খুঁজুন
                               
, ,
           

নিহত যুবদল নেতা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
নিহত যুবদল নেতা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের গুলিতে নিহত ফেনীর যুবদল নেতা শহীদ হারুন এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের আগুনে বসতবাড়ি হারানো এক অসহায় পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে নবনির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শহীদ হারুনের পরিবার এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের আগুনে বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়া একটি অসহায় পরিবার রয়েছে।

রোববার চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হাতে নবনির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত, নির্যাতিত নেতাকর্মী এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পরিবার দুটিকে নতুন বাড়ি দেওয়া হচ্ছে।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ দীর্ঘদিন ধরে দলের ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন বাড়ি উপহার দেওয়ার উদ্যোগও সেই কার্যক্রমের অংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে এক মাস।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার বইমেলা উদ্বোধনের কথা থাকলেও পরে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী আজ থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে আয়োজিত এ মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ইসলামি বই পাওয়া যাবে। এতে স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও ইসলামি বইয়ের প্রকাশকসহ মোট ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

মেলায় পবিত্র কোরআন, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামি দর্শন, ইসলামের ইতিহাস, গবেষণা ও ধর্মীয় সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের উপযোগী ইসলামি বইয়েরও বিশেষ আয়োজন থাকবে।

এক জায়গায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই দেখার ও পছন্দের বই সংগ্রহের সুযোগ থাকায় ইসলামি সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের মধ্যে মেলাটি সাড়া ফেলবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। বিশেষ করে নতুন প্রকাশিত বইয়ের সঙ্গে পাঠকদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মাসব্যাপী এ আয়োজনকে পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের মিলনমেলায় পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বইমেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, বই পড়ার অভ্যাস এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ আরও জোরদার হবে।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পবিত্র কোরআন, হাদিস এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ তুলে ধরতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

হাইটেক পার্কে অবকাঠামো আছে, নেই প্রত্যাশিত ফল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
হাইটেক পার্কে অবকাঠামো আছে, নেই প্রত্যাশিত ফল

দেশে একের পর এক হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ এবং বরাদ্দ বাড়লেও প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। অবকাঠামো নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও দক্ষ জনবল, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় হাইটেক পার্কগুলোর লক্ষ্য ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ ভার্চুয়াল সিরিজের ‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম. রকনুজ্জামান জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। অবকাঠামো তৈরি করলেই প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও বিপ্লব ঘটবে—এমন ধারণা থেকেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম, দক্ষ জনবল ও শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

যশোর হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্কটিতে বর্তমানে ৪০টি কোম্পানি রয়েছে। তবে কার্যকর ইকোসিস্টেম সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেকটা নিজেদের উদ্যোগেই টিকে থাকতে হচ্ছে। প্রশিক্ষিত জনবলের চলে যাওয়া, স্থাপনার দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং বেশি ইউটিলিটি খরচও বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহী হাইটেক পার্কের অভিজ্ঞতায় কিছুটা আশার চিত্র তুলে ধরেন নেট্রো সিস্টেমস ও টেলজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির। তাঁর মতে, রাজশাহীর প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছালেও হাইটেক পার্কে কোম্পানিগুলোর সুবিধা এখনো মূলত কর অব্যাহতির মধ্যেই সীমিত। স্টার্টআপগুলোর জন্য সরাসরি সহায়তাও খুব কম।

ইউওয়াই সিস্টেমসের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ. রহমান বলেন, হাইটেক পার্ক নিয়ে দেশে বড় বড় প্রতিশ্রুতির একটি দীর্ঘ চক্র তৈরি হয়েছে। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পরও সহায়ক সেবা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ ফিরিয়ে দিয়েছে।

ডিএনএস সফটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফেল কবির বলেন, হাইটেক পার্কগুলোর পরিকল্পনার সঙ্গে সরকারি নীতিরও অসঙ্গতি রয়েছে। শুধু রপ্তানি প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, হাইটেক পার্কের অবস্থান নির্বাচনকেও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব। তাঁর মতে, বিদ্যমান ইপিজেড বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় না করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় পার্ক স্থাপন করায় অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়নি।

আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিল্পচালিত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তাদের মতে, হাইটেক পার্কের মডেল পুরোপুরি বাতিল করার প্রয়োজন নেই। বরং উন্নত ইউটিলিটি সুবিধা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর ব্যবসায়িক সহায়তা নিশ্চিত করে মডেলটিকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। কোম্পানিগুলোকে শুধু ভাড়াটে হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা গেলে দেশের প্রযুক্তি খাত ও বিনিয়োগে হাইটেক পার্কগুলো আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এসএ

উর্দু কবি ও সমাজসেবক সৈয়দ তাকি মোহাম্মদের ইন্তেকাল

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
উর্দু কবি ও সমাজসেবক সৈয়দ তাকি মোহাম্মদের ইন্তেকাল

উর্দু সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি এবং পুরান ঢাকার সমাজসেবক ও সংগঠক সৈয়দ তাকি মোহাম্মদ, যিনি ‘বুড্ডান সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন, মারা গেছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে পুরান ঢাকার সাত রওজা মহল্লায় নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

তিনি স্ত্রী, পাঁচ সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। শনিবার বাদ জোহর পুরান ঢাকার হোসনি দালান ইমামবাড়ায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাত রওজার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

১৯৫০ সালের ১৪ জানুয়ারি পুরান ঢাকার সাত রওজা মহল্লায় একটি মুঘল অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ তাকি মোহাম্মদ। তাঁর বাবা নবাব সৈয়দ আলী মোহাম্মদ (ছোট্টন) ছিলেন ঢাকার বিশিষ্ট জমিদার।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সৈয়দ তাকি মোহাম্মদ। তিনি বিভিন্ন সময়ে হোসনি দালান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জাতীয় ওয়াকফ কমিটির পরিচালনা সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন।

পুরান ঢাকায় মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদী বেগ ইমামবাড়া ওয়াকফ এস্টেটের মুতওয়াল্লী হিসেবেও তিনি আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন।

মরহুমের কুলখানি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বাদ মাগরিব পুরান ঢাকার হোসনি দালানে এবং বাদ এশা সাত রওজা খাজা নেহাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এসএ