দুই বাংলার তারকাদের সঙ্গে ইধিকার একের পর এক কাজ
পশ্চিমবঙ্গের টেলিভিশন সিরিয়ালে অভিনয় দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ইধিকা পাল। ছোট পর্দায় পরিচিত মুখ হলেও তখনও বড় পরিসরে তাঁকে সেভাবে চিনতেন না দর্শক। তবে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খানের নায়িকা হয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর বদলে যায় সেই গল্প। হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’ সিনেমা যেন ইধিকার ক্যারিয়ারে খুলে দেয় নতুন এক দরজা।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি অভিনেত্রীকে। শাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় সিনেমা ‘বরবাদ’-এ অভিনয়ের পর তাঁর পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা ও কলকাতায়। একের পর এক বড় তারকা ও বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজের সুযোগ আসতে থাকে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি বড় নাম—টালিউড সুপারস্টার জিৎ।
এবার জিতের নায়িকা ইধিকা
শাকিব খান ও দেবের মতো তারকার সঙ্গে কাজ করার পর এবার জিতের বিপরীতে দেখা যেতে পারে ইধিকা পালকে। এসকে মুভিজের প্রযোজনায় নির্মিতব্য একটি সিনেমায় জিতের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার কথা রয়েছে তাঁর।
এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সংবাদমাধ্যম, including আনন্দবাজার ও সংবাদ প্রতিদিন, ইধিকার নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ করেছে।
ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ইধিকার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় যে বেশ বড় পরিসরের হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে টালিউডে।
শাকিবের সঙ্গে শুরু, এরপর দেব-যীশু
২০২৩ সালে ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে বড় পর্দায় আলোচনায় আসেন ইধিকা। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি দুই বাংলার দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।
এরপর ২০২৪ সালে মেহেদি হাসানের ‘বরবাদ’ সিনেমায় আবারও শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। পরপর দুই সিনেমায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় তারকার নায়িকা হওয়া ইধিকার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।
এরপর টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দেবের সঙ্গে অভিনয় করেন দুটি সিনেমায়—‘খাদান’ ও ‘রঘু ডাকাত’। শুধু দেবই নন, সোহমসহ পশ্চিমবঙ্গের আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকার সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি শেষ করেছেন নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ‘কুইন ভিক্টোরিয়া আর গোয়েন্দা কানাইচরণ’ সিনেমার শুটিং। এই ছবিতে প্রথমবার যীশু সেনগুপ্তর সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইধিকা।
অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানেই তাঁর কাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে শাকিব, দেব, যীশু ও এবার জিতের মতো বড় তারকার নাম।
অভিনয়ের ক্যারিয়ার নিয়ে পরিবার ছিল দ্বিধায়
ইধিকার এই সাফল্যের পথ অবশ্য শুরু থেকেই এতটা সহজ ছিল না। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিবারের শুরুতে পুরোপুরি সম্মতি ছিল না তাঁর।
সম্প্রতি ‘পডকাস্ট উইথ অরিজিৎ চক্রবর্তী’তে নিজের ক্যারিয়ার শুরুর গল্প বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, তাঁর বাবা টালিউডের জুনিয়র টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। ফলে চলচ্চিত্র জগতের অনিশ্চয়তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
সেই কারণেই মেয়ের অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বাবা ছিলেন চিন্তিত। বরং তিনি চেয়েছিলেন, মেয়ে নয়টা-পাঁচটার একটি স্থায়ী চাকরি করুক।
তবে নিজের স্বপ্নের ব্যাপারে ইধিকা ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাবার কাছে এক বছর সময় চেয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ওই সময়ের মধ্যে যদি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারেন, তাহলে অন্য পেশার কথা ভাববেন।
সেই এক বছরই যেন বদলে দেয় তাঁর জীবন।
‘প্রিয়তমা’ বদলে দিল সবকিছু
টেলিভিশনের পরিচিত মুখ থেকে বড় পর্দার নায়িকা—এই যাত্রায় ইধিকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল বি
শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে বাংলাদেশের দর্শকের কাছে দ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। সিনেমাটির সাফল্যের পর তাঁর হাতে আসতে থাকে একের পর এক বড় কাজ।
এরপর ‘বরবাদ’-এ শাকিবের সঙ্গে আবারও জুটি বাঁধেন। একই সময়ে কলকাতাতেও তাঁর কাজের পরিধি বাড়তে থাকে।
দেবের সঙ্গে ‘খাদান’ ও ‘রঘু ডাকাত’, সৃজিত মুখার্জির সিনেমা এবং এবার জিতের বিপরীতে অভিনয়ের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে ইধিকার ক্যারিয়ারের গতি এখন বেশ লক্ষণীয়।
বাণিজ্যিক সিনেমাতেই বেশি আগ্রহ
পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক সিনেমা সাম্প্রতিক সময়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ইধিকা মনে করেন, দর্শক এখনো ভালো বাণিজ্যিক সিনেমা দেখতে চান।
তাঁর মতে, বুদ্ধিদীপ্তভাবে নির্মাণ করা হলে বাণিজ্যিক সিনেমার দর্শক কম নয়। বিশেষ করে বড় শহরের বাইরে বাংলা সিনেমার বিশাল দর্শকগোষ্ঠী রয়েছে।
ইধিকার ভাষায়, ‘বড় শহরের বাইরে প্রচুর দর্শক আছেন। তাঁরা কিন্তু বাংলা সিনেমা দেখতে চান। ঠিকঠাকভাবে বানালে, এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীকে ধরা সম্ভব।’
তাই বড় পরিচালকদের সঙ্গে ভিন্নধারার সিনেমা করার ইচ্ছা থাকলেও সাধারণ দর্শকের জন্য নির্মিত বাণিজ্যিক সিনেমার প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ রয়েছে।
বড় তারকাদের কাছ থেকে শিখছেন
ক্যারিয়ারের শুরুতেই একের পর এক বড় তারকার সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে শিক্ষার বড় ক্ষেত্র হিসেবেই দেখছেন ইধিকা।
শাকিব খান, দেব কিংবা যীশু সেনগুপ্ত—প্রত্যেকের কাজের ধরন থেকেই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইধিকার ভাষায়, ‘শাকিব খান, দেব বা যীশু সেনগুপ্ত বলুন, সবাই কাজ নিয়ে অনেক সিরিয়াস। নিজের প্রজেক্টটা যেন সাফল্য পায়, সেটা নিয়ে তাঁদের চেষ্টার কমতি থাকে না। তাঁদের সঙ্গে কাজ না করলে এটা বাইরে থেকে বুঝতে পারতাম না। নতুন হিসেবে এটা আমার জন্য বড় শিক্ষা।’
নতুন অভিনেত্রী হিসেবে এত বড় তারকাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে তাই ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
আবারও শাকিবের সঙ্গে জুটি?
ইধিকার ক্যারিয়ারে সামনে আরও একটি বড় চমক আসতে পারে। মেহেদি হাসানের নতুন সিনেমায় আবারও শাকিব খানের সঙ্গে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সত্যি হলে এটি হবে শাকিব-ইধিকা জুটির তৃতীয় সিনেমা।
একদিকে জিতের নায়িকা হওয়ার খবর, অন্যদিকে শাকিবের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সিনেমা—সব মিলিয়ে ইধিকার ক্যারিয়ারে এখন একের পর এক নতুন অধ্যায় যোগ হচ্ছে।
টেলিভিশনের ছোট পর্দা থেকে যাত্রা শুরু করে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দুই বাংলার বড় তারকাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া ইধিকা পাল তাই এখন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সামনে আরও বড় পরিসরে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কালের আলো/জেএন




আপনার মতামত লিখুন
Array