পদ্মায় পানি বাড়ছেই, বিশুদ্ধ পানি-খাবারের সংকটে তীরবর্তী মানুষ
রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর বিভিন্ন চর ও তীরবর্তী এলাকায় ঢুকে পড়েছে পানি। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৭ দশমিক ৩২ মিটার। এর আগের দিন শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২০ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। সে হিসাবে বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
নগরীর পঞ্চবটি এলাকায় নদীতীরের বেশ কিছু বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি উঠেছে। পানির কারণে ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়েছেন অনেকে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘরে পানি ঢোকার পাশাপাশি সাপও দেখা গেছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহররক্ষা বাঁধের নিচে থাকা বেশ কিছু বাড়িতে প্রতিবছর বন্যার সময় পানি ওঠে। পানি বাড়লে এসব পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। পানি কমে গেলে আবারও নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন তারা।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের ঢলের কারণে গত ১০ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। তবে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নেই। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
পদ্মার পানি আরও বাড়লে চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি



আপনার মতামত লিখুন
Array