খুঁজুন
                               
, ,
           

কলকাতার হোটেলে আগুন: ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, দায়ীদের বিচারের দাবি

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
কলকাতার হোটেলে আগুন: ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, দায়ীদের বিচারের দাবি

কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশীসুলভ নয়; ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক যোগাযোগের কারণে এ শহরের সঙ্গে রয়েছে গভীর আত্মিক বন্ধন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কলকাতায় পাড়ি জমান। তাদের একটি বড় অংশ হাসপাতালের বাইরে তুলনামূলক কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউসে থাকেন। ফলে এসব আবাসিক স্থাপনায় বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতি নিয়মিতই দেখা যায়।

কিন্তু সেই পরিচিত শহরেই এবার নয় বাংলাদেশির জীবন থেমে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। ১৯ আগস্ট গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। হোটেলটির অবস্থান কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের কাছেই। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন ধোঁয়ায় ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন অনেকে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাতে বলা হয়েছে, নিহত নয়জনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

অন্যদিকে যুগান্তরের প্রতিবেদনে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১৫ বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে ভবনটির ভেতরে সংকীর্ণ কক্ষ, সরু চলাচলের পথ, পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং বিকল্প বের হওয়ার পথ না থাকার অভিযোগের কথা এসেছে।

এই তথ্যের পার্থক্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মৃতদের জাতীয়তা ও পরিচয় কোনো সংবাদ-প্রতিবেদনের অনুমানের বিষয় হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেক নিহতের পরিচয় দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে, এই ভয়াবহ ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি সম্ভবত অন্য জায়গায়। এই মানুষগুলো কলকাতায় গিয়েছিলেন বাঁচার জন্য।

কেউ হয়তো নিজের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। কেউ হয়তো প্রিয়জনের চিকিৎসার জন্য সঙ্গে গিয়েছিলেন। কেউ হয়তো অনেক কষ্টে জমানো টাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় সীমান্ত পেরিয়েছিলেন। তারা যুদ্ধ করতে যাননি, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে যাননি, অবৈধ কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে যাননি। তারা গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে- স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশায়। আর সেই মানুষগুলোরই মৃত্যু হলো এমন একটি হোটেলে, যেখানে প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থাই যথেষ্ট ছিল না।

এখানেই প্রশ্নটি শুধু একটি দুর্ঘটনার প্রশ্ন থাকে না। এটি হয়ে ওঠে দায়িত্বের প্রশ্ন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একজন আবাসিক অতিথির বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর পুরো হোটেল ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, মানুষ আটকা পড়েন এবং হোটেলের প্রবেশপথ ছিল সরু ও অপ্রশস্ত। সেখানে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় বিভিন্ন নামে একাধিক হোটেল চলছিল এবং এসব হোটেলে বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকদের যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে আরও গুরুতর কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করা, সংকীর্ণ চলাচলের পথ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং আগুন লাগার পর বিকল্প পথে বের হওয়ার সুযোগ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটির অনুমোদন, নির্মাণ পরিকল্পনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি নিছক ‘দুর্ঘটনা’ বলে দায় শেষ করার সুযোগ নেই।

একটি ভবনে হোটেল পরিচালনার অনুমতি কে দিয়েছে? অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল কি না? নিয়মিত পরিদর্শন হয়েছে কি না? ভবনের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কক্ষ ও চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না? এক ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল? জরুরি বহির্গমন পথ কোথায় ছিল? আগুন লাগার সময় হোটেলে মোট কতজন মানুষ ছিলেন? তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি? এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

কারণ একটি প্রাণহানি আমাদের কাছে শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। নয়জন মানুষ মানে নয়টি পরিবার। নয়টি ঘর। নয়টি অসমাপ্ত ভবিষ্যৎ। নয়টি পরিবারের কাছে হয়তো আজও বিশ্বাস হচ্ছে না- যে মানুষটি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন, তিনি আর ফিরবেন না। এই জায়গায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রথম দাবি হওয়া উচিত- মৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারতের সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর যেন মরদেহ দেশে আনার প্রশাসনিক, কাগজপত্রের বা আর্থিক বোঝা না পড়ে। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করা যেতে পারে। বাংলাদেশ মিশনের নিয়মিত কনস্যুলার সেবার মধ্যেই মৃতদেহ দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শুধু মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। দ্বিতীয় দাবি- নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ক্ষতিপূরণের অর্থ কোনো পরিবারের শোকের মূল্য হতে পারে না। একটি প্রাণের মূল্য টাকা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে গেলে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়, রাষ্ট্র ও দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই দায় থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বীমা বা আইনি কাঠামোর অধীনে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নিহতদের পরিবারগুলোর রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে সক্রিয় কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা দিতে হবে।

প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব কল্যাণ তহবিল থেকেও জরুরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কারণ বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে তার পরিবার যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়ে না যায়-সেটা নিশ্চিত করা এটি রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্ব। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি—অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।
আগুনের কারণ কী?
শর্টসার্কিট?
বৈদ্যুতিক ত্রুটি?
অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন?
অবহেলা?
অবৈধ নির্মাণ?
হোটেল পরিচালনায় অনিয়ম?
নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ ছিল?

এখনই কোনো একটি কারণকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। একইভাবে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা সাবোটাজ হয়েছিল- এমন দাবিও এখনই করা দায়িত্বশীল হবে না। তবে প্রশ্নটি তদন্তের আওতায় অবশ্যই থাকতে হবে।

কারণ একটি অগ্নিকাণ্ডে নয়জন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ বা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং আগুনের প্রকৃত উৎস, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ভবনের নকশা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, হোটেল পরিচালনার অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি- সবকিছুর ফরেনসিক ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।

শুধু ‘তদন্ত চলছে’ বললেই জনগণের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। তদন্ত শেষে কী পাওয়া গেল, কার গাফিলতি ছিল, কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, ভবনটির অনুমোদন যথাযথ ছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী কী ঘাটতি ছিল এবং সেই ঘাটতির জন্য কে দায়ী- এসব স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে আনতে হবে। প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার অন্যান্য হোটেল ও গেস্টহাউসে অবস্থানরত বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ মির্জা গালিব স্ট্রিট বা নিউমার্কেট এলাকায় এ ধরনের আবাসিক হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার প্রবণতা নতুন নয়। একটি দুর্ঘটনার পর আরেকটি দুর্ঘটনা ঠেকাতে হলে এখনই ঝুঁকিপূর্ণ হোটেলগুলো পরিদর্শন করা প্রয়োজন। আর এখানে একটি বৃহত্তর প্রশ্নও আছে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা কে দেখবে?

আমাদের নাগরিকরা যখন ভারতে চিকিৎসার জন্য যান, তখন তাদের বড় একটি অংশ কলকাতায় অবস্থান করেন। হাসপাতাল-কেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও থাকার জায়গা, পরিবহন, জরুরি যোগাযোগ, স্থানীয় সহায়তা- এসব বিষয়ে তাদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশি মিশনগুলোর মাধ্যমে নিরাপদ আবাসন সম্পর্কে তথ্য, জরুরি যোগাযোগ নম্বর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল সম্পর্কে সতর্কতামূলক তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি চিকিৎসারই অংশ। কারণ একজন রোগী যখন সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে যান, তখন তার কাছে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ নয়; তার থাকার জায়গাটিও নিরাপদ হতে হবে। তার সঙ্গে থাকা স্বজনেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে। আগুন লাগলে কীভাবে বের হবেন, জরুরি নম্বরে কোথায় যোগাযোগ করবেন, কাছাকাছি কোন হাসপাতাল বা কনস্যুলার সহায়তা পাওয়া যাবে- এসব তথ্য তার জানা থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের জায়গা থেকেও ঘটনাটিকে দেখতে হবে। দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে যাবে। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন- সব ক্ষেত্রেই এই যাতায়াত অব্যাহত থাকবে। তাই কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখলে চলবে না। একইভাবে কোনো ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে বিপদে পড়লেও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আমরা একই ধরনের দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করব। এটাই প্রতিবেশী সম্পর্কের মানবিক ভিত্তি।

বাংলাদেশ ভারতের কাছে কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছে না। চাইছে একটি স্বাভাবিক, ন্যায্য ও মানবিক আচরণ। মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক। আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হোক। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের অনুমোদন ও হোটেল পরিচালনার বৈধতা নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হোক। সাবোটাজ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হোক। এবং সর্বোপরি-তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই দাবিগুলো কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির দাবি নয়। কোনো দেশের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির দাবিও নয়। এটি মৃত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার দাবি। বাংলাদেশ সরকারেরও উচিত এই ঘটনায় আবেগের পাশাপাশি দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়া। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনকে নিহতদের পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে একটি বিশেষ সেল গঠন করে মরদেহ ফেরত, পরিচয় নিশ্চিতকরণ, নথিপত্র, ক্ষতিপূরণ এবং তদন্ত- সবকিছুর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

আজ নয়জনের পরিবার কাঁদছে। কিন্তু প্রশ্নটি শুধু নয়টি পরিবারের নয়। প্রশ্নটি হলো-বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের জীবনের মূল্য রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে? আমরা চাই না এই মৃত্যু কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে হারিয়ে যাক। চাই না তদন্তের কথা বলে কয়েক মাস পর ফাইলটি কোনো দপ্তরের আলমারিতে পড়ে থাকুক। চাই না ক্ষতিপূরণের দাবি কাগজপত্রের স্তূপে চাপা পড়ে যাক। চাই না মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার পর রাষ্ট্র মনে করুক তার কাজ শেষ।

এই নয়টি মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরেছে। সেই আয়নায় শুধু কলকাতার একটি অগ্নিদগ্ধ হোটেল দেখা যাচ্ছে না; দেখা যাচ্ছে নাগরিক নিরাপত্তা, বিদেশে বাংলাদেশিদের অধিকার, কূটনৈতিক দায়িত্ব, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের মানবিক চরিত্র। তাই এবার রাষ্ট্রকে কথা বলতে হবে- দৃঢ়ভাবে, দায়িত্ব নিয়ে।

কলকাতার আগুনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা আর ফিরে আসবেন না। তাদের পরিবারের শূন্যতা কোনো তদন্ত, কোনো ক্ষতিপূরণ, কোনো সরকারি বিবৃতি পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর পর অন্তত একটি কাজ করা সম্ভব-সত্যটা বের করে আনা। আর সেই সত্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা- এমন মৃত্যু যেন আর কোনো বাংলাদেশি পরিবারের দরজায় গিয়ে কড়া না নাড়ে।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

কোস্টগার্ডের নতুন মহাপরিচালক মঈনুল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
কোস্টগার্ডের নতুন মহাপরিচালক মঈনুল হাসান

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ পেয়েছেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।

‎বুধবার (১৯ আগস্ট) তাকে প্রেষণে এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এজন্য তার চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হককে নৌবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, ১৮ দিনে এলো ১৯৬ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, ১৮ দিনে এলো ১৯৬ কোটি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।

গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এমনটাই জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট একদিনেই দেশে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের ৩৯৮ কোটি ডলারের তুলনায় ২১.৩ শতাংশ বেশি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শেষ বক্তব্যে কাঁদলেন ফখরুল, এমপিদের কাছে চাইলেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
শেষ বক্তব্যে কাঁদলেন ফখরুল, এমপিদের কাছে চাইলেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার সহকর্মীদের সামনে শেষবারের মতো বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্মরণ করলেন প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে, কৃতজ্ঞতা জানালেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি বা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইলেন তিনি। এরপরই দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান ফখরুল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় ঘটে এ আবেগঘন মুহূর্ত। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মির্জা ফখরুলের পক্ষে দলীয় এমপিদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর বার্তাও দেন।

বেলা ২টায় শুরু হওয়া সভা চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। সভায় বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার-পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন ফখরুল। তার আবেগঘন বক্তব্যে সভাকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ার পর দলীয় সহকর্মীদের এই আবহ ও সান্নিধ্য মিস করবেন বলেও জানান তিনি। এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চান এবং বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ফখরুল দলের হাল ধরেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। এ সময় তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য-এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ