খুঁজুন
                               
, ,
           

স্থানীয় ভোটে বড় পরীক্ষায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় ভোটে বড় পরীক্ষায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। কাগজে-কলমে নির্বাচন নির্দলীয় হলেও মাঠের বাস্তবতায় এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির কাজ চলছে নেপথ্যে। ফলে জাতীয় রাজনীতির পর এবার ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভাকে ঘিরে শুরু হয়েছে আরেক দফা শক্তির পরীক্ষা।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সেপ্টেম্বরেই তপশিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সে হিসাবে নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভোট শুরুর সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সময়ের হিসাবেও কমিশনের চাপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সময়। ইউনিয়ন পরিষদের সিংহভাগের মেয়াদ এই বছর শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য বন্যা, দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগ থেকে রমজান—সব মিলিয়ে ভোট আয়োজনের উপযোগী সময় সীমিত। এরপর ঈদুল আজহা, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমও সামনে আসবে। ফলে নভেম্বর-ডিসেম্বরকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত সময় হিসেবে দেখছে কমিশন। প্রথম ধাপে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছিল। এবারও ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পথেই হাঁটতে পারে কমিশন।

বিএনপির সামনে জনপ্রিয়তা থেকে ভোটে রূপান্তরের পরীক্ষা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য শুধু আরেকটি ভোট নয়; এটি তৃণমূল সংগঠনের কার্যকারিতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জাতীয় রাজনীতিতে দলটির অবস্থান ও জনপ্রিয়তা থাকলেও ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচনে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, পারিবারিক প্রভাব, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় জনপ্রিয়তাকে স্থানীয় ভোটে রূপান্তর করাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। দলের মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন জেলা ও সাংগঠনিক এলাকার দায়িত্ব দেওয়া, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রকে তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া তাই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • নির্দলীয় ভোটের আড়ালে দলগুলোর প্রস্তুতি জোরদার
  • প্রার্থী বাছাই, সংগঠন গোছানো ও স্থানীয় সমঝোতায় নজর—নভেম্বর-ডিসেম্বরেই শুরু হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নয়; স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলকে প্রস্তুত করার একটি কৌশলও হতে পারে। তবে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন পরিচালনার ধরন স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত একে সরাসরি নির্বাচনি কৌশল হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে অবশ্য দলের অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় তৃণমূল ও জেলা নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি পদে একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

‘দলীয় প্রভাব থাকবে না’—সরকারের অবস্থান
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য, নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব থাকবে না এবং দলীয়ভাবে প্রার্থীও দেওয়া হবে না। তবে ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন থাকবে। এই বক্তব্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নটি সামনে আনছে—নির্বাচন নির্দলীয় হলেও রাজনৈতিক দলগুলো যখন পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে, তখন বাস্তবে দলীয় প্রভাব কতটা এড়ানো সম্ভব হবে? কারণ প্রার্থীর পাশে দলের সাংগঠনিক শক্তি, স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে তার প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন।

জামায়াতের লক্ষ্য তৃণমূলের বিস্তার
জামায়াতে ইসলামীও স্থানীয় নির্বাচনকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ভোটভিত্তি বাড়ানো এবং সংগঠনকে আরও দৃশ্যমান করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় জোটভিত্তিক সমঝোতার সুযোগ সীমিত। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে জোট না থাকলেও স্থানীয় প্রয়োজন বা স্থানীয় সমঝোতার ভিত্তিতে কোনো উদ্যোগ হলে তাতে দলের বাধা নেই। অর্থাৎ স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী নির্বাচনি সমীকরণ তৈরির দরজা খোলা রাখছে দলটি।

এনসিপির সামনে সংগঠন প্রমাণের সুযোগ
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক পরীক্ষাগুলোর একটি। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের যে বক্তব্য দলটি সামনে আনছে, সেটিকে বাস্তব মাঠে সংগঠনে রূপ দেওয়া এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন হচ্ছে—ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংগঠন এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী কতটা প্রস্তুত করতে পারবে এনসিপি? স্থানীয় নির্বাচনে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

নির্দলীয় ভোট, রাজনৈতিক লড়াই
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন আর কেবল চেয়ারম্যান-মেম্বার বা মেয়র-কাউন্সিলর নির্বাচনের বিষয় থাকছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূল শক্তি, স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্কের বাস্তব পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা। আর রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ—কেন্দ্রের নির্দেশনা ও স্থানীয় বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে প্রার্থী বাছাই করা।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোটের ঘণ্টা বাজলে তাই ব্যালট বাক্সে শুধু প্রার্থী নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরও। জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার সমীকরণ এবার কতটা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত—স্থানীয় সরকার নির্বাচনই তার সবচেয়ে বাস্তব আয়না হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এম/এএই

গ্রিনল্যান্ডে নতুন ২ সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ডে নতুন ২ সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি নতুন চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের আমলের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু এবং পূর্ব উপকূলের একটি ঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হতে যাওয়া দুইটি এলাকা হলো, নার্সারসুয়াক (Narsarsuaq) এবং মেস্টারসভিগ (Mestersvig)। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান’ (Bluie West One) সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার পর নার্সারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে এসে ঠেকেছে। অন্যদিকে, মেস্টারসভিগ হলো একটি সামরিক আউটপোস্ট, যা বর্তমানে ডেনমার্কের স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’ (Sirius Dog Sled Patrol) ব্যবহার করে আসছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটায়) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির মূল পাঠ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত চূড়ান্ত নয়।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডেনমার্ক জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্কের ওপর না ছেড়ে বরং উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটোর (NATO) নজরদারির অধীনে আনা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বায়ত্তশাসিত এই ড্যানিশ ভূখণ্ড অধিগ্রহণের জন্য সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও একসময় উড়িয়ে দেননি তিনি। ট্রাম্পের এই হুমকি গত জানুয়ারিতে চরমে পৌঁছায়, যার ফলে ন্যাটোর ভেতরে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের ওপর থেকে চাপ কমাতে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল। তবে বর্তমানে সেখানে কেবল ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ (Pituffik Space Base) টিকে আছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ