খুঁজুন
                               
, ,
           

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এবারের কোনো ব্যালটে না থাকলেও তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার কয়েক হাজার পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে বড় লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও বাড়বে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। দুই দল ৫০-৫০ আসনে আটকে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সিদ্ধান্ত হবে।

প্রতিনিধি পরিষদেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসনেই দুই বছর পরপর নির্বাচন হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে পরে মৃত্যু, পদত্যাগ ও দলবদলের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২০২৪ সালের ফলাফলের তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে।

৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনমত জরিপে পিছিয়ে ট্রাম্প

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সের এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মারিস্টের জরিপে তাঁর সমর্থন ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

পিবিএস নিউজ ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন। তাঁদের ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষ

এনবিসি নিউজের জরিপে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ মনে করেন, তাঁর নীতিগুলো অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপের পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তারপরও জরিপগুলোতে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই যে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের সুবিধা এনে দেবে।

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের আভাস

২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, এ সময়ে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থ ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

৫ অক্টোবর ২০২৬, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, তাঁদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ১০০ শিক্ষককে

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

কোন স্তরে কতজন শিক্ষক

এবার প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি শিক্ষকদের একটি প্যানেল তৈরি করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সেই প্যানেল থেকে ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেসকোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন—ভ্রমণের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এত দিন গুগল সার্চ, ট্রাভেল ব্লগ কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী।

ভ্রমণকারীর পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন বুঝে গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করে দিতে পারছে এআই। ফলে একজন ভ্রমণকারীকে আলাদা করে অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। বরং এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই তৈরি করা সম্ভব হতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা।

এআইয়ের মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও পর্যটনে প্রযুক্তি ও এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিং ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন ফোগল বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে এআই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতে একজন ভ্রমণকারী এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। শুধু বিমান ও হোটেল বুকিং নয়, রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করা কিংবা গলফ খেলার সময় নির্ধারণের মতো কাজও একই ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে।

পুরোনো ট্রাভেল এজেন্টের আধুনিক বিকল্প

এ ব্যবস্থাকে পুরোনো দিনের ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন গ্লেন ফোগল। তবে তাঁর মতে, বড় পার্থক্য হলো তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতায়।

একজন ট্রাভেল এজেন্ট সাধারণত সীমিত কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করতেন। বিপরীতে এআই একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ভ্রমণকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প সাজিয়ে দিতে পারে।

এমনকি ভ্রমণের কোনো একটি অংশে পরিবর্তন এলে পুরো পরিকল্পনাটিও নতুন করে সাজিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে সময়, বাজেট কিংবা গন্তব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করাও সহজ হবে।

তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্নও

তবে পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এআই কোন গন্তব্যগুলোকে ভ্রমণকারীদের সামনে বেশি তুলে ধরবে—এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অর্থের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য, হোটেল বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এআইয়ের পরামর্শে বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুবিধা পেতে পারে। এতে পর্যটকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা প্রভাবিত হবে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের পর্যটনে শুধু তথ্য পাওয়ার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সেই তথ্য কে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোন তথ্য ভ্রমণকারীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে

পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লেন ফোগলের মতে, এআই গ্রাহকসেবা দ্রুত ও সহজ করতে পারলেও এর ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা কিছু চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি ও কল সেন্টারের মতো কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ

পর্যটনে এআইয়ের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণকারীরা যখন গন্তব্য খুঁজতে এআইনির্ভর ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবেন, তখন বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য এসব এআই ব্যবস্থায় থাকা জরুরি হয়ে উঠবে।

কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য, ছবি, যোগাযোগব্যবস্থা, থাকার জায়গা ও পর্যটন সুবিধার তথ্য সহজলভ্য করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের গন্তব্যগুলো আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তাই এআই শুধু ভ্রমণকারীর পরিকল্পনাকে সহজ করছে না, একই সঙ্গে কোন দেশ বা গন্তব্য বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে কতটা দৃশ্যমান হবে, সেই প্রতিযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

বাবুর জাপানি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নতুন করে আলোচনা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
বাবুর জাপানি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নতুন করে আলোচনা

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। প্রতিবেদনে বাবুর জাপানি স্ত্রীর নাম মিনাকো কাওয়ারাজাকি এবং বড় মেয়ের নাম নীনা কাওয়ারাজাকি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছোট মেয়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে জাপানি নাগরিক মিনাকোকে বিয়ে করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে তাদের প্রথম কন্যা নীনার জন্ম হয়। পরে ঢাকার জাপান দূতাবাস থেকে ২০০৭ সালে তাদের বিয়ের সনদও ইস্যু করা হয়।

বাবু ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর ১৪ বছর পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বড় মেয়ে নীনা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) বাবুর নামে থাকা এক কোটি টাকার এফডিআর নিয়ে চিঠি দেন। ওই নথির সূত্র ধরেই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে বাবুর নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় বিয়ে ও ওই পরিবারের বিষয়ে তারা আগে থেকেই জানতেন। তাদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগেই বাবু স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের অংশ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বাবু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেননি কেন। তবে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা বিষয়টিকে বাবুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করে অতীতের বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি এবং পরে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর ১৪ বছর পর তার জাপানি স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি