খুঁজুন
                               
, ,
           

দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

স্যোশাল মিডিয়ায় বানোয়াট তথ্য, ভুয়া ছবি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশের ইমেজ নষ্টের চেষ্টায় সফল হতে পারেনি চক্রবিশেষ। কিছুদিন ধরে আচ্ছা রকমে চলেছে এ চেষ্টা। এর অংশ হিসেবে দেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া ছবি এবং পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা দেওয়ার হেন চেষ্টা নেই, যা না করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা অশুভ স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এসব করে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি সম্ভব হলেও বড় রকমের ভেজাল তারা পাকাতে পারেনি।

এ অপচেষ্টারই ফলো আপ ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি। মূল উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। এসব অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার কূটনৈতিক এলাকাসহ দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের আতঙ্কিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই দেশবিরোধী এ অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।

চীন-রাশিয়াসহ ঢাকার কয়েকটি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ না করা হলেও দূতাবাসের তরফে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হলে সেখান থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন ইউনিটকে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে কাউন্টার টেররিজম বিষয়টি তদন্ত করছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার পুরো কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দূতাবাসগুলোতে বিভিন্ন ভুয়া ইমেইল থেকে হুমকি দিয়ে মেইল এসেছে। যেসব ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকির মেসেজগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা বয়ানের ই-মেইল পাঠিয়ে, একেক সময় একেক ছদ্মনাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। বার্তাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট চরমপন্থী বা রাজনৈতিকাদর্শের উল্লেখ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অপেশাদার চাঁদাবাজির প্রচেষ্টা।

ডিপ্লোমেটিক জোনে বরাবর সব সময়ই শতভাগ নিরাপত্তা থাকে। যেকোনো ইনসিডেন্ট ঘটলে বা মেসেজ পেলে, সেটা লিখিত বা মৌখিক যা-ই হোক, তৎপরতা বাড়ানো নিয়মিত গতানুগতিক কাজের অংশ। তারপরও আবশ্যকতার প্রশ্নে মেইল করে তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, সেই বিকাশ নম্বরের প্রায় ৩-৪ জনকে পুলিশ লাম জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কিছুই জানে না। মেইল করে যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, তারা নিরীহ লোক। তারপরও দুষ্টকর্মের আয়োজকরা আংশিক সফল। বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে কিছুটা ভীতি ও আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমে খবর হয়েছে। পুলিশকে ব্যস্ত করা গেছে। সরকারকে একটু হলেও বিব্রত করা গেছে। বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের ইমেজে একটু টোকা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটাও তাদের জন্য তৃপ্তির।

কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন (ভিয়েনা কনভেনশন) অনুযায়ী হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের হুমকি বা অপপ্রচার দেশের বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অনিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করা অসম্ভব নয়। দেশবিরোধী অপশক্তি বা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে চাওয়া গোষ্ঠী এর মাধ্যমে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত ও চাপে ফেলার চেষ্টা করে। সাইবার অপরাধী ও আন্তর্জাতিক স্ক্যামাররা অনেক সময় সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে এই ভুয়া হুমকি দেয়। এসব করে সংকীর্ণ গণ্ডিতে কতক লোক এতে লাভবানও হয়। কোনো দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট করে সাময়িক তৃপ্তি মেলে। দীর্ঘমেয়াদে বা সামগ্রিকভাবে লাভ হয় না, বরং এর ফলে দেশ এবং দেশের সকল নাগরিক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে ক্ষণস্থায়ী বা সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পক্ষ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা আগেও হয়েছে। এসব করে তারা সাময়িক সুবিধা নেয়। একটি দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট হলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ বা গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

নানা কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, লাভ হাসিলের আরো নানা পক্ষ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের পর্যটন, রপ্তানি বাজার বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। একটি দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে বা দুর্বল করে রাখলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক সময় কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। সাইবার অপরাধী, সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। বিতর্কিত কিছু অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শুধু ভিউ, লাইক বা সস্তা প্রচারের জন্য দেশের নেতিবাচক বা মিথ্যা খবর বানিয়ে প্রচার করে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী রোমাঞ্চকর বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করতে তাদের বিবেকে বাধে না। দেশের ইমেজ নষ্ট করার পেছনে কিছু মহলের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকলেও, চূড়ান্ত বিচারে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি বড় আত্মঘাতী এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। দেশের ইমেজ নষ্ট করার এ অশুভ খেলা রুখতেই হবে। এ খেলা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পর্যটন শিল্পের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশের ভাবমর্যাদা বা ইমেজ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই গুজব, উড়ো চিঠি, হুমকি ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গুজব ছড়ানোর সাথে সাথে সরকারের তরফে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। মূল ধারার গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। করতে হবে ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অর্জন, অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি। বিদেশে অবস্থিত দেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিদেশি সরকারের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দূতাবাসে এই স্ক্যাম বা ভুয়া মেইল পাঠানো হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করা জরুরি। জনগণের কাছে স্পষ্ট দেয়া আরো জরুরি। নইলে এ ধরনের চেষ্টা-অপচেষ্টা একটার পর একটা চলতেই থাকবে। আজ করবে গুজব রটিয়ে, কাল উড়ো চিঠি দিয়ে, আরেকদিন নিয়ে আসবে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয়াদি।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি