খুঁজুন
                               
, ,
           

সোলো ট্রাভেলে নারীদের নিরাপত্তায় যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
সোলো ট্রাভেলে নারীদের নিরাপত্তায় যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে নারী ভ্রমণকারীদের মধ্যে সোলো ট্রাভেল বা একা ভ্রমণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কেউ একাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরছেন, আবার কেউ কয়েকজন বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট, সোলো ট্রাভেল ভ্লগ ও বিভিন্ন ট্রাভেল কমিউনিটিও এই প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করছে।

তবে একা ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কোনো গন্তব্যে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি ও সতর্কতা ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।

যাত্রার আগে প্রস্তুতি

গন্তব্য সম্পর্কে জানুন:
যে এলাকায় যাচ্ছেন, সেখানকার সংস্কৃতি, পোশাক, সামাজিক রীতি ও স্থানীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিন। বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপ ও কমিউনিটিতে সাম্প্রতিক ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাও দেখে নিতে পারেন।

থাকার জায়গা যাচাই করুন:
হোটেল বা হোস্টেল বুক করার আগে রিভিউ ভালোভাবে পড়ুন। বিশেষ করে নারী ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা খুঁজে দেখা কাজে দিতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবস্থান ও ২৪ ঘণ্টা রিসেপশন আছে কি না—এসবও নিশ্চিত করুন।

ভ্রমণসূচি বিশ্বস্ত কাউকে জানান:
পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে ভ্রমণসূচি, হোটেলের ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর শেয়ার করে রাখুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে যোগাযোগ করার অভ্যাস থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বিষয়টি বোঝা সম্ভব।

যাত্রাপথে সতর্কতা

দিনের আলো থাকতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। অপরিচিত জায়গায় গভীর রাতে পৌঁছানো এড়িয়ে চলাই ভালো। বাস বা ফ্লাইটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।

পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবহার করুন। অপরিচিত শহরে রাইড-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করলে সাধারণত চালকের পরিচয় ও ট্রিপের তথ্য পাওয়া যায়। রাস্তা থেকে অপরিচিত ব্যক্তির প্রস্তাবে কোনো যানবাহনে ওঠা এড়িয়ে চলুন।

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আলাদা রাখুন। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসা, নগদ অর্থ ও ব্যাংক কার্ডের প্রয়োজনীয় কপি বা ডিজিটাল ছবি আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।

প্রযুক্তিকে কাজে লাগান

বিদেশ ভ্রমণে স্থানীয় সিম বা নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে রাখুন। পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ারিং চালু রাখা যেতে পারে।

এ ছাড়া যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার জরুরি সেবা, পুলিশ এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যোগাযোগ নম্বর আগে থেকেই ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কী করবেন?

একা ভ্রমণের সময় অপরিচিত মানুষের অনাহূত প্রশ্ন বা অতিরিক্ত মনোযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে—

  • আত্মবিশ্বাসী আচরণ করুন এবং প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলুন।
  • হোটেলের রুম নম্বর, একা ভ্রমণ করছেন কি না—এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কাউকে জানাবেন না।
  • অস্বস্তি বোধ করলে নির্জন জায়গা এড়িয়ে জনবহুল স্থানে চলে যান।
  • প্রয়োজন হলে কাছের দোকান, হোটেল, নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশের সাহায্য নিন।

সোলো ট্রাভেল কেন বাড়ছে?

নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্রবণতা এবং সোলো ট্রাভেলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটির কারণে নারী ভ্রমণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নারী ও সোলো পর্যটকদের জন্য বিশেষ কনটেন্ট, ট্যুর প্যাকেজ ও ভ্রমণসেবা তৈরি হচ্ছে।

সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সচেতনতা থাকলে একা ভ্রমণ শুধু আনন্দের অভিজ্ঞতাই নয়, নিজের আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোরও একটি দারুণ সুযোগ হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

স্বস্তি নেই বাজারে, চড়ামূল্যে কাটছে ভোক্তার পকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
স্বস্তি নেই বাজারে, চড়ামূল্যে কাটছে ভোক্তার পকেট

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান অস্বস্তি এখনও কাটেনি। বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। দুই সপ্তাহ আগেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে সব সবজির দাম ৮০ টাকার আশেপাশে রয়েছে। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি শসা ৬০ টাকায়, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, প্রতি কেজি ধন্দুল ৭০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, গাজর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকায়,  টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা মিশু সরদার বলেন, কাঁচামরিচের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমেছে। তবে অন্যান্য সবজির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।

বাজার করতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী সিয়াম মল্লা বলেন, সবজির যে পরিমাণের দাম উঠেছে। এতে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে, মসলার বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, আলু ৩০, রসুন ১৫০ ও আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৯০, সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৪০ টাকায়। মুরগি বিক্রেতা আরিফ বলেন, বাজারে সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। তাই মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, পণ্যের দাম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বন্যায় দেশের অনেক খামারি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

গরুর মাংস ৮৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়।

ডিমের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমেছে দাম। বর্তমানে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং লাল ডিম ১৪০ টাকা ডজন। ডিম বিক্রেতা বলেন, সরবরাহ বাড়ায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। সামনে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।

চালের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

ক্রিকেটারদের ঝামেলা থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল শ্রীলঙ্কান কোচের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটারদের ঝামেলা থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল শ্রীলঙ্কান কোচের

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে পরিচিত কোচ সুমিথ ফার্নান্দো খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি থামাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ৬২ বছর বয়সী এই কোচের হাতে বেড়ে উঠেছেন দেশটির উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসসহ অনেক তরুণ ক্রিকেটার।

গত ৮ আগস্ট কলম্বোর ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট অ্যান্ড অ্যাথলেটিক ক্লাবে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত ফার্নান্দোকে দ্রুত কলম্বোর ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, অনুশীলনরত একদল তরুণ ক্রিকেটার পানি নিতে গিয়ে দেখতে পান, ট্যাপে কোনো পানি নেই। এ নিয়ে খেলোয়াড় ও ক্লাবের কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্লাবের কিউরেটর ফার্নান্দো সেখানে গিয়ে বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, দুই খেলোয়াড়কে ঘিরে মারামারির সময় ফার্নান্দো আঘাত পান। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক স্কুল ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ওই ১৭ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে। পরে তাকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রবেশন ও শিশুকল্যাণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, ক্লাবের এক কর্মী ওই কিশোর ক্রিকেটারকে মারার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে কিশোরটি পাল্টা আঘাত করে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

ফার্নান্দো শুধু ক্লাব পর্যায়ের কোচই ছিলেন না, স্কুল ক্রিকেটেও দীর্ঘদিন মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর কাছেই ক্রিকেটের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছিলেন কুশল মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে তরুণ প্রতিভা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

খেলোয়াড়দের একটি সামান্য বিরোধ শেষ পর্যন্ত একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেট কোচের প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

কালের আলো/এসএ

জাপানে হঠাৎ ভারী বর্ষণ, বিমানবন্দরে আটকা হাজার হাজার যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
জাপানে হঠাৎ ভারী বর্ষণ, বিমানবন্দরে আটকা হাজার হাজার যাত্রী

জাপানের পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক ভারী বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাত হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে পড়া হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে টোকিওর পূর্বাঞ্চলীয় চিবা প্রিফেকচারে মুষলধারে বৃষ্টির পর ভূমিধসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। চিবা ও আশপাশের অঞ্চলের চার লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। চিবায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, যা ওই অঞ্চলে পুরো আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের সমান।

পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) প্রথমবারের মতো চিবা প্রিফেকচারের জন্য ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধস সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ‘লেভেল-৫’ সতর্কতা জারি করে।

টানা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় চিবায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইচিকাওয়া শহরের একটি সড়ক থেকে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাকুরা শহরে বন্যার পানিতে গাড়ি আটকে ৬৬ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। এ ছাড়া বানের জলে চালক বের হতে না পেরে পৃথক গাড়িতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি ছিল। আমি ক্যারিয়ারে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।’

প্রবল বৃষ্টির কারণে টোকিওর অন্যতম প্রধান যোগাযোগকেন্দ্র নারিতা বিমানবন্দরে রাত কাটাতে বাধ্য হন প্রায় ৭ হাজার আটকা পড়া যাত্রী। এ ছাড়া চিবা প্রাদেশিক প্রশাসনিক ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৭০০ জন।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, চিবায় সুয়ারেজ নিষ্কাশন লাইন উপচে তীব্র বেগে পানি বের হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাঁচতলা ভবনের সমান উঁচুতে উঠে যাচ্ছে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও বন্যা ও নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসএকে