খুঁজুন
                               
, ,
           

মঁ ব্লাঁ ঘিরে ১৭০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করলেন বাংলাদেশি পার্থ

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
মঁ ব্লাঁ ঘিরে ১৭০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করলেন বাংলাদেশি পার্থ

আল্পস পর্বতমালার মঁ ব্লাঁকে ঘিরে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আলট্রাম্যারাথন আলট্রা-ট্রেইল দ্যু মঁ ব্লাঁ (UTMB) সফলভাবে শেষ করেছেন বাংলাদেশি দৌড়বিদ পার্থ সাহা। ফ্রান্সের শামোনি থেকে শুরু হয়ে ইতালি ও সুইজারল্যান্ড হয়ে আবার শামোনিতে শেষ হওয়া প্রায় ১৭০ কিলোমিটারের এই কঠিন দৌড় শেষ করতে তাঁর সময় লেগেছে ৪৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড।

২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতার শুরুতে আড়াই হাজারের বেশি দৌড়বিদের সঙ্গে অংশ নেন পার্থ। শুরু থেকেই ছিল বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঠান্ডা। এরপর দুই দিন দুই রাত ধরে পাহাড়ি পথ, অতি উচ্চতা ও কঠিন আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয় তাঁকে।

রেসের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর ভ্যালোরসিন চেকপয়েন্টের কয়েক কিলোমিটার আগে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন পার্থ। ঠান্ডা, জ্বর, ঘুম ও প্রচণ্ড ক্লান্তির কারণে পাহাড়ের ধারে বসে পড়েন তিনি। কিছু সময়ের জন্য বিভ্রমের মতো অবস্থাও তৈরি হয়। এমনকি দৌড়ের পোল ফেলে দিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে গিয়েছিলেন। পরে আবার ফিরে এসে বিশ্রাম নেন।

জ্ঞান ও মনোযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বুঝতে পারেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যালোরসিন পৌঁছাতে হবে। শেষ পর্যন্ত সময়সীমার মাত্র ছয় মিনিট আগে চেকপয়েন্টে পৌঁছান তিনি। সেখানে পানি নিয়ে আবার পরের গন্তব্যের দিকে ছুটতে শুরু করেন।

শেষ দিকেও সহজ ছিল না পরিস্থিতি। একটি চেকপয়েন্টে গিয়ে মাথা ঘুরতে থাকলে চিকিৎসাসহায়তা নেন পার্থ। পরীক্ষা করে তাঁর রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। কিছু খাবার খাওয়ার পর ফের দৌড় শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ফিরে এলে এগিয়ে যান ফিনিশ লাইনের দিকে।

ফিনিশ লাইনের কাছে পৌঁছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে তুলে নেন পার্থ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মনের মধ্যে বেজে উঠেছিল ‘আমার সোনার বাংলা’। ৪৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড পর শামোনির ফিনিশ লাইনে পৌঁছে পূর্ণ হয় তাঁর দীর্ঘ অভিযাত্রা।

মিরপুর থেকে মঁ ব্লাঁ

পার্থের আলট্রাম্যারাথনের যাত্রা শুরু হয় মিরপুর থেকে। কলেজে পড়ার সময় সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে খেলাধুলায় আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। ২০১৮ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পে চাকরি করতেন। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি।

পরে ভারতের লাদাখ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ম্যারাথনের জগতে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে আলট্রাম্যারাথনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। লাদাখ সিল্ক রুট আলট্রা, খারদুংলা লা চ্যালেঞ্জ, দার্জিলিংয়ের বুদ্ধা ট্রেইল আলট্রাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

UTMB-এর যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০২৪ সাল থেকে নেপাল, থাইল্যান্ড ও জাপানের বিভিন্ন দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়েও অংশ নেন। এরপর লটারির মাধ্যমে UTMB ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

তবে ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পথেও ছিল নানা বাধা। অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রথমবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। দ্বিতীয়বার আবেদন করে শেষ পর্যন্ত ভিসা পান পার্থ। দৌড় শুরুর মাত্র ৬০ ঘণ্টা আগে মঁ ব্লাঁ ভিলেজে পৌঁছানোর কারণে আবহাওয়া ও উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।

বর্তমানে পার্থ সাহা স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন। নিজের সীমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরাই তাঁর এই অভিযানের অন্যতম বড় অর্জন।

কালের আলো/এসএ

বৃষ্টির পানিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির পানিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

মানুষের রক্ত ও বুকের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এবার বৃষ্টির পানিতেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার গবেষকেরা। দেশটির ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সির (বিআরআইএন) গবেষণায় জাকার্তার বৃষ্টির পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃষ্টির পানিতে প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ১৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি বাড়ির ওপর বৃষ্টির সময় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পড়তে পারে।

বিআরআইএনের গবেষক মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভা জানান, বাতাসে ভেসে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মাটিতে নেমে আসে। বৃষ্টির পরিমাণ যত বাড়ে, বাতাস থেকে তত বেশি প্লাস্টিক কণা ধুয়ে মাটিতে পড়তে পারে।

বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে প্লাস্টিক

গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানিতে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে কাপড়ের তৈরি সিনথেটিক ফাইবার ও গাড়ির টায়ারের পলিমার রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত বস্তু পুড়ে বা ক্ষয় হয়ে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র টুকরোও বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে মাটিতে পড়ছে।

ইন্দোনেশিয়ার বাতাস ও মানুষের শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দেশটিতে আবর্জনা পোড়ানোর প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় ভাগাড়ে প্রায় ১০ দিন ধরে আগুন জ্বললে সেখানকার ধোঁয়া ও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষক মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যাতিওয়ারিঙ্গিন ল্যান্ডফিলে আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও প্লাস্টিকের টুকরো আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত মানুষ তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খাবার ও সামুদ্রিক প্রাণীতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ায় মানুষের মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের মাত্রা বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি। গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির মানুষ মাসে গড়ে প্রায় ১৫ গ্রাম প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করে।

বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দিক থেকেও ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। দেশটির জলসীমায় ধরা পড়া মাছ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্বজুড়েই মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

কালের আলো/এসএ

হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বললেন স্পিকার

ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বললেন স্পিকার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে এনে সান্ত্বনা দিতেন শেখ হাসিনা। অথচ গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে তিনি জানতেন বলে দাবি করেন স্পিকার।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনাও দিতেন। অথচ তার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় রয়েছেন।

স্পিকার বলেন, এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। তখন জনগণ বিষয়টি বুঝতে পারেনি, তবে এখন অনেক কিছুই তাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে অনেক বিষয় এখন স্পষ্ট হয়েছে। তার দাবি, শেখ হাসিনাই গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে স্পিকার দাবি করেন, ১৭ বছরের শাসনামলে ব্যাপক অত্যাচার-নিপীড়ন হয়েছে। পুলিশের একটি অংশ সরকারকে খুশি করা এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে সাবেক সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এ সময় প্রকল্পের বালিশ ও পর্দার অস্বাভাবিক দামের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি যারা করেছে, তাদের কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে, আবার কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সীমালঙ্ঘনের শাস্তি ভয়াবহ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও রাজনৈতিক হয়রানি করা হয়েছিল।

সভা শেষে নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে তারা সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ, নতুন প্রযুক্তি স্পেনের গবেষকদের

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ, নতুন প্রযুক্তি স্পেনের গবেষকদের

সূর্যের আলো ও বাতাসের পাশাপাশি এবার বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্পেনের গবেষকেরা এমন একটি স্বচ্ছ আবরণ তৈরি করেছেন, যা সোলার প্যানেলের ওপর প্রয়োগ করলে বৃষ্টির পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি করতে পারে।

সেভিলের একটি গবেষণাগারে তৈরি করা এই বিশেষ আবরণটির পুরুত্ব মাত্র প্রায় ১০০ ন্যানোমিটার। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আবরণের ওপর দিয়ে একটি পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ ভোল্টের পিক ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে।

পানির ফোঁটা থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ?

এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো ট্রাইবোইলেকট্রিক প্রভাব। দুটি ভিন্ন পদার্থ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে আবার আলাদা হলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের আদান-প্রদান ঘটে। একইভাবে, পানির ফোঁটা ফ্লোরিনযুক্ত বিশেষ পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার সময় পানি ও আবরণের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের পার্থক্য তৈরি হয়।

এই চার্জকে উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে সংগ্রহ করলে কারেন্ট প্রবাহিত করা সম্ভব। তবে শুধু প্যানেলের ওপর পানি জমে থাকলেই বিদ্যুৎ তৈরি হবে না; পানির ফোঁটাকে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে বা সরে যেতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বৃষ্টির শক্তি

গবেষকদের তৈরি আবরণটি ৯০ শতাংশের বেশি স্বচ্ছ। ফলে এটি সোলার প্যানেলে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বড় বাধা সৃষ্টি করে না। অর্থাৎ বৃষ্টি না থাকলে প্যানেল স্বাভাবিকভাবেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আর বৃষ্টির সময় পানির ফোঁটার চলাচল থেকে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক শক্তি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।

পেরোভস্কাইট সোলার সেলের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এই ধরনের সেল তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব এবং উচ্চ শক্তি-রূপান্তর দক্ষতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীলতা পেরোভস্কাইট সেলের বড় সমস্যা। নতুন আবরণটি একই সঙ্গে সেলকে পানি ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা দিতে এবং বৃষ্টির ফোঁটা থেকে চার্জ সংগ্রহ করতে পারে।

এখনো গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ

তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে। বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবরণটির স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি।

এ ছাড়া একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বৃষ্টির ফোঁটা থেকে উৎপন্ন মোট শক্তির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই প্রযুক্তি দিয়ে একটি বাড়ির সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব হবে না। তবে কম বিদ্যুৎপ্রয়োজনীয় ওয়্যারলেস সেন্সর, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, হাইওয়ে সাইনেজ বা ছোট আলো চালানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এটি কাজে লাগতে পারে।

অর্থাৎ, প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের বিকল্প তৈরি করাই এই প্রযুক্তির লক্ষ্য নয়। বরং একই সোলার প্যানেলকে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি—দুই প্রাকৃতিক উৎস থেকেই শক্তি সংগ্রহে সক্ষম করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে বোঝা যাবে, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে কতটা কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।

কালের আলো/এসএ