খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আক্রান্তদের পাশে বাংলাদেশ থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। ফোনালাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করা হয়।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তারা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করছেন। আজ সন্ধ্যা বা আগামীকালের মধ্যে তারা তাদের চাহিদার কথা আমাদের জানাবেন। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিদেশি পর্যটকদের একটি দল মানস সরবরের দিকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। কোনো বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে উদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোতে কোশী নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের শব্দচয়ন নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। এ সময় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিরোধী শিবিরের প্রায় সব সংসদ সদস্যই দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামলাতে স্পিকারকে হিমশিম খেতে হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। তাদের হট্টগোলের সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। আপনারা তো ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ করতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। তারপর আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে দেবো। প্রশ্নোত্তর উনি দিক, তারপর যদি তা পছন্দ না হয় আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে মাইক দেবো।

এরপরও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। এ সময় স্পিকার বলেন, পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে। স্পিকারের কথা বলার সময় যে রোষটা আপনারা দেখাচ্ছেন এটা সংসদ পরিপন্থি কাজ। আমি আমার জ্ঞান বুদ্ধিমতো নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।

তখন স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কথা বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার যে শব্দচয়নে ওনাদের আপত্তি সেটার জবাবটা আমি দিতে পারবো। আপনারা সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে আমিও পারবো। যদি কথা না বলতে দেন তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় কোন এমপির মামলায় আসামি গ্রেফতার হয় নাই সেটার স্পেসিফিক বর্ণনা দরকার। শুধু হাওয়াইভাবে যদি বলা হয় এসব হচ্ছে প্রতিকার কী…..স্পেসিফিক প্রশ্ন করতে হবে।

তার পরে বিরোধীদল নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাকে আগে সুযোগ দিলে ওনার কথাটা শুনতে পেতাম। বক্তব্য কি আপনি দেবেন না আমি দেবো? আমার বক্তব্যের সময় যদি এভাবে কমেন্টস করা হয় এটা অশোভন।

তিনি আরও বলেন, আমি সম্মান রেখেই বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলা উচ্চারণ করেন নাই। উনি নিজেকে কী মনে করেন জানি না। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে চাইলে ইউনিভার্সিটেতে গিয়ে করুক। উনি আজকে নতুন করে হিট দিয়ে কথা বলেন নাই। ওনার বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। উনি সংসদের প্রথম দিন থেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলছেন।

এর আগে, কুমিল্লা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন বুঝতে পারেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ফ্যাসিবাদ প্রতিহতে নজরুলের গান গেয়ে রাজপথে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদ প্রতিহতে নজরুলের গান গেয়ে রাজপথে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা: রিজভী

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদ প্রতিহতে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান গাইতে গাইতে রাজপথে নেমেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতে রাস্তায় নেমেছিল। নজরুলের গান কবিতা আমাদের নির্ভীক হতে শেখায়। নজরুলের চর্চা নতুন করে শুরু হয়েছে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে নজরুল অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই নজরুল বিচরণ করেননি। সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। দ্রোহ সমস্ত কালকে পেরিয়ে যায়। তিনি শুধু সামাজিক অন্যায় নয়, সকল চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে বিপ্লবের বাণী প্রচার করেছিলেন।

রিজভী বলেন, এত বড় প্রতিভা বাংলাভাষীদের মধ্যে আর নেই। যখন আমরা জুলুমের মধ্যে পড়ি তখন আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে নজরুলের কবিতা। অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নজরুলই আমাদের শক্তি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশ কারও কাছে মাথানত করবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ কারও কাছে মাথানত করবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আর কখনো বাংলাদেশ কারও কাছে মাথানত করবে না।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্পিকাররে মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, অলোচিত মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে সে সম্পর্কে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জবাবে স্পিকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্যাক্টকে (চুক্তি) বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এটি বিশ্ব মুসলিম পরিবারের আত্মরক্ষার বিষয়।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর তাৎপর্য নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ-ই এই তিনটি দেশ এই ধরনের চুক্তিতে একমত হয়নি। ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীত সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পারিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল। তারই ধারাবাহিকতাই এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি।

এই চুক্তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে, এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়া নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের বক্তব্যই পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশে যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে, এই বাংলাদেশ যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ