খুঁজুন
                               
, ,
           

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, বাড়ছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ হিসাবে, এক দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন—চলতি বছরে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি। একই সময়ে মারা গেছেন আরও চারজন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৭ জনে। তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা—ডেঙ্গুর প্রকোপের মূল সময় এখনও শেষ হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরজুড়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ফলে আগামী দুই মাসকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন। জুনে যেখানে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ২০৬ জনে। আগস্টে সংখ্যাটি লাফিয়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫৩৬। আর চলতি মাসেই এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৪ জন। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, আগস্ট থেকে অক্টোবর সাধারণত ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকার বাইরে নতুন সংকেত
ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ নয়। ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও বরিশাল ও চট্টগ্রামেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকা বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বরিশালে প্রায় ৬ হাজার এবং চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি। ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ দুই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডেঙ্গু এখন পৌঁছে গেছে গ্রামের ঘরেও। গত কয়েক বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের আগে রোগটি মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন বহু গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ, এডিস মশার বিস্তারও আর শহরের সীমানায় আটকে নেই।

গ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন এডিস, উপকূলে নতুন শঙ্কা
শহরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে গ্রামে এডিস মশার প্রজননস্থল থাকলেও তা ধ্বংসের উদ্যোগ সীমিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. আবদুল আলীমের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আগে জুলাই-সেপ্টেম্বরকে এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল ধরা হলেও এখন সারা দেশেই প্রায় সারা বছর এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তার মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে এডিস ও কিউলেক্স মশার জন্য পৃথক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রয়োজন।

আক্রান্ত পুরুষ বেশি, মৃত্যুতে নারী
এই বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। কিন্তু মৃত্যুর চিত্র উল্টো—এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, পুরুষরা কর্মস্থলের কারণে শহরে এসে সহজে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান। নারীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে আক্রান্ত নারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে কম প্রতিফলিত হতে পারে।

আগামী দুই মাসই মূল পরীক্ষা
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেন। তিনি বলেন, তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই সতর্ক হওয়ার সময় পরে নয়—এখনই। কারণ, সামনে থাকা দুই মাসে ডেঙ্গু কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা শুধু হাসপাতালের সক্ষমতা নয়; নির্ভর করবে মশার প্রজননস্থল কতটা ধ্বংস করা যাচ্ছে, গ্রাম-শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে কতটা কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে তার ওপর।

কালের আলো/এম/এএইচ

ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গভর্নর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে মিনিস্টার কাউন্সেলর ও হেড অব চ্যান্সেরি ওয়াহিউ রিয়াদি, থার্ড সেক্রেটারি (অর্থনৈতিক বিষয়ক) রবি ফিরলি হারখা এবং কর্মকর্তা সাপতো রুদিয়ান্তো উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন ও নির্বাহী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্রীড়া কার্ডধারীদের গণপরিবহনে ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
ক্রীড়া কার্ডধারীদের গণপরিবহনে ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত

জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি গণপরিবহনে ভাড়ায় বিশেষ ছাড় এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৪ অক্টোবর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

সভায় জানানো হয়, ক্রীড়া কার্ডধারীদের সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনে ছাড়যুক্ত ভাড়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি খেলা চলাকালে দুর্ঘটনা, উন্নত চিকিৎসার ব্যয় ও জীবনের বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্রীড়াবিদদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা ও ঝুঁকি বীমার আওতায় আনার কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ক্রীড়াকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং ক্রীড়াবিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি শুধু পরিচয়পত্র নয়, বরং এর মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টের ৩২৫ জন নির্বাচিত জাতীয় ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন।

কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং বীমা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান, জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম আবু নাইম মো. মারুফ খান এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন মালিক সমিতির মহাপরিচালক ছিদ্দুকুর রহমান পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে ঢাবিকে দেখতে চান রাষ্ট্রপতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে ঢাবিকে দেখতে চান রাষ্ট্রপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার মান আরও উন্নত করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়; দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তাই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও উন্নত করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।

সাক্ষাতে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি, যা নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি।

গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে বিরোধীদল ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিপক্ষ ও বিরোধীদলকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়াই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

এ সময় ঢাবির আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী ও প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি