খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌপথে বাণিজ্য বাড়াতে খালগুলোর আন্তঃসংযোগ অপরিহার্য: পানি সম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
নৌপথে বাণিজ্য বাড়াতে খালগুলোর আন্তঃসংযোগ অপরিহার্য: পানি সম্পদমন্ত্রী

রাজধানীর চারপাশের খালগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রক্তনালীর মতো হলেও দখল ও দূষণের কারণে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তবে এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারাদেশের খালগুলোর মধ্যকার আন্তঃসংযোগ একান্ত অপরিহার্য।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি একথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধুমাত্র খাল খননই করছে না, পরবর্তীতে তা সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেছে।

এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খাল ও নদী খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিল্প বর্জ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ করে ছোট শিল্প-কারখানায় যেন স্বল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, নদীপথ পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন বর্তমানে সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদীভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনবে।

তিনি আরও জানান, সড়কপথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কম এবং এটি ৪ থেকে ৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে। ফলে ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

রাজধানীর চারপাশের ৪টি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, এর মাধ্যমে ঢাকার যানজট নিরসন ও নদীভিত্তিক পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব।

নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা কাজে লাগাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং এই খাতের বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীতে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে নিচু কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং খাল খননের ক্ষেত্রে পানির প্রবাহ কোন দিকে যাচ্ছে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রায় ১৫টি সরকারি সংস্থা নদীর সঙ্গে জড়িত থাকলেও এককভাবে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় একটি একক অভিভাবক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যকর ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন।

কাজী গোলাম নাসির বলেন, নদীর পানিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সব সংস্থার দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন বলেন, নদীপথের উন্নয়নে প্রকল্প থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তাই সংস্থাগুলোর কাজের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া জরুরি।

এছাড়া আলোচনায় নদী ও পলি জমে নাব্যতা হারানোর চিত্র তুলে ধরে মো. তানিম সারওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে মো. মোতালেব হোসেন সরকার নদী ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর কমিশন গঠন এবং পিপিপি মডেলের আওতায় বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রস্তাব জানান। নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত নজরদারির অভাব দূর করার ওপর তাগিদ দেন মো. আলমগীর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

নেপালের বন্যায় শোক ও সহায়তার বার্তা সংসদের, সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
নেপালের বন্যায় শোক ও সহায়তার বার্তা সংসদের, সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব

ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিবাহী আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে স্মরণ করে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতিতে ২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহান জাতীয় সংসদ ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতা সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ উল্লেখ করে তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধিবেশনের কার্যপ্রণালী বিধির ১২(১) বিধি অনুযায়ী স্পিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম ক্রমানুসারে ঘোষণা করেন। মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), নিলুফার চৌধুরী মনি (মহিলা আসন-১০) এবং মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকায় থাকা নামের ক্রমানুসারে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা অধিবেশন পরিচালনা করবেন।

এরপর স্পিকার অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংসদ গত ১২ জুলাই প্রয়াত সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র রায়, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহান চৌধুরী, সাবেক চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মিয়াসহ মোট ১২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। পাশাপাশি একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী, চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিক্ষাবিদ ড. মকবুল হোসেনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক প্রস্তাবে বাদ পড়া সাবেক সংসদ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাদেক মোহাম্মদ আবু সাঈদ এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মাওলানা আব্দুল আজিজের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রেখে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি নাটোরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমানের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় মহান সংসদের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা প্রস্তাবের আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ জানান, বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের এই দুর্যোগে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্ধার কাজ ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নেপালের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশসহ সব প্রয়াত ব্যক্তিবর্গের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের শব্দচয়ন নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। এ সময় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিরোধী শিবিরের প্রায় সব সংসদ সদস্যই দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামলাতে স্পিকারকে হিমশিম খেতে হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। তাদের হট্টগোলের সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। আপনারা তো ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ করতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। তারপর আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে দেবো। প্রশ্নোত্তর উনি দিক, তারপর যদি তা পছন্দ না হয় আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে মাইক দেবো।

এরপরও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। এ সময় স্পিকার বলেন, পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে। স্পিকারের কথা বলার সময় যে রোষটা আপনারা দেখাচ্ছেন এটা সংসদ পরিপন্থি কাজ। আমি আমার জ্ঞান বুদ্ধিমতো নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।

তখন স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কথা বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার যে শব্দচয়নে ওনাদের আপত্তি সেটার জবাবটা আমি দিতে পারবো। আপনারা সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে আমিও পারবো। যদি কথা না বলতে দেন তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় কোন এমপির মামলায় আসামি গ্রেফতার হয় নাই সেটার স্পেসিফিক বর্ণনা দরকার। শুধু হাওয়াইভাবে যদি বলা হয় এসব হচ্ছে প্রতিকার কী…..স্পেসিফিক প্রশ্ন করতে হবে।

তার পরে বিরোধীদল নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাকে আগে সুযোগ দিলে ওনার কথাটা শুনতে পেতাম। বক্তব্য কি আপনি দেবেন না আমি দেবো? আমার বক্তব্যের সময় যদি এভাবে কমেন্টস করা হয় এটা অশোভন।

তিনি আরও বলেন, আমি সম্মান রেখেই বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলা উচ্চারণ করেন নাই। উনি নিজেকে কী মনে করেন জানি না। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে চাইলে ইউনিভার্সিটেতে গিয়ে করুক। উনি আজকে নতুন করে হিট দিয়ে কথা বলেন নাই। ওনার বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। উনি সংসদের প্রথম দিন থেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলছেন।

এর আগে, কুমিল্লা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন বুঝতে পারেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ফ্যাসিবাদ প্রতিহতে নজরুলের গান গেয়ে রাজপথে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদ প্রতিহতে নজরুলের গান গেয়ে রাজপথে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা: রিজভী

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদ প্রতিহতে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান গাইতে গাইতে রাজপথে নেমেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতে রাস্তায় নেমেছিল। নজরুলের গান কবিতা আমাদের নির্ভীক হতে শেখায়। নজরুলের চর্চা নতুন করে শুরু হয়েছে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে নজরুল অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই নজরুল বিচরণ করেননি। সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। দ্রোহ সমস্ত কালকে পেরিয়ে যায়। তিনি শুধু সামাজিক অন্যায় নয়, সকল চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে বিপ্লবের বাণী প্রচার করেছিলেন।

রিজভী বলেন, এত বড় প্রতিভা বাংলাভাষীদের মধ্যে আর নেই। যখন আমরা জুলুমের মধ্যে পড়ি তখন আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে নজরুলের কবিতা। অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নজরুলই আমাদের শক্তি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ