প্রত্যর্পণ—বহু বিষয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু একজন বাংলাদেশি নাগরিক যখন ভারতের মাটিতে বিপদে পড়েন, তখন তার নাগরিক পরিচয় যেন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের কাছে পরাজিত না হয়। কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড তাই শুধু নয়টি পরিবারের কান্না নয়; এটি দুই রাষ্ট্রের মানবিক দায়বদ্ধতার পরীক্ষাও বটে।

সুতরাং আগুন কীভাবে লাগল—তার নিরপেক্ষ উত্তর চাই। কার গাফিলতিতে মানুষ মরল—তার জবাব চাই। নাশকতা হলে তার প্রমাণ ও বিচার চাই। অপরাধমূলক অবহেলা হলে দায়ীদের শাস্তি চাই। আহতদের পূর্ণ চিকিৎসা চাই। নিহতদের মরদেহ দ্রুত ও মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরত চাই। আর নিহত ও আহতদের পরিবারকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ চাই।

পরিশেষে বলতে চাই, এই ঘটনাটি কেবল পত্রিকার পাতায় কয়েকদিনের খবরের শিরোনাম হয়ে মিলে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতা উপ-হাইকমিশনকে অবিলম্বে একটি বিশেষ সেল গঠন করে নিহতদের পরিবারের কাছে দ্রুত লাশ পৌঁছানোর কাজ শেষ করতে হবে। একই সাথে, আহতদের সুচিকিৎসা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুয়ায়ী হোটেল কর্তৃপক্ষ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা দায়ের করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যাতে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো নাশকতামূলক বা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কিনা তা সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সাথে খতিয়ে দেখা হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে শক্ত বার্তা দিতে হবে। আর নিজ ভূখণ্ডে আমাদের নীতি-নির্ধারকদের এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের ভেঙে পড়া চিকিৎসাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার সৎ উদ্যোগ নিতে হবে, যেন আর কোনো নাগরিককে চিকিৎসার খোঁজে ভীতি ও মৃত্যুর মুখে পরবাসে দিন কাটাতে না হয়।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

একসময় বাংলাদেশের সিনেমা শুধু বিনোদন দেয়নি। কথা বলেছে সমাজের কথা। জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। সেই ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ চলতি বছরের ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’-এর মঞ্চে। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কীভাবে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও মিলেছে স্পষ্ট বার্তা। একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

  • আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকারের 
  • মানসম্মত নির্মাণ থেকে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা—তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে অভিন্ন প্রত্যয়

তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে চলচ্চিত্র উন্নয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। মানসম্মত ও অর্থবহ চলচ্চিত্র নির্মাণ, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শিল্পের উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএফডিসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে মূলত দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকার।

একটি সময় সিনেমার বার্তা হৃদয়ে গেঁথে যেত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’ চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতাসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু এফডিসির উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যেসব গুণী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী অসাধারণ কাজ করেছেন, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান ও শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করা যাবে। এফডিসিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

চলচ্চিত্রের গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিরাই। সরকার তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’ চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি অতীতেও এফডিসিতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ও তাদের পাশে থেকে কাজ করবেন।

আধুনিক অবকাঠামো ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের চলচ্চিত্রের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র ও এফডিসির উন্নয়নে কী কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে। নিজের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, একসময় তিনিও ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলেন।

সম্মাননায় গুণীজন, গানে সাবিনা
‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, পরিচালক ড. মতিন রহমান এবং মশিউদ্দীন শাকেরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় তিনি প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতেন। এই প্রাঙ্গণ থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে অতিথি ও দর্শকদের অনুরোধে গান পরিবেশন করেন বরেণ্য এই শিল্পী।

এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। অনুষ্ঠানে সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ