খুঁজুন
                               
, ,
           

বাবুর জাপানি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নতুন করে আলোচনা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
বাবুর জাপানি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নতুন করে আলোচনা

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। প্রতিবেদনে বাবুর জাপানি স্ত্রীর নাম মিনাকো কাওয়ারাজাকি এবং বড় মেয়ের নাম নীনা কাওয়ারাজাকি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছোট মেয়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে জাপানি নাগরিক মিনাকোকে বিয়ে করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে তাদের প্রথম কন্যা নীনার জন্ম হয়। পরে ঢাকার জাপান দূতাবাস থেকে ২০০৭ সালে তাদের বিয়ের সনদও ইস্যু করা হয়।

বাবু ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর ১৪ বছর পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বড় মেয়ে নীনা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) বাবুর নামে থাকা এক কোটি টাকার এফডিআর নিয়ে চিঠি দেন। ওই নথির সূত্র ধরেই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে বাবুর নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় বিয়ে ও ওই পরিবারের বিষয়ে তারা আগে থেকেই জানতেন। তাদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগেই বাবু স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের অংশ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বাবু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেননি কেন। তবে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা বিষয়টিকে বাবুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করে অতীতের বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি এবং পরে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর ১৪ বছর পর তার জাপানি স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ব্যাংকের প্রযুক্তি বদল, ভোগান্তির ঝুঁকিতে কোটি গ্রাহক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ব্যাংকের প্রযুক্তি বদল, ভোগান্তির ঝুঁকিতে কোটি গ্রাহক

একসঙ্গে দেশের ৩০টি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ—আর তাতেই ছয় দিনের জন্য সীমিত হচ্ছে কার্ড, এটিএম, পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ বা সীমিত থাকছে। ব্যাংকগুলোর দাবি, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু এত বড় পরিসরে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ফলে প্রযুক্তি আধুনিকায়নের প্রয়োজনের পাশাপাশি সামনে এসেছে ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন।

  • একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের সেবা সীমিত
  • নিরাপত্তার উদ্যোগে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ
  • আগাম না জানানোয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষোভ

একসঙ্গে অর্ধেক ব্যাংক
দেশে ৬০টির বেশি ব্যাংকের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩০টি ব্যাংক এবার প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গেছে। অগ্রণী, জনতা, সোনালী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বেসিক, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, যমুনা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, এনসিসি, ন্যাশনাল, ট্রাস্ট, উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংক রয়েছে এই তালিকায়। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তি ও মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে সাময়িক সেবা বিঘ্নের তথ্য জানিয়েছে। তবে সব ব্যাংকে একই ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে না।

একসঙ্গে দেশের ৩০টি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ—আর তাতেই ছয় দিনের জন্য সীমিত হচ্ছে কার্ড, এটিএম, পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ বা সীমিত থাকছে। ব্যাংকগুলোর দাবি, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু এত বড় পরিসরে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ফলে প্রযুক্তি আধুনিকায়নের প্রয়োজনের পাশাপাশি সামনে এসেছে ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন।

একসঙ্গে অর্ধেক ব্যাংক
দেশে ৬০টির বেশি ব্যাংকের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩০টি ব্যাংক এবার প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গেছে। অগ্রণী, জনতা, সোনালী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বেসিক, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, যমুনা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, এনসিসি, ন্যাশনাল, ট্রাস্ট, উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংক রয়েছে এই তালিকায়। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তি ও মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে সাময়িক সেবা বিঘ্নের তথ্য জানিয়েছে। তবে সব ব্যাংকে একই ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে না।

সব সেবা কি বন্ধ?
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরের কারণে কোনো কোনো ব্যাংকের ঋণ কার্ড, হিসাব কার্ড ও আগাম পরিশোধ কার্ড, এটিএম, নগদ পুনর্ব্যবহার যন্ত্র, পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র, আন্তঃব্যাংক তহবিল স্থানান্তর ও কিউআর লেনদেন সাময়িক বন্ধ রয়েছে। মধুমতি ব্যাংক জানিয়েছে, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট সেবা বন্ধ থাকলেও হিসাব কার্ড, অন্য ব্যাংকের এটিএম ও পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র, বাংলা কিউআর এবং বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর চালু থাকবে। ফলে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে বিকল্প লেনদেনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রযুক্তি নিরাপদ করতেই রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যাংকারদের মতে, ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়মিত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্যাংকের মূল লেনদেন ব্যবস্থা, কার্ড নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের আধুনিকায়ন এখন ব্যাংকিং কার্যক্রমেরই অংশ।
তাদের ভাষ্য, কয়েক দিনের সাময়িক অসুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের সেবা সীমিত হওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ক্ষোভের কেন্দ্রে সমন্বয়

প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। আপত্তি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা স্থানান্তরের প্রভাবে ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে। বিষয়টি আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়নি।

এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। আরিফ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এককভাবে নেওয়াকে গভর্নর গর্হিত হিসেবে দেখছেন।

নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে ভোগান্তি

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে প্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন অপরিহার্য। কিন্তু একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের সেবা সীমিত হলে এটিএম, কার্ড ও পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রনির্ভর গ্রাহক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লেনদেনে চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে করা, আগাম গ্রাহককে জানানো এবং বিকল্প লেনদেনব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগে থেকেই অবহিত করলে সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব।

প্রযুক্তির পাশাপাশি দরকার সমন্বয়

ব্যাংকিং খাত যত বেশি ডিজিটাল হবে, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন ততই বাড়বে। তাই রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং প্রশ্ন হলো—কীভাবে এমন কাজ করা যায়, যাতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকের দৈনন্দিন লেনদেনও যতটা সম্ভব সচল থাকে। এবারের ঘটনা সেই জায়গাতেই বড় প্রশ্ন তুলেছে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

মাটির পুতুলে প্রাণ, পালপাড়ায় উৎসবের আমেজ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
মাটির পুতুলে প্রাণ, পালপাড়ায় উৎসবের আমেজ

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর পাড়ে কাশফুলের দোলা। এরই মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার গ্রাম-গঞ্জে। জেলার সাত উপজেলায় এবার ৬২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। মহালয়ার পর থেকেই মণ্ডপগুলো ঘিরে শুরু হয়েছে মেলার প্রস্তুতি। আর এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বাদিয়াখালী ইউনিয়নের পালপাড়া ও শহরের কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

পালপাড়ায় ঢুকতেই পাওয়া যায় কাঁচা মাটির সোঁদা গন্ধ। উঠোনজুড়ে সারি সারি হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, পাখি ও পুতুল রোদে শুকানো হচ্ছে। কারিগরদের নিপুণ হাতে রূপহীন মাটির পিণ্ড ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে রঙিন খেলনায়।

উৎসবের কয়েক মাস আগে থেকেই নদী ও বিলের তলদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয় বিশেষ এঁটেল মাটি। শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর পা দিয়ে ছেনে নরম ও মসৃণ করা হয়। এরপর ছাঁচে ফেলে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পণ্য। রোদে শুকানোর পর ইট ও তুষ দিয়ে তৈরি ভাটায় উচ্চ তাপে পোড়ানো হয় সেগুলো।

সবশেষে শুরু হয় রং করার কাজ। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ ও সাদা রঙের তুলির আঁচড়ে মাটির তৈরি খেলনায় প্রাণ সঞ্চার করেন কারিগর ও তাঁদের পরিবারের নারীরা।

এবার গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীরা প্রায় ৫০ ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাটির ব্যাংক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, ময়ূর, বাঘ এবং বিভিন্ন ফলের প্রতিকৃতি।

বাদিয়াখালী পালপাড়ার কারিগর যোগেন পাল প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। তার পূর্বপুরুষরা শত বছর ধরে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছেন তিনি। এখন স্ত্রী সবিতা পালকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত পণ্য পোড়ানো ও রং করার কাজে ব্যস্ত।

সবিতা পাল বলেন, উৎসবের সময় কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। মণ্ডপসংলগ্ন মেলায় পসরা সাজাতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে হয়। ফলে পূজার আগে দম ফেলারও সময় থাকে না।

পূজার মৌসুমটি এসব প্রান্তিক শিল্পীর কাছে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। উৎসবের আগেই বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও পাইকাররা পালপাড়ায় এসে পণ্যের বায়না দেন। একসঙ্গে বড় পরিমাণ পণ্য বিক্রি হওয়ায় এ সময় কিছুটা এককালীন আয় হয়। তবে অনেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে নিজেরাই মেলায় অস্থায়ী দোকান দিয়ে পণ্য বিক্রি করেন।

যোগেন পাল জানান, খুচরা বিক্রি করেও প্রতি পিস খেলনায় গড়ে প্রায় দুই টাকা লাভ থাকে। বছরের অন্য সময়ে তারা দইয়ের সরা, পাতিল, ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির পণ্য তৈরি করে সংসার চালান। দুর্গাপূজা ও কালীপূজার মৌসুমে বাড়তি যে আয় হয়, তা দিয়ে বছরের পরবর্তী কয়েক মাসের খরচ মেটাতে হয়।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন নানা সংকটে। বাজারে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা ও টেকসই খেলনার দাপটে মাটির খেলনার চাহিদা কমেছে। শিশুদের মধ্যেও প্লাস্টিকের খেলনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এর সঙ্গে মাটি, তুষ, কাঠ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি পণ্যের দাম।

ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পালপাড়াতেও দেখা গেছে একই চিত্র। পুরুষরা পর্যাপ্ত মুনাফা না পেয়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় নারীরাই কোনোভাবে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

গাইবান্ধা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ বলেন, মৃৎশিল্প গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈশাখী মেলা, দুর্গোৎসবসহ বিভিন্ন পার্বণে মাটির তৈরি পণ্যের আবেদন এখনো রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক তপন রায় বলেন, মেলায় আধুনিক পণ্য ও প্লাস্টিকের খেলনার পাশাপাশি মাটির খেলনার স্টলও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এসব খেলনার মাধ্যমে শিশুরা দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মাটির পণ্য পরিবেশবান্ধব।

শত বছরের পুরোনো এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ, আধুনিক নকশা তৈরির প্রশিক্ষণ, উন্নত বিপণনব্যবস্থা এবং জাতীয় পর্যায়ের মেলা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি করা গেলে কারিগররা লাভবান হতে পারেন।

বিসিক গাইবান্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রান্তিক মৃৎশিল্পীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খেলনার সঙ্গে টেরাকোটা, পোড়ামাটির গয়না ও গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।

মণ্ডপে দেবীর প্রতিমা আর মেলার মাঠে রঙিন খেলনার সারিতে মিশে আছে গাইবান্ধার পালপাড়ার মানুষের শ্রম ও স্বপ্ন। যোগেন, সবিতা ও তাঁদের মতো কারিগরদের হাত ধরে টিকে থাকা এই লোকঐতিহ্য সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফিরে পেতে পারে হারানো গৌরব। মাটির এই শিল্প বাঁচানো মানে শুধু কিছু কারিগরের জীবিকা রক্ষা নয়, বাংলার শত বছরের সংস্কৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়ন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়ন স্থগিত

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত নতুন কোনো কার্যক্রম আপাতত পরিচালিত হবে না।

সোমবার (৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি বা নতুন কর্মস্থলে পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কবে শুরু হবে, জানানো হবে পরে

বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পুনরায় কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা জারি করার পরই এ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বর্তমানে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম স্থগিত থাকার মেয়াদ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা মানার আহ্বান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বদলি ও পদায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে আপাতত সেই প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি তৈরি হলো। তবে ঠিক কী কারণে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পরবর্তী নির্দেশনায় বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

কালের আলো/এসএ