পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ
দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুর নগর ভবনের সভাকক্ষে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূউর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় ডর্পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে জানান, কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবলিক পরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন।
দ্য ল্যানসেট-এর গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তামাকের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কার্যালয়গুলোতে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০২৬)-এর প্রাসঙ্গিক বিধান কার্যকর করাসহ সব অফিসে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম। আলোচনায় তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইন কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ডর্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যালয়ে গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড ও প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনের পাশাপাশি তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম চালানো হবে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array