খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন আর তরুণদের নানা সৃজনশীল ভাবনায় মুখর হয়ে উঠেছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

দেশীয় তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে বাজারের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেলায় ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পরিবেশবান্ধব ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন।

এরই মধ্যে এক তরুণ উদ্ভাবক চা বানানোর পর ফেলে দেওয়া চায়ের পাতা থেকে তৈরি করেছেন ‘চায়ের কয়লা’।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ। তরুণদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

নতুন উদ্ভাবন প্রসঙ্গে টিকোলের ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মশিয়ুর রহমান খান আসিফ বলেন, ‘আমি ফেলনা চা-পাতা বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শুকানোর মাধ্যমে কাঠকয়লার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে চা-পাতার কয়লা তৈরি করছি। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব ও গাছ রক্ষায় সহায়তা করবে, তেমনি চায়ের বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা উড চারকোল ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এর চমৎকার বিকল্প হতে পারে এই ‘টিকোল’ বা চা-পাতার কয়লা। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। তাই গাছ রক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। বারবিকিউ পার্টিতে উড চারকোলের পরিবর্তে চা-পাতার বর্জ্য থেকে তৈরি কয়লা ব্যবহার করলে তা বন সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিজ্ঞানের এই অভিনব ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ির সবজির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি অর্গানিক সার ছাদবাগানের গাছে ব্যবহার করলে গাছের বৃদ্ধি ৫০ শতাংশের বেশি হয় বলেও জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ই-জিপির কার্যপদ্ধতি, সুযোগ-সুবিধা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে রাজধানীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

  • দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
  • ই-জিপিতে দক্ষতা বাড়াতে বিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ
  • সক্ষমতা উন্নয়নে বিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের মহাসচিব ড. মো. হেলাল উদ্দিন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি ই-জিপির কারিগরি ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি ক্রয়ের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন থেকে দরপত্র—ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
র্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, দরপত্রের নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ই-জিপি কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কী এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এর কার্যকর ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়।

ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দাখিল এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-জিপির ভূমিকা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, সরকারি ক্রয়ে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।

সরকারি ক্রয়ে বাড়বে অংশগ্রহণ
বিসিআই সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবসায়ীদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিসিআইয়ের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাই ও প্রশিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার কারণে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা এবং ই-জিপির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-জিপির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আইন ও বিধিমালার জ্ঞানকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সরকারি ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিসিআই।

কালের আলো/এম/এএইচ

অপতথ্যের ভিড়ে সাংবাদিকতার বড় পরীক্ষা, দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ ও কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
অপতথ্যের ভিড়ে সাংবাদিকতার বড় পরীক্ষা, দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—সরকারের ভুল-ত্রুটি অবশ্যই তুলে ধরতে হবে, কিন্তু তা হতে হবে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে; অপপ্রচার বা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে নয়।

  • এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে তথ্য যাচাইয়ে দক্ষতার তাগিদ
  • সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরুন, তবে অপপ্রচার নয়

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধু সাংবাদিকদের হাতে একটি সনদ তুলে দেওয়া নয়; বরং তথ্য যাচাই, বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে তাদের দক্ষ করে তোলা। দেশে অপতথ্য যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী, ঝুঁকিও তত বড়কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার

অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নারীদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং মানুষের ছবি বিকৃত করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, সাংবাদিক না হয়েও অনেকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন। এতে সত্য সংবাদ, মতামত এবং পরিকল্পিত অপতথ্যের সীমারেখা সাধারণ মানুষের কাছে ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা সাংবাদিকতার মৌলিক দক্ষতার অংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি যাচাইহীন তথ্য যেমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তেমনি পরে সত্য প্রকাশ পেলেও সেই ভুল তথ্যের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন।

দেশজুড়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
প্রকৃত সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় কার্যক্রমটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের প্রশ্ন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের কথা বলবেন, সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন—এটাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কিন্তু সেই সমালোচনার ভিত্তি হতে হবে তথ্য ও সত্য। অপতথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারকে সাংবাদিকতার হাতিয়ার বানানো হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা।

রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে যে ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, সেদিকে গণমাধ্যমকে নজর রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়াতে চায় না। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেওয়ার মতো আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশকে আরও সুন্দর ও উন্নত জায়গায় নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

অপতথ্যের ভিড়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সাংবাদিকতার সামনে এখন একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে সুযোগ ও ঝুঁকি। একদিকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নতুন দরজা খুলছে, অন্যদিকে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও বেড়েছে। ফলে এই সময়ে সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়, তথ্য যাচাই, পেশাগত সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। সেই জায়গাটিকেই সামনে রেখে প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান—গণমাধ্যম স্বাধীন থাকবে, প্রশ্ন করবে, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে; কিন্তু সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে সত্য ও দায়িত্বশীলতা। কারণ অপতথ্যের ভিড়ে একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদই শেষ পর্যন্ত জনআস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

কালের আলো/এম/এএইচ