খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালের বন্যায় শোক ও সহায়তার বার্তা সংসদের, সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
নেপালের বন্যায় শোক ও সহায়তার বার্তা সংসদের, সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব

ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিবাহী আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে স্মরণ করে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতিতে ২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহান জাতীয় সংসদ ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতা সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ উল্লেখ করে তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধিবেশনের কার্যপ্রণালী বিধির ১২(১) বিধি অনুযায়ী স্পিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম ক্রমানুসারে ঘোষণা করেন। মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), নিলুফার চৌধুরী মনি (মহিলা আসন-১০) এবং মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকায় থাকা নামের ক্রমানুসারে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা অধিবেশন পরিচালনা করবেন।

এরপর স্পিকার অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংসদ গত ১২ জুলাই প্রয়াত সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র রায়, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহান চৌধুরী, সাবেক চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মিয়াসহ মোট ১২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। পাশাপাশি একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী, চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিক্ষাবিদ ড. মকবুল হোসেনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক প্রস্তাবে বাদ পড়া সাবেক সংসদ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাদেক মোহাম্মদ আবু সাঈদ এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মাওলানা আব্দুল আজিজের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রেখে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি নাটোরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমানের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় মহান সংসদের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা প্রস্তাবের আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ জানান, বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের এই দুর্যোগে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্ধার কাজ ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নেপালের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশসহ সব প্রয়াত ব্যক্তিবর্গের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রখর স্মৃতিশক্তির রহস্য কী, ৮০ পেরোনো মানুষদের নিয়ে গবেষণা

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রখর স্মৃতিশক্তির রহস্য কী, ৮০ পেরোনো মানুষদের নিয়ে গবেষণা

বয়স ৮০ পেরিয়েছে, অথচ কয়েক দশক আগের ঘটনা এখনো স্পষ্ট মনে করতে পারেন—এমন মানুষের দেখা মেলে। তাঁরা অনায়াসে স্মরণ করতে পারেন বহু বছর আগের অভিজ্ঞতা, পরিচিত মানুষের নাম কিংবা জীবনের নানা স্মরণীয় মুহূর্ত। অথচ একই বয়সী অনেকের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন ছোটখাটো বিষয় মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। বয়স বাড়ার পরও কারও স্মৃতিশক্তি এত ভালো থাকে কেন?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর গবেষকেরা। অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের তাঁরা বলছেন ‘সুপারএজারস’। গবেষণায় উঠে এসেছে, ভালো স্মৃতিশক্তির পেছনে শুধু বংশগত বৈশিষ্ট্য নয়, জীবনযাপন ও সামাজিক সম্পর্কের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

২৩১ জন বয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ
গবেষকেরা বিভিন্ন দেশ ও জাতির ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১৪২ জন সুপারএজারের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তুলনার জন্য নেওয়া হয়েছিল একই বয়সসীমার ৮৯ জন বয়স্ক মানুষকে, যাঁদের স্মৃতি ও জ্ঞানীয় সক্ষমতা বয়স অনুযায়ী গড়পড়তা।

গবেষণায় আলঝেইমারস রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পারিবারিক ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া হয়। দেখা যায়, সুপারএজারদের মধ্যে আলঝেইমারসের বংশগত ঝুঁকি তুলনামূলক দলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম নয়। অর্থাৎ, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি কেবল ভালো জিনের ফল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকেন তাঁরা
সুপারএজারদের জীবনযাপনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক যোগাযোগে সক্রিয় থাকা। গবেষক দলের আগের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ব্যক্তিদের প্রায় ৮৩ শতাংশ সামাজিকভাবে সক্রিয়। তাঁরা ঘরের বাইরে যান, অন্য মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন এবং দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা বজায় রাখেন।

নিয়মিত হাঁটা ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। শরীরচর্চা রক্তসঞ্চালন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে শুধু হাঁটলেই স্মৃতিশক্তি অসাধারণ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং শারীরিক সক্রিয়তা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক
সুপারএজারদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে সন্তুষ্টি। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তাঁদের জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদের সঙ্গে কথা বলা, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সময় মানুষকে মনোযোগ দিতে হয়, তথ্য মনে রাখতে হয় এবং নানা বিষয়ে চিন্তা করতে হয়। এসব কার্যক্রম মানসিকভাবে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় সামাজিক সম্পর্কের সঙ্গে ভালো জ্ঞানীয় স্বাস্থ্যের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে।

তবে সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা আর প্রখর স্মৃতিশক্তির মধ্যে সম্পর্ক থাকলেই একটিই অন্যটির সরাসরি কারণ—এমনটা বলা যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কি একমাত্র কারণ?
মজার বিষয় হলো, সব সুপারএজার যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতিটি নিয়ম মেনে চলেন, তা নয়। তাঁদের কারও কারও মধ্যে ধূমপান বা মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসও দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, কিছু ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ একাধিক জৈবিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ ধরনের উদাহরণ থেকে ক্ষতিকর অভ্যাসকে নিরাপদ মনে করার সুযোগ নেই। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্মৃতিশক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতা ধরে রাখতে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, সামাজিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স বাড়লেই কি স্মৃতিশক্তি কমে যায়?
বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার গতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা একই রকম হয় না। কারও স্মৃতিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন ও পরিবেশসহ নানা বিষয় কাজ করতে পারে।

গবেষণার মূল বার্তা হলো, বয়স বাড়ার পরও মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। নিয়মিত হাঁটা, পরিচিত মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন কিছু শেখা এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা সুস্থ বার্ধক্যের সহায়ক হতে পারে।

তবে স্মৃতিশক্তি হঠাৎ কমে গেলে, পরিচিত পথ চিনতে সমস্যা হলে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে ভুলে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করলে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বার্ধক্য ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

বেনামাজি বন্ধুকে ‘জাহান্নামি’ বলা যাবে? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বেনামাজি বন্ধুকে ‘জাহান্নামি’ বলা যাবে? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

নামাজ পড়েন না—এমন কোনো বন্ধুকে কি সরাসরি ‘জাহান্নামি’ বলা জায়েজ? কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে, তা কি দুনিয়ায় বসে নির্ধারণ করা সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্ব দিয়েছেন মানুষের ভালো গুণের স্বীকৃতি, সুন্দর আচরণ এবং দাওয়াতের কৌশলের ওপর। তাঁর মতে, কেউ নামাজ নিয়মিত আদায় না করলেও তার সততা, সত্যবাদিতা, সুন্দর ব্যবহার ও পরোপকারের মতো গুণগুলোকে অস্বীকার করা উচিত নয়।

সম্প্রতি একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এক তরুণ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ বিষয়ে পরামর্শ চান। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন না। তবে মানুষ হিসেবে তাঁরা ভালো। তাঁদের একজন একদিন তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই এত ধর্ম মানিস, তাহলে কি আমি জাহান্নামে যাব?’ বন্ধুর এমন প্রশ্নের জবাবে কীভাবে ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরা যায়, তা জানতে চান তিনি।

ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়ার পরামর্শ
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তির মধ্যে ভালো গুণ থাকলে তার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কেউ নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন না করলেও তিনি সৎ, সত্যবাদী, সুন্দর আচরণের অধিকারী ও পরোপকারী হতে পারেন। এসব গুণের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করা উচিত নয়।

তিনি কোরআনের শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মানুষের মধ্যে সততা ও আমানতদারির মতো গুণ থাকলে তা স্বীকার করতে হবে। কেউ বেনামাজি বা ধর্মীয় অনুশীলনে পিছিয়ে থাকলেও তার ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। কারণ, মানুষের ভালো গুণকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই তার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কে জান্নাতে যাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না
শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ নামাজ পড়েন বলেই নিশ্চিতভাবে জান্নাতে যাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে কোনো ব্যক্তি নামাজ আদায় করেন না বলে তাঁকে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামি বলাও উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে যাবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর।

তিনি বোঝান, মানুষের জীবনের শেষ পরিণতি সম্পর্কে দুনিয়ায় বসে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কেউ দীর্ঘদিন ভালো কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হতে পারেন; আবার কেউ পাপের জীবন থেকে ফিরে এসে তওবা করে সৎপথে চলতে পারেন। তাই নিজের ইবাদত নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা কিংবা অন্যের পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

শুধু নামাজ নয়, মানুষের সঙ্গে আচরণও গুরুত্বপূর্ণ
আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, নামাজ-রোজার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে আচরণ, লেনদেনে সততা এবং নৈতিকতার বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নামাজ আদায় করেও যদি মানুষকে ঠকান, মিথ্যা বলেন, প্রতারণা করেন কিংবা অবৈধ উপার্জনে জড়িত থাকেন, তাহলে শুধু নামাজ আদায় করাকেই জান্নাতের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, ধর্মীয় অনুশীলনে পিছিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তির মধ্যে সততা, ভালো ব্যবহার ও পরোপকারের মতো গুণ থাকলে সেগুলোর প্রশংসা করা উচিত। তবে ভালো মানুষ হওয়ার এসব গুণকে নামাজের বিকল্প হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। বরং ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

সম্পর্ক বজায় রেখেই দাওয়াত দেওয়ার আহ্বান
বেনামাজি বন্ধুর সঙ্গে কীভাবে কথা বলা উচিত, সে বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের ওপর জোর দেন। তাঁর পরামর্শ, বন্ধুকে অপমান বা তিরস্কার না করে সুন্দরভাবে বোঝানো যেতে পারে যে, তার মধ্যে ভালো গুণ রয়েছে; ধর্মীয় অনুশীলনের ক্ষেত্রেও সে আরও এগিয়ে যেতে পারে।

কেউ নামাজ পড়েন না বলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করা কিংবা সৌজন্য না দেখানোই ইসলামের শিক্ষা—এমন ধারণা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। আদর্শের জায়গায় নিজের বিশ্বাস অটুট রেখে আচরণে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে হবে। এতে অন্যকে ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যের মূল কথা হলো, কারও ধর্মীয় অনুশীলনের ঘাটতি দেখে তার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ না করে ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়া, নিজের আমল নিয়ে সচেতন থাকা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে অন্যকে সৎপথে আহ্বান জানানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/জেএন

নরম নাকি শক্ত বিছানা, কোমরের জন্য কোনটি ভালো?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
নরম নাকি শক্ত বিছানা, কোমরের জন্য কোনটি ভালো?

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর প্রত্যাশা সবারই থাকে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি কোমরে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দৈনন্দিন কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কিংবা ভুল শারীরিক ভঙ্গির পাশাপাশি শোয়ার বিছানা ও ঘুমের অভ্যাসও কোমরের অস্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, কোমরব্যথা কমাতে শক্ত বিছানায় ঘুমানোই সবচেয়ে ভালো। আবার কারও ধারণা, নরম তোশকই শরীরের জন্য আরামদায়ক। বাস্তবে বিছানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীরের গঠন, ঘুমের ভঙ্গি ও ব্যক্তিগত আরাম—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক বিছানা ও ঘুমের অভ্যাস কোমরের ওপর চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

মাঝারি শক্ত বিছানাই কি ভালো?
কোমরব্যথায় ভোগা অনেকের জন্য মাঝারি শক্ত বা মিডিয়াম-ফার্ম ম্যাট্রেস আরাম ও শরীরের সমর্থনের মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের বিছানা উপযোগী নয়।

অতিরিক্ত নরম তোশকে শরীরের ভারী অংশ বেশি দেবে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে এবং কারও কারও অস্বস্তি বাড়তে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত শক্ত বিছানায় কাঁধ, নিতম্বসহ শরীরের কিছু অংশে বেশি চাপ পড়তে পারে।

তাই বিছানা বেছে নেওয়ার সময় এমন ম্যাট্রেস নির্বাচন করা ভালো, যাতে শরীর যথাযথ সমর্থন পায় এবং শোয়ার সময় স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় থাকে। সম্ভব হলে কেনার আগে বিছানায় শুয়ে আরাম যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান জরুরি
ঘুমের সময় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিছানা শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে কোমরের পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা ঘুমের মানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কোমরব্যথার জন্য বিছানাকেই একমাত্র দায়ী করা যায় না। পেশি বা লিগামেন্টের সমস্যা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা কিংবা মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও ব্যথা হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে শুধু বিছানা পরিবর্তন না করে এর কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিছানার উচ্চতা কেমন হওয়া উচিত?
বিছানা এমন উচ্চতার হওয়া ভালো, যাতে সহজে ওঠা-বসা করা যায়। বিছানার কিনারায় বসলে পা মেঝেতে রাখা এবং অতিরিক্ত কষ্ট ছাড়াই দাঁড়াতে পারা উচিত। খুব নিচু বিছানা থেকে উঠতে গেলে কোমরে চাপ পড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত উঁচু বিছানায় ওঠানামাও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের আগে থেকেই কোমরব্যথা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিছানার উচ্চতা আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়া জরুরি।

পুরোনো তোশক বদলানোর লক্ষণ
দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে ম্যাট্রেসের কোনো অংশ দেবে যেতে পারে। মাঝখানে গর্তের মতো তৈরি হলে, শোয়ার সময় শরীর একদিকে হেলে পড়লে কিংবা আগের তুলনায় অস্বস্তি বেড়ে গেলে বিছানাটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ম্যাট্রেস শরীরকে সমানভাবে সমর্থন দিচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তবে শুধু পুরোনো হলেই বিছানা বদলাতে হবে, এমন নয়। এর বর্তমান অবস্থা, ব্যবহারের আরাম এবং ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে।

ঘুমের ভঙ্গি বদলালেও মিলতে পারে আরাম
কোমরব্যথার ক্ষেত্রে বিছানার পাশাপাশি ঘুমের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সহজ পরিবর্তন অনেকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চিৎ হয়ে ঘুমালে: হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখলে কোমরের ওপর চাপ কম অনুভূত হতে পারে।

কাত হয়ে ঘুমালে: দুই হাঁটুর মাঝখানে বালিশ রাখুন। এতে কোমর ও শ্রোণির অবস্থান স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হতে পারে।

উপুড় হয়ে ঘুমালে: কারও কারও কোমর ও ঘাড়ে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ ভঙ্গিতে ব্যথা বাড়লে অন্য ভঙ্গিতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

যে ভঙ্গিতে ব্যথা কম হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমানো যায়, সেটিই বেছে নেওয়া ভালো। কোনো ভঙ্গিতে ব্যথা বাড়লে জোর করে সেই অবস্থানে ঘুমানোর প্রয়োজন নেই।

বিছানা থেকে ওঠার সময় সতর্ক থাকুন
কোমরব্যথা থাকলে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ বসে পড়া কিংবা কোমর মোচড় দিয়ে দাঁড়ানো অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রথমে এক পাশে কাত হয়ে পা দুটো বিছানার কিনারার বাইরে নামান। একই সময়ে হাতের সাহায্যে শরীরের ওপরের অংশ তুলে বসুন। এরপর কয়েক মুহূর্ত বসে ভারসাম্য ঠিক হলে ধীরে দাঁড়ান। এভাবে ওঠানামা করলে কোমরের ওপর আকস্মিক চাপ কমতে পারে।

দৈনন্দিন অভ্যাসেও আনুন পরিবর্তন
শুধু বিছানা পরিবর্তন করলেই কোমরব্যথার সমাধান হবে, এমন নয়। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলা, কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটা এবং শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

পেশি শক্তিশালী রাখতে ও শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখতে উপযোগী ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যায়ামের সময় ব্যথা বেড়ে গেলে থামতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসক কিংবা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা ভালো।

কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
কোমরব্যথা কয়েক দিনেও না কমলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথার সঙ্গে পায়ের শক্তি কমে যাওয়া, দুই পায়ের মাঝখানের অংশ অবশ হয়ে আসা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। গুরুতর আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে বা জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলেও অবহেলা করা উচিত নয়।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, কোমরব্যথা এড়াতে দামি বিছানা কেনাই একমাত্র সমাধান নয়। শরীরের উপযোগী ম্যাট্রেস, আরামদায়ক ঘুমের ভঙ্গি, নিয়মিত নড়াচড়া এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা—এই বিষয়গুলোর সমন্বয় কোমরের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএএন/জেএন