হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর ৩০ শতাংশের নিউমোনিয়া
হামে নীরবে চলছে মৃত্যুর ধারা। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিনের প্রাণহানি যেন সাধারণ একটি পরিসংখ্যানের খবরে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময়ে ‘হামমুক্ত’ দেশে নতুন করে হামের সংক্রমণ এবং এত বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর কথা চিন্তাই করা যায় না। এর জন্য চিকিৎসার দুর্বলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন তারা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের নিউমোনিয়া হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে যতটা যত্নসহ চিকিৎসা দরকার সেটি সবাই পায়নি। উপজেলা-জেলাপর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রায় সব সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে প্রথম হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি সবার নজরে আসে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মাথায়। এরপর সরকার তড়িঘড়ি করে সক্রিয় হয়। দুই কোটির বেশি শিশুকে দেওয়া হয় হামের টিকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও প্রাণহানির তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। ২ এপ্রিল থেকে নিয়মিত তা সংবাদমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে। ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ জনের হামজনিত মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। পর দিন ৩ এপ্রিল নিশ্চিত করা হয় ১০৩ জনের মৃত্যুর তথ্য।
সরকারি হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৭৮ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৯ হাজার ২৯৪ শিশু। হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৮০৩ জনের। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৫ জনের। বাকি ৭০৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১০৩ জন, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ দিনে ২০৮, ৪ মে পর্যন্ত ৫০ দিনে ৩১১, ১০ মে পর্যন্ত ৫৬ দিনে ৪০৯, ২৩ মে পর্যন্ত ৬৯ দিনে ৫১২, ৩ জুন পর্যন্ত ৮০ দিনে ৬০১, ২৬ জুন পর্যন্ত ১০৩ দিনে ৭০২ জন এবং ২২ জুলাই পর্যন্ত ১২৯ দিনে ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাসিক মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ জন, ২ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩৪, ৩০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩১১ জন মারা যায়। জুনে মৃত্যু হয় ১৩৩ জনের এবং জুলাইয়ের ২২ দিনে মারা গেছে ৮৫ জন। এ পরিসংখানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মে মাসে। তারপর এপ্রিলে। মে মাসের তুলনায় জুনে প্রায় ৫৭ শতাংশ মৃত্যু কমেছে। তবে এখনো প্রতিদিন প্রাণহানির সংখ্যাটি উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘হামে কেউ মারা যায় না। হাম থেকে অন্য জটিলতা তৈরি হয়ে মারা যায়। হাম থেকে চেস্ট ইনফেকশন হতে পারে, যেটাকে বলে নিউমোনিয়া। হাম থেকে মেনিনজাইটিস, ডায়রিয়াও হয়। এগুলোর কারণেই সাধারণত রোগী মারা যায়। এগুলোর কার্যকর চিকিৎসা করতে হবে।’
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array