খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ব্রিফিং

সাইবার বুলিং ঠেকাতে আইনজীবী প্যানেল, চলতি সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সাইবার বুলিং ঠেকাতে আইনজীবী প্যানেল, চলতি সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন

ঢাকা ডিসইনফরমেশন, মিসইনফরমেশন এবং বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং মোকাবিলায় আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করতে আইনজীবীদের একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি বাকি।

আগামী কয়েক দিন বা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্যের অপব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা সাইবার বুলিংয়ের শিকার করার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে নারীরা অনলাইনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

এ বাস্তবতায় তথ্য মন্ত্রণালয় একটি আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল, যার কাজ এখন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্যানেল গঠনের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে।

এখন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি বাকি। এটি হলে প্যানেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর হলেও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ডিসইনফরমেশন ছড়ান, ভুয়া ছবি-ভিডিও তৈরি করেন বা সাইবার বুলিং করেন, তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা। সরকার এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।

তিনি বলেন, প্যানেলটি শুধু সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়েই কাজ করবে না; বরং যেকোনো নাগরিক যদি ভুয়া তথ্য, অপপ্রচার বা সাইবার হয়রানির শিকার হন, তাদের সুরক্ষার বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনি প্রয়োজন হলে স্বপ্রণোদিত হয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমে সম্পাদনার একটি প্রক্রিয়া থাকে, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে ব্যবহারকারীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি বা প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, এখন শুধু শারীরিক নির্যাতনই সহিংসতা নয়; অনলাইনে অপমান, হেনস্তা ও সাইবার বুলিংও গুরুতর সহিংসতার শামিল। সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না।

আইনজীবী প্যানেলের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পর কারা প্যানেলে থাকবেন, কীভাবে কাজ করবেন এবং নাগরিকরা কীভাবে সেবা পাবেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তার আশা, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেপ খেলায় জাতীয় দলের ফুটবলাররা, সতর্ক করতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
খেপ খেলায় জাতীয় দলের ফুটবলাররা, সতর্ক করতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পান খেলোয়াড়েরা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তাঁরা পেশাদার চুক্তির অধীনে থাকেন। তবে সেই পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কয়েকজন জাতীয় দলের ফুটবলার স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নেওয়ায় উঠেছে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি শেখ মোরছালিন, ফয়সাল আহমেদ ও রাকিব হোসেনসহ জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকায় খেপ ম্যাচ খেলার বিষয়টি সামনে এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের এমন ম্যাচ খেলতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

গতকাল রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানান সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

আমিনুল হক বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সরকার ক্রীড়া ভাতা দিচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়েও তাঁরা পেশাদার চুক্তির অধীনে রয়েছেন। এমন অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় পর্যায়ের খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়া কতটা সমীচীন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে।’

খেপ খেলাকে খেলোয়াড়দের পেশাদার দায়িত্ববোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘দেশের প্রতি যে কমিটমেন্ট, যে তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব, সেটার কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’

তবে খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এখনই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে নন আমিনুল হক। প্রথম ধাপে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করতে চান তিনি।

বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। তবে আমি দ্রুতই তাঁর সঙ্গে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা। আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।’

জাতীয় দলের ফুটবলারদের খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো চোটের আশঙ্কা। স্থানীয় পর্যায়ের এসব ম্যাচে মাঠের অবস্থা, প্রতিপক্ষ ও খেলার পরিবেশ সব সময় পেশাদার ফুটবলের উপযোগী নাও হতে পারে। ফলে সামান্য চোটও জাতীয় দল কিংবা ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টি শুধু খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের ক্রীড়া ভাতা, ক্লাবের সঙ্গে পেশাদার চুক্তি এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তাঁদের মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পর খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের ফুটবলারদের বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬’পরিচালনা করা হবে। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এই শুমারি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত সমন্বয়কারীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানানো হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় এই শুমারি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমপি।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।

কর্ণফুলীর ভাঙনে বিলীনের পথে চন্দ্রঘোনার পাঁচ পাড়া, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

সমুদ্রবন্দরে ৩ ও নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এই শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার ও মালিকানার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে নৌ খাতের নীতিনির্ধারণ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই।

তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি দেখা দিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নৌপথের উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫

এসএসসি পরীক্ষায় টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৮৩২ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়।

রোববার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার নেমেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা বোর্ড থেকে প্রকাশিত গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরও এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানেই পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে ভালো ফলাফলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এবার এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলে টানা ১৭ বছর ধরে শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার বিরল সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ৪৪ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পায়। এ ছাড়া ২০১১ সালে ৪৩, ২০১২ সালে ৫১, ২০১৩ সালে ৪৭, ২০১৪ সালে ৫২, ২০১৫ সালে ৫৬, ২০১৬ সালে ৫৫, ২০১৭ সালের ৫১, ২০১৮ সালের ৫০, ২০১৯ সালের ৪৫, ২০২০ সালের ৪৬, ২০২১ সালে ৫১, ২০২২ সালের ৪৬, ২০২৩ সালের ৫১, ২০২৪ সালে ৪৮ এবং ২০২৫ সালের ৪৭ জনের সবাই জিপিএ-৫ পান।

মাঝে তিন বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এসএসসি পরীক্ষার ধরন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়। এরমধ্যে ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলেও এসএসসি পরীক্ষা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর ২০২১ সালে করোনার কারণে পূর্ণাঙ্গ এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ওই বছর শুধু তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হয়। অন্যান্য বিষয়ের ফলাফল নির্ধারণে আগের পরীক্ষার ফল ও বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২০২২ সালে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। এ সময়েও কলেজটি শতভাগ জিপিএ-৫ নিশ্চিত করে।

শিক্ষকদের ভাষায়, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নিয়মিত অধ্যয়ন, অভিজ্ঞ শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা, মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত করা হয়। এ কারণে এমন ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  এ কে এম আজিজুল হক জানান, ক্যাডেট কলেজগুলোতে শুধু লেখাপড়া নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং খেলাধুলা অনুশীলন করা হয়। এছাড়া সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘সারা দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এবার প্রথম সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণের আওতায় পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্যাডেটরা আরও ৮ বছর আগে থেকে এভাবে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা কেন্দ্রেও তাদের মধ্যে অনেকটা দূরত্ব রেখে বসানো হয়। একটা কক্ষে মাত্র ১২-১৪ জন থাকে। তাঁরা জানে, কেন্দ্রে গিয়ে কোনো এক্সট্রা অ্যাডভান্টেজ পাবে না। তাই তাঁরা সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়।’

কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় ক্যাডেট কলেজগুলো শিক্ষার্থদের শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে নৈতিক চরিত্রে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য তিনি কলেজের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি