খুঁজুন
                               
, ,
           

বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন আর তরুণদের নানা সৃজনশীল ভাবনায় মুখর হয়ে উঠেছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

দেশীয় তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে বাজারের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেলায় ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পরিবেশবান্ধব ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন।

এরই মধ্যে এক তরুণ উদ্ভাবক চা বানানোর পর ফেলে দেওয়া চায়ের পাতা থেকে তৈরি করেছেন ‘চায়ের কয়লা’।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ। তরুণদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

নতুন উদ্ভাবন প্রসঙ্গে টিকোলের ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মশিয়ুর রহমান খান আসিফ বলেন, ‘আমি ফেলনা চা-পাতা বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শুকানোর মাধ্যমে কাঠকয়লার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে চা-পাতার কয়লা তৈরি করছি। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব ও গাছ রক্ষায় সহায়তা করবে, তেমনি চায়ের বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা উড চারকোল ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এর চমৎকার বিকল্প হতে পারে এই ‘টিকোল’ বা চা-পাতার কয়লা। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। তাই গাছ রক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। বারবিকিউ পার্টিতে উড চারকোলের পরিবর্তে চা-পাতার বর্জ্য থেকে তৈরি কয়লা ব্যবহার করলে তা বন সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিজ্ঞানের এই অভিনব ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ির সবজির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি অর্গানিক সার ছাদবাগানের গাছে ব্যবহার করলে গাছের বৃদ্ধি ৫০ শতাংশের বেশি হয় বলেও জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ই-জিপির কার্যপদ্ধতি, সুযোগ-সুবিধা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে রাজধানীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

  • দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
  • ই-জিপিতে দক্ষতা বাড়াতে বিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ
  • সক্ষমতা উন্নয়নে বিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের মহাসচিব ড. মো. হেলাল উদ্দিন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি ই-জিপির কারিগরি ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি ক্রয়ের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন থেকে দরপত্র—ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
র্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, দরপত্রের নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ই-জিপি কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কী এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এর কার্যকর ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়।

ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দাখিল এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-জিপির ভূমিকা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, সরকারি ক্রয়ে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।

সরকারি ক্রয়ে বাড়বে অংশগ্রহণ
বিসিআই সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবসায়ীদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিসিআইয়ের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাই ও প্রশিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার কারণে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা এবং ই-জিপির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-জিপির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আইন ও বিধিমালার জ্ঞানকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সরকারি ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিসিআই।

কালের আলো/এম/এএইচ

অপতথ্যের ভিড়ে সাংবাদিকতার বড় পরীক্ষা, দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ ও কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
অপতথ্যের ভিড়ে সাংবাদিকতার বড় পরীক্ষা, দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—সরকারের ভুল-ত্রুটি অবশ্যই তুলে ধরতে হবে, কিন্তু তা হতে হবে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে; অপপ্রচার বা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে নয়।

  • এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে তথ্য যাচাইয়ে দক্ষতার তাগিদ
  • সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরুন, তবে অপপ্রচার নয়

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধু সাংবাদিকদের হাতে একটি সনদ তুলে দেওয়া নয়; বরং তথ্য যাচাই, বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে তাদের দক্ষ করে তোলা। দেশে অপতথ্য যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী, ঝুঁকিও তত বড়কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নারীদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং মানুষের ছবি বিকৃত করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, সাংবাদিক না হয়েও অনেকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন। এতে সত্য সংবাদ, মতামত এবং পরিকল্পিত অপতথ্যের সীমারেখা সাধারণ মানুষের কাছে ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা সাংবাদিকতার মৌলিক দক্ষতার অংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি যাচাইহীন তথ্য যেমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তেমনি পরে সত্য প্রকাশ পেলেও সেই ভুল তথ্যের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন।

দেশজুড়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
প্রকৃত সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় কার্যক্রমটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের প্রশ্ন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের কথা বলবেন, সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন—এটাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কিন্তু সেই সমালোচনার ভিত্তি হতে হবে তথ্য ও সত্য। অপতথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারকে সাংবাদিকতার হাতিয়ার বানানো হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা।

রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে যে ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, সেদিকে গণমাধ্যমকে নজর রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়াতে চায় না। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেওয়ার মতো আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশকে আরও সুন্দর ও উন্নত জায়গায় নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

অপতথ্যের ভিড়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সাংবাদিকতার সামনে এখন একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে সুযোগ ও ঝুঁকি। একদিকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নতুন দরজা খুলছে, অন্যদিকে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও বেড়েছে। ফলে এই সময়ে সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়, তথ্য যাচাই, পেশাগত সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। সেই জায়গাটিকেই সামনে রেখে প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান—গণমাধ্যম স্বাধীন থাকবে, প্রশ্ন করবে, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে; কিন্তু সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে সত্য ও দায়িত্বশীলতা। কারণ অপতথ্যের ভিড়ে একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদই শেষ পর্যন্ত জনআস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

কালের আলো/এম/এএইচ

ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচারে বদলাবে প্রোফাইল সাজানোর ধরন

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচারে বদলাবে প্রোফাইল সাজানোর ধরন

ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল আরও নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ দিতে নতুন সুবিধা চালু করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম। এখন থেকে অন্য কেউ কোনো পোস্টে আপনাকে ট্যাগ করলে, চাইলে সেই পোস্টটি নিজের মূল প্রোফাইল গ্রিডেও যুক্ত করতে পারবেন।

নতুন এই সুবিধার ফলে বন্ধুদের পোস্ট করা ছবি বা ভিডিও নিজের প্রোফাইলে দেখানোর জন্য একই কনটেন্ট নতুন করে পোস্ট করার প্রয়োজন হবে না। কোনো পার্টি, কনসার্ট, ভ্রমণ কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানের ছবি বা ভিডিওতে আপনাকে ট্যাগ করা হলে সেটি সরাসরি নিজের প্রোফাইল গ্রিডে যুক্ত করা যাবে।

ইনস্টাগ্রাম জানিয়েছে, ট্যাগ করা পোস্ট গ্রিডে যুক্ত করার জন্য ব্যবহারকারীরা একাধিক পথ পাবেন। ট্যাগ হওয়ার পর পাওয়া ডিএম নোটিফিকেশন, সংশ্লিষ্ট পোস্ট অথবা প্রোফাইলের ‘ট্যাগড’ ট্যাব থেকে পোস্টটি গ্রিডে যোগ করা যাবে।

পরবর্তী সময়ে ইচ্ছা পরিবর্তন হলে পোস্টটি নিজের প্রোফাইল গ্রিড থেকে সরিয়েও দেওয়া যাবে। তবে এতে মূল পোস্টের কোনো পরিবর্তন হবে না। যিনি পোস্টটি প্রকাশ করেছেন, তাঁর প্রোফাইলেই সেটি আগের মতো থাকবে। নিজের গ্রিডে যুক্ত করলেও পোস্টটি নতুন করে প্রকাশ বা ডুপ্লিকেট হবে না।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও নতুন সুবিধাটি কার্যকর হতে পারে। কোনো কোলাবোরেশন বা ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনে একাধিক ক্রিয়েটরকে ট্যাগ করা হলে, তাঁরা একই পোস্ট নিজেদের প্রোফাইল গ্রিডে যুক্ত করতে পারবেন।

প্রোফাইল সাজানোর ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামের সাম্প্রতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে ফিচারটিকে। এর আগে ‘রিঅর্ডার ইওর গ্রিড’ সুবিধার মাধ্যমে গ্রিডে থাকা পোস্টের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ ও ‘রিপ্লেস অডিও’-এর মতো সুবিধাও চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ

কালের আলো/এসএ