খুঁজুন
                               
, ,
           

চাঁদাবাজ-দখলবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজ-দখলবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি রিজভীর

চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই হুঁশিয়ারি দেন রিজভী।

তার ভাষায়, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বিএনপির। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রিজভী দাবি করেন, ‘বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে সমতার পরিচয় দিয়েছে এবং অঙ্গীকার রক্ষার পরিচয় দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার অত্যন্ত সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকার ব্যাপকভাবে কাজ করছে।’

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়নে বিরোধী দলের আনা ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি বিরোধী দলের একটি ঢালাও মন্তব্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের কাজের ডাটা প্রসেস করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিচ্ছে। সরকার বিজ্ঞানসম্মতভাবে ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, কাউন্সিলের বিষয়টি নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে। তবে দিন, তারিখ ও মাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভীই এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

৫ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবছরের মতো এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এছাড়া উপযুক্ত দিনে মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর কিছু সময় আগে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভীর সভাপতিত্বে একটি যৌথ সভা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পেনশন আবাসন ও যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
পেনশন আবাসন ও যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল ইউরোপ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেনশন অধিকার, আবাসন সংকট, দুর্নীতি ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে নানা দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। কোথাও সরকারের পদত্যাগ ও নীতির পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, কোথাও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকটি দেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও আগের সহিংসতার ঘটনার পর ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অধিকার এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ গ্রেপ্তার কয়েক হাজার
ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে বিক্ষোভের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। শুধু রাজধানী প্যারিসেই আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্সের পরিস্থিতি ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিক্ষোভের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ এক না হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ অনেক ক্ষেত্রেই বিক্ষোভের পেছনে ভূমিকা রাখছে।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তেজনা
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশটিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

এই আন্দোলনের মধ্যে সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তিরানায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভের কারণে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির পাশাপাশি সংঘর্ষে আহতদের সংখ্যা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

ইতালিতে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ
ইতালির মিলান, রোম, তুরিন, নেপলস, বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুদ্ধের বিরোধিতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিক্ষোভ চলাকালে কিছু অংশগ্রহণকারী বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির আটটি শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ইতালিতে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ সামনে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ, আবাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এসব চাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে। তবে বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে তৎপর থাকতে হচ্ছে।

স্পেনে পেনশন অধিকার রক্ষায় রাজপথে অবসরভোগীরা
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পেনশনভোগী ও তাঁদের সমর্থকেরা অবসরকালীন অধিকার রক্ষার দাবিতে মিছিল করেছেন। তাঁদের প্রধান দাবি, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনের পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে না পড়েন। বিক্ষোভকারীরা ন্যূনতম পেনশন ন্যূনতম মজুরির সমান করার দাবিও জানিয়েছেন। পাশাপাশি নারী ও পুরুষের পেনশনের মধ্যে বৈষম্য কমানো এবং সরকারি পেনশনব্যবস্থা বেসরকারীকরণের উদ্যোগ প্রতিহত করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

পেনশনভোগীদের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে গেলে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন। তাই পেনশন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরকালীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। মাদ্রিদের এই কর্মসূচি ইউরোপের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে। পেনশনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং সরকারি সহায়তার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন দেশে যে উদ্বেগ রয়েছে, স্পেনের আন্দোলন তারই একটি উদাহরণ।

পর্তুগালে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ি ও ফ্ল্যাটের উচ্চমূল্য এবং আবাসনসংকটের কারণে অনেকের পক্ষে উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আবাসনব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আবাসনসংকট ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বাড়িভাড়া ও সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিশেষ করে তরুণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

লিসবনের বিক্ষোভে সেই অসন্তোষই প্রকাশ পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আবাসনকে শুধু বাজারের পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে সামনে আসছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট
ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল—দেশভেদে বিক্ষোভের কারণ ও দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও সরকারবিরোধী আন্দোলন, কোথাও যুদ্ধের প্রতিবাদ, আবার কোথাও পেনশন ও আবাসনসংকটকে কেন্দ্র করে মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে এসব আন্দোলনের মধ্যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক অধিকার এবং সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একই সময়ে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা জনজীবনের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন। এসব আন্দোলনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: ইউরোনিউজ, এপি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

 

প্রকৌশল পড়েননি, তবু বানালেন উড়ন্ত গাড়ি; স্বপ্নপূরণে ১৩ বছরের সাধনা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
প্রকৌশল পড়েননি, তবু বানালেন উড়ন্ত গাড়ি; স্বপ্নপূরণে ১৩ বছরের সাধনা

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে লাগে দীর্ঘ সময়। দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াতের এই ভোগান্তিই একসময় নতুন স্বপ্ন দেখায় ভারতের এক তরুণকে। সেই স্বপ্ন থেকেই উড়ন্ত গাড়ি তৈরির উদ্যোগ। আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই দীর্ঘ ১৩ বছরের শেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অধ্যবসায়ে বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা।

মানবিক বিভাগে স্নাতক করা তামতার তৈরি এক আসনের এই উড়ন্ত যানের নাম ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’। গত আগস্টে যানটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ, নিজস্ব উদ্যোগে হাতে-কলমে কাজ এবং পরিবারের সহায়তায় তিনি ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই উদ্ভাবনের পথে।

তবে প্রোটোটাইপটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হওয়া মানেই এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, এমন নয়। বাস্তবে ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে।

পাহাড়ি পথের ভোগান্তি থেকে উড়ন্ত গাড়ির ভাবনা
রবি তামতার বেড়ে ওঠা উত্তরাখণ্ডের জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখান এলাকায়। পাহাড়ি অঞ্চলের আঁকাবাঁকা ও দীর্ঘ সড়কপথে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যক্তিগত আকাশযান তৈরির ভাবনা তাঁর মাথায় আসে।

২০১৫ সালে উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন তিনি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে নিজের উদ্যোগ ‘হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে যানটির প্রোটোটাইপ তৈরি করেন।

তামতার লক্ষ্য, দুর্গম অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত সহজ করা। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তাঁকে এই উদ্ভাবনে উৎসাহিত করেছে।

কীভাবে উড়বে হাপিডা স্কাইনেক্স?
হাপিডা স্কাইনেক্স একটি এক আসনের বৈদ্যুতিক আকাশযানের প্রোটোটাইপ। এর নকশায় একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টিরোটর ড্রোনের প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রেখে তৈরি এই যানটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে ওঠানামার জন্য নকশা করা হয়েছে।

যানটির কাঠামো হালকা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে চালকের বসার জায়গা বা ককপিট এবং স্বচ্ছ ক্যানোপি রয়েছে। ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এটি প্রচলিত বিমানের মতো তরল জ্বালানির ওপর নির্ভর করে না।

তবে বৈদ্যুতিক আকাশযান তৈরির ক্ষেত্রে শুধু উড়তে পারাই যথেষ্ট নয়। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, একবার চার্জে কত দূর যাওয়া যাবে, যানের ভারসাম্য, আবহাওয়ার প্রভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। হাপিডা স্কাইনেক্সের এসব সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো জানা যায়নি।

ইন্টারনেটই ছিল তাঁর শেখার বড় ভরসা
তামতা স্থানীয় একটি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রচলিত প্রকৌশল শিক্ষা বা বিশেষায়িত গবেষণাগারের সুযোগ না থাকলেও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তাঁকে থামাতে পারেনি।

অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত উপকরণ দেখে তিনি নিজের জ্ঞান বাড়িয়েছেন। এরপর হাতে-কলমে পরীক্ষা চালিয়ে উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর বাবা হরিশ রাম পেশায় একজন মেকানিক। পরিবারের সহায়তাও এই দীর্ঘ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে উড়ন্ত যান নির্মাণ অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। নকশা তৈরি থেকে শুরু করে মোটর, ব্যাটারি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরীক্ষা প্রয়োজন। তাই প্রোটোটাইপ তৈরির পাশাপাশি এর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

উড়ন্ত গাড়ির আগেও ছিল নানা উদ্ভাবন
হাপিডা স্কাইনেক্সই তামতার প্রথম উদ্ভাবন নয়। এর আগে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিক যন্ত্র তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে।

তাঁর উদ্ভাবনের তালিকায় রয়েছে মোবাইল ফোন চার্জ করার সুবিধাযুক্ত জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলে সহায়ক স্মার্ট লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম। বন বিভাগের কাজে ব্যবহার উপযোগী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র তৈরির উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।

এসব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন তামতা। এবার উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করে সেই প্রচেষ্টাকে আরও উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্য তাঁর।

দুর্গম এলাকায় যাতায়াতে কতটা কাজে আসবে?
পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ এবং স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে সক্ষম বৈদ্যুতিক আকাশযানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবে এমন যান ব্যবহার করতে হলে এর উড্ডয়নসীমা, বহনক্ষমতা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, আবহাওয়ায় চলার সক্ষমতা এবং পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

হাপিডা স্কাইনেক্সের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় যাচাই করা বাকি। যাত্রী পরিবহন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই অপরিহার্য।

রবি তামতার উদ্যোগ তাই আপাতত একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা। প্রকৌশল বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও শেখার আগ্রহ, দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা তাঁকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এখন তাঁর তৈরি উড়ন্ত যানটি কতটা নিরাপদ, কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ/জেএন

জাপান সফরে বাণিজ্য বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
জাপান সফরে বাণিজ্য বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

টোকিওতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপানের ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক
জাপান সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরা হতে পারে।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি সফরকালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তাও আলোচনায়
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি