খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে বাংলাদেশ থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। ফোনালাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তারা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা তাদের চাহিদার কথা আমাদের জানাবেন। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিদেশি পর্যটকদের একটি দল মানস সরবরের দিকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে উদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোতে কোশী নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেনামাজি বন্ধুকে ‘জাহান্নামি’ বলা যাবে? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বেনামাজি বন্ধুকে ‘জাহান্নামি’ বলা যাবে? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

নামাজ পড়েন না—এমন কোনো বন্ধুকে কি সরাসরি ‘জাহান্নামি’ বলা জায়েজ? কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে, তা কি দুনিয়ায় বসে নির্ধারণ করা সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্ব দিয়েছেন মানুষের ভালো গুণের স্বীকৃতি, সুন্দর আচরণ এবং দাওয়াতের কৌশলের ওপর। তাঁর মতে, কেউ নামাজ নিয়মিত আদায় না করলেও তার সততা, সত্যবাদিতা, সুন্দর ব্যবহার ও পরোপকারের মতো গুণগুলোকে অস্বীকার করা উচিত নয়।

সম্প্রতি একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এক তরুণ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ বিষয়ে পরামর্শ চান। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন না। তবে মানুষ হিসেবে তাঁরা ভালো। তাঁদের একজন একদিন তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই এত ধর্ম মানিস, তাহলে কি আমি জাহান্নামে যাব?’ বন্ধুর এমন প্রশ্নের জবাবে কীভাবে ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরা যায়, তা জানতে চান তিনি।

ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়ার পরামর্শ
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তির মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কেউ নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন না করলেও তিনি সৎ, সত্যবাদী, সুন্দর আচরণের অধিকারী ও পরোপকারী হতে পারেন। এসব গুণের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করা উচিত নয়।

তিনি কোরআনের শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মানুষের মধ্যে সততা ও আমানতদারির মতো গুণ থাকলে তা স্বীকার করতে হবে। কেউ বেনামাজি বা ধর্মীয় অনুশীলনে পিছিয়ে থাকলেও তার ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। কারণ, মানুষের ভালো গুণকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই তার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কে জান্নাতে যাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না
শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ নামাজ পড়েন বলেই নিশ্চিতভাবে জান্নাতে যাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে কোনো ব্যক্তি নামাজ আদায় করেন না বলে তাঁকে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামি বলাও উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে যাবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর।

তিনি বোঝান, মানুষের জীবনের শেষ পরিণতি সম্পর্কে দুনিয়ায় বসে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কেউ দীর্ঘদিন ভালো কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হতে পারেন; আবার কেউ পাপের জীবন থেকে ফিরে এসে তওবা করে সৎপথে চলতে পারেন। তাই নিজের ইবাদত নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা কিংবা অন্যের পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

শুধু নামাজ নয়, মানুষের সঙ্গে আচরণও গুরুত্বপূর্ণ
আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, নামাজ-রোজার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে আচরণ, লেনদেনে সততা এবং নৈতিকতার বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নামাজ আদায় করেও যদি মানুষকে ঠকান, মিথ্যা বলেন, প্রতারণা করেন কিংবা অবৈধ উপার্জনে জড়িত থাকেন, তাহলে শুধু নামাজ আদায় করাকেই জান্নাতের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, ধর্মীয় অনুশীলনে পিছিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তির মধ্যে সততা, ভালো ব্যবহার ও পরোপকারের মতো গুণ থাকলে সেগুলোর প্রশংসা করা উচিত। তবে ভালো মানুষ হওয়ার এসব গুণকে নামাজের বিকল্প হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। বরং ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

সম্পর্ক বজায় রেখেই দাওয়াত দেওয়ার আহ্বান
বেনামাজি বন্ধুর সঙ্গে কীভাবে কথা বলা উচিত, সে বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের ওপর জোর দেন। তাঁর পরামর্শ, বন্ধুকে অপমান বা তিরস্কার না করে সুন্দরভাবে বোঝানো যেতে পারে যে, তার মধ্যে ভালো গুণ রয়েছে; ধর্মীয় অনুশীলনের ক্ষেত্রেও সে আরও এগিয়ে যেতে পারে।

কেউ নামাজ পড়েন না বলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করা কিংবা সৌজন্য না দেখানোই ইসলামের শিক্ষা—এমন ধারণা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। আদর্শের জায়গায় নিজের বিশ্বাস অটুট রেখে আচরণে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে হবে। এতে অন্যকে ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যের মূল কথা হলো, কারও ধর্মীয় অনুশীলনের ঘাটতি দেখে তার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ না করে ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়া, নিজের আমল নিয়ে সচেতন থাকা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে অন্যকে সৎপথে আহ্বান জানানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/জেএন

নরম নাকি শক্ত বিছানা, কোমরের জন্য কোনটি ভালো?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
নরম নাকি শক্ত বিছানা, কোমরের জন্য কোনটি ভালো?

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর প্রত্যাশা সবারই থাকে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি কোমরে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দৈনন্দিন কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কিংবা ভুল শারীরিক ভঙ্গির পাশাপাশি শোয়ার বিছানা ও ঘুমের অভ্যাসও কোমরের অস্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, কোমরব্যথা কমাতে শক্ত বিছানায় ঘুমানোই সবচেয়ে ভালো। আবার কারও ধারণা, নরম তোশকই শরীরের জন্য আরামদায়ক। বাস্তবে বিছানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীরের গঠন, ঘুমের ভঙ্গি ও ব্যক্তিগত আরাম—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক বিছানা ও ঘুমের অভ্যাস কোমরের ওপর চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

মাঝারি শক্ত বিছানাই কি ভালো?
কোমরব্যথায় ভোগা অনেকের জন্য মাঝারি শক্ত বা মিডিয়াম-ফার্ম ম্যাট্রেস আরাম ও শরীরের সমর্থনের মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের বিছানা উপযোগী নয়।

অতিরিক্ত নরম তোশকে শরীরের ভারী অংশ বেশি দেবে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে এবং কারও কারও অস্বস্তি বাড়তে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত শক্ত বিছানায় কাঁধ, নিতম্বসহ শরীরের কিছু অংশে বেশি চাপ পড়তে পারে।

তাই বিছানা বেছে নেওয়ার সময় এমন ম্যাট্রেস নির্বাচন করা ভালো, যাতে শরীর যথাযথ সমর্থন পায় এবং শোয়ার সময় স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় থাকে। সম্ভব হলে কেনার আগে বিছানায় শুয়ে আরাম যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান জরুরি
ঘুমের সময় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিছানা শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে কোমরের পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা ঘুমের মানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কোমরব্যথার জন্য বিছানাকেই একমাত্র দায়ী করা যায় না। পেশি বা লিগামেন্টের সমস্যা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা কিংবা মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও ব্যথা হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে শুধু বিছানা পরিবর্তন না করে এর কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিছানার উচ্চতা কেমন হওয়া উচিত?
বিছানা এমন উচ্চতার হওয়া ভালো, যাতে সহজে ওঠা-বসা করা যায়। বিছানার কিনারায় বসলে পা মেঝেতে রাখা এবং অতিরিক্ত কষ্ট ছাড়াই দাঁড়াতে পারা উচিত। খুব নিচু বিছানা থেকে উঠতে গেলে কোমরে চাপ পড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত উঁচু বিছানায় ওঠানামাও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের আগে থেকেই কোমরব্যথা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিছানার উচ্চতা আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়া জরুরি।

পুরোনো তোশক বদলানোর লক্ষণ
দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে ম্যাট্রেসের কোনো অংশ দেবে যেতে পারে। মাঝখানে গর্তের মতো তৈরি হলে, শোয়ার সময় শরীর একদিকে হেলে পড়লে কিংবা আগের তুলনায় অস্বস্তি বেড়ে গেলে বিছানাটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ম্যাট্রেস শরীরকে সমানভাবে সমর্থন দিচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তবে শুধু পুরোনো হলেই বিছানা বদলাতে হবে, এমন নয়। এর বর্তমান অবস্থা, ব্যবহারের আরাম এবং ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে।

ঘুমের ভঙ্গি বদলালেও মিলতে পারে আরাম
কোমরব্যথার ক্ষেত্রে বিছানার পাশাপাশি ঘুমের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সহজ পরিবর্তন অনেকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চিৎ হয়ে ঘুমালে: হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখলে কোমরের ওপর চাপ কম অনুভূত হতে পারে।

কাত হয়ে ঘুমালে: দুই হাঁটুর মাঝখানে বালিশ রাখুন। এতে কোমর ও শ্রোণির অবস্থান স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হতে পারে।

উপুড় হয়ে ঘুমালে: কারও কারও কোমর ও ঘাড়ে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ ভঙ্গিতে ব্যথা বাড়লে অন্য ভঙ্গিতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

যে ভঙ্গিতে ব্যথা কম হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমানো যায়, সেটিই বেছে নেওয়া ভালো। কোনো ভঙ্গিতে ব্যথা বাড়লে জোর করে সেই অবস্থানে ঘুমানোর প্রয়োজন নেই।

বিছানা থেকে ওঠার সময় সতর্ক থাকুন
কোমরব্যথা থাকলে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ বসে পড়া কিংবা কোমর মোচড় দিয়ে দাঁড়ানো অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রথমে এক পাশে কাত হয়ে পা দুটো বিছানার কিনারার বাইরে নামান। একই সময়ে হাতের সাহায্যে শরীরের ওপরের অংশ তুলে বসুন। এরপর কয়েক মুহূর্ত বসে ভারসাম্য ঠিক হলে ধীরে দাঁড়ান। এভাবে ওঠানামা করলে কোমরের ওপর আকস্মিক চাপ কমতে পারে।

দৈনন্দিন অভ্যাসেও আনুন পরিবর্তন
শুধু বিছানা পরিবর্তন করলেই কোমরব্যথার সমাধান হবে, এমন নয়। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলা, কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটা এবং শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

পেশি শক্তিশালী রাখতে ও শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখতে উপযোগী ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যায়ামের সময় ব্যথা বেড়ে গেলে থামতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসক কিংবা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা ভালো।

কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
কোমরব্যথা কয়েক দিনেও না কমলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথার সঙ্গে পায়ের শক্তি কমে যাওয়া, দুই পায়ের মাঝখানের অংশ অবশ হয়ে আসা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। গুরুতর আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে বা জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলেও অবহেলা করা উচিত নয়।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, কোমরব্যথা এড়াতে দামি বিছানা কেনাই একমাত্র সমাধান নয়। শরীরের উপযোগী ম্যাট্রেস, আরামদায়ক ঘুমের ভঙ্গি, নিয়মিত নড়াচড়া এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা—এই বিষয়গুলোর সমন্বয় কোমরের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

একটি ছোট্ট বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কুমড়ার ওজন ১ হাজার ৪৩১ কেজি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক রন ওয়ালেসের হাত ধরে বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা। প্রায় ছয় মাসের যত্ন, উন্নত বীজ আর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করে বিশালাকার কুমড়া ফলিয়েছেন তিনি। সেই কুমড়ার ওজন ছাড়িয়ে গেছে ৩ হাজার পাউন্ডের সীমাও। এর মধ্য দিয়ে সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলানোর বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই কৃষক।

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর কুমড়াটির ওজন মাপা হয় ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কেজির সমান। এর আগে কোনো কুমড়ার ওজন ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিতে তাই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন রন ওয়ালেস।

ছয় মাসের পরিচর্যায় বীজ থেকে দানবাকৃতি কুমড়া
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের গ্রিন এলাকায় নিজের গ্রিনহাউসে গত ১৫ এপ্রিল কুমড়ার বীজ বুনেছিলেন ওয়ালেস। এরপর শুরু হয় নিয়মিত পরিচর্যা। পানি, তাপমাত্রা ও চাষের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে তিনি কুমড়াটিকে বড় করে তোলেন। প্রায় ছয় মাস পর সেই ছোট্ট বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া কুমড়া।

১০ অক্টোবর ওয়ারেন শহরের ফ্রেরিকস ফার্মে অনুষ্ঠিত সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন নির্ধারণ করা হয়। বিশালাকার কুমড়া চাষিদের এই প্রতিযোগিতায় ওয়ালেসের সাফল্য উপস্থিত দর্শকদেরও বিস্মিত করে।

এক সপ্তাহেই ভাঙল বিশ্বরেকর্ড
বিশাল কুমড়া চাষে বিশ্বরেকর্ডের লড়াইয়ে এবার সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। ৩ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পরই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান ওয়ালেস।

তার কুমড়াটি আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৩০০ পাউন্ড বেশি ভারী। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার বিশ্বরেকর্ড ভাঙার ঘটনা বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

দিনে বাড়ছিল ২৭ কেজিরও বেশি ওজন
এত বিশাল কুমড়া ফলানো কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্যের বীজ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা। এ বছর গ্রিনহাউসে চাষ করায় পানি ও তাপমাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন ওয়ালেস।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুমড়াটির বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ পাউন্ড বা ২৭ কেজিরও বেশি ওজন বাড়ছিল। কোনো কোনো সপ্তাহে ওজন বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড। অর্থাৎ, প্রতিদিনের সামান্য বৃদ্ধি জমতে জমতে একসময় কুমড়াটি পরিণত হয় বিশাল এক ফসলে।

উন্নত বীজের পাশাপাশি গ্রিনহাউসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওয়ালেস। বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ওয়ালেসের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান প্যাটনেরও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষের পরামর্শ প্রথম প্যাটনই তাকে দিয়েছিলেন।

কুমড়া পরিবহনেও ছিল বিশেষ আয়োজন
এত ওজনের কুমড়া চাষ করাই যেমন কঠিন, তেমনি সেটিকে নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও শক্ত দড়ি। পরিবহনের সময় যাতে কুমড়ার গায়ে আঘাত না লাগে, সে জন্য ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণে মুড়িয়ে বিশেষ প্যালেটে রাখা হয়। পরে ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে সেটি প্রতিযোগিতাস্থলে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২০টি বিশালাকার কুমড়া। নিজের কুমড়াটিকে অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বড় দেখে ওয়ালেসের ধারণা হয়েছিল, এর ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়াতে পারে। তবে ওজন মাপার আগে সঠিক পরিমাণটি তারও জানা ছিল না। যন্ত্রে ওজন ওঠার পর রেকর্ড নিশ্চিত হলে প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগেও একাধিকবার ইতিহাস গড়েছেন ওয়ালেস
বিশালাকার কুমড়া চাষে ওয়ালেসের সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। ২০১২ সালে তার ফলানো ২ হাজার ৯ পাউন্ডের কুমড়াও নতুন ইতিহাস গড়েছিল। এবার ৩ হাজার পাউন্ডের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের সাফল্যকে নিয়ে গেলেন আরও উঁচুতে।

রেকর্ড গড়া কুমড়াটিকে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সেটিকে বিশালাকার জ্যাক-ও-ল্যান্টার্নে রূপ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রদর্শনী শেষে কুমড়াটি কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এর বীজ সংরক্ষণ করবেন ওয়ালেস। বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনকে সেই বীজ দেওয়া হবে, যাতে নিলামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

আগামী বছর বিরতিতে থাকতে পারেন
একটি কুমড়া কতটা বড় হতে পারে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত আগামী বছর প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এ সময় অন্য কৃষকেরা তার রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। কেউ সফল হলে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরার কথা ভাববেন এই কৃষক।

ছোট্ট একটি বীজ থেকে দেড় টনের কাছাকাছি ওজনের কুমড়া—ওয়ালেসের এই অর্জন কৃষিতে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। এখন দেখার বিষয়, ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডের এই রেকর্ড কত দিন অক্ষত থাকে, আর ভবিষ্যতে কোনো কৃষক কি না কুমড়ার ওজনকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন