ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসনে ছয় মাসের সময় চাইলেন এমপি ওয়াহাব
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট বিএনপির সৃষ্টি করা কোনো সমস্যা নয়। বর্তমান সরকার এসব সংকট সমাধানে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোররচর কাচারী বাজার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি নিয়ে ৩ নম্বর বোররচর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এমপি ওয়াহাব বলেন, সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তাই অযথা কেউ সার মজুত করবেন না। রবি শস্যের উৎপাদন বাড়াতে সারের সংকট হবে না। তবে সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি রয়েছে। শহরে থাকা সাতটি লাইসেন্স গ্রাম পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘১৭ বছরের জঞ্জাল সাত মাসে শেষ হবে না।’ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ওয়াহাব আকন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে তদবির করতে হবে না এবং এর জন্য কাউকে টাকা দিতে হবে না। পর্যায়ক্রমে সবাই এ কার্ড পাবেন। কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজও অচিরেই শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি ভাতা দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। বোররচরসহ চরাঞ্চলে তিনটি হিমাগার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বেইলি ব্রিজ ও হাসপাতাল চালু, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা, রাস্তা-কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নদীভাঙন রোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এমপি ওয়াহাব বলেন, পাড়া-মহল্লায় তরুণদের অনেকে মাদক গ্রহণ করছে। প্রথমে তাদের বোঝাতে হবে। এতে কাজ না হলে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে এবং প্রমাণসহ পুলিশকে জানাতে হবে। বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না; প্রমাণ পাওয়া গেলে বহিষ্কার করা হবে।
সভায় কোতোয়ালি থানা বিএনপির সদস্যসচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হেলাল আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াহিয়া হোসেন শাহীন, সদস্য আনোয়ার হোসেন হানু, শেখ মো. আব্দুল সেলিম ও আজিজুল হক সরকার।
মতবিনিময় সভায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশ নেন। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array