বেনাপোলে এলাচ চাষে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে
মসলা হিসেবে রান্নাঘরে পরিচিত এলাচ এখন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে যশোরের বেনাপোলে। বেনাপোল পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী ছায়াঘেরা বাগানে চাষ করছেন সবুজ এলাচ। অনুকূল পরিবেশ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পরিচর্যায় তার বাগানে ইতোমধ্যে ফুল ও ফলের গুটি আসতে শুরু করেছে। নতুন এই ফসল দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন আশপাশের কৃষকরাও।
শাহজাহান আলী জানান, বাজারে এলাচের উচ্চমূল্য দেখে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি ভিন্ন কিছু চাষের চিন্তা থেকেই এলাচ নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০১২ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বুনো জাতের চারা সংগ্রহ করলেও সেগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। পরে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা বিশেষ জাতের ছোট সবুজ এলাচের চারা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৬ সালে তিনি গড়ে তোলেন মূল প্রকল্প।
তবে এই পথচলায় বড় ধাক্কাও আসে। ২০১৯ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে তার পুরো এলাচ বাগান নষ্ট হয়ে যায়। এতে কয়েক বছরের জন্য পিছিয়ে যায় উৎপাদন ও অগ্রগতি। পরে ২০২০ সালের শেষ দিকে মেহগনি গাছের ছায়াযুক্ত বাগানে নতুন করে এলাচের চারা রোপণ করেন তিনি।
বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোর বয়স ছয় বছর পেরিয়েছে। গাছের গোড়া থেকে কচুর লতির মতো লম্বা থোকা বের হয়ে ফুল ফুটছে। পাশাপাশি ছোট ছোট ফলের গুটিও ধরতে শুরু করেছে। এসব ফল পরিপক্ব হতে প্রায় ১২০ দিন সময় লাগে।
শাহজাহান আলী বলেন, এলাচ গাছে রোপণের দুই থেকে আড়াই বছর পর ফুল আসার প্রাথমিক শক্তি তৈরি হয়। তৃতীয় বছরে সামান্য ফলন পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়তে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে শুকনা অবস্থায় ২০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত এলাচ পাওয়া সম্ভব। একটি গাছ প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাচ চাষের জন্য দোআঁশ মাটি উপযোগী। এ ফসলের জন্য সরাসরি প্রখর রোদের চেয়ে ছায়াযুক্ত ও শীতল পরিবেশ বেশি প্রয়োজন। বড় গাছের নিচে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করলে এলাচ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত গরম বা প্রখর রোদে ফুল ও লতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, এলাচ একটি মসলা জাতীয় অর্থকরী ফসল। দেশে নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসলের পরীক্ষামূলক চাষ গুরুত্বপূর্ণ। শাহজাহান আলীর বাগানটি কৃষি বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে। মাটি, আবহাওয়া ও পরিচর্যার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ফলন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা গেলে কৃষকের নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। শাহজাহান আলীর উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
কৃষক শাহজাহানের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশের আমদানিনির্ভর এলাচের চাহিদার একটি অংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array