খুঁজুন
                               
, ,
           

নীরবে ক্ষয়, হঠাৎ বিপদ: হৃদরোগের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
নীরবে ক্ষয়, হঠাৎ বিপদ: হৃদরোগের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

হৃদরোগের শুরুটা অনেক সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নয়, তার বহু বছর আগেই। অতিরিক্ত লবণ, ধূমপান, স্থির জীবনযাপন, বাড়তি ওজন কিংবা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ—প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে তৈরি করতে পারে বড় ঝুঁকি। কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে চলতে পারে ক্ষয়। একদিন সেটিই প্রকাশ পেতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো আকস্মিক ঘটনায়। বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা তাই শুধু চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; এটি জীবনযাপন, জনস্বাস্থ্যনীতি ও অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

  • উচ্চ রক্তচাপে অল্প বয়সেই তৈরি হচ্ছে হৃদরোগের ঝুঁকি
  • প্রতিরোধে পিছিয়ে জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা
  • তামাক, লবণ, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপে বাড়ছে বিপদ

বড় জনস্বাস্থ্য সংকট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার রোগে আনুমানিক ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই বছরে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার ছিল ৮০ দশমিক ২ এবং ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে ৫৮ দশমিক ৫।এই সংখ্যা শুধু হাসপাতালের একটি পরিসংখ্যান নয়। একজন কর্মক্ষম মানুষের অকালমৃত্যু মানে একটি পরিবারের আয় কমে যাওয়া, নির্ভরশীল সদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয়। ফলে হৃদরোগের অভিঘাত পৌঁছে যায় পরিবার থেকে জাতীয় অর্থনীতিতেও।

তরুণরা কি সত্যিই নিরাপদ?
হৃদরোগ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি সম্ভবত এখানেই—ঝুঁকির উপাদানগুলো আর কেবল প্রবীণদের জীবনে সীমাবদ্ধ নেই। ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে’র তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই বয়সের প্রতি আটজনের একজন হৃদরোগে আক্রান্ত। বিষয়টি হলো, হৃদরোগের ঝুঁকির ভিত্তি তৈরি হচ্ছে জীবনের অনেক আগেই। উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, তামাক, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বছরের পর বছর চলতে থাকলে পরবর্তী জীবনে তার সম্মিলিত প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।অর্থাৎ বয়সের সীমা ভাঙার চেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—ঝুঁকি জমছে বয়স হওয়ার আগেই।

সবচেয়ে নীরব বিপদ উচ্চ রক্তচাপ
হৃদরোগের ঝুঁকির তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দীর্ঘ সময় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই শরীরে ক্ষতি করতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, কিডনি ও রক্তনালিও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে আক্রান্ত হতে পারে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ হাইপারটেনশন প্রোফাইল অনুযায়ী, দেশে হৃদ্‌রক্তনালিজনিত রোগে মৃত্যুর আনুমানিক ৫২ শতাংশের সঙ্গে উচ্চ সিস্টোলিক রক্তচাপের সম্পর্ক ছিল। অথচ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার মাত্র ১৬ শতাংশ। এখানেই বড় ঘাটতিটি স্পষ্ট হয়। সমস্যা শুধু মানুষ জানে না যে তার রক্তচাপ বেড়েছে—তা নয়; শনাক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিরোধযোগ্য একটি ঝুঁকি ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

বদলে যাওয়া জীবনযাপন, বাড়ছে ঝুঁকি
শহুরে জীবনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, হাঁটাচলা কমে যাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব এখন স্বাভাবিক বাস্তবতার অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ, চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, তামাক এবং বাড়তি ওজন।২৫ বছর ও তার বেশি বয়সিদের দৈনিক গড় লবণ গ্রহণ প্রায় ৯ গ্রাম—এমন তথ্যও উঠে এসেছে। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, আর দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।অন্যদিকে তামাকের প্রভাব আরও বিস্তৃত। তামাক শুধু হৃদরোগ নয়, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগেরও বড় ঝুঁকিকারক। এর সঙ্গে বায়ুদূষণ যুক্ত হওয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশগত চাপও বাড়ছে।

হৃদরোগের লড়াই হাসপাতালের আগেই
হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত চিকিৎসা, দক্ষ চিকিৎসক, আধুনিক প্রযুক্তি ও হাসপাতালের সক্ষমতা জীবন বাঁচাতে পারে। কিন্তু জনসংখ্যার সামগ্রিক হৃদরোগের বোঝা কমাতে শুধু হাসপাতাল বাড়ানো যথেষ্ট নয়। কারণ রোগের অনেক ঝুঁকি তৈরি হয় হাসপাতালের বাইরে—বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, খাদ্যাভ্যাসে এবং শহরের জীবনযাপনে। তাই প্রতিরোধের কৌশলও হতে হবে বহুমুখী। নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা; তামাক বর্জন; খাবারে লবণ কমানো; নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড; স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজি বাড়ানো—এসব পদক্ষেপ ব্যক্তিগত পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাও জরুরি।

এক রোগ, দুই ধরনের ক্ষতি
হৃদরোগে একজন মানুষ অসুস্থ হলে ক্ষতির হিসাব শুধু হাসপাতালের বিল দিয়ে করা যায় না। কর্মক্ষম বয়সে আক্রান্ত হলে আয় কমে যেতে পারে, কর্মদক্ষতা নষ্ট হতে পারে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর আর্থিক দায় বাড়তে পারে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের নিজস্ব পকেট থেকে আসে—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী। দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের চিকিৎসা তাই অনেক পরিবারের জন্য চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তাও তৈরি করতে পারে।

প্রতিরোধের জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
হৃদরোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসা অবকাঠামোর প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—মানুষ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, তামাকের ব্যবহার কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা, শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি, বায়ুদূষণ কমানো এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন—এসব উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না। এগুলোকে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য কৌশলের অংশ করতে হবে।

নীরব ঝুঁকি, বড় অর্থনৈতিক চাপ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, হৃদরোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই অনেকের শরীরে ঝুঁকি তৈরি হয়। রক্তনালির অন্তর্নিহিত রোগ দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে; কখনো হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকই হয়ে ওঠে এর প্রথম প্রকাশ। তাই নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও ওজন পরীক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়নের পাশাপাশি ধূমপান বর্জন, লবণ কমানো, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, ফল-সবজি বেশি খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

হৃদরোগের ক্ষতি শুধু প্রাণহানিতে সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে পরিবারেও তৈরি হয় আর্থিক চাপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশই মানুষ নিজ পকেট থেকে বহন করে। ফলে কর্মক্ষম একজন ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবারের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

চিকিৎসার আগে প্রতিরোধে নজর
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যু কমাতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকে জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারে আনতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ঝুঁকির উপাদান বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বাজেটে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) ও প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বলা হয়, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগের কারণে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকালে মারা যান।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মারুফ হক খান বলেন, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁর মতে, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা এখন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধারাবাহিক পরিচর্যার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যয়ের বড় অংশকে শুধু চিকিৎসানির্ভর না রেখে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায়ও গুরুত্ব দিতে হবে।

কালের আলো/আরআই/এমএইচ

হুট করেই বিয়ে নিয়ে কি বললেন কেয়া পায়েল?

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
হুট করেই বিয়ে নিয়ে কি বললেন কেয়া পায়েল?

গত ১৫ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ লিখে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। পোস্টটি দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, সত্যিই কি বিয়ের খবর জানালেন অভিনেত্রী? পরে জানা যায়, এটি ছিল তাঁর প্রথম ওয়েব ফিল্মের ঘোষণা। এবার সেই ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ মুক্তির আগে নিজের বিয়ে নিয়েও কথা বলেছেন কেয়া পায়েল।

জাহিদ প্রীতম পরিচালিত এবং চরকি প্রযোজিত ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের একটি ফিল্ম। ছবিয়াল এতে সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছে। চরকিতে আগামী ৭ অক্টোবর রাত ১২টায় মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্মটি।

মুক্তির ঘোষণা আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কেয়া পায়েলের সেই ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ পোস্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মজা করে জানতে চাইছেন, অভিনেত্রী কবে সত্যিকার অর্থে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হবেন।

বিয়ে নিয়ে যা বললেন কেয়া

বিয়ে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল এড়িয়ে যাননি কেয়া পায়েল। ওয়েব ফিল্মটির মুক্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি অবশ্যই বিয়ে করবেন। তবে কখন সেই সময় আসবে, তা তিনি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

কেয়া পায়েলের ভাষায়, তিনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন। যখন সময় হবে, তখনই বিয়ে হবে এবং সেই খবর সবাই জানতে পারবেন। তাঁর নিজেরই মনে হয়, বিয়েটা হয়তো হঠাৎ করেই হয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ আপাতত বিয়ের নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা জানাচ্ছেন না অভিনেত্রী। বরং নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান তিনি।

অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময়

বর্তমানে নাটক, বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন রানওয়েতে নিয়মিত কাজ করছেন কেয়া পায়েল। অক্টোবরের শুরুতেই দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর আগে হাতে থাকা প্রতিশ্রুত কাজগুলো শেষ করে যেতে চাইছেন তিনি।

অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রথম ওয়েব ফিল্মে ভিন্ন কেয়া

টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করলেও বড় পর্দা ও ওয়েব ফিল্মে কেয়া পায়েলকে দেখার আগ্রহ রয়েছে দর্শকদের। অনেক আগে থেকেই সিনেমা ও ওয়েব ফিল্মে কাজের প্রস্তাব পেয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এতদিন নিজের পছন্দ অনুযায়ী চরিত্র ও গল্প না পাওয়ায় সেসব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি অভিনেত্রী। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এমন একটি চরিত্র, যেখানে নিয়মিত নাটকের পরিচিত কেয়ার বাইরে দর্শক তাঁকে নতুনভাবে দেখতে পাবেন।

কেয়া বলেন, বাংলাদেশে ওয়েব ফিল্মের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু তিনি এমন গল্প ও চরিত্র খুঁজছিলেন, যেখানে তাঁকে আলাদা করে দেখা যাবে।

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সেই সুযোগটি তাঁকে দিয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এই ফিল্মে দর্শক তাঁকে ভিন্নভাবে দেখতে পারবেন।

আরিফিন শুভর সঙ্গে প্রথম কাজ

ওয়েব ফিল্মটিতে কেয়া পায়েলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। সহশিল্পী হিসেবেও শুভর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী।

কেয়া পায়েলের মতে, একজন নায়কের মধ্যে যে ধরনের পেশাদারত্ব, আন্তরিকতা ও সেটে উপস্থিতি দর্শক প্রত্যাশা করেন, আরিফিন শুভর মধ্যে সেসব গুণ রয়েছে।

শুভর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কেয়া বলেন, শুরুতে কিছুটা চিন্তা ছিল—তিনি সিনিয়র ও অভিজ্ঞ অভিনেতা হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে কেমন সমন্বয় হবে। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার পর সেই দূরত্ব অনুভব করেননি।

তাঁর ভাষায়, আরিফিন শুভ অত্যন্ত আন্তরিক, পেশাদার, শান্ত এবং সহযোগিতাপ্রবণ। তাঁর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে বলেও জানান কেয়া।

পরিচালকের প্রশংসা

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর পরিচালক জাহিদ প্রীতমেরও প্রশংসা করেছেন কেয়া পায়েল। তাঁর মতে, পরিচালক খুবই বিনয়ী এবং পুরো কাজের অভিজ্ঞতাই তাঁর জন্য ভালো ছিল।

অভিনেত্রী জানান, ফিল্মটির পুরো টিম তাঁকে সহযোগিতা করেছে। ফলে প্রথম ওয়েব ফিল্মের কাজটি তাঁর জন্য স্বস্তিদায়ক ও আনন্দের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

৭ অক্টোবর মুক্তি

‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ কেয়া পায়েলের প্রথম ওয়েব ফিল্ম। তাই কাজটি নিয়ে তাঁর প্রত্যাশাও বেশি। দর্শকদের উদ্দেশে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, গল্পটি তাঁর কাছে দারুণ লেগেছে এবং তাঁরা সবাই মিলে সুন্দরভাবে কাজটি করার চেষ্টা করেছেন।

আগামী ৭ অক্টোবর রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্মটি। এখন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় কেয়া পায়েল। তাঁর প্রত্যাশা, ভক্তরা কাজটি দেখবেন এবং নিজেদের মতামত জানাবেন। বিশেষ করে নিয়মিত নাটকের বাইরে এই ফিল্মে তাঁকে দর্শক কতটা ভিন্নভাবে গ্রহণ করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়া তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিবদমান দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে কমিশনকে।

সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালত জানিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা শেষ করতে হবে। এরপর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে দলীয় নাম ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। তৃণমূল কংগ্রেস জয় পায় ৮০টি আসনে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পৃথক দল গঠন করেন। অন্য অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর দলীয় নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ নিজেদের কাছে রাখার দাবি নিয়ে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়।

মূল নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’

দুই পক্ষের দাবি ও যুক্তি শোনার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ তৃণমূলের মূল নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করে দেয়।

একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।

‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আইএসএফের আপত্তি

তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়ার পর নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এই প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

এ কারণে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন আইএসএফ নেতা ও বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, ‘খাম’ প্রতীকটি আইএসএফের জন্য সংরক্ষিত রাখা উচিত।

সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে রায় ঘোষণা না করে রায় দেওয়া স্থগিত রেখেছেন।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে

সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশের পর তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তির দায়িত্ব এখন নির্বাচন কমিশনের ওপর আরও স্পষ্টভাবে বর্তেছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ করতে হবে কমিশনকে। এরপর তিন মাসের মধ্যে নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

অন্যদিকে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আইএসএফের মামলার রায়ও এখনো ঘোষণা হয়নি। ফলে তৃণমূলের দুই পক্ষের দলীয় পরিচয় ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি ‘খাম’ প্রতীক নিয়েও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকছে।

কালের আলো/এসএ

যুদ্ধ থামাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ থামাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। এবার আবারও যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান যে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তার একটি সংশোধিত রূপ নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। ওই প্রস্তাব অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন।

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় চালুর শর্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

আরাগচির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা যদি সত্যিই কোনো চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে থাকেন, তাহলে ইরান সেই সুযোগ ইতিমধ্যে তৈরি করেছে।

ইরানের প্রস্তাবে যেসব শর্ত

ইরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাতের অবসান, জব্দ করা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান রয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

এর আগে দুবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর কয়েক মাস ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে। এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাইরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে এবং বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল—একবার এপ্রিলে এবং আরেকবার জুনে। তবে উভয় উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়নি।

ট্রাম্পের ভিন্ন অবস্থান

ইরানের সর্বশেষ সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা গত শনিবার জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সে কারণেই দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।

তবে এর এক দিন পর রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসতে পারেন বলে তিনি আশা করছেন।

ফলে একদিকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানালেও অন্যদিকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা মধ্যস্থতাকারীরা এখনো তেহরানকে দেয়নি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

আরাগচি বলেন, ইরানের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ ওই শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছানোই বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ‘ভয়ংকর যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।

ইরান বলছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা যুদ্ধবিরতির দিকে কতটা এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

কালের আলো/এসএ