খুঁজুন
                               
, ,
           

মাত্র ২০ বছরেই বাংলা কবিতায় অমর সুকান্ত

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
মাত্র ২০ বছরেই বাংলা কবিতায় অমর সুকান্ত

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু কবি আছেন, যাঁদের জীবনকাল দীর্ঘ না হলেও তাঁদের সৃষ্টি সময়কে অতিক্রম করেছে। সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁদেরই একজন। মাত্র ২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেও ক্ষুধা, শোষণ, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, বৈষম্য ও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কবিতার শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় তাঁর মাতুলালয়ে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালীপাড়ায়। তাঁর বাবা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় বইয়ের ব্যবসা করতেন। ফলে জন্মস্থান ও পৈতৃক নিবাস নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়।

কলকাতাতেই তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে। কমলা বিদ্যামন্দিরের পর তিনি বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এরই মধ্যে ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়ায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনেরও সমাপ্তি ঘটে।

কৈশোর থেকেই সাহিত্যচর্চায় যুক্ত সুকান্ত পরবর্তী সময়ে মার্কসবাদী আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো সময়ের সংকট তাঁর লেখায় সরাসরি প্রতিফলিত হয়। ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। পরের বছর কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

তাঁর কবিতার কেন্দ্রে ছিল সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন। এই কারণেই তাঁর কবিতায় রোমান্টিকতার চেয়ে বাস্তবতা এবং প্রতিবাদের স্বর অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।

সুকান্তের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’, ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘অভিযান’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’ ও ‘গীতিগুচ্ছ’। এর মধ্যে ‘ছাড়পত্র’ তাঁর জীবদ্দশায় ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়; অন্য বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর মৃত্যুর পর।

তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সহজ, সরাসরি এবং তীক্ষ্ণ। ক্ষুধার্ত মানুষের বাস্তবতা বোঝাতে তাঁর বহুল উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তি—‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ / পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’—বাংলা কবিতায় এক অনন্য উপমা হয়ে আছে।

অল্প বয়সেই সুকান্ত যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর বয়স হয়েছিল ২০ বছর ৯ মাসেরও কম।

জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সাহিত্যকর্ম ছিল বিস্ময়করভাবে পরিণত। তাই সুকান্তকে শুধু ‘কিশোর কবি’ হিসেবে দেখলে তাঁর সাহিত্যিক গুরুত্বকে ছোট করে দেখা হয়। তিনি ছিলেন এমন এক কবি, যিনি নিজের সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে কবিতার ভাষায় ধারণ করেছিলেন।

সুকান্তের জন্মদিন ১৫ আগস্ট। তাই প্রতিবছর এই দিনে তাঁর জন্মস্মরণে ফিরে আসে সেই অকালপ্রয়াত কবির কথা—যিনি মাত্র দুই দশকের জীবনে বাংলা কবিতায় এমন এক স্বর তৈরি করেছিলেন, যা আজও ক্ষুধার্ত ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলে।

কালের আলো/এসএ

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে যেভাবে দেখেন তটিনী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে যেভাবে দেখেন তটিনী

ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। অভিনয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার পথে প্রায়ই তাঁকে শুনতে হয়, তিনি নাকি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর মতো। এমন তুলনা একদিকে যেমন ভালো লাগে, অন্যদিকে নিজের পরিচয় ও স্বতন্ত্রতা নিয়েও সচেতন তটিনী। তাঁর স্পষ্ট কথা, শিল্পাঙ্গনে কেউ কারও জায়গা নিতে পারেন না।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মেহজাবীনের সঙ্গে নিজের তুলনা প্রসঙ্গে কথা বলেন তটিনী। তিনি জানান, এমন মন্তব্যে অস্বস্তি বোধ করেন না। বরং গুণী একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাকে নিজের জন্য প্রাপ্তি হিসেবেই দেখেন। তবে মেহজাবীনের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করার কথা ভাবেন না তিনি।

তুলনা ভালো লাগলেও নিজের পরিচয়েই এগোতে চান
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনার বিষয়ে তটিনী বলেন, ‘অনেকেই বলেন—তুমি মেহজাবীনের মতো, মেহজাবীনের জায়গায় যাচ্ছ। আসলে কেউ কারও জায়গায় যেতে পারে না। আমি কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করব না, কারও জায়গায় ভাবাটাও ঠিক না। শিল্প অঙ্গনে এই তুলনা হয় না।’

মেহজাবীনকে বড় ও গুণী শিল্পী উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ‘তবে, তুলনা করলে ভালো লাগে। তার মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাও তো বড় পাওয়া।’

তটিনীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, অন্য একজন শিল্পীর সঙ্গে তুলনা তাঁর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়। বরং অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজ থেকে শেখার সুযোগ হিসেবেই দেখেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের জন্য মেহজাবীন উদাহরণ
তটিনীর মতে, মেহজাবীনের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, কাজের প্রতি সততা ও পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শুধু অভিনয় নয়, ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তটিনী বলেন, ‘আমাদের জেনারেশন বা পরের জেনারেশনের জন্য মেহজাবীন আপু একটা উদাহরণ। তার ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, তার পরিশ্রম, তার অনেক অভিজ্ঞতা, তার কাছ থেকে আমাদের সবার শেখা উচিত।’

শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিত্ব থেকেও শেখার আছে
অভিনয়জগতে প্রবেশের পর থেকেই মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ পেয়েছেন তটিনী। তবে সেই অনুসরণ কেবল অভিনয় কিংবা ক্যারিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মেহজাবীনের ব্যক্তিত্ব ও আচরণও ছিল সেই পরামর্শের অংশ।

তটিনী বলেন, ‘আমি যখন অভিনয়ে আসি, তখনই অনেকে আমাকে একটা কথাই বলেছিলেন, যদি কারও মতো হতে চাও, তাহলে মেহজাবীনকে ফলো করো। আর শুধু ক্যারিয়ার নয়, সে মানুষ হিসেবে কেমন, তার আচার-আচরণ সবই ফলো করার কথা বলতেন। কারণ, সিনিয়রদের কাছ থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।’

সব মিলিয়ে মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে ইতিবাচকভাবে নিলেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগী তটিনী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্যের সাফল্যকে প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়াই হতে পারে একজন শিল্পীর এগিয়ে যাওয়ার পথ।

কালের আলো/এমকেএম/জেএন

গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

অভিনয়ে যেমন সাবলীল, ফ্যাশনেও তেমনি স্বতন্ত্র জয়া আহসান। কখনো ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে, কখনো আধুনিক পশ্চিমা পোশাকে—নিজের রুচি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে ভক্তদের নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। এবার শ্যাম্পেন পিংক রঙের স্যাটিন ম্যাক্সি গাউনে ধরা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। আর সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি বাড়িয়েছে ভক্তদের কৌতূহল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন জয়া আহসান। গোলাপি ও বেইজের মিশেলে তৈরি স্যাটিন গাউনে তাঁর সাজে ছিল আধুনিকতার ছাপ। ছবিগুলো প্রকাশের পরই অভিনেত্রীর রূপ ও ফ্যাশন নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন ভক্তরা।

গোলাপি সাজে জয়ার নজরকাড়া উপস্থিতি
ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো প্রকাশ করে জয়া ক্যাপশনে লেখেন, ‘সেক্সি অ্যাজ পিংক’। অন্যদিকে, ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘প্রেমে পড়া বারণ’। আরেকটি ক্যাপশনে তাঁর মন্তব্য, ‘গোলাপির ছোঁয়া, ঝামেলার শেষ নেই।’

জয়ার এই ব্যতিক্রমী ক্যাপশন ও ফ্যাশনেবল উপস্থিতি অনুসারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাঁর সৌন্দর্য ও সাজের প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘ছবি যখন কথা বলে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘আপনি দিন দিন আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন।’

দুই বাংলার পর্দায় জয়ার ব্যস্ততা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন জয়া আহসান। দুই বাংলার সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে তাঁকে সবশেষ দেখা গেছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায়। এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার পরবর্তী অধ্যায়। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটিতে জয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এবার নতুন ভূমিকায়
অভিনয়ের পাশাপাশি এবার রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’র বিচারকের আসনেও দেখা যাবে জয়া আহসানকে। এর আগে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করলেও রান্নাবিষয়ক এই অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম বিচারক হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

একদিকে পর্দার কাজ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ—সব মিলিয়ে নানা কারণে আলোচনায় থাকছেন জয়া আহসান। এবার গোলাপি গাউনের সঙ্গে ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা মানুষের নানা প্রশ্ন—কোনোটিকেই নিজের জীবনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে দিতে চান না ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। বিয়ে করা কিংবা একা থাকা, দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি। নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট এই অভিনেত্রী এবার জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষকে পছন্দ তাঁর।

সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন সাফা কবির। সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও। অভিনেত্রীর মতে, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো করে জীবন সাজানোর স্বাধীনতা থাকা উচিত।

নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা
সাফা কবিরের সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পী ইতোমধ্যে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। কেউ কেউ সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সাফার বিয়ে নিয়ে প্রায়ই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তবে এসব সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে নিজের পছন্দ ও মানসিক স্বস্তিকে প্রাধান্য দিতে চান তিনি।

যেমন জীবনসঙ্গী চান অভিনেত্রী
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন সাফা কবির। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি। অর্থাৎ, তাঁর কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারও গুরুত্ব রয়েছে।

অভিনেত্রীর এই ভাবনার পাশাপাশি উঠে এসেছে বিয়ে নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, একজন মানুষ বিয়ে করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কাউকে অযথা প্রশ্নের মুখে ফেলা কিংবা সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তারকারাও চান ব্যক্তিগত পরিসর
সাফা কবির মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় এবং নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন। তাঁদের জীবন নিয়েও অন্যদের এই বাস্তবতা বোঝা জরুরি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা। তাঁর ভাষ্য, নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না তিনি। একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। কারণ, সেই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের পছন্দ, আত্মনির্ভরশীলতা ও মানসিক ভালো থাকাকে গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির। তাঁর মতে, জীবনের সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের মতো করে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন