খুঁজুন
                               
, ,
           

সার মজুত পর্যাপ্ত, কৃষকের হাতে পৌঁছানোই অগ্রাধিকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
সার মজুত পর্যাপ্ত, কৃষকের হাতে পৌঁছানোই অগ্রাধিকার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কৃষকের কাছে তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিয়ে যেন কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়-এবার সেই ব্যবস্থাপনাকেই সামনে আনল সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। তবে মজুত থাকলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে না, সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি জরুরি।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জামালপুর জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

গুরুত্ব পেয়েছে বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা
জামালপুরে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় দেওয়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সারের সরবরাহের পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর নির্দেশনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়-সরকারি মজুত ও মাঠপর্যায়ের সরবরাহের মধ্যে যেন কোনো ব্যবধান তৈরি না হয়।

কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। এ সময় পরিবহন, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ, বাজার ব্যবস্থাপনা কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে বণ্টনের কোনো ধাপে সমস্যা দেখা দিলে সামগ্রিকভাবে সংকটের ধারণা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে গুজব, মজুতদারি বা অনিয়মও কৃষকের উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত মনিটরিংকে কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে সরবরাহ ব্যবস্থার সুরক্ষা হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

কৃত্রিম সংকট ঠেকানোই বড় পরীক্ষা
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, সারের বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না। এই নির্দেশনার গুরুত্ব রয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও। কারণ প্রকৃত ঘাটতি না থাকলেও কোনো পর্যায়ে সার আটকে রাখা, অতিরিক্ত দাম নেওয়া কিংবা সরবরাহ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে স্থানীয় বাজারে সংকটের আবহ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু কৃষকের তাৎক্ষণিক ভোগান্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, কমে যায় কৃষকের সম্ভাব্য আয়।

আবার প্রয়োজনের সময়ে সার না পেলে ফসলের উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধকে কৃষি উৎপাদনের স্বার্থেই দেখতে হবে। এখানেই মাঠ প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সরবরাহের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকলে কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সরকার কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও কৃষকের স্বার্থে পর্যাপ্ত সার মজুত রেখেছে। ফলে সারের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় জনবল ও যানবাহন সরবরাহ করা হবে। মাঠপর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টহল, দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জনবল ও যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে এসব সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হলে অপরাধ প্রতিরোধের কার্যক্রমও গতিশীল হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে তৃণমূলকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ
মাদককে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাদক একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার ঠেকানো সহজ হবে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করা কঠিন। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।

সভায় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এবং ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা, পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সন্তোষ শর্মা। এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

এ সময় পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া। সেখানে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইনে অনেক বৈঠক হয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী কখন যাবেন এবং কার কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, তা যথাসময়ে জানানো হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কিছুই গোপন রাখা হবে না।

এদিকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দিল্লির সঙ্গে ঢাকা নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে চায়।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা ও মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় প্রধানমন্ত্রী, বার্তা কি শুধু ‘সাদামাটা’ চলাফেরার?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় প্রধানমন্ত্রী, বার্তা কি শুধু ‘সাদামাটা’ চলাফেরার?

বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছানোর পর ষষ্ঠ তলায় ওঠার সময় লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীরাও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠেন। একটি সরকারি বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ঘটনা হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে এটি আলাদা করে নজর কেড়েছে।

কারণ, একজন সরকারপ্রধানের প্রতিটি প্রকাশ্য আচরণই অনেক সময় তাঁর কাজের ধরন ও জনসম্পৃক্ততার প্রতীকী বার্তা বহন করে। লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি ব্যবহারকে তাই কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস হিসেবে দেখার পাশাপাশি তাঁর সরল ও সরাসরি কর্মপদ্ধতির একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দেশের কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ বৈঠককে নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব—এসব প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা নানাবিধ তথ্য ও প্রস্তাব তুলে ধরছেন এবং সেখান থেকে কী ধরনের নির্দেশনা আসছে, সেটিই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টি নির্ভর করবে। সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায় ওঠার ঘটনাটি তাই দিনের আলোচিত একটি দৃশ্য। ভিআইপি প্রটোকল মেনে সাধারণত সচিবালয়ে লিফট ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হলেও প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যান এবং হেঁটে ষষ্ঠ তলায় পৌঁছান। আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—কৃষি খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ।

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে একের পর এক প্রথাভাঙা কর্মকাণ্ড করছেন তারেক রহমান। বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে জনসমাবেশে যাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি একাধিকবার প্রথাগত ভিআইপি প্রটোকল এড়িয়ে বাসে যোগ দিচ্ছেন। ঢাকায় চলাচলেও অতীতের প্রধানমন্ত্রীর মতো থাকে না রাস্তায় কড়াকড়ি। চলার পথে নিয়মিতই পথচারীদের সঙ্গে করেন সালাম বিনিময়।

কালের আলো/এম/এএইচ