খুঁজুন
                               
, ,
           

১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনে রেকর্ড

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনে রেকর্ড

রপ্তানি তলানিতে নামলেও উৎপাদনে চমক দেখিয়ে চলেছে চা। বছর বছর উৎপাদন বাড়তে থাকা পণ্যটি দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে প্রতিনিয়ত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশে। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এ অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বাড়ায় আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল চা শিল্প। চাহিদা মেটাতে ২০১০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আমদানিও শুরু হয়। চা আমদানিনির্ভর হয়ে যাবে কি না, এমন শঙ্কাও ছিল। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে চাহিদার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করে চা শিল্পে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন উৎপাদকরা। শুধু তা–ই নয়, এই অঞ্চলে ১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনেও রেকর্ড হয়েছে। আগের মত আর আমদানি করতে হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার (১০২.৯২ মিলিয়ন) কেজি চা উৎপাদন হয় দেশে। পরের দুই বছরেও (২০২৪ ও ২০২৫) প্রায় ১০ কোটি কেজি উৎপাদন হয়। চলতি ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চা উৎপাদনে রেকর্ড সাফল্যের নেপথ্যে আছে গত এক দশকে সরকার ও বাগান মালিকদের নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপ। উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানে চা চাষের আওতা বাড়ছে। পরিত্যক্ত বাগান চা চাষের আওতায় এসেছে। কয়েক বছর ভালো দাম পাওয়ায় বাগান মালিকেরাও নতুন বিনিয়োগ করেছেন। বাগানে প্রযুক্তিগত ব্যবহারও বেড়েছে। চলতি বছর চায়ের উৎপাদন ১০ কোটি কেজির বেশি হবে জানিয়ে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো.মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুন পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭০ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। এবার আমরা লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি ১০ কোটি ৪০ লাখ (১০৪ মিলিয়ন) কেজি। আশা করছি, বছর শেষে লক্ষ্য অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড হবে।’

তিনি বলেন, ‘চায়ের উৎপাদন বাড়াতে আমরা পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন ১২৫ থেকে ১৩০ মিলিয়ন (১২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১৩ কোটি) কেজিতে নিয়ে যাওয়া। আশা করছি, চা শ্রমিক, বাগান মালিক ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটা সফল হবে।’

চায়ের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় চা রপ্তানি কমেছে। দেশীয় চা শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যে চা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, চা উৎপাদন বাড়ানো, গুণগত মান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সরকার ২০২৬ সালের ৭ জুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ফাইল নিষ্পত্তি শুরু দুদকের, চাপমুক্তভাবে কাজের ঘোষণা চেয়ারম্যানের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ফাইল নিষ্পত্তি শুরু দুদকের, চাপমুক্তভাবে কাজের ঘোষণা চেয়ারম্যানের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় কার্যদিবসেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্তসংক্রান্ত একাধিক ফাইল পর্যালোচনার পাশাপাশি মামলা দায়ের, তদন্ত ও চার্জশিটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আটকে থাকা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমের চেয়েও বেশি তাৎপর্য তৈরি করেছে দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের একটি বক্তব্য—‘আমরা কোনো ব্যক্তিকে দেখব না।’

চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যকে নতুন কমিশনের প্রাথমিক অবস্থানের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি কতটা প্রভাবশালী, কোন রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কিংবা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সামাজিক-রাজনৈতিক গুরুত্ব কতটা—এসব বিবেচনার পরিবর্তে অভিযোগ, প্রমাণ ও অনুসন্ধান-তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যয় দেখাতে চাইছে নতুন কমিশন।

‘বড় বড় ফাইল আজ ছেড়ে দিয়েছি’
গত বৃহস্পতিবার নিজের দ্বিতীয় কার্যদিবসের কাজ সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন অনেক ফাইল অনুমোদন করেছে। অনুসন্ধান ও তদন্তভিত্তিক অনেক ফাইল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্য, কমিশনের কাজে স্বচ্ছতা থাকবে এবং তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তিকে দেখব না। অনেক বড় বড় ফাইল আজ ছেড়ে দিয়েছি।’ তবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এসব ফাইল এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তিনি প্রকাশ করেননি।

এই তথ্য গোপন রাখার বিষয়টিও আপাতত স্বাভাবিক। কারণ অনুসন্ধান বা তদন্তের পর্যায়ে থাকা কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই সামাজিকভাবে ‘দোষী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দুদকের মতো একটি তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রক্রিয়াগত গোপনীয়তা বজায় রাখাও তাই গুরুত্বপূর্ণ।

চেয়ারম্যানের ‘কোনো ব্যক্তি নয়’ বক্তব্যের তাৎপর্য কোথায়?
দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্ভবত ‘আমরা কোনো ব্যক্তিকে দেখব না’—এই ঘোষণা। দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে কি না। একজন সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ যেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, তেমনি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ক্ষমতাবান কারও বিরুদ্ধেও একই মানদণ্ডে অনুসন্ধান-তদন্ত হবে—এমন প্রত্যাশাই দুদকের প্রতি মানুষের। চেয়ারম্যানের বক্তব্য সেই প্রত্যাশাকেই সামনে এনেছে।

অর্থাৎ নতুন কমিশন শুরুতেই বোঝাতে চাইছে, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কে আছেন, তার চেয়ে অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ কতটা শক্তিশালী—সিদ্ধান্তে সেটিই হবে মূল বিবেচনা। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে বার্তাটির বিশ্বাসযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তব সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ওপর।

‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই’—আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
চেয়ারম্যানের বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই।’ দুদকের কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা। দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে প্রায়ই রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার সম্পর্ক থাকে। ফলে কোনো তদন্তে বাহ্যিক প্রভাব কাজ করছে কি না—এমন প্রশ্ন সব সময়ই থাকে।

নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেও স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এতে বোঝা যায়, নতুন কমিশন তাদের প্রাথমিক পরিচয় হিসেবে ‘চাপমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করা’—এই বার্তাটিকে সামনে রাখতে চাইছে। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নয়, অভিযোগকারী, অভিযুক্ত এবং সাধারণ মানুষের কাছেও একটি বার্তা।

ফাইল নিষ্পত্তির গতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগে অনুসন্ধান ও তদন্তসংক্রান্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফাইল বিভিন্ন পর্যায়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। কোথাও অনুসন্ধান শুরুর অনুমোদন, কোথাও অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের, আবার কোথাও তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই এসব ফাইলের একটি অংশে সিদ্ধান্ত দেওয়ায় একটি বিষয় পরিষ্কার—দীর্ঘদিন আটকে থাকা কাজকে গতিশীল করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

এখানে শুধু ফাইলের সংখ্যা নয়, সিদ্ধান্তের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ একটি ভুলভাবে অনুমোদিত মামলা যেমন একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানির মুখে ফেলতে পারে, তেমনি প্রমাণ থাকার পরও কোনো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আটকে গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নতুন কমিশনের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো—গতি ও নিরপেক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।

প্রথম দুই দিনের কার্যক্রমে যে বার্তা মিলছে
নতুন কমিশনের প্রথম দুই দিনের বক্তব্য ও কার্যক্রম মিলিয়ে অন্তত তিনটি বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমত, আটকে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা কাজকে সামনে এনে কমিশন তার কার্যক্রমের গতি বাড়াতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি নয়, অভিযোগ ও প্রমাণ হবে সিদ্ধান্তের ভিত্তি। চেয়ারম্যানের ‘কোনো ব্যক্তিকে দেখব না’ বক্তব্য এর সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ। তৃতীয়ত, কমিশন বাহ্যিক চাপমুক্ত থাকার দাবি করছে। স্বাধীনভাবে কাজ করার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবমুক্ত থাকার প্রত্যয় জানানো হয়েছে। তবে এই তিনটি বার্তাই এখন পরীক্ষার মুখে পড়বে বাস্তব কর্মকাণ্ডে।

সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের সময়টি এমন এক পর্যায়ে, যখন দুর্নীতি দমন কার্যক্রম নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ফলে শুধু নতুন করে ফাইল খোলা বা পুরোনো ফাইল নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট হবে না। মানুষ দেখতে চাইবে—প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কি একই মানদণ্ড প্রয়োগ হচ্ছে? রাজনৈতিক পরিচয় কি তদন্তের গতিকে প্রভাবিত করছে না? অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হলে কি মামলা থেকে বিরত থাকা হচ্ছে? আবার শক্ত প্রমাণ থাকলে ব্যক্তি যতই ক্ষমতাবান হোন, কমিশন কি একইভাবে এগোচ্ছে?

চেয়ারম্যানের আজকের বক্তব্যের প্রকৃত মূল্যায়ন সেখানেই। কারণ ‘কোনো ব্যক্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না’—এটি একটি শক্তিশালী নীতিগত ঘোষণা; কিন্তু একটি স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য সেই ঘোষণাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রমাণ করাই হবে সবচেয়ে বড় কাজ।

দ্বিতীয় কার্যদিবসে বড় ফাইল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে নতুন কমিশন যে গতি দেখানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, এখন তার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে স্বচ্ছতা, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং সবার জন্য একই মানদণ্ড। তবেই নতুন কমিশনের প্রথম দুই দিনের বক্তব্য শুধু বক্তব্য হয়ে থাকবে না; তা দুদকের নতুন কর্মসংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

এম/এএইচ

অভিজ্ঞ মঈন খানের মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
অভিজ্ঞ মঈন খানের মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

ড. আবদুল মঈন খান ছাড়াও এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

নরসিংদীর পলাশের সংসদ সদস্য ড. মঈন খান দেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন, মার্জিত ও তাত্ত্বিক রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীতে জন্ম নেওয়া মঈন খান উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সে। ১৯৭৩ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি শিক্ষকতা ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর নরসিংদী-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথমে তথ্যমন্ত্রী এবং পরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মন্ত্রিসভায় ফেরায় ড. মঈন খানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

কলকাতার আগুনে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার আগুনে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত ও দেশে পাঠানোর যাবতীয় খরচ বহন করছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘরে রাখা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, তাদের সন্তান শর্ণশীষ দত্ত ও মো. আকরাম আলীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইভাবে সাভারের আহামেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার এসএম আলিমুজ্জামানের মরদেহও স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি অনুমতি সম্পন্ন করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহত সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই সৎকার করা হবে। তার মরদেহ কলকাতার নিমতলা শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি