খুঁজুন
                               
, ,
           

পর্যটনে সম্ভাবনা, সংকটে বাংলাদেশ

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
পর্যটনে সম্ভাবনা, সংকটে বাংলাদেশ

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান কিংবা বান্দরবানের মেঘ-পাহাড়—প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশের রয়েছে অনন্য সম্পদ। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী ও গ্রামীণ জনপদের বৈচিত্র্য মিলিয়ে পর্যটনের জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির।

তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এমন সমৃদ্ধ ভাণ্ডার থাকার পরও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে যেমন বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তেমনি নানা হয়রানি, অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে দেশের পর্যটকেরাও অনেক সময় বিদেশমুখী হচ্ছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ২০২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে নিচের দিকে। প্রতিবেশী অনেক দেশ যেখানে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, সেখানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে নগণ্য।

পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তি খরচের চাপ

দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন কিংবা বান্দরবানের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ছুটির মৌসুমে ভ্রমণ করতে পরিবহন, আবাসন ও খাবারের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা অনেক সময় বিদেশে ভ্রমণের খরচের কাছাকাছি চলে যায়।

পরিবহন ভাড়া, হোটেলের কক্ষের মূল্য এবং খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় পর্যায়ের অতিরিক্ত চার্জ ও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

ফলে অনেক পর্যটকের কাছে দেশের ভেতরে ভ্রমণের তুলনায় ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড কিংবা মালদ্বীপের মতো দেশে ভ্রমণকে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। এতে দেশের পর্যটন খাতে ব্যয় হওয়ার সম্ভাব্য অর্থের একটি অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

নিয়মের বেড়াজালেও পর্যটকের ভোগান্তি

কিছু পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা নিয়েও পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বান্দরবানের বগালেক কিংবা কেওক্রাডংয়ের মতো পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাকা সড়ক তৈরি হলেও বাধ্যতামূলকভাবে গাইড নেওয়ার নিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু গাইডের পারিশ্রমিক নয়, অনেক ক্ষেত্রে গাইড ও গাড়িচালকের থাকা-খাওয়ার খরচও পর্যটকদের বহন করতে হয়। ফলে ভ্রমণের মোট ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য কিছু নিয়ম প্রয়োজন হলেও পর্যটকদের অভিযোগ, এসব নিয়ম বাস্তবায়নের পদ্ধতি অনেক সময় ভ্রমণকারীদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করে।

নদীভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগেনি

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য নদ-নদী, চর ও জলাভূমি রয়েছে। নদীকে কেন্দ্র করে নৌভ্রমণ, পর্যটনকেন্দ্র ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে ঘিরে নতুন পর্যটন পণ্য তৈরির বড় সুযোগ রয়েছে।

তবে সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নদীদূষণ, দখল ও ভরাটের কারণে নদীভিত্তিক পর্যটনের সেই সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশের প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন গন্তব্য তৈরি করা সম্ভব।

নারীবান্ধব পর্যটন পরিবেশের ঘাটতি

দেশের পর্যটন খাতে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা। বিশেষ করে নারী ও পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ এখনো অনেক পর্যটনকেন্দ্রে নিশ্চিত করা যায়নি।

নিরাপত্তার অভাব, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকদের প্রতি অসচেতন আচরণের কারণে কক্সবাজার, সিলেটের মতো পরিচিত কয়েকটি গন্তব্যের বাইরে অনেক স্থান পরিবার ও নারী পর্যটকদের কাছে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে তাই শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ নয়, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার ঘাটতি

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা প্রচার ও ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংয়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বৈশ্বিক পর্যটন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণগুলোকে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরার জন্য সমন্বিত প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে।

বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পৌঁছানোর মতো সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও পর্যাপ্ত নয়।

ফলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বড় অংশের কাছে দেশটির পর্যটন সম্ভাবনা যথেষ্ট পরিচিত নয়।

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির প্রভাব

বিদেশি পর্যটকদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত নেতিবাচক খবর অনেক সময় বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতেও কোনো কোনো সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়। এসব বিষয় আন্তর্জাতিক পর্যটকের ভ্রমণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আবাসন ও খাবারের খরচ। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মানসম্মত হোটেল ও খাবারের মূল্য বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলনামূলক বেশি মনে হতে পারে।

নেই নির্দিষ্ট এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন

বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, বিনোদন ও বিশেষায়িত সেবার কথা বিবেচনা করে কক্সবাজারসহ দেশের বড় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন’ গড়ে ওঠেনি।

একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আবাসন, বিনোদন, খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন, নিরাপত্তা ও পর্যটনসেবা সমন্বিতভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হতে পারে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, খাবার, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে বিদেশি পর্যটকদের সামনে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরার ব্যবস্থাও বাড়ানো প্রয়োজন।

সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বড় পদক্ষেপের প্রয়োজন

বহু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকজ সংস্কৃতি, নদী, পাহাড়, সমুদ্র ও বন—সব মিলিয়ে পর্যটনের জন্য দেশের সম্পদের অভাব নেই।

তবে এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে শুধু পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত সেবা এবং কার্যকর প্রচারণা।

পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবহন ও আবাসন খাতে যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

একই সঙ্গে পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যটকদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নারী ও পরিবারবান্ধব পর্যটন পরিবেশ তৈরি, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিং জোরদার করাও জরুরি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এখন সেই সম্পদকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ দেওয়াই দেশের পর্যটন খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এসএ

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি