খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২২ আইনজীবী নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২২ আইনজীবী নিয়োগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মামলা পরিচালনার জন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়োগে মোট ২২ জন আইনজীবী নেওয়া হবে। নারী-পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদন করতে পারবেন।

চুক্তিভিত্তিক এ পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ৬০ বছর। তবে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

পদের বিবরণ

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেলওয়ে
পদের নাম: আইনজীবী
পদসংখ্যা: ২২ জন
চাকরির ধরন: সরকারি, চুক্তিভিত্তিক
প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ
কর্মস্থল: যেকোনো স্থান
বেতন ও ভাতা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

বয়সসীমা

৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৬০ বছর হতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমা শিথিল করা যেতে পারে।

বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

যেভাবে আবেদন

আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ঠিকানা:
অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো)
বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং আহ্বায়ক
প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ কমিটি
রেলভবন, কক্ষ নম্বর ৪০১, ঢাকা।

আবেদনপত্র পাঠানোর সময় খামের ওপর অবশ্যই পদের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পাঠানো এবং অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন শুরু: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের শেষ সময়: ৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২টা।

বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য শর্ত জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

সূত্র: বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

কালের আলো/এসএ

বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ, নতুন প্রযুক্তি স্পেনের গবেষকদের

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ, নতুন প্রযুক্তি স্পেনের গবেষকদের

সূর্যের আলো ও বাতাসের পাশাপাশি এবার বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্পেনের গবেষকেরা এমন একটি স্বচ্ছ আবরণ তৈরি করেছেন, যা সোলার প্যানেলের ওপর প্রয়োগ করলে বৃষ্টির পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি করতে পারে।

সেভিলের একটি গবেষণাগারে তৈরি করা এই বিশেষ আবরণটির পুরুত্ব মাত্র প্রায় ১০০ ন্যানোমিটার। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আবরণের ওপর দিয়ে একটি পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ ভোল্টের পিক ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে।

পানির ফোঁটা থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ?

এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো ট্রাইবোইলেকট্রিক প্রভাব। দুটি ভিন্ন পদার্থ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে আবার আলাদা হলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের আদান-প্রদান ঘটে। একইভাবে, পানির ফোঁটা ফ্লোরিনযুক্ত বিশেষ পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার সময় পানি ও আবরণের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের পার্থক্য তৈরি হয়।

এই চার্জকে উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে সংগ্রহ করলে কারেন্ট প্রবাহিত করা সম্ভব। তবে শুধু প্যানেলের ওপর পানি জমে থাকলেই বিদ্যুৎ তৈরি হবে না; পানির ফোঁটাকে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে বা সরে যেতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বৃষ্টির শক্তি

গবেষকদের তৈরি আবরণটি ৯০ শতাংশের বেশি স্বচ্ছ। ফলে এটি সোলার প্যানেলে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বড় বাধা সৃষ্টি করে না। অর্থাৎ বৃষ্টি না থাকলে প্যানেল স্বাভাবিকভাবেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আর বৃষ্টির সময় পানির ফোঁটার চলাচল থেকে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক শক্তি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।

পেরোভস্কাইট সোলার সেলের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এই ধরনের সেল তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব এবং উচ্চ শক্তি-রূপান্তর দক্ষতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীলতা পেরোভস্কাইট সেলের বড় সমস্যা। নতুন আবরণটি একই সঙ্গে সেলকে পানি ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা দিতে এবং বৃষ্টির ফোঁটা থেকে চার্জ সংগ্রহ করতে পারে।

এখনো গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ

তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে। বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবরণটির স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি।

এ ছাড়া একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বৃষ্টির ফোঁটা থেকে উৎপন্ন মোট শক্তির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই প্রযুক্তি দিয়ে একটি বাড়ির সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব হবে না। তবে কম বিদ্যুৎপ্রয়োজনীয় ওয়্যারলেস সেন্সর, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, হাইওয়ে সাইনেজ বা ছোট আলো চালানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এটি কাজে লাগতে পারে।

অর্থাৎ, প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের বিকল্প তৈরি করাই এই প্রযুক্তির লক্ষ্য নয়। বরং একই সোলার প্যানেলকে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি—দুই প্রাকৃতিক উৎস থেকেই শক্তি সংগ্রহে সক্ষম করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে বোঝা যাবে, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে কতটা কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, আগামী সোমবার ওমানের সালালাহ শহরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ইরান, ওমান, ইরাকসহ পারস্য উপসাগরের অন্যান্য তীরবর্তী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে ওমান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, বৈঠকের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করা।

হরমুজ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের হুমকিও দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, দেশটির ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে।

লোহিত সাগরেও নতুন করে উত্তেজনা

এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৮ ঘণ্টার সামরিক অভিযানে লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি এলাকা দখল করেছে হুথিরা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা থেকে সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পর হুথিরা দক্ষিণ দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়। পরে তারা ধুবাব ও মুরাদ দখল করে নেয়। মুরাদ ছিল লোহিত সাগর উপকূলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শহর।

স্থল অভিযানের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও তৎপরতা চালিয়েছে হুথিদের বাহিনী। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে প্রবেশ করে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর জুকার দ্বীপের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে প্রতিপক্ষ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়ছে তেলের দাম

হরমুজের পর বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/এসএ

মঁ ব্লাঁ ঘিরে ১৭০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করলেন বাংলাদেশি পার্থ

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
মঁ ব্লাঁ ঘিরে ১৭০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করলেন বাংলাদেশি পার্থ

আল্পস পর্বতমালার মঁ ব্লাঁকে ঘিরে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আলট্রাম্যারাথন আলট্রা-ট্রেইল দ্যু মঁ ব্লাঁ (UTMB) সফলভাবে শেষ করেছেন বাংলাদেশি দৌড়বিদ পার্থ সাহা। ফ্রান্সের শামোনি থেকে শুরু হয়ে ইতালি ও সুইজারল্যান্ড হয়ে আবার শামোনিতে শেষ হওয়া প্রায় ১৭০ কিলোমিটারের এই কঠিন দৌড় শেষ করতে তাঁর সময় লেগেছে ৪৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড।

২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতার শুরুতে আড়াই হাজারের বেশি দৌড়বিদের সঙ্গে অংশ নেন পার্থ। শুরু থেকেই ছিল বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঠান্ডা। এরপর দুই দিন দুই রাত ধরে পাহাড়ি পথ, অতি উচ্চতা ও কঠিন আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয় তাঁকে।

রেসের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর ভ্যালোরসিন চেকপয়েন্টের কয়েক কিলোমিটার আগে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন পার্থ। ঠান্ডা, জ্বর, ঘুম ও প্রচণ্ড ক্লান্তির কারণে পাহাড়ের ধারে বসে পড়েন তিনি। কিছু সময়ের জন্য বিভ্রমের মতো অবস্থাও তৈরি হয়। এমনকি দৌড়ের পোল ফেলে দিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে গিয়েছিলেন। পরে আবার ফিরে এসে বিশ্রাম নেন।

জ্ঞান ও মনোযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বুঝতে পারেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যালোরসিন পৌঁছাতে হবে। শেষ পর্যন্ত সময়সীমার মাত্র ছয় মিনিট আগে চেকপয়েন্টে পৌঁছান তিনি। সেখানে পানি নিয়ে আবার পরের গন্তব্যের দিকে ছুটতে শুরু করেন।

শেষ দিকেও সহজ ছিল না পরিস্থিতি। একটি চেকপয়েন্টে গিয়ে মাথা ঘুরতে থাকলে চিকিৎসাসহায়তা নেন পার্থ। পরীক্ষা করে তাঁর রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। কিছু খাবার খাওয়ার পর ফের দৌড় শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ফিরে এলে এগিয়ে যান ফিনিশ লাইনের দিকে।

ফিনিশ লাইনের কাছে পৌঁছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে তুলে নেন পার্থ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মনের মধ্যে বেজে উঠেছিল ‘আমার সোনার বাংলা’। ৪৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড পর শামোনির ফিনিশ লাইনে পৌঁছে পূর্ণ হয় তাঁর দীর্ঘ অভিযাত্রা।

মিরপুর থেকে মঁ ব্লাঁ

পার্থের আলট্রাম্যারাথনের যাত্রা শুরু হয় মিরপুর থেকে। কলেজে পড়ার সময় সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে খেলাধুলায় আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। ২০১৮ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পে চাকরি করতেন। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি।

পরে ভারতের লাদাখ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ম্যারাথনের জগতে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে আলট্রাম্যারাথনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। লাদাখ সিল্ক রুট আলট্রা, খারদুংলা লা চ্যালেঞ্জ, দার্জিলিংয়ের বুদ্ধা ট্রেইল আলট্রাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

UTMB-এর যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০২৪ সাল থেকে নেপাল, থাইল্যান্ড ও জাপানের বিভিন্ন দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়েও অংশ নেন। এরপর লটারির মাধ্যমে UTMB ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

তবে ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পথেও ছিল নানা বাধা। অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রথমবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। দ্বিতীয়বার আবেদন করে শেষ পর্যন্ত ভিসা পান পার্থ। দৌড় শুরুর মাত্র ৬০ ঘণ্টা আগে মঁ ব্লাঁ ভিলেজে পৌঁছানোর কারণে আবহাওয়া ও উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।

বর্তমানে পার্থ সাহা স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন। নিজের সীমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরাই তাঁর এই অভিযানের অন্যতম বড় অর্জন।

কালের আলো/এসএ