খুঁজুন
                               
, ,
           

শরতে ঘুরে আসুন বরিশালের নদী-খাল, বন আর সাগর

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
শরতে ঘুরে আসুন বরিশালের নদী-খাল, বন আর সাগর

সমুদ্র, নদী-নালা, খাল-বিল আর সবুজে ঘেরা বরিশাল অঞ্চল। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রকৃতির বৈচিত্র্যও এই দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষা শেষে শরতের সময়ে নদী ও সাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখার সুযোগও থাকে।

ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া সহজ হয়েছে পদ্মা সেতু চালুর পর। তবে নদীনির্ভর এই অঞ্চলের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে নৌপথের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে। রাতের লঞ্চে সদরঘাট থেকে রওনা হয়ে সকালে পৌঁছে শুরু করা যায় দিনের ভ্রমণ।

ছবি>সংগৃহীত

১. রাতের লঞ্চযাত্রা

বরিশাল ভ্রমণের শুরুটাই হতে পারে লঞ্চে। সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি কিংবা বরগুনার উদ্দেশে রওনা হওয়া যায়।

রাতভর নদীপথে চলার পর সকালে গন্তব্যে পৌঁছে শুরু করা যায় ঘোরাঘুরি। নদীঘেরা জনপদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি নৌযাত্রার আলাদা অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়।

ছবি>সংগৃহীত

২. সাতলার শাপলার বিল ও ভাসমান বাজার

শরৎ এলেই বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিল লাল শাপলায় ভরে ওঠে। বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। এক দিনের ভ্রমণেও ঘুরে আসা যায় সাতলা থেকে।

শুধু শাপলার বিল নয়, ঝালকাঠির ভিমরুলি এবং পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ও ভাসমান বাজারের জন্য পরিচিত। বর্ষায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বছরজুড়েই এসব এলাকায় ভাসমান বাজার বসে।

সরু খাল দিয়ে নৌকায় করে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এসে বাজারে বিক্রি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজার নয়, বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জলপথেই এমন ভাসমান বাজারের দেখা মেলে।

জলপথনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চাইলে এসব এলাকা হতে পারে ভ্রমণের আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ছবি>সংগৃহীত

৩. ইতিহাস-ঐতিহ্যের খোঁজে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বরিশাল শহর ও আশপাশে রয়েছে বহু পুরোনো স্থাপনা। শহরের অক্সফোর্ড মিশন এপিফ্যানি চার্চ ঔপনিবেশিক সময়ের স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।

এর বাইরে রয়েছে লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি, কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ ও মোগল ব্রিজ। ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া জমিদারবাড়ি, কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ি, নলছিটির সুজাবাদ কেল্লা, বেতাগীর বিবিচিনি মসজিদ এবং পিরোজপুরের রায়েরকাঠি জমিদারবাড়িও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।

এ ছাড়া বরিশালের দুর্গাসাগর, গজনীর দিঘিসহ বিভিন্ন পুরোনো দিঘি ও স্থাপনায় ছড়িয়ে আছে দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাসের নানা অধ্যায়।

ছবি>সংগৃহীত

৪. ভোলার দূর দ্বীপ ও চর

ভোলা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলজুড়ে রয়েছে অসংখ্য চর ও ছোট-বড় দ্বীপ। মনপুরা ও রাঙ্গাবালির মতো পরিচিত এলাকার বাইরেও অনেক জায়গায় এখনো জনবসতি তুলনামূলক কম।

বর্ষা শেষে সাগর ও নদী কিছুটা শান্ত থাকায় এ সময় এসব চর ও দ্বীপ ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে। ঢাকা থেকে লঞ্চে ভোলা বা পটুয়াখালী গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় নৌযানে চরফ্যাশন, রাঙ্গাবালি, চর মন্তাজসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া যায়।

চর কুকরি-মুকরি, চর মন্তাজ, ঢালচর ও মনপুরায় থাকার কিছু ব্যবস্থাও রয়েছে। যেখানে থাকার ব্যবস্থা নেই, সেখানে দলবদ্ধভাবে তাঁবু নিয়ে ক্যাম্পিংয়ের পরিকল্পনা করা যায়। তবে চর ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া, নৌযান ও থাকার সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

ছবি>সংগৃহীত

৫. বরগুনার বন

দক্ষিণাঞ্চলে শুধু সুন্দরবনই নয়, রয়েছে আরও বেশ কিছু উপকূলীয় বন। বরগুনার তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত টেংরাগিরি বা ফাতরার বন এর অন্যতম।

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এই শ্বাসমূলীয় বন একসময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। বরগুনার পাথরঘাটায় রয়েছে হরিণঘাটা সংরক্ষিত বন। এ ছাড়া ভোলার চর কুকরি-মুকরিসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা মেলে উপকূলীয় বনাঞ্চলের।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ঘোরার পাশাপাশি নির্দিষ্ট জায়গায় ক্যাম্পিংয়ের সুযোগও রয়েছে।

ছবি>সংগৃহীত

৬. সমুদ্র দেখতে কুয়াকাটা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পরিচিত সমুদ্রসৈকত। এই সৈকতের বিশেষ আকর্ষণ হলো একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ।

তবে সমুদ্র দেখার জন্য দক্ষিণাঞ্চলে শুধু কুয়াকাটার ওপর নির্ভর করতে হবে না। বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত, পাথরঘাটার লালদিয়া সমুদ্রসৈকত এবং ভোলার চরফ্যাশনের তারুয়া সমুদ্রসৈকতেও যেতে পারেন।

তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এসব সৈকতও ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ছবি>সংগৃহীত

৭. উৎসব-মেলায় দক্ষিণাঞ্চল

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে আছে নানা স্থানীয় উৎসব ও মেলা। বছরের বিভিন্ন সময়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন।

ছবি>সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে মার্বেল মেলা। আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষও এতে অংশ নেন।

ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে এসব আয়োজনের সময়সূচি সম্পর্কে খোঁজ নিলে ভ্রমণের সঙ্গে কোনো স্থানীয় উৎসব বা মেলার অভিজ্ঞতাও যোগ করা সম্ভব। এতে শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগও মিলবে।

প্রকৃতি, ইতিহাস, নদী আর সমুদ্র—সব মিলিয়ে বরিশাল অঞ্চল তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট মৌসুমের গন্তব্য নয়। বছরের বিভিন্ন সময়েই দক্ষিণাঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ উপভোগ করা যায়।

কালের আলো/এসএ

ডি-থ্রি ট্রফি: নিলাম শেষে কোন দল কতটা শক্তিশালী?

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ডি-থ্রি ট্রফি: নিলাম শেষে কোন দল কতটা শক্তিশালী?

নিলাম হয়েছে, উঠেছে ক্রিকেটারদের নাম, হয়েছে দরকষাকষিও—তবে কোথাও উচ্চারিত হয়নি টাকার অঙ্ক। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ডমেস্টিক থ্রি (ডি-থ্রি) ট্রফির খেলোয়াড় নিলাম ছিল এমনই ব্যতিক্রমী। এখানে ক্রিকেটারদের দলে নিতে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লড়েছে টাকার বদলে পয়েন্ট নিয়ে। নিলাম শেষে দল গঠনের হিসাবে ফরচুন ও সিটিজেনস ব্যাংককে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও পিছিয়ে নেই ওয়ালটন ও একমিও।

রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই নিলামে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ভারতের পরিচিত নিলাম সঞ্চালক চারু শর্মা। প্রচলিত ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামের আবহ থাকলেও এখানে খেলোয়াড় কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে কাল্পনিক পয়েন্ট। প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ কোটি পয়েন্ট।

১০ কোটি পয়েন্টে দল গড়ার চ্যালেঞ্জ
ডি-থ্রি ট্রফিতে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতির বদলে দল গঠনের জন্য পয়েন্টভিত্তিক নিলামের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খেলোয়াড়দের আয় হবে ম্যাচ ফি থেকে। এদিকে নিলামে প্রতিটি দলকে ২২ জন করে ক্রিকেটার নিতে হয়েছে। ছয়টি দলের জন্য মোট ১৩২ জন ক্রিকেটার নিলাম থেকে দল পেয়েছেন। এর বাইরে ছয়জন আইকন ক্রিকেটারকে আগেই দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

নিলামে ক্রিকেটারদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল। ‘এ’ শ্রেণির ভিত্তিমূল্য ছিল ৪০ লাখ পয়েন্ট, ‘বি’ শ্রেণির ৩০ লাখ, ‘সি’ শ্রেণির ২০ লাখ, ‘ডি’ শ্রেণির ১০ লাখ এবং ‘ই’ শ্রেণির ৫ লাখ পয়েন্ট। তবে ভিত্তিমূল্যের চেয়ে বেশি পয়েন্টে ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার প্রতিযোগিতা নিলামকে জমিয়ে তোলে।

শরীফুল, তাসকিন ও তানজিদকে নিয়ে লড়াই
নিলামের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে ছিলেন জাতীয় দলের পেসার শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ব্যাটার তানজিদ হাসান। সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে শরীফুলকে দলে নেয় সিটিজেনস ব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে তাসকিনকে নিয়েছে ওয়ালটন। আর ২ কোটি পয়েন্টে তানজিদকে দলে ভিড়িয়েছে ফরচুন।

এ ছাড়া ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্টে হাসান মাহমুদকে নিয়েছে ব্লুস্টার। একই পয়েন্টে সাইফ হাসানকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। নিলামের এই দরগুলো থেকেই বোঝা গেছে, কোন ক্রিকেটারকে ঘিরে দলগুলোর আগ্রহ কতটা বেশি।

কোন দলের স্কোয়াড কেমন?
ফরচুন গ্রুপ: আইকন ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে দলটিতে রয়েছেন রিশাদ হোসেন, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, তানজিদ হাসান, সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের মতো ক্রিকেটার। ব্যাটিং, স্পিন ও পেস—তিন বিভাগেই বিকল্প থাকায় দলটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।

ওয়ালটন গ্রুপ: মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে রয়েছেন মুমিনুল হক, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ ও নাহিদুল ইসলামের মতো ক্রিকেটার। অভিজ্ঞ ব্যাটার, অলরাউন্ডার ও পেসারদের সমন্বয়ে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

ব্লুস্টার: আইকন নুরুল হাসানের সঙ্গে দলটিতে আছেন শেখ মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন। বোলিং আক্রমণে গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করার মতো ক্রিকেটার থাকায় দলটি নজর কাড়তে পারে।

সেভেন রিংস সিমেন্ট: মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান ও শামীম হোসেনের মতো ক্রিকেটার রয়েছেন। অভিজ্ঞতা ও বোলিংয়ের বৈচিত্র্য দলটির বড় শক্তি হতে পারে।

একমি গ্রুপ: আইকন মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে রয়েছেন নাঈম হাসান, আলিস আল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ, পারভেজ হোসেন, শাহাদাত হোসেন ও রাকিবুল হাসানের মতো ক্রিকেটার। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের সমন্বয় দলটির পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিটিজেনস ব্যাংক: আইকন মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে রয়েছেন শরীফুল ইসলাম, সাইফ হাসান, জাকের আলি, হাসান মুরাদ ও ইয়াসির আলীর মতো ক্রিকেটার। নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্টে শরীফুলকে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিং ও বোলিংয়ে একাধিক বিকল্প পেয়েছে দলটি।

ম্যাচ ফির নতুন কাঠামো
ডি-থ্রি ট্রফিকে ঘিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের আয় বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে বিসিবি। ঘোষিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০ ওভারের ম্যাচে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইকন ক্রিকেটারসহ প্রতিটি দলে ২৩ জন থাকলেও বিসিবি স্কোয়াডের ১৫ জনের ম্যাচ ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। ১৫ জনের বেশি ক্রিকেটার রাখলে অতিরিক্ত সদস্যদের খরচ সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বহন করতে হবে।

দল পেয়েছেন কারা, বাদ পড়েছেন কারা?
নিলামে ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে তোলা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৩২ জন ছয়টি দলের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। আইকন হিসেবে আগেই দল পাওয়া ছয়জনকে যুক্ত করলে মোট ১৩৮ জন ক্রিকেটার দল পেয়েছেন।

অন্যদিকে, ‘ই’ শ্রেণির অনেক ক্রিকেটারই দল পাননি। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন নাসির হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, আশিকুর রহমান শিবলী, সোহাগ গাজী ও সালাউদ্দিন শাকিল।

সব মিলিয়ে ডি-থ্রি ট্রফির নিলাম শুধু ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার প্রতিযোগিতা ছিল না; বরং সীমিত পয়েন্টে কীভাবে কার্যকর স্কোয়াড গঠন করা যায়, সেটিও ছিল দলগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা। কাগজে-কলমে ফরচুন, সিটিজেনস ব্যাংক ও ওয়ালটনকে শক্তিশালী মনে হলেও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোন দল এগিয়ে থাকবে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

রিয়ালের জয়ের পর হাসির ইমোজিতে খোঁচা ভিনিসিয়ুসের

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রিয়ালের জয়ের পর হাসির ইমোজিতে খোঁচা ভিনিসিয়ুসের

এল ক্লাসিকোতে মাঠে ছিলেন না ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিষেধাজ্ঞার কারণে বাইরে থেকেই দেখতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার লড়াই। তবে মাঠে না থাকলেও আলোচনায় ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনটি হাসির ইমোজি পোস্ট করে প্রতিপক্ষ বার্সেলোনাকে খোঁচা দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ গোলে জয় পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে তিনটি হাসির ইমোজি প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস। তাঁর এই পোস্টের নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে ম্যাচের আগে বার্সেলোনাকে এগিয়ে রাখা ব্যক্তিদের উদ্দেশে এটি পরোক্ষ বিদ্রূপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞায় এল ক্লাসিকোর বাইরে ভিনিসিয়ুস
গত ১০ অক্টোবর ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনে ধরার ঘটনায় শাস্তি পান ভিনিসিয়ুস। ওই ঘটনার জেরে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। ফলে বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোতে মাঠে নামতে পারেননি তিনি।

তবে মাঠের বাইরে থেকেও দলের খেলার খবর রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে ম্যাচটি দেখেছেন তিনি। রিয়ালের জয়ের পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে তাই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

দলে ফিরেই কি জায়গা নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়বেন?
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরার পর ভিনিসিয়ুসের একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ান দিওমান্দের ভালো ফর্মের কারণে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে ভিনিসিয়ুসের দলে ফেরা এবং একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কোচের পরিকল্পনার ওপর।

জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ব্যবধান কমাল রিয়াল
বার্সেলোনার বিপক্ষে এই জয়ে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রিয়াল। দুই দলের মাঝে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।

এল ক্লাসিকোর জয় রিয়ালকে শিরোপার লড়াইয়ে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগালেও ভিনিসিয়ুসের ইমোজি পোস্টের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে শরিফুল, তাসকিন-তানজিদও কোটিপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে শরিফুল, তাসকিন-তানজিদও কোটিপতি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন টুর্নামেন্ট ডমেস্টিক থ্রি বা ‘ডি থ্রি ট্রফি’ ঘিরে শুরু হয়েছে দল গঠনের লড়াই। আসন্ন ডিসেম্বরের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার আগে অনুষ্ঠিত নিলামে সবচেয়ে বেশি পয়েন্টে বিক্রি হয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তাঁকে দলে নিতে সিটিজেন গ্রুপ খরচ করেছে ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্ট। দুই কোটির বেশি পয়েন্ট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিদ হাসানও।

নিলামে তাসকিন আহমেদের দাম উঠেছে ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্ট। তাঁকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। অন্যদিকে, ২ কোটি পয়েন্টে তানজিদ হাসানকে দলে ভিড়িয়েছে ফরচুন। এই তিন ক্রিকেটারই নিলামের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন।

শান্ত, লিটন ও হাসানের দামও কোটি পয়েন্টে
নিলামে জাতীয় দলের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য বড় অঙ্কের পয়েন্ট খরচ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ফরচুন ১ কোটি ৫৫ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে। একই দামে ওয়ালটনে খেলবেন লিটন কুমার দাস।

পেসার হাসান মাহমুদ ও ব্যাটার সাইফ হাসানের দাম উঠেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্ট করে। হাসান মাহমুদকে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার। অন্যদিকে, উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলি অনিককে দলে নিতে সিটিজেন খরচ করেছে ১ কোটি ৭০ লাখ পয়েন্ট। ডানহাতি পেসার খালেদ আহমেদের দাম উঠেছে দেড় কোটি পয়েন্ট। তিনি খেলবেন সেভেন রিংস সিমেন্টের হয়ে।

টাকা নয়, পয়েন্টে ক্রিকেটার কেনার লড়াই
সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নিলামে অর্থের অঙ্কই থাকে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে বিসিবির নতুন ডি থ্রি ট্রফিতে ক্রিকেটার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে পয়েন্ট। ফলে কোন দল কত পয়েন্ট খরচ করে পছন্দের ক্রিকেটারকে দলে নিতে পারে, তা নিয়েই চলছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর আয়োজন করা হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। নতুন এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দলগুলোর পরিকল্পনা ও ক্রিকেটার বাছাইয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ছয় দলে খেলবেন ২৮১ ক্রিকেটার
ডি থ্রি ট্রফিতে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল—অ্যাকমি, ফরচুন, ওয়ালটন, সেভেন রিংস সিমেন্ট, সিটিজেনস ব্যাংক ও ব্লুস্টার। নিলামের তালিকায় রয়েছেন মোট ২৮১ জন ক্রিকেটার। এর মধ্যে ২৭৫ জনকে নিলামের মাধ্যমে দলে নেওয়া হচ্ছে। বাকি ছয়জন আইকন ক্রিকেটার আগেই দল পেয়েছেন।

আইকন ক্রিকেটারদের মধ্যে নুরুল হাসান সোহান খেলবেন ব্লুস্টারে, তাওহীদ হৃদয় ফরচুনে, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অ্যাকমিতে, মোহাম্মদ নাঈম শেখ সিটিজেনস ব্যাংকে, মুশফিকুর রহিম সেভেন রিংস সিমেন্টে এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ালটনে।

নিলামে শরিফুল, তাসকিন ও তানজিদের বড় অঙ্কের পয়েন্টে দল পাওয়া নতুন টুর্নামেন্টের দল গঠনকে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা। এখন মাঠের লড়াইয়ে এই ক্রিকেটাররা নিজেদের দলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এএইচ/জেএন