খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতায় আগ্রহী এএসইউ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতায় আগ্রহী এএসইউ

সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এএসইউ) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এ সহযোগিতার আওতায় শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পখাত ও বিনিয়োগকে যুক্ত করে একটি কার্যকর প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ার ওপর গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ফোর সিজনস হোটেলে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এএসইউর প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৈঠকে বাংলাদেশে কার্যকর সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রকৌশল শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, শিল্পখাত এবং বিনিয়োগকে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাঠ্যক্রম ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা

সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোইলেকট্রনিক্স বিষয়ে আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের অংশীদারত্বের বিষয় উঠে আসে।

এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্টেম শিক্ষায় গুরুত্ব

বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্টেম শিক্ষা, শিক্ষক উন্নয়ন এবং উদীয়মান শিল্পখাতের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিক্ষা-গবেষণার সঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের সংযোগ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য এমন একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্প, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের সংযোগ থাকবে।

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

উচ্চশিক্ষার রূপান্তর নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে এএসইউর ইউনিভার্সিটি ডিজাইন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য এমওইউতে সেমিকন্ডাক্টর শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা, পাঠ্যক্রম ও শিক্ষক উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা এবং উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

উভয় পক্ষই এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ও এএসইউর মধ্যে ভবিষ্যতে আরও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

এক ছাদের নিচে দুই সংসার, মরিয়মের ভাগে কেন বেলকনি?

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
এক ছাদের নিচে দুই সংসার, মরিয়মের ভাগে কেন বেলকনি?

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়মের প্রতি অবহেলা, দাম্পত্য জীবনে বৈষম্য এবং মানসিক নির্যাতনের নানা তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্য এখন মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নজরুল কারাগারে
  • রিমান্ডে উঠে এসেছে দাম্পত্য বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের তথ্য
  • চিরকুট ঘিরেও বাড়ছে তদন্তের গুরুত্ব

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলেও নতুন করে রিমান্ড আবেদন না থাকায় শুনানি হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

একই ফ্ল্যাটে থেকেও আলাদা বাস্তবতা
তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে দেওয়া বক্তব্যে নজরুল ইসলামের দাম্পত্য জীবনের একটি বৈষম্যমূলক চিত্র সামনে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষে তিনি প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে থাকতেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে কখনো কখনো ওই শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে রাত কাটাতে হতো।

তদন্তে বলা হয়েছে, বিয়ের পর মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ দেওয়া হলেও স্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি। একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও দুই স্ত্রীর জীবনযাপনে এমন পার্থক্য মরিয়মের ওপর কী ধরনের মানসিক প্রভাব ফেলেছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

পরিচয় থেকে বিয়ে, এরপর সম্পর্কের টানাপোড়েন
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ছিলেন নজরুল ইসলামের ভাগনে। ঢাকায় এলে নজরুল তার বাসায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকেই সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এই সূত্রেই মরিয়মের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৬ জুন নজরুল ইসলাম মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন। পরে ওই তারিখ দেখিয়ে বিয়ে নিবন্ধন ও কাবিননামা সম্পন্ন করা হয়। তবে বিয়ের পর তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের কাঠামো পেয়েছিল কি না, তদন্তে সেই প্রশ্নই ক্রমে সামনে এসেছে।

চিরকুটেও ছিল অভিযোগের ছাপ
গত ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সিআইডির সহায়তায় তা ভেঙে প্রবেশ করা হয়। পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি চিরকুটও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিরকুটে মরিয়মের প্রতি অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগের আইনগত দায় নির্ধারণে চিরকুট, সাক্ষ্য, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের পারস্পরিক সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আদালতের পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণই হবে মূল বিষয়
ঘটনার পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।

মামলায় এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ হবে
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, চিরকুট, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখা। রিমান্ডে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে—এটি তদন্তের একটি অংশ; আদালতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য সেই তথ্যের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর করার প্রস্তাবে সরকারের সমর্থন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর করার প্রস্তাবে সরকারের সমর্থন

প্রধানমন্ত্রী পদে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করার প্রস্তাবের পক্ষে সরকারের অবস্থান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, গত রোববার ও মঙ্গলবার দুই দিন ধরে গণমাধ্যমের সম্পাদক, টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে কমিটি। এসব আলোচনায় সংবিধান সংশোধন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেকে এটিকে অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মত দিয়েছেন। তবে স্বৈরতান্ত্রিকতা ঠেকাতে কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন—এমন প্রস্তাবের পক্ষে সরকার এখনো অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র। তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সে অনুযায়ী এগোতে চায়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনায় আসার আহ্বান জানান তিনি। ‘জুলাই সনদ’-এর কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমঝোতার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক শক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবে কমিটি।

সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিল পাসের মাধ্যমে সংবিধানে সংশোধনী আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মাধ্যমিকে ভর্তিতে থাকছে ১৩ শতাংশ কোটা

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিকে ভর্তিতে থাকছে ১৩ শতাংশ কোটা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কোটাধারীদের জন্য মোট ১৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালার খসড়ায় এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কোটা পূরণ না হলে ওই আসনগুলো মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করে পূরণ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ০.৫ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ০.৫ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

যমজ ও সহোদরদের জন্যও কোটা

যমজ ভাইবোনদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই বা বোন আগে থেকেই পড়াশোনা করলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে নতুন করে আবেদন করা যমজ ভাইবোনের ক্ষেত্রেও এ সুযোগ রাখা হবে।

এ ছাড়া সহোদরদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। আবেদনকারীর ভাই বা বোন আগে থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে অথবা নতুন করে আবেদন করলেও নির্ধারিত শর্তে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যও ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে আলাদা সুযোগ

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট আসনের ১০ শতাংশ এ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ে উল্লিখিত ১৩ শতাংশ কোটার বাইরে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে এ কোটা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

ঢাকার স্কুলে ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ

ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলসংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ক্যাচমেন্ট এলাকার অন্তর্ভুক্ত হলে ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যেকোনোটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

প্রথম থেকে পঞ্চমে লটারি, ষষ্ঠ থেকে নবমে পরীক্ষা

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লটারির মাধ্যমে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এখনো চূড়ান্ত হয়নি নীতিমালা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একাধিক বৈঠক করেছে। খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছেন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু কোটা রাখা হয়। গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে খসড়া নীতিমালায় এ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চূড়ান্ত নীতিমালা জারির পরই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন কোন প্রস্তাব কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ