খুঁজুন
                               
, ,
           

১৮০ কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
১৮০ কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কতটা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় ১৮০ কর্মকর্তাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। ওই আদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নামের পাশাপাশি তাদের জন্য নির্ধারিত উপজেলা ও থানার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে পরিদর্শন

অফিস আদেশ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নির্ধারিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শেষ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ছকে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশের যেকোনো উপজেলা পরিদর্শন করতে পারবেন। পাশাপাশি অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট উপজেলা ও থানায় পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন জেলার উপজেলা-থানায় পরিদর্শন

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার তালিকায় দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা ও থানা রয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার এলাকা রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে যাওয়ার আগে কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বিভাগের পরিচালকের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। পরে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা তাদের আওতাধীন কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দেবেন।

উপবৃত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা দেখবেন তিন বিদ্যালয়

অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ট্যুর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নামের পাশে উল্লেখ করা উপজেলা বা থানার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং ওই এলাকার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে।

বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি শহরাঞ্চলের এবং দুটি গ্রামীণ বিদ্যালয় থেকে নির্বাচন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব এলাকায় সরেজমিনে দুই দিন অবস্থান করে বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

অন্য কর্মকর্তারা দেখবেন দুটি বিদ্যালয়

অন্যদিকে, অধিদপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত উপজেলা বা থানার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে। এর মধ্যে একটি শহরাঞ্চলের এবং একটি গ্রামীণ বিদ্যালয় বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে হবে।

এসব কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ে এক দিন অবস্থান করে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করতে হবে। বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্রও পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

পরিদর্শনের পর দিতে হবে বিস্তারিত প্রতিবেদন

সরেজমিন পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ছকে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পরিদর্শন শেষ হওয়ার পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া প্রতিবেদন দাখিলের প্রমাণক কপি টিএ/ডিএ বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় ও প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।

বিধি অনুযায়ী মিলবে টিএ/ডিএ

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতন খাত থেকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী টিএ/ডিএ পাবেন। আর অধিদপ্তরে সংযুক্তিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের টিএ/ডিএ বিল মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাসুদ হোসেন গত সোমবার (৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন।

মাঠপর্যায়ের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বাস্তব কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রতিবেদন পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কালের আলো/এসএ

রাজধানীতে ট্রাফিক অভিযানে ২ হাজার ৫৮৩ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক অভিযানে ২ হাজার ৫৮৩ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৫৮৩টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব মামলা করা হয়। একই সময়ে ৪৭৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ১৩৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

গুলশানে সর্বোচ্চ ৭৮৮ মামলা

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে। এ বিভাগে ৭০টি বাস, ১৮টি ট্রাক, ৩৩টি কাভার্ড ভ্যান, ৮৫টি সিএনজি ও ২১৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৭৮৮টি মামলা করা হয়েছে।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৯টি বাস, একটি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ড ভ্যান ও ৫১টি সিএনজিসহ মোট ৩৯২টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৪টি বাস, ১৭টি ট্রাক, ২০টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১২৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৭২টি মামলা করা হয়েছে।

ওয়ারী ও মিরপুরেও শত শত মামলা

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩২টি বাস, ৩৪টি ট্রাক, ২৫টি কাভার্ড ভ্যান, ৫৯টি সিএনজি ও ১০৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৪০টি মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৭টি বাস, ১৩টি ট্রাক, ৩০টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১১০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৬৮টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৩টি বাস, পাঁচটি ট্রাক, চারটি কাভার্ড ভ্যান, ২৯টি সিএনজি ও ৭২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৫টি মামলা করা হয়েছে।

রমনা ও লালবাগ বিভাগেও অভিযান

ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১০টি বাস, ১১টি ট্রাক, দুটি কাভার্ড ভ্যান, ১৮টি সিএনজি ও ৭৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৭টি মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগে চারটি বাস, আটটি কাভার্ড ভ্যান, আটটি সিএনজি ও ২৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১১১টি মামলা হয়েছে।

ডাম্পিং ৪৭৬ গাড়ি, রেকার ১৩৮

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করার পাশাপাশি অভিযানে ৪৭৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ১৩৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: ডিএমপি

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ রুখতে একসঙ্গে বাংলাদেশ-চীন

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রযাত্রার সঙ্গে অপরাধের ধরনও যখন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, তখন সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বাংলাদেশ। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

  • আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার আগ্রহ
  • তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা
  • টেলিকম প্রতারণা মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের আলোচনা

আইজিপির নেতৃত্বে সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়।

সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতার আগ্রহ

বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চীনা প্রতিনিধিদল সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের সহযোগিতার আগ্রহ এ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, তদন্ত এবং প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্য বিনিময়ে বাড়বে আন্তঃদেশীয় সমন্বয়

বৈঠকে টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। সাইবার অপরাধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমা নেই। অপরাধের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, অপরাধী ও ভুক্তভোগী ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করতে পারেন। এ কারণে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময় অপরাধ শনাক্তকরণ ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সেই জায়গায় নতুন কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার

বৈঠকের আলোচনায় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম নয়, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি হলে সাইবার অপরাধের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি

ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সক্ষমতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি গড়ে তোলার সম্ভাবনাময় এক পদক্ষেপ।

পারস্পরিক আস্থা, তথ্য বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধবিরোধী সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মারা গেলেন ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক জেফরি আর্চার

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
মারা গেলেন ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক জেফরি আর্চার

ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার মারা গেছেন। সোমবার(৫অক্টোবর) তাঁর প্রকাশক হার্পারকলিন্স মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতির ও রোমাঞ্চকর গল্পের জন্য পরিচিত আর্চারের বই বিক্রি হয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি কপি। তাঁর লেখকজীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নট আ পেনি মোর, নট আ পেনি লেস’ এবং ১৯৭৯ সালের ‘কেন অ্যান্ড অ্যাবেল’।

প্রকাশের আগেই শেষ উপন্যাসের লেখককে হারালেন পাঠক

আর্চারের সর্বশেষ উপন্যাস ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। বইটির প্রচারে সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বেতার অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহান্তে চেলটেনহাম সাহিত্য উৎসবে নিজের নতুন বই নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে তার আগেই মৃত্যু হলো এই জনপ্রিয় লেখকের।

হার্পারকলিন্সের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আর্চারের সম্পাদক কেট এলটন এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠককে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আর্চার তাঁদের একজন সত্যিকারের বন্ধুও ছিলেন।

রাজনীতিতেও ছিল পরিচিতি

জেফরি আর্চার শুধু লেখক ছিলেন না, ব্রিটেনের রক্ষণশীল দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অধীনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার আগে তিনি আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন পরবর্তীতে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

মিথ্যা সাক্ষ্যের মামলায় কারাদণ্ড

১৯৮৭ সালে ডেইলি স্টার পত্রিকা আর্চারের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করে। এর পর তিনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

মামলায় জয়ী হয়ে তিনি তখনকার রেকর্ড ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পান। কিন্তু ১৯৯৯ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় আসার পর মামলাটি আবার সামনে আসে।

এক সাবেক বন্ধু দাবি করেন, ওই মামলায় আর্চার মিথ্যা বলেছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি চার বছরের কারাদণ্ড পান এবং প্রায় দুই বছর কারাগারে কাটান।

কারাগারে থাকাকালীন তিনি লেখেন ‘এ প্রিজন ডায়েরি’।

বিতর্ক পেরিয়েও অটুট ছিল জনপ্রিয়তা

ব্যক্তিগত জীবন ও আদালতের মামলাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম হলেও তাঁর লেখকজীবনে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

হার্পারকলিন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৯টি দেশে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে। তাঁর বইগুলো নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর অবস্থান করেছে।

প্রকাশকের ভাষ্য অনুযায়ী, লেখালেখির দুই পর্বের মাঝখানে হঠাৎ ও শান্তিপূর্ণভাবেই জেফরি আর্চারের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ