খুঁজুন
                               
, ,
           

সংস্কৃতির স্বাধীনতায় উগ্রবাদ কাম্য নয়

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতির স্বাধীনতায় উগ্রবাদ কাম্য নয়

আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। উদার ও মধ্যপন্থি মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে এই ভূখণ্ডে ধর্মীয় গোড়ামি, পরমতঅসহিষ্ণুতা কিংবা উগ্রতার স্থান কখনো স্থায়ী হতে পারেনি। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে ভয়ের ছায়া এবং অনিশ্চয়তা দানা বেঁধে উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গভীর চিন্তার বিষয়।

এখানে আমি অত্যন্ত দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি যে,বাংলাদেশকে বুঝতে হলে শুধু তার রাজনীতি, অর্থনীতি কিংবা ভূগোলের দিকে তাকালে হবে না; শুনতে হবে তার মানুষের গান, দেখতে হবে তার লোকজ উৎসব, অনুভব করতে হবে তার মাটির গন্ধ। এই দেশের নদীর স্রোতের সঙ্গে ভেসে এসেছে ভাটিয়ালির সুর, গ্রামবাংলার উঠোনে জন্ম নিয়েছে জারি-সারি ও পালাগান, বাউলের একতারায় ধ্বনিত হয়েছে মানুষের অন্তর্গত মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। মসজিদের মিনার থেকে আজানের ধ্বনি যেমন এ দেশের আকাশে মিশে আছে, তেমনি কোনো গ্রামীণ মেলায় বাঁশির সুর, কোনো মঞ্চে নাটকের সংলাপ কিংবা কোনো শিল্পীর কণ্ঠে গানও এ দেশের মানুষের জীবন ও অনুভূতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বহুত্বই বাংলাদেশের সৌন্দর্য, এই সহাবস্থানই আমাদের সভ্যতার শক্তি।

আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিচর্চার বিশ্বজোড়া সুনাম রয়েছে। এই দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ধর্মীয় সংকীর্ণতার দেশ। বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্য হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সহনশীলতার সহাবস্থান। একজন মানুষ একই সঙ্গে ধর্মপ্রাণ হতে পারেন এবং সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা লোকসংস্কৃতির অনুরাগী হতে পারেন। ধর্মীয় চেতনা ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চাকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানানো তাই আমার কাছে কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাস্তবতারও পরিপন্থী।

তবে এখানে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—সংস্কৃতির নামে কোনো অপসংস্কৃতি, অশালীনতা, উসকানি কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না। আইন ভঙ্গ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সত্যিই আপত্তিকর বা বেআইনি কিছু থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা পরীক্ষা করবে, প্রয়োজন হলে শর্ত আরোপ করবে, এমনকি আইনগত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো গোষ্ঠী আপত্তি তুললেই একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে—এটি কোনো গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রের নীতি হতে পারে না।

উল্লেখ্য ১৯ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ব্যান্ড অ্যাশেজ ও সংগীতশিল্পী নোবেলের কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় ইমাম-ওলামা পরিষদের আপত্তির পর জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য ধর্মীয় আপত্তির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রশ্নের কথাও বলা হয়েছে। প্রশাসনের এসব যুক্তি যদি বাস্তব ও আইনসম্মত হয়, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে হবে—কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ যেন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মূল নিয়ামক হয়ে না দাঁড়ায়।

আজ কনসার্ট। কাল নাটক। পরশু সিনেমা। তার পরদিন বাউলগান। এরপর হয়তো লোকসংগীত, কবিগান কিংবা নৌকাবাইচ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যদি কোনো একটি গোষ্ঠীর আপত্তিকে অনুষ্ঠান বন্ধের যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে একসময় প্রশ্ন উঠবে—বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা আসলে কার হাতে? রাষ্ট্রের হাতে, নাকি রাস্তায় সংগঠিত চাপের হাতে? এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ বিষয়টি কেবল কোনো বেসরকারি আয়োজকের সমস্যা নয়; রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও যদি নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে, তাহলে সেটি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্যও সতর্কবার্তা।

আরও উদ্বেগের বিষয়, শহুরে কনসার্টের বাইরেও গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি নানা চাপের মুখে পড়ছে। সিলেটের বিশ্বনাথে ইব্রাহিম শাহের মাজারসংলগ্ন বাউলগানের আসরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বাদ্যযন্ত্র, শব্দযন্ত্র ও চেয়ার ভাঙচুরের খবর এসেছে। নেত্রকোনার মদনেও বাউলগানের আয়োজন বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন বলে উড়িয়ে দিলে ভুল হবে।

কারণ বাউল শুধু গান নয়। বাউল বাংলার আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের বাউলগান ২০০৮ সালে ইউনেসকোর মানবজাতির অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বশীল তালিকায় স্থান পেয়েছে। অর্থাৎ যে ঐতিহ্যকে বিশ্ব সংরক্ষণের যোগ্য মনে করছে, সেই ঐতিহ্য যদি নিজের দেশেই ভয় ও বাধার মুখে পড়ে, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য লজ্জার এবং আত্মসমালোচনার বিষয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘তৌহিদী জনতা’, ‘ইমাম-ওলামা পরিষদ’সহ বিভিন্ন ব্যানারে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধের দাবি ওঠার ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে গত ১৫ মাসে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে অন্তত ১১টি সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা এবং ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে আরও ৩৬টি আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করছি।

কারণ সংস্কৃতির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত সবসময় মঞ্চ ভেঙে আসে না। অনেক সময় শুধু ভয় তৈরি করাই যথেষ্ট।

একজন আয়োজক যদি ভাবেন যে,অনুষ্ঠান করলে ঝামেলা হতে পারে। একজন শিল্পী যদি ভাবেন—দূরের জেলায় গিয়ে গান করা নিরাপদ তো? একজন হলমালিক যদি ভাবেন—অনুষ্ঠান বন্ধ হলে ক্ষতির দায় কে নেবে? আর প্রশাসনৎ যদি  ভাবে—অনুষ্ঠান করতে দিলে সংঘর্ষ হতে পারে। এভাবে কেউ কাউকে সরাসরি নিষেধ না করেও একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশকে ভীত ও সংকুচিত করে ফেলা যায়।

একসময় দেখা যাবে, অনুষ্ঠান করার অনুমতি থাকলেও কেউ আয়োজন করতে চাইছেন না। মঞ্চ আছে, কিন্তু শিল্পী নেই। দর্শক আছে, কিন্তু অনুষ্ঠান নেই। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু তাদের কার্যক্রম সীমিত। তখন হয়তো কোনো পোস্টার ছিঁড়তে হবে না, কোনো মঞ্চ ভাঙতে হবে না—ভয়ই সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকিয়ে দেবে। সুতরাং এই ভয়ের সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একটি সিনেমা ভালো না লাগলে সেটি না দেখার অধিকার আমার আছে। কিন্তু অন্য একজনের সেটি দেখার অধিকারও আছে। কোনো গান আমার পছন্দ না হলে আমি সেটি শুনব না; কিন্তু অন্যের গান শোনার অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার আমার নেই। অর্থাৎ ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সহাবস্থান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করতে হবে। ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা উসকানিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতির নাম করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা অন্যের বৈধ অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া যাবে না।

কারণ রাষ্ট্রের কাজ হলো অধিকারগুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা—কোনো একটি গোষ্ঠীর হাতে ভেটো ক্ষমতা তুলে দেওয়া নয়।

এখানে আমাদের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও ধর্মীয় নিরাপত্তা-আতঙ্কের বয়ান বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। শেখ হাসিনার দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক বিরোধিতার নানা প্রশ্নের পাশাপাশি জঙ্গিবাদবিরোধী বয়ানও ছিল রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজ যারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে নানা ধরনের নেতিবাচক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের হাতে নতুন করে কোনো অজুহাত তুলে দেওয়া আমাদের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বয়ান যখন প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তখন আমাদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে—এই দেশ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু উগ্র নয়; মূল্যবোধসম্পন্ন, কিন্তু অসহিষ্ণু নয়; মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু বহুত্ববাদবিরোধী নয়।

আর সেই বাস্তবতা প্রমাণ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আইনের শাসন। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিএনপি একটি উদার ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা বলে। অতএব সেই সরকারের আমলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে যদি একের পর এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে সেটি সরকারের জন্যও সুখকর কোনো বার্তা নয়। সরকারকে তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

কেউ যদি শান্তিপূর্ণভাবে আপত্তি জানান, রাষ্ট্র তার কথা শুনবে। প্রয়োজন হলে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা হবে। অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা, শব্দের মাত্রা, সময়সূচি, জনদুর্ভোগ, শালীনতা কিংবা আইনগত শর্ত—সবকিছু নিশ্চিত করা যাবে। কিন্তু কেউ যদি হামলা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি বা জবরদস্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে চায়, সেখানে রাষ্ট্রকে আপসহীন হতে হবে।

এখানে আমি মনে করি,সংস্কৃতি বিরোধী শক্তিকে দমন করার অর্থ কোনো ধর্মীয় মতকে দমন করা নয়; বরং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে দমন করা। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশকে পিছিয়ে নেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না। পৃথিবী যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, সৃজনশীল অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা যদি গান, নাটক, সিনেমা কিংবা লোকসংস্কৃতির আয়োজন নিয়েই ভয় পেতে শুরু করি, তাহলে সেটি আত্মবিশ্বাসের সংকট ছাড়া আর কিছু নয়।

এখানে সৌদি আরবের পরিবর্তনের কথাও স্মরণ করা যেতে পারে। ইসলামি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দেশ ভিশন ২০৩০-এর অধীনে বিনোদন ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে বিকশিত করছে। ২০১৮ সালে কয়েক দশকের বিরতির পর দেশটিতে সিনেমা হল পুনরায় চালু হয়েছে; কনসার্ট ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও এখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ। এর অর্থ এই নয় যে সৌদি আরবের সংস্কৃতিনীতি বাংলাদেশকে হুবহু অনুসরণ করতে হবে। আমি বলতে চাইছি যে—ধর্মীয় পরিচয় ও আধুনিক সাংস্কৃতিক জীবনের মধ্যে সমন্বয় অসম্ভব কোনো বিষয় নয়।

আমরা চাই ধর্মীয় মূল্যবোধ অটুট থাকুক। চাই মসজিদ-মাদ্রাসা, ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশীলন আরও শক্তিশালী হোক। একই সঙ্গে চাই নাট্যমঞ্চ প্রাণবন্ত থাকুক, সিনেমা হল সচল থাকুক, বাউল তার একতারা হাতে গান গাইতে পারেন, তরুণেরা সুস্থ সংগীতচর্চা করতে পারেন, সাহিত্য ও শিল্পচর্চা বিকশিত হোক। এই দুইয়ের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

বরং সুস্থ সংস্কৃতি তরুণ সমাজকে সৃজনশীল করে। চিন্তা করতে শেখায়। মাদক, অপরাধ ও অন্ধ উগ্রতার বিপরীতে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিসর তৈরি করে। ফলে সংস্কৃতির পথ বন্ধ করা কোনোভাবেই সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করে না।

এখন সময় এসেছে সরকারকে একটি সুস্পষ্ট নীতি ঘোষণা করার—আইনসম্মত কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেবল কোনো গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে বন্ধ করা যাবে না।

একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও দায়িত্ব রয়েছে। আয়োজকদের আইন মেনে চলতে হবে। শিল্পীদেরও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতার স্বাধীনতা নয়।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে,বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি শুধু পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা তৈরি পোশাক শিল্প দিয়ে তৈরি হয় না। একটি দেশের মানুষের মনন, সহনশীলতা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাও তার পরিচয়ের অংশ। সুতরাং মঞ্চ বন্ধের প্রতিটি ঘটনা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেই সম্পর্কিত।

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে শিল্পী মঞ্চে ওঠার আগে ভয় পাবেন।  আমরা এমন বাংলাদেশও চাই না, যেখানে ধর্মের নাম করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস পাবে। বরঞ্চ আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে ধর্ম থাকবে হৃদয়ে, সংস্কৃতি থাকবে জীবনে, আর আইন থাকবে রাষ্ট্রের হাতে।

পরিশেষে বলতে চাই,বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো  ঠাঁই নেই। রাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—কোনো গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী দল যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে। শিল্প ও সংস্কৃতির অবাধ পথচলা রোধ করা হলে তরুণ সমাজ পথভ্রষ্ট হবে এবং দেশীয় ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। স্বাধীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে আর কোনো সাংস্কৃতিক মঞ্চ যেন ভীতি ও হুমকির মুখে বন্ধ না হয়—সরকার ও প্রশাসনকে অবিলম্বে সেই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পতিত-পলাতক স্বৈরাচার ও তাদের আশ্রয়দাতাদের সেই পুরনো উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের বয়ানই নতুন প্রাণ লাভ করবে। যা শান্তি কামি কোনো দেশপ্রেমিক মানুষের কাম্য হতে পারে না। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ নসিব করুন।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছে প্রধান বিরোধীদলসহ জোটের সংসদ সদস্যরা। সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি সদস্যদের দিবসে সরকারি বিল উত্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে।

ওয়াকআউটের আগে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কারখানা বন্ধের মতো জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ৭০ শতাংশের রায় পাওয়া সংবিধান সংস্কারের বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার বেসরকারি সদস্যদের জন্য নির্ধারিত দিবস হওয়া সত্ত্বেও সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সংসদকে একপেশে করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার ও নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল বা ল্যাপস হওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের খণ্ডিত বিলে অংশগ্রহণ করতে চাই না। আমরা আশঙ্কা করছি, এর মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়া হবে।’

সংস্কারের মূল দাবি বাস্তবায়নের পক্ষে বিরোধীদলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা খণ্ডিত কোনো প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাই না। তাই এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’

তবে পরবর্তীতে জনস্বার্থে বিরোধীদলের দেওয়া চারটি নোটিশ নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে তারা আবার সংসদে যোগ দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৬৪ জেলায় সরকারের ‘বিশেষ নজরদারি’, দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
৬৪ জেলায় সরকারের ‘বিশেষ নজরদারি’, দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শুধু উন্নয়ন নয়, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিতেও নজর
সরকারের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের কাজ কেবল উন্নয়ন প্রকল্প পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তাদের নজরদারির আওতায় থাকছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়া এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের সমন্বয়েও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও সরাসরি সম্পৃক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হলো।

কেন এমন দায়িত্ব বণ্টন?
প্রজ্ঞাপনে সরকারের পক্ষ থেকে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়নের নামে বরাদ্দ করা অর্থের একটি অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্য অংশ সামাজিক অবক্ষয়, মাদক ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন সরকার দুর্নীতি দমন, সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি তদারকি জোরদার করার উদ্যোগ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা যায়।

সংবিধান ও ‘রুলস অব বিজনেস’-এর ভিত্তি
দায়িত্ব বণ্টনের বৈধতা প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের সংশ্লিষ্ট বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা যাতে খর্ব না হয়, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা হুইপরা জেলা প্রশাসনের বিকল্প কর্তৃপক্ষ নন; বরং তাদের ভূমিকা মূলত তদারকি, সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান।

৩০ জনের হাতে ৬৪ জেলার দায়িত্ব
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকায় দেখা যায়, কোথাও একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা একটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার কোথাও দুই বা তিনটি জেলা একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি জেলাগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে একই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।

  • আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নয়ন-সুশাসন তদারকি; মাঠ প্রশাসনে বাড়ছে রাজনৈতিক সমন্বয়

উল্লেখযোগ্যভাবে—ইকবাল হাসান মাহমুদ: রাজশাহী ও নাটোর, ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন: লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত: শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, মো. আসাদুজ্জামান: খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট, জাকারিয়া তাহের: ফেনী ও নোয়াখালী, সাচিং প্রু: কক্সবাজার, সুলতান আহমেদ টুকু: ঢাকা, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি, হাবিবুর রশিদ: গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মীর শাহে আলম: রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম, ফারজানা শারমিন: সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলাম: যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, মো. জি কে গউস: সিলেট ও সুনামগঞ্জ ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর। এ ছাড়া দেশের বাকি জেলাগুলোর দায়িত্বও নির্দিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বের পরিধি বেশ বিস্তৃত
প্রজ্ঞাপনের ভাষা বিশ্লেষণ করলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সামনে মূলত পাঁচটি বড় কাজ দাঁড়ায়—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহায়তা। এর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও তারা পরামর্শ ও তদারকি করতে পারবেন।।ফলে এটি নিছক ‘জেলা দেখভালের’ দায়িত্ব নয়; বরং সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি রাজনৈতিক সমন্বয় কাঠামো হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

সফলতা নির্ভর করবে সমন্বয়ের ওপর
তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বয়ের ওপর। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা দুর্নীতি দমন সরাসরি বাস্তবায়ন করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা যদি কার্যকর সমন্বয়, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সরকারের নীতির বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এই উদ্যোগ জেলা পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, দায়িত্বের সীমারেখা অস্পষ্ট হলে প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে দ্বৈততা বা সমন্বয়হীনতার প্রশ্নও উঠতে পারে।

মাঠপর্যায়ে সরকারের নতুন নজরদারি কাঠামো
সব মিলিয়ে ৬৪ জেলায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরকারের মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নজরদারি বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও দুর্নীতিকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের সঙ্গে সমন্বয় করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তব ফল নির্ভর করবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কতটা সক্রিয়ভাবে মাঠের সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কতটা কার্যকর সমন্বয় করতে পারেন তার ওপর। এখন দেখার বিষয়, প্রজ্ঞাপনের এই নতুন দায়িত্ব বাস্তবে জেলা পর্যায়ে দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রদীপের জয়সূচক গোলে দুর্গাপুরের দুর্দান্ত জয়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
প্রদীপের জয়সূচক গোলে দুর্গাপুরের দুর্দান্ত জয়

রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে তানোর উপজেলা ফুটবল দলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুর্গাপুর। ম্যাচের ৩ মিনিটেই জুবায়ের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে ৯ মিনিটে তানোরের সাব্বির গোল করে সমতা ফেরান।

১৭ মিনিটে পলাশের গোলে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দুর্গাপুর। প্রথমার্ধের শেষদিকে ৩৬ মিনিটে তানোরের সাগর মোহন্ত গোল করলে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে উভয় দল। একের পর এক আক্রমণের পর ম্যাচের ৭১ মিনিটে প্রদীপের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল।

ম্যাচটি উপভোগ করতে দুর্গাপুর ও তানোর থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় চারঘাট উপজেলা ফুটবল দল মুখোমুখি হবে পুঠিয়া উপজেলা ফুটবল দলের।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি