খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষক: একটি জাতির আত্মার নির্মাতা

আবু সাঈদ মো. নাজমুল হায়দার:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষক: একটি জাতির আত্মার নির্মাতা

আজ শিক্ষক দিবস। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো সভ্যতা নেই, যেখানে শিক্ষকের ভূমিকা অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ শিক্ষক কেবল একটি পেশার মানুষ নন; তিনি একটি জাতির চিন্তা, চেতনা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান কারিগর। একজন শিক্ষক একটি শিশুকে শুধু অক্ষরজ্ঞান দেন না, তিনি তাকে পৃথিবীকে দেখার চোখ দেন, প্রশ্ন করার সাহস দেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার শক্তি দেন।

শিক্ষক দিবস তাই শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি আত্মজিজ্ঞাসারও দিন। আমরা কেমন শিক্ষক চাই? আমরা শিক্ষকদের কী ধরনের মর্যাদা দিতে পারছি? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কী ধরনের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই?

আমার নিজের জীবনের সঙ্গে শিক্ষকতার সম্পর্কটি বিশেষভাবে গভীর। আমি নিজে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমার সহধর্মিনীও একজন শিক্ষক। আর আমার বাবা ছিলেন একজন হাইস্কুল শিক্ষক। ফলে শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু একটি পেশাগত পরিচয় নয়; এটি আমার পারিবারিক স্মৃতি, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনের অংশ।

ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে যখন হাট-বাজার কিংবা শহরের পথে বের হতাম, তখন একটি বিষয় আমাকে খুব বিস্মিত করত। বাবা ছিলেন না কোনো বড় আমলা, রাজনীতিবিদ বা ধনাঢ্য ব্যক্তি। তাঁর হাতে ছিল না ক্ষমতার কোনো দৃশ্যমান প্রতীক। কিন্তু পথে দেখা হলে মানুষ তাঁকে সম্মান করত, সালাম দিত, শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলত।

শিশুমনে তখন প্রশ্ন জাগত—বাবার এমন সম্মানের কারণ কী?

একদিন বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আব্বু, তোমাকে এত মানুষ সালাম দেয় কেন?”

বাবা হেসে বলেছিলেন, “শিক্ষকেরা রাবণের গোষ্ঠী। এদের সবাই সম্মান করে। ধনসম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি না থাকলেও শিক্ষকের মর্যাদা থাকে।”

তখন কথাটির গভীরতা বুঝিনি। আজ বুঝি, বাবা একটি বড় সত্য খুব সহজ ভাষায় বলে গিয়েছিলেন। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ নয়, তাঁর আয় নয়, তাঁর সামাজিক ক্ষমতাও নয়। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—কত মানুষের জীবনে তিনি আলো জ্বালাতে পেরেছেন।

একজন শিক্ষক চলে যান, কিন্তু তাঁর শিক্ষা থেকে যায়। তিনি হয়তো একটি বিদ্যালয়ের ছোট্ট কক্ষে বসে পাঠদান করেন, কিন্তু তাঁর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বহু দূর পর্যন্ত।

আমার নিজের শিক্ষাজীবনের দিকে ফিরে তাকালে এমন অসংখ্য শিক্ষকের মুখ মনে পড়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যাঁদের পেয়েছি, তাঁদের অনেকেই শুধু শিক্ষক ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন বন্ধু, অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও জীবনদর্শনের নির্মাতা।

আমি যে প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেছিলাম, সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪০ সালে। আমি যখন ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন একজন নতুন শিক্ষক আমাদের স্কুলে বদলি হয়ে এসেছিলেন। তাঁর নাম মনিমোহন রায়।

তিনি এসেছিলেন যেন একটি নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আস্থা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল। সেই স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫০ বছর পর আমি প্রথমবারের মতো বৃত্তি লাভ করি।

একজন শিক্ষকের অবদান কখনো শুধু একটি ফলাফলে পরিমাপ করা যায় না। একটি ভালো ফলাফলের পেছনে থাকে তাঁর অদৃশ্য শ্রম, তাঁর উৎসাহ, তাঁর বিশ্বাস এবং একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার ওপর তাঁর আস্থা।

মনিমোহন রায় স্যার আমার জীবনে সেই শিক্ষকদের একজন, যাঁরা প্রমাণ করেছেন—একজন শিক্ষক কখনো কখনো একটি শিশুর জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

কবি কাজী কাদের নেওয়াজ তাঁর বিখ্যাত কবিতা “শিক্ষকের মর্যাদা”-তে শিক্ষককে যে উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা আমাদের সমাজের গভীর মূল্যবোধের প্রতিফলন। কবিতার মূল বক্তব্য হলো—ক্ষমতা, সম্পদ ও রাজকীয় প্রভাবের চেয়েও জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মর্যাদা বড়।

একজন প্রকৃত শিক্ষক সমাজের বিবেক। তিনি শুধু তথ্য দেন না, তিনি বোধ তৈরি করেন। তিনি শুধু পরীক্ষায় ভালো করার পথ দেখান না, তিনি জীবনে ভালো মানুষ হওয়ার পথ দেখান।

কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবতে হবে—আমরা কি শিক্ষকের সেই ঐতিহ্যগত মর্যাদা ধরে রাখতে পারছি?

সমাজ বদলেছে। পরিবার বদলেছে। প্রযুক্তি বদলেছে। শিক্ষার্থীদের চিন্তার ধরন বদলেছে। একসময় শিক্ষক ছিলেন জ্ঞানের প্রধান উৎস। এখন তথ্যের জন্য শিক্ষার্থীকে শুধু শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হয় না; ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে তথ্য এখন সহজলভ্য।কিন্তু তথ্য আর শিক্ষা এক বিষয় নয়।

তথ্য মানুষকে জানায়, কিন্তু শিক্ষা মানুষকে বুঝতে শেখায়। তথ্য দক্ষতা তৈরি করে, কিন্তু শিক্ষা বিবেক তৈরি করে। আর এই বিবেক তৈরির কাজটি একজন শিক্ষকই করেন।

আজকের দিনে একজন শিক্ষকের দায়িত্ব আরও কঠিন। তাঁকে শুধু পাঠ্যসূচি শেষ করতে হয় না; তাঁকে এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে হয়, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করবে কিন্তু প্রযুক্তির দাস হবে না, মত প্রকাশ করবে কিন্তু অন্যের মতকে সম্মান করবে, প্রতিযোগিতা করবে কিন্তু মানবিকতা হারাবে না।

বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যেমন অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত হয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণার পরিবেশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয় উঠে এসেছে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ শিক্ষক তৈরি, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকের ভূমিকা এখন নতুনভাবে বিবেচনা করার সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি চিন্তা, গবেষণা ও নতুন জ্ঞান তৈরির কেন্দ্র। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে তাই পাঠদানের পাশাপাশি গবেষক, চিন্তক ও সমাজের একজন দায়িত্বশীল বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মী হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হয়।

বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষকের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। নানা ধরনের বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও মূল্যবোধের সংকটের সময়ে শিক্ষককে তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা ও মানবিকতা তৈরি করতে হয়।

শিক্ষকই শেখান—প্রশ্ন করা অপরাধ নয়; বরং প্রশ্ন থেকেই জ্ঞানের শুরু। ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়; বরং যুক্তির মাধ্যমে সত্য অনুসন্ধানই সভ্যতার পথ।

একটি জাতির ভবিষ্যৎ তার শ্রেণিকক্ষেই তৈরি হয়। আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের প্রশাসক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ ও সমাজনেতা হবে। তাই একজন শিক্ষকের হাতে শুধু একটি শ্রেণির শিক্ষার্থী নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ থাকে।

আমরা প্রায়ই দেশের উন্নয়নের কথা বলি। উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তি, অর্থনীতি—সবই প্রয়োজন। কিন্তু এসবের ভিত্তি হলো দক্ষ ও মানবিক মানুষ। আর সেই মানুষ তৈরির প্রথম কারিগর হলেন শিক্ষক।

আজ শিক্ষক দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আমার সকল শিক্ষককে। যাঁরা আমাকে অক্ষর চিনিয়েছেন, জ্ঞান দিয়েছেন, চিন্তা করতে শিখিয়েছেন, নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার সাহস দিয়েছেন—তাঁদের ঋণ কোনোদিন শোধ করার নয়।

শ্রদ্ধা জানাই আমার বাবা, আমার সহধর্মিনী এবং পৃথিবীর সকল শিক্ষককে।

তাঁরা হয়তো সবসময় ইতিহাসের পাতায় স্থান পান না, কিন্তু ইতিহাসের মানুষগুলো তৈরি হয় তাঁদের হাত ধরেই।

একজন শিক্ষক হয়তো একদিনে পৃথিবী বদলে দিতে পারেন না; কিন্তু তিনি এমন মানুষ তৈরি করেন, যারা একদিন পৃথিবী বদলে দিতে পারে।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইলঃ asmnh.04@ru.ac.bd

শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
শিশুদের সরল প্রশ্নে অকপট প্রধানমন্ত্রী ফিরলেন শৈশবে

একটি শিশু নিজের নাম বলল—‘জাইমা’। মুহূর্তেই বদলে গেল অনুষ্ঠানের আবহ। মেয়ের নামের সঙ্গে মিল পেয়ে মুচকি হাসলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ চারপাশে তখন শিশুদের উচ্ছ্বসিত করতালি। এরপর আর কোনো কঠিন প্রটোকল যেন থাকল না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে থাকা শিশুরা একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করল। আর তিনি উত্তর দিতে দিতে ফিরে গেলেন নিজের শৈশবে—বললেন সুন্দরবনের কথা, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ দেখার বিস্ময়ের কথা। জানালেন, ছোটবেলায় বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না; ভাবতেন, বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেবেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৫০ শিশুর উষ্ণ অভ্যর্থনা, প্রশ্নের সরলতা আর প্রধানমন্ত্রীর অকপট জবাব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মানবিক দৃশ্যপট। আর সেই আবহেই উঠে আসে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথাও।

  • শিশুদের হাসি-প্রশ্নে বদলে গেল আয়োজন
  • সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ‘দুনিয়ার সব খেলনা’
  • নিজের গল্পের ফাঁকে শিশুদের দিলেন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হওয়ার পাঠ

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’

এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। কিন্তু নিরাপদ শৈশবের ধারণাকে শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এসেছে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মানবিক মূল্যবোধ—একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের প্রায় সব অনুষঙ্গই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করে শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

পড়ার টেবিলের বাইরেও শৈশব

অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। খেলাধুলা, গান, কেরাত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তোমরা যত সুন্দরভাবে ও কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশও তত কনফিডেন্ট হিসেবে গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিশুদের ব্যক্তিগত বিকাশের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা স্পষ্ট। আত্মবিশ্বাসী শিশু মানেই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম—আর সেই প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, এমন প্রত্যাশাই তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। শুধু দক্ষতা নয়, মূল্যবোধের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের সব প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা ছিল সরল—জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সহমর্মিতা না থাকলে মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

এক প্রশ্নে খুলে গেল শৈশবের দরজা

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণ এনে দেয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার শিশুরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে এক শিশু বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’ নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে মিল থাকায় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে বলেন, ‘তাই নাকি! এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’ তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় অনুষ্ঠানস্থল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর এক শিশু জানতে চায়, জাইমা রহমান অনুষ্ঠানে কেন আসেননি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। আরেক শিশুর প্রশ্নে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাবার ব্যস্ততার কারণে শৈশবে বাইরে ঘোরার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। তবে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে একবার তিন দিনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।

হিরণ পয়েন্টে নরম কাদার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের তাজা থাবার ছাপ নিজের চোখে দেখার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে ভাসে বলে জানান তিনি। শৈশবের স্বপ্ন জানতে চাইলে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আসলে কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। ভাবতাম বড় হয়ে দুনিয়ার সব খেলনা কিনে নেব।’ নিজের শিক্ষাজীবনের কথাও শিশুদের জানান তিনি। বলেন, তিনি শাহীন স্কুল ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন।

প্রযুক্তি—বন্ধ নয়, সঠিক ব্যবহারের পাঠ

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশ্নেও নিষেধের বদলে দায়িত্বশীলতার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। পড়াশোনা, বিজ্ঞান মেলা কিংবা খেলাধুলার তথ্য জানতে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো ঠিক নয় বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—প্রযুক্তি যেন শিশুর সময় কেড়ে না নেয়; বরং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথ খুলে দেয়। ডিজিটাল বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য এই বার্তার গুরুত্বও কম নয়। প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে উন্মুক্ত মাঠ

অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রতিটি এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ব্যয়বহুল হলেও ইউনিয়ন ও উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সুবিধাবঞ্চিত এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞান, গণিত ও খেলাধুলায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সরকারের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শৈশব’ স্মরণিকা, ছবি গ্যালারি ও সোলার প্যানেল

শিশুদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরে শিশু জাদুঘর ভবনে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধনও করেন তিনি। এই আয়োজনের শেষভাগে যেন পাশাপাশি দাঁড়ায় দুটি ছবি—একদিকে শিশুদের আঁকা ভবিষ্যতের স্বপ্ন, অন্যদিকে সেই ভবিষ্যৎকে বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ।

কালের আলো/এএএএমকে

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৯৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৯৯৬

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) পদে যোগদান করেছেন কামারুম মুনিরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কামারুম মুনিরা ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) পদে যোগদান করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহ এবং পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নতুন দায়িত্বে কামারুম মুনিরা এ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি