খুঁজুন
                               
, ,
           

দখলে হারিয়ে যাচ্ছে উজান গঙ্গাপুর খাল, দুর্ভোগে কৃষক

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দখলে হারিয়ে যাচ্ছে উজান গঙ্গাপুর খাল, দুর্ভোগে কৃষক

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের ‘উজান গঙ্গাপুর খাল’ দখল ও ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় যে খাল দিয়ে হাওরের পানি নিষ্কাশন, কৃষিজমিতে সেচ এবং নৌযান চলাচল করত, এখন সেখানে অনেক জায়গায় গড়ে উঠেছে বসতঘর ও যাতায়াতের রাস্তা। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গাপুর হাওর থেকে শুরু হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে খালটি। তবে বর্তমানে খালের অধিকাংশ অংশের কোনো অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। কোথাও খাল ভরাট করে বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও তৈরি করা হয়েছে চলাচলের রাস্তা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ধীরে ধীরে দখল হতে থাকে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি খাসজমিতে খালের পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে ওঠার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। প্রকল্পের ঘর হস্তান্তরের পর বিভিন্নভাবে খালের জায়গা দখল ও ভরাট হতে থাকে বলে জানান তারা।

খালটি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় গঙ্গাপুর হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের জন্য খালের পানি ব্যবহার করাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খালের আশপাশের লোকজন বিভিন্ন অংশ ভরাট করে রাস্তা তৈরি করায় বর্ষা ও শুষ্ক—দুই মৌসুমেই কৃষকরা সেচ সংকটে পড়ছেন। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে সীমিত পরিসরে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে তাদের।

গঙ্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আফতাব আলী, জুনাব আলী ও ইসমাঈল আলী বলেন, একসময় এই খাল থেকেই সহজে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যেত। বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে বসতঘর ও রাস্তা নির্মাণ করায় সেটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

কৃষক কুলেন্দ্র দাস ও অনন্ত দাস বলেন, একসময় বর্ষাকালে খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। কুরকুছি হাওর ও গঙ্গাপুর হাওরের মৎস্যজীবীরা এই খাল ব্যবহার করে কুশিয়ারা নদীতে যাতায়াত করতেন। অথচ এখন বর্ষা মৌসুমেও খালে পানি থাকে না।

স্থানীয়রা বলছেন, খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে। এতে কৃষকের পাশাপাশি খালের আশপাশের বসতবাড়ির মানুষও বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবেন।

এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। খালের মালিকানা সরকারি (খাস) কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন—যেটিই হোক না কেন, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নিষেধাজ্ঞার আগে ইলিশের বাজারে আগুন

চাঁদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
নিষেধাজ্ঞার আগে ইলিশের বাজারে আগুন

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ মুহূর্তে ইলিশ কেনাবেচায় জমে উঠেছে চাঁদপুরের বিভিন্ন মাছঘাট। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে ইলিশের দাম।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন আড়তে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহ আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বহরিয়া মাছঘাটে জেলেদের নিয়ে আসা ইলিশের বেশিরভাগই ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের। ছোট আকারের ইলিশ প্রতি হালি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়।

বহরিয়া এলাকার জেলে হান্নান গাজী বলেন, মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তবে আগস্টে ইলিশের আমদানি খুবই কম ছিল। বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কোনোভাবে জেলেদের খরচ উঠছে।

বহরিয়া মাছঘাটের আড়তদার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, শেষ সময়ে ইলিশের আমদানি কিছুটা বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা কম। চাঁদপুরের ইলিশের সুনাম থাকায় এখানকার মাছের চাহিদা বেশি।

হরিণা মাছঘাটের পাইকারি বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর ছৈয়াল জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে এ ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মণ ইলিশ এসেছে। তবে গত কয়েকদিন আমদানি কিছুটা কমেছে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ইলিশ কিনতে এলেও চাহিদা অনুযায়ী মাছ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

হানারচর ইউনিয়নের জেলে নজরুল ইসলাম বলেন, এক নৌকায় ১০ জন কাজ করেন। রাতে নদীতে গিয়ে সকালে ঘাটে ফিরেছেন। যে পরিমাণ ইলিশ পেয়েছেন, তাতে খরচ উঠেছে। তবে জালে ময়লা-আবর্জনা আটকে যাওয়ায় সেদিন আর নদীতে নামতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার আগে আরও এক-দুই দিন মাছ ধরার সুযোগ হতে পারে বলে জানান তিনি।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার বলেন, গত সপ্তাহে কিছুটা ইলিশ পাওয়া গেলেও চলতি সপ্তাহে আমদানি কমেছে। চাহিদার তুলনায় ইলিশ কম থাকায় দামও কমছে না। আমদানি বাড়লে দামও কমে আসবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, শেষ মুহূর্তে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। হাজার হাজার জেলে নদীতে ইলিশ ধরছেন এবং কম-বেশি মাছ পাচ্ছেন। এবার ইলিশের গড় আকারও তুলনামূলক বড়।

তিনি বলেন, আগামী ২২ দিনের প্রজনন মৌসুম সফল হলে এর সুফল জেলেরাই পাবেন। মা ইলিশ রক্ষায় ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সিস্টেম মাইগ্রেশনে ৩০ ব্যাংকের এটিএম-কার্ডসহ বিভিন্ন সেবা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
সিস্টেম মাইগ্রেশনে ৩০ ব্যাংকের এটিএম-কার্ডসহ বিভিন্ন সেবা স্থগিত

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে দেশের প্রায় ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন কার্ড ও লেনদেন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কার্ড লেনদেনসহ কিছু আন্তঃব্যাংক লেনদেন সেবাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টার পর এসব সেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়নি। কোন ব্যাংকের কোন সেবা বন্ধ থাকবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর।

রোববার সন্ধ্যা থেকে ব্যাংক এশিয়া, রূপালী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম ও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন অকার্যকর দেখা যায়। পরে কিউ-ক্যাশ সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবা বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়।

এর আগে কয়েকটি ব্যাংক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জরুরি সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্ড, এটিএম, পিওএস, কিউ-পে ও এনপিএসবি-আইবিএফটি ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে।

কৃষি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ প্রায় ৩০টি ব্যাংক গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা সাময়িক বন্ধ থাকার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর দাবি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সিস্টেম আপগ্রেড এবং রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব কাজ করা হচ্ছে।

তবে সেবা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সেবা বন্ধ রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানায়নি।

তিনি বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর প্রভাবে আইটিসি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানানো হয়নি।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, গ্রাহকদের সেবা বন্ধ রাখার বিষয়েও ব্যাংকগুলো আগে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পূর্ব ঘোষণা দেয়নি। ফলে হঠাৎ কয়েকটি সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকগুলো বলছে, প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করতে নিয়মিত সিস্টেম আপগ্রেড ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনও এর অংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক হবে। এ সময় জরুরি লেনদেনের প্রয়োজনে গ্রাহকদের বিকল্প সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শারজাহফেরত ৩ যাত্রীর ব্যাগে মিলল ৬৩১ কার্টন সিগারেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
শারজাহফেরত ৩ যাত্রীর ব্যাগে মিলল ৬৩১ কার্টন সিগারেট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেটসহ মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন। পরে শারজাহ থেকে ঢাকাগামী G9 571 ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে যাত্রী মোহাম্মদ শাহীনের ব্যাগ থেকে ৩২০ কার্টন সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। কে এম ফজল হকের ব্যাগ থেকে পাওয়া যায় ১২৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ। অপর যাত্রী বেলায়েত ভুইয়া হোসেনের ব্যাগ থেকে ১৮৬ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং এবং নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে বিমানবন্দরে চোরাচালান ও ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি