খুঁজুন
                               
, ,
           

মাটির পুতুলে প্রাণ, পালপাড়ায় উৎসবের আমেজ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
মাটির পুতুলে প্রাণ, পালপাড়ায় উৎসবের আমেজ

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর পাড়ে কাশফুলের দোলা। এরই মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার গ্রাম-গঞ্জে। জেলার সাত উপজেলায় এবার ৬২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। মহালয়ার পর থেকেই মণ্ডপগুলো ঘিরে শুরু হয়েছে মেলার প্রস্তুতি। আর এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন বাদিয়াখালী ইউনিয়নের পালপাড়া ও শহরের কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

পালপাড়ায় ঢুকতেই পাওয়া যায় কাঁচা মাটির সোঁদা গন্ধ। উঠোনজুড়ে সারি সারি হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, পাখি ও পুতুল রোদে শুকানো হচ্ছে। কারিগরদের নিপুণ হাতে রূপহীন মাটির পিণ্ড ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে রঙিন খেলনায়।

উৎসবের কয়েক মাস আগে থেকেই নদী ও বিলের তলদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয় বিশেষ এঁটেল মাটি। শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর পা দিয়ে ছেনে নরম ও মসৃণ করা হয়। এরপর ছাঁচে ফেলে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পণ্য। রোদে শুকানোর পর ইট ও তুষ দিয়ে তৈরি ভাটায় উচ্চ তাপে পোড়ানো হয় সেগুলো।

সবশেষে শুরু হয় রং করার কাজ। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ ও সাদা রঙের তুলির আঁচড়ে মাটির তৈরি খেলনায় প্রাণ সঞ্চার করেন কারিগর ও তাঁদের পরিবারের নারীরা।

এবার গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীরা প্রায় ৫০ ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাটির ব্যাংক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, ময়ূর, বাঘ এবং বিভিন্ন ফলের প্রতিকৃতি।

বাদিয়াখালী পালপাড়ার কারিগর যোগেন পাল প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। তার পূর্বপুরুষরা শত বছর ধরে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছেন তিনি। এখন স্ত্রী সবিতা পালকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত পণ্য পোড়ানো ও রং করার কাজে ব্যস্ত।

সবিতা পাল বলেন, উৎসবের সময় কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। মণ্ডপসংলগ্ন মেলায় পসরা সাজাতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে হয়। ফলে পূজার আগে দম ফেলারও সময় থাকে না।

পূজার মৌসুমটি এসব প্রান্তিক শিল্পীর কাছে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। উৎসবের আগেই বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও পাইকাররা পালপাড়ায় এসে পণ্যের বায়না দেন। একসঙ্গে বড় পরিমাণ পণ্য বিক্রি হওয়ায় এ সময় কিছুটা এককালীন আয় হয়। তবে অনেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে নিজেরাই মেলায় অস্থায়ী দোকান দিয়ে পণ্য বিক্রি করেন।

যোগেন পাল জানান, খুচরা বিক্রি করেও প্রতি পিস খেলনায় গড়ে প্রায় দুই টাকা লাভ থাকে। বছরের অন্য সময়ে তারা দইয়ের সরা, পাতিল, ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির পণ্য তৈরি করে সংসার চালান। দুর্গাপূজা ও কালীপূজার মৌসুমে বাড়তি যে আয় হয়, তা দিয়ে বছরের পরবর্তী কয়েক মাসের খরচ মেটাতে হয়।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন নানা সংকটে। বাজারে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা ও টেকসই খেলনার দাপটে মাটির খেলনার চাহিদা কমেছে। শিশুদের মধ্যেও প্লাস্টিকের খেলনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এর সঙ্গে মাটি, তুষ, কাঠ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি পণ্যের দাম।

ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পালপাড়াতেও দেখা গেছে একই চিত্র। পুরুষরা পর্যাপ্ত মুনাফা না পেয়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় নারীরাই কোনোভাবে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

গাইবান্ধা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ বলেন, মৃৎশিল্প গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈশাখী মেলা, দুর্গোৎসবসহ বিভিন্ন পার্বণে মাটির তৈরি পণ্যের আবেদন এখনো রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক তপন রায় বলেন, মেলায় আধুনিক পণ্য ও প্লাস্টিকের খেলনার পাশাপাশি মাটির খেলনার স্টলও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এসব খেলনার মাধ্যমে শিশুরা দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মাটির পণ্য পরিবেশবান্ধব।

শত বছরের পুরোনো এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ, আধুনিক নকশা তৈরির প্রশিক্ষণ, উন্নত বিপণনব্যবস্থা এবং জাতীয় পর্যায়ের মেলা ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি করা গেলে কারিগররা লাভবান হতে পারেন।

বিসিক গাইবান্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রান্তিক মৃৎশিল্পীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খেলনার সঙ্গে টেরাকোটা, পোড়ামাটির গয়না ও গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।

মণ্ডপে দেবীর প্রতিমা আর মেলার মাঠে রঙিন খেলনার সারিতে মিশে আছে গাইবান্ধার পালপাড়ার মানুষের শ্রম ও স্বপ্ন। যোগেন, সবিতা ও তাঁদের মতো কারিগরদের হাত ধরে টিকে থাকা এই লোকঐতিহ্য সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফিরে পেতে পারে হারানো গৌরব। মাটির এই শিল্প বাঁচানো মানে শুধু কিছু কারিগরের জীবিকা রক্ষা নয়, বাংলার শত বছরের সংস্কৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রযাত্রার সঙ্গে অপরাধের ধরনও যখন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, তখন সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বাংলাদেশ। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

  • আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার আগ্রহ
  • তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা
  • টেলিকম প্রতারণা মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের আলোচনা

আইজিপির নেতৃত্বে সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়।

সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতার আগ্রহ

বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চীনা প্রতিনিধিদল সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের সহযোগিতার আগ্রহ এ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, তদন্ত এবং প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্য বিনিময়ে বাড়বে আন্তঃদেশীয় সমন্বয়

বৈঠকে টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। সাইবার অপরাধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমা নেই। অপরাধের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, অপরাধী ও ভুক্তভোগী ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করতে পারেন। এ কারণে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময় অপরাধ শনাক্তকরণ ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সেই জায়গায় নতুন কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার

বৈঠকের আলোচনায় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম নয়, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি হলে সাইবার অপরাধের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি

ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সক্ষমতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি গড়ে তোলার সম্ভাবনাময় এক পদক্ষেপ।

পারস্পরিক আস্থা, তথ্য বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধবিরোধী সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মারা গেলেন ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক জেফরি আর্চার

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
মারা গেলেন ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক জেফরি আর্চার

ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার মারা গেছেন। সোমবার(৫অক্টোবর) তাঁর প্রকাশক হার্পারকলিন্স মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতির ও রোমাঞ্চকর গল্পের জন্য পরিচিত আর্চারের বই বিক্রি হয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি কপি। তাঁর লেখকজীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নট আ পেনি মোর, নট আ পেনি লেস’ এবং ১৯৭৯ সালের ‘কেন অ্যান্ড অ্যাবেল’।

প্রকাশের আগেই শেষ উপন্যাসের লেখককে হারালেন পাঠক

আর্চারের সর্বশেষ উপন্যাস ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। বইটির প্রচারে সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বেতার অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহান্তে চেলটেনহাম সাহিত্য উৎসবে নিজের নতুন বই নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে তার আগেই মৃত্যু হলো এই জনপ্রিয় লেখকের।

হার্পারকলিন্সের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আর্চারের সম্পাদক কেট এলটন এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠককে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আর্চার তাঁদের একজন সত্যিকারের বন্ধুও ছিলেন।

রাজনীতিতেও ছিল পরিচিতি

জেফরি আর্চার শুধু লেখক ছিলেন না, ব্রিটেনের রক্ষণশীল দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অধীনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার আগে তিনি আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন পরবর্তীতে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

মিথ্যা সাক্ষ্যের মামলায় কারাদণ্ড

১৯৮৭ সালে ডেইলি স্টার পত্রিকা আর্চারের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করে। এর পর তিনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

মামলায় জয়ী হয়ে তিনি তখনকার রেকর্ড ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পান। কিন্তু ১৯৯৯ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসার পর মামলাটি আবার সামনে আসে।

এক সাবেক বন্ধু দাবি করেন, ওই মামলায় আর্চার মিথ্যা বলেছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি চার বছরের কারাদণ্ড পান এবং প্রায় দুই বছর কারাগারে কাটান।

কারাগারে থাকাকালীন তিনি লেখেন ‘এ প্রিজন ডায়েরি’।

বিতর্ক পেরিয়েও অটুট ছিল জনপ্রিয়তা

ব্যক্তিগত জীবন ও আদালতের মামলাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম হলেও তাঁর লেখকজীবনে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

হার্পারকলিন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৯টি দেশে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে। তাঁর বইগুলো নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর অবস্থান করেছে।

প্রকাশকের ভাষ্য অনুযায়ী, লেখালেখির দুই পর্বের মাঝখানে হঠাৎ ও শান্তিপূর্ণভাবেই জেফরি আর্চারের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

স্বাস্থ্য খাতে ৯১৪ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য খাতে ৯১৪ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ

দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফের (১০ম গ্রেড) শূন্য পদে ৯১৪ জনকে সরাসরি নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নার্সিং সেবা-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে।

৯১৪ পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফ (১০ম গ্রেড) পদে বর্তমানে ১ হাজার ১৫টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদের মধ্যে ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট ৯১৪টি পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে পিএসসির নির্ধারিত রিকুইজিশন ফরম, পদ বিন্যাস ও চেকলিস্ট যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে ৯১৪টি পদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য পিএসসিকে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

কমতে পারে জনবলসংকট

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফের এসব শূন্য পদ পূরণ হলে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান জনবলসংকট কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন সেবা এবং প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যায় মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় মিডওয়াইফের সংখ্যা কম থাকায় সেবাদানে চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন করে ৯১৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলে এসব প্রতিষ্ঠানে জনবল পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি মা ও নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিএসসির সুপারিশের অপেক্ষা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পর এখন ৯১৪টি পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব পিএসসির। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

মিডওয়াইফ পদে এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মাতৃ ও নবজাতক সেবার সঙ্গে যুক্ত জনবল বাড়বে। এর ফলে প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কালের আলো/এসএ