খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্ষমতার জৌলুস নয়, মানুষের আস্থা

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.)
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমতার জৌলুস নয়, মানুষের আস্থা

রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট তখনই তৈরি হয়, যখন শাসক আর শাসিতের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ক্ষমতার প্রাসাদ যত উঁচু হয়, মানুষের বাস্তব জীবন থেকে নেতৃত্ব তত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক সত্যটি খুবই সরল– ক্ষমতা মানুষের জন্য, মানুষ ক্ষমতার জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত ছয় মাসের রাজনৈতিক আচরণ ও কিছু সিদ্ধান্তকে এই বাস্তবতার আলোকে দেখলে একটি ব্যাপক পরিবর্তনের ধারা চোখে পড়ে। বিষয়টি শুধু তাঁর সাদামাটা পোশাক বা ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দাপ্তরিক কাজে নিজের নাম ও পদের আগে ‘মাননীয়’ বা এ ধরনের সম্মানসূচক শব্দের ব্যবহার পরিহার করতে বলেছেন, সেইসাথে অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল ও আড়ম্বর কমানো, সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এড়ানো, তার ছবি সংবলিত কোন ব্যানার ব্যবহার না করা, নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখা, সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত করে রাস্তা বন্ধ না করা, আহত সেনাসদস্য বা দলীয় কর্মিদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়া– এসব ছোট ছোট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের মতো একটি প্রাক-উপনিবেশিক রাষ্ট্রের মধ্যে পাচ দশকের অধিককাল চলমান ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত প্রচলিত দূরত্ব ও জৌলুসকে কমিয়ে আনার একটি বার্তা দিচ্ছেন।

একইরকম বার্তা পাওয়া যায় তাঁর ব্যক্তিগত আচরনের ক্ষেত্রেও। পোশাকের সাধারণত্ব, জনসমক্ষে অনাড়ম্বর উপস্থিতি এবং আচরণে তুলনামূলক সংযমকে তাই কেবল তার ব্যক্তিগত রুচি হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনুধাবন করা যাবে না। একজন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, সেটিও ক্ষমতা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির একটি বহিঃপ্রকাশ। তিনি যখন ক্ষমতার দৃশ্যমান চাকচিক্য কমান, নিজেকে বিনয়ের ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন, তখন সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বও অনেকাংশে কমে যায়।

তবে গত ছয় মাসে সম্ভবত আরও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে তার রাজনৈতিক ভাষায়। বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, হুমকি, বিদ্রূপ এবং প্রতিপক্ষকে প্রায় শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের ভাষায় অভ্যস্ত। সেই বাস্তবতায় সংসদ কিংবা সংসদের বাহিরে বিরোধী পক্ষের অমার্জিত কটাক্ষ, সমালোচনা ও উদ্বেগের জবাবে তারেক রহমানের তুলনামূলক সংযত, শালীন ও গঠনমূলক শব্দচয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন এবং জনমনে তার রুচি ও শিষ্টাচার বোধের এক ব্যতিক্রমি উদাহরন সৃষ্টি করেছে। তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ব্যক্তিগত শত্রুতার ভাষায় না নিয়ে রাজনৈতিক ভাষাতেই মোকাবিলা করার যে প্রবণতা দেখাচ্ছেন, তা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক discourse-এ আগামী দিনে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে।

তবে এর প্রভাব শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। ক্ষমতার শীর্ষে ব্যবহৃত ভাষা ধীরে ধীরে তৃনমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করে। নেতা যদি প্রতিপক্ষকে অপমান করেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও সেটিকেই রাজনৈতিক আচরণের মডেল হিসবে অনুশীলন করে। বিপরীতে শীর্ষ নেতৃত্ব যদি সংযত থাকে, ভিন্নমতকে রাজনৈতিক পরিসরের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে এবং বিরোধীদের উদ্বেগের জবাব শালীনভাবে দেয়, তবে দলের তৃণমূলেও একটি ভিন্ন বার্তা যায়। বাংলাদেশের সংঘাতপ্রবণ রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই পরিবর্তিত tone-setting এর সম্ভাব্য প্রভাব তাই ব্যক্তিগত শিষ্টাচারের চেয়ে অনেক বড়। সুক্ষভাবে অনুসরন করলে, এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে । সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ কিংবা মাঠ পর্যায়ের কর্মিদের মধ্যেও ভাষা কিংবা আচরনের মধ্যে ক্রমাগত শালিনতা এবং বিনয়ের ভাব ক্রমান্বয়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ইতিহাসের শিক্ষা অত্যন্ত স্পষ্ট– আড়ম্বর দিয়ে সাময়িক বিস্ময় তৈরি করা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আস্থা সৃষ্টি করা যায় না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ধারার একটি শক্তি ছিল মানুষের কাছে যাওয়া এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্রমাগত প্রচেষ্টা। শহীদ জিয়া দেশের প্রতিটি প্রান্তরে প্রান্তরে মানুষের কাছে ছুটে গিয়েছেন, নিরন্তর ছিল তার পথচলা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যেও সেই ক্ষমতাকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক দর্শনের একটি আধুনিক প্রকাশ দেখা যাচ্ছে।

এখানেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ: রাজনীতি তাহলে কাদের জন্য…?
এই প্রশ্নের উত্তরও শুধু বক্তৃতায় নয়, কাজে দিতে হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ছয় মাসে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ইত্যাদি উদ্যোগের কেন্দ্রে তাই আরেকটি বিষয় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেটা হলো, সরকারকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া। প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা, জনসেবা সহজ করা। সরকারের কর্মকাণ্ডকে মানুষের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগগুলো সফল হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন ঘটতে পারে, তা হল– রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার দূরত্ব কমে যাওয়া।

কারণ বাংলাদেশের মানুষ এখন বক্তৃতার চেয়ে ফলাফল চায়। তারা জানতে চায় না সরকার কী বলছে, তারা দেখতে চায় সরকার কী করছে। একজন কৃষক সার, কীটনাশক পাচ্ছে কি না, তার উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কি না, একজন তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, একজন ব্যবসায়ী অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ছাড়া কাজ করতে পারছেন কি না, একজন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও সরকারি সেবা পাচ্ছেন কি না, মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস পাচ্ছে কি না– এসবই শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রকৃত Performance Indicator।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিনয়ের সম্ভবত আরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ হলো সরকারের সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার না করা। ১৫ বছরের অধিক একটা স্বৈরশাসনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি, বিদ্যুত-গ্যাস এর প্রকত সমস্যা রয়েছে। সাফল্যের গল্পের পাশাপাশি এ ধরনের বাস্তবতা স্বীকার করার রাজনৈতিক মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রচলিত ক্ষমতার সংস্কৃতিতে সরকার সাধারণত নিজের সাফল্য তুলে ধরে, ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা স্বীকারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সেই জায়গায় তারেক রহমান অকপটে প্রকৃত অবস্থা শিকার করে বিভিন্নমুখি পদক্ষেপ গ্রহনের সংসদে জানিয়েছেন এবং জনগণের কাছে আরও সময়, সহযোগিতা চেয়েছেন– এটা কোন দুর্বলতা নয় বরং এটি রাজনৈতিক বিনয় (Humility) – এর একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এই Humanization of Power বাংলাদেশের মতো অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশাল বিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

সুতরাং তারেক রহমানের সাদামাটা পোশাক, প্রটোকলে সংযম, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি পরিমিত ভাষা কিংবা সরকারের সীমাবদ্ধতা স্বীকার– এ সবগুলোকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে সম্ভবত পুরো চিত্রটি অনুধাবন করা মুশকিল। বাংলাদেশের মতো একটি সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একসঙ্গে দেখলে এগুলো ক্ষমতা সম্পর্কে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারণার ইঙ্গিত বহন করে। তারেক রহমানের এই ক্ষমতাকে প্রদর্শন না করে পরিমিত ব্যবহার করা, প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান না করে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবিলা করা এবং নিজের অবস্থানকে অভ্রান্ত না ভেবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করা– এই ধারনা প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে এক সম্ভাবনাময় সূর্যের আভা দৃশ্যমান হবে। সুতরাং, তারেক রহমানের বিগত ছয় মাসকে শুধু একটি নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস হিসেবে দেখলে সম্ভবত এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিক উপেক্ষিত হবে।

ইতিহাস কোনো সরকারের গাড়িবহর, প্রটোকল কিংবা ক্ষমতার জৌলুস মনে রাখে না। ইতিহাস মনে রাখে, কে ক্ষমতাকে মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছিল, কে তাদের কণ্ঠ শুনেছিল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি ছিল, কে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার সাহস দেখিয়েছিল এবং কে রাষ্ট্রের শক্তিকে নিজের মর্যাদা বাড়ানোর পরিবর্তে মানুষের মর্যাদা বাড়াতে ব্যবহার করেছিল।

তাই আজকের রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন ক্ষমতা কার হাতে, তা নয়। তারেক রহমানের গত ছয় মাসের পদক্ষেপগুলো অন্তত একটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে– বাংলাদেশের রাজনীতি হয়তো ধীরে ধীরে ক্ষমতার জৌলুস থেকে মানুষের আস্থার দিকে, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে প্রতিষ্ঠানমুখিতার দিকে এবং কথার রাজনীতি থেকে কাজের রাজনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। কারণ ক্ষমতার সবচেয়ে বড় অলংকার কোনো বিশেষণ নয়, ক্ষমতার সবচেয়ে বড় অলংকার হলো মানুষের আস্থা।

লেখক : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.), প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

সাত প্রাণহানির পর রাজিব বাস বন্ধে কাফন পরে প্রতিবাদ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাত প্রাণহানির পর রাজিব বাস বন্ধে কাফন পরে প্রতিবাদ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ‘বেপরোয়া’ গতির অভিযোগ ওঠা রাজিব পরিবহনের বাস বন্ধ ও রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে কাফন পরে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন একদল যুবক। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পৌরসভা সিএনজি স্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যুবকদের হাতে ছিল খাতা-কলম। তারা পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর নিয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।

কর্মসূচির আয়োজক মুক্তাগাছা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শেখ তুহিন জানান, বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল এবং সড়কে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি এক সপ্তাহ চলবে।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কাফনের কাপড় পরে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। এক দিনেই বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজিব বাসের বেপরোয়া গতি ও দুর্ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শেখ তুহিনের দাবি, রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা মহাসড়কের জন্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাসটি জামালপুর-মুক্তাগাছা-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। মোটর মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করে বাসটি এভাবে চলাচল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শেষে রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজিব পরিবহনের কারণে কত পরিবার স্বজন হারিয়েছে তার হিসাব নেই। সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাসটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ ও থানা পুলিশ কাজ করছে। কর্মসূচির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। নাগরিক অধিকার হিসেবে যে কেউ দাবি জানাতে পারেন। দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এখনো লিখিত কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। লিখিত আবেদন পেলে দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় রাজিব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই রাজিব পরিবহনের বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে প্রশ্ন, অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে প্রশ্ন, অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে ৩৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেটব্যথা, খিঁচুনি ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় শিক্ষকরা কয়েকটি প্যাকেট ফুটো এবং কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখতে পান।

বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওই দুধ পান না করানোর পরামর্শ দেন। পরে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।

দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, দুধ পান করার পর তার মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে না পারায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেট ফুটো এবং দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার অনুরোধ করা হলেও পরে দুধ পান করতে বলা হয়। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে ১৬–১৭ জন শিক্ষার্থী এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং অনেকেই ভালো আছে। সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রাডার থেকে নিখোঁজের পর সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রাডার থেকে নিখোঁজের পর সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩২

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র লাগোসে একটি রুটিন মিশনে যাওয়ার সময় অনডো প্রদেশের ইগবোকোডা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

নাইজেরিয়ার এভিয়েশনবিষয়ক মন্ত্রী ফেসটাস কেয়ামো জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে উড্ডয়নের পর বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এডো প্রদেশ থেকে লাগোস যাওয়ার পথে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

একটি নৌঘাঁটির কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই দেশটির বিমানবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল এটিআর-৪২ মডেলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে স্থানীয় মানুষের ভিড়ও দেখা গেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনের দেহাবশেষ, পোশাক ও জুতা পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি