সত্যিই রয়েছে ‘মুসাফির ক্যাফে’! কীভাবে যাবেন, কত খরচ জেনে নিন
নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’। গল্প ও অভিনয়ের পাশাপাশি সিরিজে দেখানো পাহাড়ঘেরা মনোরম ক্যাফেটিও নজর কেড়েছে দর্শকদের। সিরিজটি দেখার পর অনেকেই বাস্তবে সেই জায়গায় গিয়ে এক রাত কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। ফলে অনলাইনে বেড়েছে এর অবস্থান ও থাকার খরচ নিয়ে আগ্রহ।
তবে সিরিজে ‘মুসাফির ক্যাফে’ নামে দেখানো জায়গাটি আসলে কোনো ক্যাফে নয়। এটি ভারতের উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঝাড়িপানি ক্যাসেল, বর্তমানে যা একটি হেরিটেজ বুটিক হোমস্টে হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
দুন উপত্যকার পাশে পাহাড়ঘেরা পরিবেশ, কাঠ ও কাচের নান্দনিক স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে জায়গাটি আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। সিরিজে প্রদর্শনের পর সেটি পেয়েছে নতুন পরিচিতি।
ঝাড়িপানি ক্যাসেল নির্মিত হয় ১৯৩২ সালে। একসময় এটি ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে পাটিয়ালা রাজপরিবারের গ্রীষ্মকালীন আবাস হিসেবেও ভবনটির ব্যবহার ছিল।
বর্তমানে বহরি পরিবারের তত্ত্বাবধানে এটি বিলাসবহুল হোমস্টেতে রূপ নিয়েছে। পুরোনো স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার পাশাপাশি এখানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।
হোমস্টেটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের থাকার ব্যবস্থা। এর মধ্যে লগ হাট, ডিলাক্স লগ হাট, ভ্যালি ভিউ ডিলাক্স, স্যুট ও জাকুজি স্যুট উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে কাঠের তৈরি লগ হাটে থাকার অভিজ্ঞতা অনেকটা পাহাড়ি কটেজে থাকার মতো।
কক্ষের ধরন ও মৌসুম অনুযায়ী থাকার খরচ পরিবর্তিত হয়। সাধারণ কক্ষের ভাড়া প্রায় ৬ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। লগ হাটের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ডিলাক্স লগ হাটে এক রাতের জন্য খরচ হতে পারে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর ভ্যালি ভিউ ডিলাক্স কিংবা জাকুজি স্যুটের মতো প্রিমিয়াম কক্ষের ভাড়া ২০ থেকে ২৬ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। সপ্তাহান্ত ও পর্যটন মৌসুমে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ‘মুসাফির ক্যাফে’ নামে বাস্তবেও একটি ক্যাফে রয়েছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের বীর এলাকায়। ২০১৭ সালে গৌরব কুশওহা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেটফ্লিক্স সিরিজের শুটিং সেখানে হয়নি।
সিরিজে দেখা ক্যাফের অধিকাংশ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে মুসৌরির ঝাড়িপানি ক্যাসেলেই।
সিরিজ-সিনেমায় দেখা লোকেশন বাস্তবে ঘুরে দেখার প্রবণতাকে বলা হয় ‘সেট-জেটিং’। ‘মুসাফির ক্যাফে’ সেই প্রবণতার নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়, কুয়াশা, কাঠের কটেজ আর নিরিবিলি পরিবেশের টানে এখন দর্শকদের অনেকেই ছুটতে চাইছেন মুসৌরির এই ঐতিহাসিক হোমস্টের দিকে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array