খুঁজুন
                               
, ,
           

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, বাড়ছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ হিসাবে, এক দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন—চলতি বছরে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি। একই সময়ে মারা গেছেন আরও চারজন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৭ জনে। তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা—ডেঙ্গুর প্রকোপের মূল সময় এখনও শেষ হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরজুড়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ফলে আগামী দুই মাসকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন। জুনে যেখানে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ২০৬ জনে। আগস্টে সংখ্যাটি লাফিয়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫৩৬। আর চলতি মাসেই এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৪ জন। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, আগস্ট থেকে অক্টোবর সাধারণত ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকার বাইরে নতুন সংকেত
ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ নয়। ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও বরিশাল ও চট্টগ্রামেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকা বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বরিশালে প্রায় ৬ হাজার এবং চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি। ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ দুই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডেঙ্গু এখন পৌঁছে গেছে গ্রামের ঘরেও। গত কয়েক বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের আগে রোগটি মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন বহু গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ, এডিস মশার বিস্তারও আর শহরের সীমানায় আটকে নেই।

গ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন এডিস, উপকূলে নতুন শঙ্কা
শহরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে গ্রামে এডিস মশার প্রজননস্থল থাকলেও তা ধ্বংসের উদ্যোগ সীমিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. আবদুল আলীমের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আগে জুলাই-সেপ্টেম্বরকে এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল ধরা হলেও এখন সারা দেশেই প্রায় সারা বছর এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তার মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে এডিস ও কিউলেক্স মশার জন্য পৃথক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রয়োজন।

আক্রান্ত পুরুষ বেশি, মৃত্যুতে নারী
এই বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। কিন্তু মৃত্যুর চিত্র উল্টো—এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, পুরুষরা কর্মস্থলের কারণে শহরে এসে সহজে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান। নারীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে আক্রান্ত নারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে কম প্রতিফলিত হতে পারে।

আগামী দুই মাসই মূল পরীক্ষা
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেন। তিনি বলেন, তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই সতর্ক হওয়ার সময় পরে নয়—এখনই। কারণ, সামনে থাকা দুই মাসে ডেঙ্গু কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা শুধু হাসপাতালের সক্ষমতা নয়; নির্ভর করবে মশার প্রজননস্থল কতটা ধ্বংস করা যাচ্ছে, গ্রাম-শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে কতটা কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে তার ওপর।

কালের আলো/এম/এএইচ

মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো উড়োজাহাজ রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটজনক।

স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার কিছু আগে প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে পাশের সড়কে চলে যায়। এরপর এটি কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে আটকা পড়েছিলেন। কয়েকটি গাড়ির আরোহীকেও উদ্ধার করতে হয়েছে।

মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউয়ের প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর ৬০টির বেশি উদ্ধারকারী ইউনিট এবং প্রায় ২০০ জন কর্মী ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন। উড়োজাহাজটি থেকে জ্বালানি চুইয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে হয় জরুরি বিভাগের কর্মীদের।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উড়োজাহাজে থাকা পাইলট ও কো-পাইলটের অবস্থা সম্পর্কেও প্রাথমিক পর্যায়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল ৩২ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্রেইটার। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামিতে যাচ্ছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজটি বিভিন্ন এয়ারলাইনসে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে এটিকে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্গো এয়ারলাইন ২১ এয়ার উড়োজাহাজটি অ্যামাজনের হয়ে পরিচালনা করছিল। ২১ এয়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতার কথা বলেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে ছাড়ার সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ মাইল বা ১১২ নট। দুর্ঘটনার পর পাওয়া ছবিতে উড়োজাহাজটির সামনের অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে এবং পেছনের অংশ উঁচু হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিমানটির ডান পাশে পোড়া দাগও দেখা গেছে।

দুর্ঘটনার পর মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়। দুর্ঘটনার প্রভাবে ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৩২৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় বলে এপি জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে উড়োজাহাজটির অবতরণের ধরন, আবহাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার সময় এলাকায় বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় প্রায় ৩০ মাইল পর্যন্ত দমকা বাতাস ছিল বলেও এপি জানিয়েছে।

এটি অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের হয়ে পরিচালিত উড়োজাহাজের প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে অ্যামাজনের হয়ে পরিচালিত অ্যাটলাস এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ টেক্সাসে বিধ্বস্ত হলে উড়োজাহাজটিতে থাকা তিনজনই নিহত হয়েছিলেন।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীদের জমা টাকার মূল অংশ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে সংশ্লিষ্ট শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

আমানতের অর্থ ফেরত দিতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। ছয় দিনে মোট ৭৫ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। আবেদন যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শাখায় অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এরপর গ্রাহকরা নিজ নিজ শাখা বা উপশাখা থেকে টাকা তুলতে পারবেন।

তবে আপাতত ব্যক্তি আমানতকারীদের শুধু জমার মূল টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানতের ওপর অর্জিত মুনাফা পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ঘোষিত স্কিমের বাইরে এখনই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকছে না।

সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

ব্যাংকগুলোর প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মোট প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

নবগঠিত ব্যাংকটির ৩০ হাজার কোটি টাকার মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, টাকা ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগে তা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ব্যয় মেটাতে নতুন রাজস্বের উৎস খুঁজছে ইউক্রেন। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট তৈরির ব্যবসাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের ধারণা, এই খাত বৈধ হলে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর আদায় করতে পারবে, যা যুদ্ধের ব্যয়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াকের সমর্থিত একটি বিলে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পকে বৈধ অর্থনীতির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, এই খাত থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় হতে পারে।

এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। যুদ্ধের সময়ে ইউক্রেনের জন্য এমন রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ বা ছড়িয়ে দেওয়া বেআইনি। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে অনলাইনভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ব্যবসা চলছে।

সমস্যা আরও জটিল হয়েছে কর আদায়ের উদ্যোগকে ঘিরে। কারণ, কোনো কনটেন্ট নির্মাতা নিজের আয় সরকারকে জানালে একই সঙ্গে তিনি এমন একটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ও প্রকাশ করছেন, যা বর্তমান আইনে অপরাধ।

ঝেলেজনিয়াকের ভাষায়, কনটেন্ট নির্মাতাদের কেউ কর না দিলে কর ফাঁকির অভিযোগে পড়তে পারেন, আবার কর দিলে বেআইনি কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে। দেশটির প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় এমন কয়েকটি ঘটনা শনাক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনে অনলাইন প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের বাজারও বেশ বড়। জার্নালের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন কনটেন্ট নির্মাতা অনলি ফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন।

কর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনি জটিলতার কারণে কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা ইতোমধ্যে সমস্যায় পড়েছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে কর ফাঁকির পাশাপাশি বেআইনি কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে।

অনলি ফ্যানসের কনটেন্ট নির্মাতা স্বিতলানা দভোরনিকোভা দাবি করেছেন, পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ ও হার্ডড্রাইভ নিয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, মামলা বন্ধ করার বিনিময়ে তাঁকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

পরে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে আবেদন করেন। নিজেকে একজন ‘সচেতন করদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় ৯ লাখ ডলার কর দিতে প্রস্তুত তিনি। তবে কর দেওয়ার পরও যেন তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা না হয়—এমন দাবি জানান তিনি।

ওই আবেদনে দ্রুত ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ এতে স্বাক্ষর করেন।

আবেদনে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, পর্নোগ্রাফি বৈধ করার বিষয়ে ঝেলেজনিয়াকের প্রস্তাব পার্লামেন্টে বিবেচনা করা হবে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা যৌথভাবে এ বিষয়ে বিলটি তৈরি করেছেন।

জুলাইয়ে বিলটি ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফায় অনুমোদনও পেয়েছে। এটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্প একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকার এ খাত থেকে নিয়মিত কর আদায়ের সুযোগ পাবে।

যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ইউক্রেন যখন নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে, তখন বিতর্কিত এই খাতকে বৈধ করার উদ্যোগ দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ