খুঁজুন
                               
, ,
           

হাইটেক পার্কে অবকাঠামো আছে, নেই প্রত্যাশিত ফল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
হাইটেক পার্কে অবকাঠামো আছে, নেই প্রত্যাশিত ফল

দেশে একের পর এক হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ এবং বরাদ্দ বাড়লেও প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। অবকাঠামো নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও দক্ষ জনবল, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় হাইটেক পার্কগুলোর লক্ষ্য ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ ভার্চুয়াল সিরিজের ‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম. রকনুজ্জামান জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। অবকাঠামো তৈরি করলেই প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও বিপ্লব ঘটবে—এমন ধারণা থেকেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম, দক্ষ জনবল ও শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

যশোর হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্কটিতে বর্তমানে ৪০টি কোম্পানি রয়েছে। তবে কার্যকর ইকোসিস্টেম সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেকটা নিজেদের উদ্যোগেই টিকে থাকতে হচ্ছে। প্রশিক্ষিত জনবলের চলে যাওয়া, স্থাপনার দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং বেশি ইউটিলিটি খরচও বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহী হাইটেক পার্কের অভিজ্ঞতায় কিছুটা আশার চিত্র তুলে ধরেন নেট্রো সিস্টেমস ও টেলজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মো. আশাফুদ্দোজা শিশির। তাঁর মতে, রাজশাহীর প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছালেও হাইটেক পার্কে কোম্পানিগুলোর সুবিধা এখনো মূলত কর অব্যাহতির মধ্যেই সীমিত। স্টার্টআপগুলোর জন্য সরাসরি সহায়তাও খুব কম।

ইউওয়াই সিস্টেমসের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ. রহমান বলেন, হাইটেক পার্ক নিয়ে দেশে বড় বড় প্রতিশ্রুতির একটি দীর্ঘ চক্র তৈরি হয়েছে। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পরও সহায়ক সেবা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ ফিরিয়ে দিয়েছে।

ডিএনএস সফটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফেল কবির বলেন, হাইটেক পার্কগুলোর পরিকল্পনার সঙ্গে সরকারি নীতিরও অসঙ্গতি রয়েছে। শুধু রপ্তানি প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, হাইটেক পার্কের অবস্থান নির্বাচনকেও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব। তাঁর মতে, বিদ্যমান ইপিজেড বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় না করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় পার্ক স্থাপন করায় অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়নি।

আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নয়, সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিল্পচালিত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তাদের মতে, হাইটেক পার্কের মডেল পুরোপুরি বাতিল করার প্রয়োজন নেই। বরং উন্নত ইউটিলিটি সুবিধা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর ব্যবসায়িক সহায়তা নিশ্চিত করে মডেলটিকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। কোম্পানিগুলোকে শুধু ভাড়াটে হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা গেলে দেশের প্রযুক্তি খাত ও বিনিয়োগে হাইটেক পার্কগুলো আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচারে বদলাবে প্রোফাইল সাজানোর ধরন

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচারে বদলাবে প্রোফাইল সাজানোর ধরন

ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল আরও নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ দিতে নতুন সুবিধা চালু করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম। এখন থেকে অন্য কেউ কোনো পোস্টে আপনাকে ট্যাগ করলে, চাইলে সেই পোস্টটি নিজের মূল প্রোফাইল গ্রিডেও যুক্ত করতে পারবেন।

নতুন এই সুবিধার ফলে বন্ধুদের পোস্ট করা ছবি বা ভিডিও নিজের প্রোফাইলে দেখানোর জন্য একই কনটেন্ট নতুন করে পোস্ট করার প্রয়োজন হবে না। কোনো পার্টি, কনসার্ট, ভ্রমণ কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানের ছবি বা ভিডিওতে আপনাকে ট্যাগ করা হলে সেটি সরাসরি নিজের প্রোফাইল গ্রিডে যুক্ত করা যাবে।

ইনস্টাগ্রাম জানিয়েছে, ট্যাগ করা পোস্ট গ্রিডে যুক্ত করার জন্য ব্যবহারকারীরা একাধিক পথ পাবেন। ট্যাগ হওয়ার পর পাওয়া ডিএম নোটিফিকেশন, সংশ্লিষ্ট পোস্ট অথবা প্রোফাইলের ‘ট্যাগড’ ট্যাব থেকে পোস্টটি গ্রিডে যোগ করা যাবে।

পরবর্তী সময়ে ইচ্ছা পরিবর্তন হলে পোস্টটি নিজের প্রোফাইল গ্রিড থেকে সরিয়েও দেওয়া যাবে। তবে এতে মূল পোস্টের কোনো পরিবর্তন হবে না। যিনি পোস্টটি প্রকাশ করেছেন, তাঁর প্রোফাইলেই সেটি আগের মতো থাকবে। নিজের গ্রিডে যুক্ত করলেও পোস্টটি নতুন করে প্রকাশ বা ডুপ্লিকেট হবে না।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও নতুন সুবিধাটি কার্যকর হতে পারে। কোনো কোলাবোরেশন বা ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনে একাধিক ক্রিয়েটরকে ট্যাগ করা হলে, তাঁরা একই পোস্ট নিজেদের প্রোফাইল গ্রিডে যুক্ত করতে পারবেন।

প্রোফাইল সাজানোর ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামের সাম্প্রতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে ফিচারটিকে। এর আগে ‘রিঅর্ডার ইওর গ্রিড’ সুবিধার মাধ্যমে গ্রিডে থাকা পোস্টের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ ও ‘রিপ্লেস অডিও’-এর মতো সুবিধাও চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালের আঙিনা পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাংগাইল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালের আঙিনা পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের আঙিনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রমে অংশ নেন।

এর আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসাসহ যেকোনো স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সফল করতে সারা দেশে একযোগে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক শরীফা হক, জেলা পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ, জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমানসহ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিভেদ-হানাহানি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বিভেদ-হানাহানি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেছেন, নিজেদের পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পারলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হয়। অন্যদিকে বিভেদ, মারামারি ও হানাহানি উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ সময় সভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের শান্তিপূর্ণ উপস্থিতির প্রশংসা করেন তিনি।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব। এ ধরনের অসহায় মানুষের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান রাজা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি