খুঁজুন
                               
, ,
           

গুমের অবসান ও ন্যায়বিচারের পথে নতুন বাংলাদেশ

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
গুমের অবসান ও ন্যায়বিচারের পথে নতুন বাংলাদেশ

রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু রাষ্ট্র নিজেই যখন তার নাগরিককে দিনদুপুরে বা রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে নিখোঁজ করে দেয়, তখন তা আর কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ থাকে না—তা রূপান্তরিত হয় এক নারকীয় বন্দিশালায়। ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ বা বিশ্ব গুম দিবস। এই দিবসটি কেবল পঞ্জিকার পাতা উল্টানোর কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি গুম হওয়া হাজারও মানুষের কান্না, অন্ধকারের কুঠুরিতে বন্দী জীবনের নিঃশব্দ আর্তনাদ এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দিন। গুম কেবল একটি নির্দিষ্ট মানুষকে হারিয়ে যাওয়া বোঝায় না, এটি একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা ভুক্তভোগী পরিবারসহ সমগ্র সমাজকে প্রতিনিয়ত তিলে তিলে ধ্বংস করে। গুম হওয়া প্রতিটি নাম, প্রতিটি মুখ আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিবেকের কাছে এক একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন।

কোনো শিশুর কাছে তার বাবা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নন। তিনি সেই মানুষ, যিনি স্কুল থেকে ফেরার সময় হাত ধরে বাড়ি নিয়ে আসতেন। কোনো গৃহবধূর কাছে নিখোঁজ স্বামী কোনো পরিসংখ্যান নন; তিনি সংসারের নির্ভরতা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং জীবনের সঙ্গী। কোনো বৃদ্ধ মায়ের কাছে নিখোঁজ সন্তান আজও সেই ছোট্ট শিশুই—যে একদিন মায়ের আঁচল ধরে হাঁটতে শিখেছিল।

তাই একজন মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার অবস্থান অস্বীকার করা মানে শুধু একজন নাগরিককে অদৃশ্য করে দেওয়া নয়; একটি পরিবারকে জীবন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া। মৃত্যুতে অন্তত একটি শেষ খবর থাকে, কবর থাকে, শোকের আনুষ্ঠানিকতা থাকে। গুমের সবচেয়ে নির্মমতা হলো—এখানে শোকেরও কোনো শেষ নেই।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যূত ও পলাতক স্বৈরাচারী শাসন আমলটি চিহ্নিত হয়ে থাকবে গুম, খুন ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে। শেখ হাসিনার শাসন আমলকে টিকিয়ে রাখার মূল হাতিয়ার ছিল রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মী, ভিন্নমতালম্বী, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের গুম করা। এই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও নারকীয় রূপ ছিল ‘আয়নাঘর’।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত এই গোপন বন্দিশালাগুলো ছিল আধুনিক যুগের টর্চার সেল। জানলাহীন, আলো-বাতাসহীন, অত্যন্ত ছোট ছোট স্যাঁতসেঁতে কুঠুরিতে বন্দীদের বছরের পর বছর আঁটকে রাখা হতো। দিনে-রাতে সবসময় প্রকাণ্ড ফ্যানের আওয়াজ চালিয়ে রাখা হতো, যাতে বাইরের কোনো শব্দ ভেতরে না আসে এবং ভেতরের আর্তনাদ বাইরে না পৌঁছায়।

সেখানে বন্দীদের ওপর চালানো হতো অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন—বৈদ্যুতিক শক, ওয়াটার বোর্ডিং, নখ উপড়ে ফেলা এবং হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে পিটানো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সাবেক সেনাকর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বহিষ্কৃত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী কিংবা বারিস্টার আরমানদের মতো ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ ৮-৯ বছর পর মুক্তি পেয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা কোনো সভ্য সমাজের গল্প নয়; তা যেন মধ্যযুগীয় কোনো হিংস্রতার নামান্তর।

গুমের সবচেয়ে করুণ দৃশ্য ফুটে ওঠে গুম হওয়া পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে। একটি স্বাভাবিক মৃত্যু মানুষকে শোক সইবার শক্তি দেয়, কিন্তু গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া একটি পরিবারকে অনন্তকাল ধরে ঝুলন্ত যন্ত্রণার মধ্যে রাখে। মায়ের আর্তনাদের কোনো শেষ নেই। “আমার বাবা কি বেঁচে আছে, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে?”—এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে কত শত মা চোখ বোজা পর্যন্ত দরজার দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। অনেক মা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সন্তানের মুখটি আর না দেখেই। ছোট্ট শিশুদের কান্না দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কেঁপে ওঠে।

বহু শিশু রয়েছে, যারা যখন ছোট ছিল তখন তাদের বাবাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল; আজ তারা বড় হয়েছে, কিন্তু বাবার ছায়া পায়নি।  ঈদের দিন বা জন্মদিনে অন্য শিশুরা যখন বাবার হাত ধরে ঘুরে বেড়ায়, তখন গুম হওয়া পরিবারের শিশুরা তাদের বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে অশ্রু বিসর্জন দেয়। গৃহবধূর অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হতে চায় না। স্বামী জীবিত না মৃত—এই নিশ্চিত তথ্য না থাকায় বহু নারী সামাজিকভাবে আইনি ও পারিবারিক চরম জটিলতায় পড়েছেন। তাদের এই দীর্ঘ নীরব কান্না রাষ্ট্রের প্রতিটি ইট-পাথরে আছড়ে পড়ে। ‘মায়ের ডাক’ নামক প্ল্যাটফর্মটি গত এক দশক ধরে এই কান্না ও দাবির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ৬০০ জনের বেশি গুমের শিকার হয়েছেন।

এদের মধ্যে পরবর্তীতে অনেকের লাশ নদী বা রাস্তার পাশে পাওয়া গেছে, কাউকে কাউকে কয়েক মাস বা বছর পর গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, কিন্তু একটি বড় অংশের কোনো খোঁজ আজও মেলেনি। একই সাথে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ৭০৮ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ২০২১ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ “He Didn’t Even Cry: Enforced Disappearances in Bangladesh” শীর্ষক ৮২ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সংস্থাটি উল্লেখ করে, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমালোচকদের নিশ্চিহ্ন করতে গুমকে একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং তারা ৮৬টি সুনির্দিষ্ট গুমের ঘটনার বিস্তারিত তালিকা জাতিসংঘে জমা দিয়েছিল, যার সদুত্তর শেখ হাসিনার সরকার কখনোই দিতে পারেনি।

পাশাপাশি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানায় যে র‍্যাব এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সরাসরি এই গুমের সাথে জড়িত। এসবের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু গুমের ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপি-র শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলীকে ঢাকার বনানী থেকে গুম করা হয়, যাদের আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২০১০ সালের ২৫ জুন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর তিনি চিরতরে নিখোঁজ হন।

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার শাহীনবাগ এলাকা থেকে ৮ জন যুবকের সাথে সাজেদুল ইসলাম সুমনকে তুলে নিয়ে যায় র‍্যাব-১; পরবর্তীতে সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক হিসেবে গুমবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমাকে ঢাকা থেকে গুম করা হয় এবং তিনি ৫ বছরেরও বেশি সময় আয়নাঘরে বন্দী থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর মুক্ত হন।

একইভাবে ২০১৬ সালের আগস্টে নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে ৮ বছর আয়নাঘরে বন্দী রাখার পর ২০২৪ সালের আগস্টে মুক্তি পান মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

আন্তর্জাতিক আইনে গুম একটি স্বতন্ত্র ও গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ। ২০০৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance’ বা ‘সব ব্যক্তির গুম হওয়া থেকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সনদ’ গৃহীত হয়, যার মূল কথা হলো—কোনো অবস্থাতেই, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বাহানাতেও কাউকে গুম করা যাবে না।

জাতিসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলন্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গুমের ঘটনাগুলো তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল। জাতিসংঘ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে গুমের অভিযোগগুলো তদন্তের নিরপেক্ষ সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তা ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছিল।

বিশ্বের উন্নত দেশসমূহ ও বিভিন্ন অঞ্চলে গুম প্রতিরোধে কঠোর আইনি অবকাঠামো রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার সনদ এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের (ECHR) অধীনে গুমকে চরম মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফ্রান্সে গুমের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মারাত্মক শারীরিক ক্ষতির ক্ষেত্রে অপরাধীদের অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘Global Magnitsky Human Rights Accountability Act’-এর অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত যেকোনো দেশের কর্মকর্তাদের ওপর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক অবরোধ আরোপ করা হয়।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ২০১৭ সালে তাদের নতুন ক্রিমিনাল কোডে গুমকে একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেখানে গুমের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ২০১৮ সালে জাতিসংঘের গুমবিরোধী সনদে অনুস্বাক্ষর করে এবং গুম প্রতিরোধ আইন পাস করে, যেখানে গুমের অপরাধে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও ভারতে গুমের ঘটনা ঘটলেও সেখানে গুমবিরোধী আলাদা ও পূর্ণাঙ্গ আইনের মারাত্মক অভাব রয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন সোচ্চার।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং গঠিত হয় নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার গুমের বিচার ও এটি প্রতিরোধে অভূতপূর্ব ও দৃঢ় অঙ্গিকার প্রদর্শন করেছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট জাতিসংঘের গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুম বন্ধের আইনি অঙ্গীকারে আবদ্ধ হলো।

বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব আইনে পরিণত করা। ২০২৫ সালে Enforced Disappearance Prevention and Redress Ordinance-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট বর্তমান সরকার Enforced Disappearance Prevention and Redress Act, 2026-এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী খসড়ায় enforced disappearance-কে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত যাওয়ার বিধান এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে; তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিনের সময়সীমার কথাও বলা হয়েছে।

আমি মনে করি,এখানে সরকারের সামনে দুটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আইনটি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনটি যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কঠোর শাস্তি থাকাই যথেষ্ট নয়; স্বাধীন তদন্ত, ন্যায়সংগত বিচার, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, সাক্ষী সুরক্ষা, ভুক্তভোগীর অধিকার এবং কার্যকর প্রতিকার—সবকিছুর সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন।

পরিশেষে বলতে চাই,একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গুমের মতো বিভীষিকার আর কখনো যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য কেবল কমিশন গঠন বা সনদে স্বাক্ষরই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। জাতিসংঘের সনদের আলোকে বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে গুমকে একটি পৃথক, জামিনঅযোগ্য ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকবে। ডিজিএফআই, র‍্যাব ও ডিবি-র মতো সংস্থাগুলোকে রাজনীতিকরণের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে এবং কোনো গোয়েন্দা সংস্থা যেন সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গোপনে তুলে নিয়ে আটক রাখার এখতিয়ার না পায়, তার জন্য আইনি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গুমের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উপযুক্ত অর্থ ও সামাজিক ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ গুম হওয়া ব্যক্তিদের রেখে যাওয়া সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে গুমের হুকুমদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি বাস্তবায়নকারী—তা সে যত বড় প্রভাবশালী বা শীর্ষ কর্মকর্তা হোক না কেন—প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃশ্যমান শাস্তি দিতে হবে। বিশ্ব গুম দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক আর কখনোই রাতের আঁধারে গুম হবে না, কোনো মায়ের কোল আর খালি হবে না, আর কোনো শিশুকে বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে কাঁদতে হবে না। রাষ্ট্রকে তার বিবেকের কাছে সৎ হতে হবে; হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি নামের হিসাব দিতে হবে এবং সুবিচার সুনিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আফগান কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি পৃথক স্থানেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভূখণ্ডে আন্তসীমান্ত হামলা চালাচ্ছে।

তবে তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে নতুন করে হামলার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর আবারও চাপ তৈরি করতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন দিনে একদিন জমা পানি অপসারণের আহ্বান

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন দিনে একদিন জমা পানি অপসারণের আহ্বান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এ অভ্যাস নগরবাসীর প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মেয়র বলেন, নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মেয়র জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামও চালানো হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের একক কার্যক্রমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন মাসব্যাপী পরিকল্পনার আওতায় নগরের প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

মেয়র নগরবাসীকে বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে বলেন।

চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিষয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহারের পাশাপাশি লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।

প্রতিটি ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ চলছে জানিয়ে মেয়র বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারক করছেন। এ কার্যক্রমে বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়ে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রোমে জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব শাখার এক সমাবেশে এসব প্রস্তাবের কথা জানান মেলোনি। আগামী ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিষয়গুলো ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মেলোনি বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে ‘গুরুতর সমস্যা’ রয়েছে, তাদের জন্য ইতালীয় ভাষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হবে।

রোমে আয়োজিত ‘জিওভেন্তু নাজিওনালে’ জাতীয় উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি বলেন, যারা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের দেশটির ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং স্থানীয় নিয়মকানুনকে সম্মান করতে হবে।

প্রস্তাব কার্যকর করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন

সরকার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো অনুমোদন করলেও সেগুলো আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার। তবে ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

এরই মধ্যে ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) নামে আরও ডানপন্থি একটি দল স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। জুলাইয়ে দলটি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

বোরকা-নিকাব নিয়ে ইতালির বর্তমান আইন

বোরকা এমন একটি পোশাক, যাতে নারীর পুরো শরীর ও মুখ ঢাকা থাকে। সাধারণত চোখের সামনে জালের মতো কাপড় থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকলেও চোখ দেখা যায়।

ইতালিতে বর্তমানে বোরকা বা নিকাব সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের একটি আইনি সিদ্ধান্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়। সেখানে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরার সুযোগ রাখা হলেও পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে মেলোনির ক্ষমতাসীন জোটের অংশ লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুতে মুখ ঢাকা পোশাক নিয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধের একটি বিল জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে খেলাধুলার অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে এমন হেলমেট বা পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়েও নতুন প্রস্তাব

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর আইনি সীমা আরোপের কথাও জানিয়েছেন মেলোনি।

তবে ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। একটি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সীমা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে মেলোনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী। ফলে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও একীভূতকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সংসদে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসএ