খুঁজুন
                               
, ,
           

দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

স্যোশাল মিডিয়ায় বানোয়াট তথ্য, ভুয়া ছবি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশের ইমেজ নষ্টের চেষ্টায় সফল হতে পারেনি চক্রবিশেষ। কিছুদিন ধরে আচ্ছা রকমে চলেছে এ চেষ্টা। এর অংশ হিসেবে দেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া ছবি এবং পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা দেওয়ার হেন চেষ্টা নেই, যা না করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা অশুভ স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এসব করে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি সম্ভব হলেও বড় রকমের ভেজাল তারা পাকাতে পারেনি।

এ অপচেষ্টারই ফলো আপ ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি। মূল উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। এসব অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার কূটনৈতিক এলাকাসহ দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের আতঙ্কিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই দেশবিরোধী এ অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।

চীন-রাশিয়াসহ ঢাকার কয়েকটি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ না করা হলেও দূতাবাসের তরফে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হলে সেখান থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন ইউনিটকে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে কাউন্টার টেররিজম বিষয়টি তদন্ত করছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার পুরো কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দূতাবাসগুলোতে বিভিন্ন ভুয়া ইমেইল থেকে হুমকি দিয়ে মেইল এসেছে। যেসব ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকির মেসেজগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা বয়ানের ই-মেইল পাঠিয়ে, একেক সময় একেক ছদ্মনাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। বার্তাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট চরমপন্থী বা রাজনৈতিকাদর্শের উল্লেখ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অপেশাদার চাঁদাবাজির প্রচেষ্টা।

ডিপ্লোমেটিক জোনে বরাবর সব সময়ই শতভাগ নিরাপত্তা থাকে। যেকোনো ইনসিডেন্ট ঘটলে বা মেসেজ পেলে, সেটা লিখিত বা মৌখিক যা-ই হোক, তৎপরতা বাড়ানো নিয়মিত গতানুগতিক কাজের অংশ। তারপরও আবশ্যকতার প্রশ্নে মেইল করে তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, সেই বিকাশ নম্বরের প্রায় ৩-৪ জনকে পুলিশ লাম জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কিছুই জানে না। মেইল করে যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, তারা নিরীহ লোক। তারপরও দুষ্টকর্মের আয়োজকরা আংশিক সফল। বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে কিছুটা ভীতি ও আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমে খবর হয়েছে। পুলিশকে ব্যস্ত করা গেছে। সরকারকে একটু হলেও বিব্রত করা গেছে। বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের ইমেজে একটু টোকা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটাও তাদের জন্য তৃপ্তির।

কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন (ভিয়েনা কনভেনশন) অনুযায়ী হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের হুমকি বা অপপ্রচার দেশের বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অনিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করা অসম্ভব নয়। দেশবিরোধী অপশক্তি বা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে চাওয়া গোষ্ঠী এর মাধ্যমে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত ও চাপে ফেলার চেষ্টা করে। সাইবার অপরাধী ও আন্তর্জাতিক স্ক্যামাররা অনেক সময় সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে এই ভুয়া হুমকি দেয়। এসব করে সংকীর্ণ গণ্ডিতে কতক লোক এতে লাভবানও হয়। কোনো দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট করে সাময়িক তৃপ্তি মেলে। দীর্ঘমেয়াদে বা সামগ্রিকভাবে লাভ হয় না, বরং এর ফলে দেশ এবং দেশের সকল নাগরিক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে ক্ষণস্থায়ী বা সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পক্ষ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা আগেও হয়েছে। এসব করে তারা সাময়িক সুবিধা নেয়। একটি দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট হলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ বা গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

নানা কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, লাভ হাসিলের আরো নানা পক্ষ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের পর্যটন, রপ্তানি বাজার বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। একটি দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে বা দুর্বল করে রাখলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক সময় কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। সাইবার অপরাধী, সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। বিতর্কিত কিছু অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শুধু ভিউ, লাইক বা সস্তা প্রচারের জন্য দেশের নেতিবাচক বা মিথ্যা খবর বানিয়ে প্রচার করে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী রোমাঞ্চকর বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করতে তাদের বিবেকে বাধে না। দেশের ইমেজ নষ্ট করার পেছনে কিছু মহলের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকলেও, চূড়ান্ত বিচারে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি বড় আত্মঘাতী এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। দেশের ইমেজ নষ্ট করার এ অশুভ খেলা রুখতেই হবে। এ খেলা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পর্যটন শিল্পের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশের ভাবমর্যাদা বা ইমেজ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই গুজব, উড়ো চিঠি, হুমকি ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গুজব ছড়ানোর সাথে সাথে সরকারের তরফে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। মূল ধারার গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। করতে হবে ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অর্জন, অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি। বিদেশে অবস্থিত দেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিদেশি সরকারের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দূতাবাসে এই স্ক্যাম বা ভুয়া মেইল পাঠানো হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করা জরুরি। জনগণের কাছে স্পষ্ট দেয়া আরো জরুরি। নইলে এ ধরনের চেষ্টা-অপচেষ্টা একটার পর একটা চলতেই থাকবে। আজ করবে গুজব রটিয়ে, কাল উড়ো চিঠি দিয়ে, আরেকদিন নিয়ে আসবে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয়াদি।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

গুলশানে আ.লীগের নিষিদ্ধ মিছিল: আরও ৪০ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
গুলশানে আ.লীগের নিষিদ্ধ মিছিল: আরও ৪০ জন আটক

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়ে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

ডিএমপি জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে শুক্রবার গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

এ নিয়ে গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই দফায় মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি