খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২২ আইনজীবী নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২২ আইনজীবী নিয়োগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মামলা পরিচালনার জন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়োগে মোট ২২ জন আইনজীবী নেওয়া হবে। নারী-পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদন করতে পারবেন।

চুক্তিভিত্তিক এ পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ৬০ বছর। তবে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

পদের বিবরণ

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেলওয়ে
পদের নাম: আইনজীবী
পদসংখ্যা: ২২ জন
চাকরির ধরন: সরকারি, চুক্তিভিত্তিক
প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ
কর্মস্থল: যেকোনো স্থান
বেতন ও ভাতা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

বয়সসীমা

৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৬০ বছর হতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমা শিথিল করা যেতে পারে।

বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

যেভাবে আবেদন

আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ঠিকানা:
অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো)
বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং আহ্বায়ক
প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ কমিটি
রেলভবন, কক্ষ নম্বর ৪০১, ঢাকা।

আবেদনপত্র পাঠানোর সময় খামের ওপর অবশ্যই পদের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পাঠানো এবং অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন শুরু: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের শেষ সময়: ৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২টা।

বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য শর্ত জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

সূত্র: বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

কালের আলো/এসএ

ছোট্ট দোয়েল যেভাবে হয়ে উঠল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অংশ

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ছোট্ট দোয়েল যেভাবে হয়ে উঠল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অংশ

ভোরের নীরবতা ভেঙে ভেসে আসে সুমিষ্ট ডাক। গাছের ডালে বসে কালো-সাদা ছোট্ট পাখিটির সেই সুর চেনেন অনেকেই। এটি দোয়েল—বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। আকারে ছোট হলেও এ পাখি বাঙালির প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও পরিচিতির সঙ্গে মিশে আছে গভীরভাবে। কিন্তু দেশের জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েলকেই কেন বেছে নেওয়া হলো? এর পেছনে রয়েছে পাখিটির সহজ পরিচিতি, সুরেলা ডাক এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক।

স্বাধীনতার পর জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন নিজস্ব জাতীয় পরিচিতি ও প্রতীকগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করছিল, তখন দোয়েল জায়গা করে নেয় জাতীয় পাখির মর্যাদায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাকের হোসেন এ পাখিকে জাতীয় পাখি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তবে দোয়েল নির্বাচনের পেছনে একটিমাত্র কারণ ছিল—এমনটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। পাখিটির পরিচিতি, সুরেলা ডাক এবং দেশের প্রকৃতির সঙ্গে এর সহজাত সম্পর্ক একে বিশেষভাবে স্বতন্ত্র করেছে। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর—বিভিন্ন পরিবেশে দোয়েলের উপস্থিতিও এর পরিচিতি বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।

কালো-সাদা রূপ, সুরেলা ডাক
দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis। ছোট আকৃতির এই পাখির পুরুষটির শরীরের ওপরের অংশ সাধারণত কালো এবং বুক ও পেট সাদা। স্ত্রী পাখির রং তুলনামূলক ধূসর। লম্বায় প্রায় ২০ সেন্টিমিটারের এই পাখিকে চেনা যায় এর স্বতন্ত্র রং, লেজের নড়াচড়া এবং সুরেলা ডাকের মাধ্যমে।

দোয়েলের অন্যতম আকর্ষণ তার কণ্ঠ। ভোরবেলায় এর ডাক বিশেষভাবে শোনা যায়। বিভিন্ন সুরে ডাকতে পারে পাখিটি; কখনো অন্য পাখির ডাকের অনুকরণও করে। বাংলার প্রকৃতি ও লোকজ জীবনে দোয়েলের এই সুরেলা উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।

প্রকৃতির বন্ধু দোয়েল
দোয়েল সাধারণত মাটিতে নেমে খাবার খোঁজে। পোকামাকড়, শুঁয়োপোকা ও অন্যান্য ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী এর খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাগান, উঠান কিংবা গাছপালার আশপাশে খাবার খুঁজতে দেখা যায় এই পাখিকে। ক্ষতিকর কিছু পোকামাকড় খাওয়ার মাধ্যমে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।

এ পাখি সাধারণত গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক কিংবা উপযুক্ত গোপন স্থানে বাসা বাঁধে। ডিম ও ছানার যত্নে মা-বাবা উভয় পাখিই ভূমিকা রাখে। প্রজননের সময় নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া দোয়েলের বংশবিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় পাখি হয়েও কি নিরাপদ দোয়েল?
জাতীয় পাখির মর্যাদা থাকলেও দোয়েলের আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস রক্ষা করা জরুরি। নগরায়ণের ফলে গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে গেলে পাখিটির খাবার খোঁজা এবং বাসা তৈরির উপযুক্ত স্থানও সীমিত হতে পারে। কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার পোকামাকড়ের প্রাপ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা পোকাভুক পাখিদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তবে দেশের সর্বত্র দোয়েলের সংখ্যা কমে গেছে বা এটি নিশ্চিতভাবে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য জরিপ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে পাখিটির উপস্থিতি কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও তা দিয়ে পুরো দেশের পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায় না।

দোয়েলকে রক্ষা করা কেন জরুরি?
জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি দেশের জীববৈচিত্র্যেরও অংশ। বাড়ির আশপাশে গাছপালা রাখা, পাখির বাসা নষ্ট না করা, অপ্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণে সচেতন হওয়া—এসব উদ্যোগ দোয়েলসহ অন্যান্য দেশীয় পাখির জন্য সহায়ক হতে পারে।

দোয়েলকে জাতীয় পাখি হিসেবে চেনা সহজ, কিন্তু এর অস্তিত্ব রক্ষার দায়িত্বও আমাদের। ভোরের সেই সুরেলা ডাক যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মও শুনতে পায়, সে জন্য প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: বার্ড ক্লাব বাংলাদেশ

কালের আলো/এসএ/জেএন

মক্কা-মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
মক্কা-মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অভিমুখে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। তবে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির একাধিক বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ঘিরে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেশটির বিভিন্ন স্থানে পড়ে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মক্কার বাইরে ওয়াদি মুঘামাস, জেদ্দার আল-নুঝা এলাকা, তাইফের ওয়াদি জালিল এবং রাবিগের একটি জনবসতিহীন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পর পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হওয়ায় এসব এলাকাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, সেগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য কী ছিল এবং প্রতিহত করার প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মক্কা মদিনাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি সামনে আসার পর তা সরাসরি অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ার কথা জানালেও হুতিরা পবিত্র নগরী দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের উৎস ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদির পশ্চিমাঞ্চলের চার প্রদেশে নিরাপত্তা সতর্কতা
ক্ষপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর প্রকাশের আগে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। এসব এলাকার মধ্যে মক্কা অঞ্চলও রয়েছে। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সতর্কতা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য বিপদের ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জারির বিষয়টি সাম্প্রতিক উত্তেজনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে দেশটির তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল স্থাপনা, একটি তেল পরিবহন পাইপলাইন এবং একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। তাই হুতিদের এসব দাবিকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলার দাবি সত্য হলে তা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের পুরোনো প্রেক্ষাপট
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, হুতিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সীমান্তপারের হামলা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তবে সেই যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনের সংঘাতের সব দিকের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ছাড়াও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, পাইপলাইন, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিকে ঘিরে হামলার দাবি সামনে আসায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে হামলার দাবির সত্যতা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা কতটা সচল রয়েছে তার ওপর। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, মক্কা ও মদিনা অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সৌদি দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার বিষয়ে হুতিদের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হলেও ঘটনার সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন তথ্য, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

পানি পানের জন্য প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে তামা কিংবা স্টিলের বোতল বেছে নিচ্ছেন অনেকে। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শরীরচর্চার সময়ও বাড়ছে এসব বোতলের ব্যবহার। তবে প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী—তামা, নাকি স্টিল?

তামার পাত্রে পানি রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। আয়ুর্বেদে তামার পাত্রে রাখা পানিকে ‘তাম্রজল’ বলা হয়। অন্যদিকে, স্টেইনলেস স্টিলের বোতল টেকসই, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ জনপ্রিয়। তবে স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবি আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তথ্য এক নয়। তাই বোতল বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি।

তামার বোতলে পানি রাখার সুবিধা ও সতর্কতা
তামা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। শরীরে আয়রন ব্যবহারে সহায়তা, শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তামার বোতলে পানি রাখলেই শরীরের প্রয়োজনীয় তামার ঘাটতি পূরণ হবে কিংবা বাড়তি স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যাবে।

তামার কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তামার সংস্পর্শে কিছু জীবাণুর সংখ্যা কমতে পারে। তবে তামার বোতলে পানি রাখলেই তা সব ধরনের জীবাণুমুক্ত বা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। নিরাপদ পানির বিকল্প হিসেবে তামার বোতলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতাও প্রয়োজন। বেশি পরিমাণ তামা শরীরে প্রবেশ করলে বমি, বমিভাব ও পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত গ্রহণে লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের শরীরে তামা বিপাকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তামার পাত্রে রাখা পানি নিয়মিত পান করা উচিত নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তামার পাত্রে লেবুর রস বা অন্য অম্লীয় পানীয় রাখা এড়িয়ে চলতে হবে। অম্লীয় পদার্থের সংস্পর্শে তামা বেশি পরিমাণে পানীয়তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্টিলের বোতল কেন জনপ্রিয়?
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল একটি ব্যবহারিক পছন্দ। সাধারণত ভালো মানের স্টিল পানির সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না এবং পানির স্বাদও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে না। এ ধরনের বোতল টেকসই, সহজে বহনযোগ্য এবং পরিষ্কার করাও তুলনামূলক সহজ।

ডাবল-ওয়াল বা ইনসুলেটেড স্টিলের বোতল পানি দীর্ঘ সময় গরম কিংবা ঠান্ডা রাখতে পারে। তবে কতক্ষণ তাপমাত্রা ধরে রাখবে, তা বোতলের নকশা ও মানের ওপর নির্ভর করে।

বোতল কেনার সময় খাদ্যপণ্য ব্যবহারের উপযোগী স্টেইনলেস স্টিল বেছে নেওয়া ভালো। নিয়মিত বোতলের ভেতর ও ঢাকনা পরিষ্কার করতে হবে। ভেতরে দাগ, ক্ষয় বা মরিচার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বোতলটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলুন।

তাহলে কোন বোতল বেছে নেবেন?
প্রতিদিনের পানি পানের জন্য অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সুবিধাজনক পছন্দ। এতে পানি বহন করা সহজ, রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক ঝামেলাহীন। অন্যদিকে, তামার বোতল ব্যবহার করতে চাইলে এর স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি বিশ্বাস না করে নিরাপদ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

মনে রাখতে হবে, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তামা বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করলেই হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ত্বক ও চুলের উন্নতি হবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই বোতল নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত দাবির চেয়ে নিরাপত্তা, মান ও পরিচ্ছন্নতাকে বেশি গুরুত্ব দিন। সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ

কালের আলো/এসএ/জেএন