বেশি ঘুমেও বাড়তে পারে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি, গবেষণায় সতর্কবার্তা
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘুমের ঘাটতির মতো নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানো ও কম শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাঁদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে
বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি
দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ঘুমই যে বিষণ্ণতার সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। মানসিক স্বাস্থ্যের অন্যান্য কারণও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
কমতে পারে কর্মক্ষমতা
অতিরিক্ত ঘুমের পর অনেকের ঘুমঘুম ভাব, অলসতা ও ক্লান্তি থেকে যেতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাড়তে পারে ওজন
দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দৈনন্দিন ক্যালরি খরচ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে শুধু বেশি ঘুমের কারণেই ওজন বাড়ে—এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি
বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে হৃদ্রোগ ও অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পাশাপাশি যারা শারীরিকভাবে কম সক্রিয়, তাঁদের মধ্যে এ ধরনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
অকালমৃত্যুর ঝুঁকি
প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার সমন্বিত বিশ্লেষণে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণা মূলত সম্পর্ক (association) নির্দেশ করে; অতিরিক্ত ঘুম সরাসরি অকালমৃত্যুর কারণ—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পেছনে বিষণ্ণতা, স্থূলতা, হৃদ্রোগ, ঘুমের ব্যাধি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঘুমকে শুধু একটি অভ্যাস হিসেবে না দেখে এর সম্ভাব্য কারণও বিবেচনা করা জরুরি।
কত ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট?
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে ঘুমের প্রয়োজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন ও শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে, ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে বা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনই সুস্থ থাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array