খুঁজুন
                               
, ,
           

অর্থকষ্ট থেকে হৃতিকের বদলে যাওয়া জীবন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অর্থকষ্ট থেকে হৃতিকের বদলে যাওয়া জীবন

একসময় সংসারে এমন অর্থকষ্ট ছিল যে বাড়িভাড়া দেওয়ার সামর্থ্যও ছিল না। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ছাড়াই কাটাতে হয়েছে দিন, মেঝেতে চাটাই পেতে ঘুমিয়েছে পুরো পরিবার। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হৃতিক রোশন। শুধু অভিনয় নয়, ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও নিজের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য।

Hurun India Rich List 2026-এর তথ্য অনুযায়ী, হৃতিক রোশনের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ভারতের ধনী অভিনেতাদের তালিকায় তিনি রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে। অভিনয়ের আয় ছাড়াও তার সম্পদের বড় একটি অংশ এসেছে ব্যবসায়িক বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ফিটনেস ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড HRX থেকে।

‘কয়লা’র পর নেমে আসে অর্থকষ্ট

হৃতিকের পরিবারের আর্থিক সংকটের শুরু ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কয়লা’ সিনেমার পর। ছবিটির পরিচালক ছিলেন তার বাবা রাকেশ রোশন। সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানিয়েছিলেন, ওই সময় বাবাকে ভেঙে পড়তে দেখেছেন তিনি। এমনকি একপর্যায়ে রাকেশ রোশনকে কাঁদতেও দেখেছিলেন। পরিবারের ওপর সেই সময়ের আর্থিক চাপ হৃতিকের শৈশবের অন্যতম কঠিন স্মৃতি হয়ে আছে।

বাড়িভাড়া দেওয়ার টাকাও ছিল না

২০০৬ সালে সিমি গারেওয়ালের অনুষ্ঠানে নিজের শৈশবের সেই কঠিন সময়ের কথা বলেছিলেন হৃতিক। তিনি জানান, পরিবারের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বাড়িভাড়া দেওয়ার মতো অর্থও তাদের হাতে ছিল না।

অর্থকষ্টের কারণে হৃতিকের মা পিঙ্কি রোশন সন্তানদের নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। অন্যদিকে রাকেশ রোশন তখন নিজের মায়ের সঙ্গে থাকতেন।

পরিস্থিতি কিছুটা সামলে উঠলে পরিবার একটি নতুন বাড়িতে ওঠে। কিন্তু সেখানেও স্বাচ্ছন্দ্যের কোনো চিহ্ন ছিল না।

দেয়াল-মেঝে ছাড়া ঘরে শুরু নতুন জীবন

হৃতিকের বর্ণনা অনুযায়ী, নতুন বাড়িতে ওঠার সময় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও ছিল না। ঘরের দেয়াল ও মেঝে ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। পরিবারের সদস্যদের মেঝেতে চাটাই পেতে ঘুমাতে হতো।

ধীরে ধীরে সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়িতে প্রয়োজনীয় আসবাব ও অন্যান্য জিনিসপত্র যোগ হতে থাকে। অর্থকষ্টের সেই দিনগুলো হৃতিকের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে তার সাফল্যের গল্পে এই অধ্যায়টি বারবার ফিরে এসেছে।

ছেলেকে নায়ক বানানোর সিদ্ধান্ত রাকেশের

এরপর ছেলেকে বলিউডের নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত নেন রাকেশ রোশন। ২০০০ সালে মুক্তি পায় হৃতিকের প্রথম সিনেমা ‘কাহো না… পেয়ার হ্যায়’। ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন আমিশা প্যাটেল।

প্রথম সিনেমাতেই দর্শকদের নজর কাড়েন হৃতিক। ছবিটি বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার পর রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। অভিনয়, নাচ, চেহারা—সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মুখে পরিণত হন হৃতিক।

তবে ছেলের অভিষেকের পথটিও রাকেশের জন্য সহজ ছিল না।

ছেলের অভিষেকে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক

হৃতিককে নায়ক করে ‘কাহো না… পেয়ার হ্যায়’ নির্মাণ করতে গিয়ে রাকেশ রোশন বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় বাড়তে থাকায় ছবিটি শেষ করতে তাকে বাড়ি ও গাড়ি পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল।

ছবিটি ব্যর্থ হলে পরিবারকে আরও বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল হয়। সেই সাফল্য শুধু হৃতিকের ক্যারিয়ারই বদলে দেয়নি, পরিবারকেও ফিরিয়ে আনে আর্থিক স্বস্তির পথে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায় হৃতিক

‘কাহো না… পেয়ার হ্যায়’-এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি হৃতিককে। একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘কোয়ি… মিল গয়া’, ‘কৃষ’, ‘ধুম ২’, ‘জোধা আকবর’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

তবে সময়ের সঙ্গে হৃতিকের পরিচয় শুধু অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।

HRX বদলে দেয় ব্যবসায়িক পরিচয়

হৃতিকের ব্যবসায়িক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে তার ফিটনেস ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড HRX। ফিটনেসের প্রতি নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা এই ব্র্যান্ড পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।

ফলে অভিনয় থেকে পাওয়া আয় ছাড়াও ব্যবসা ও ব্র্যান্ডভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম তার সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

অর্থকষ্ট থেকে ধনী অভিনেতার তালিকায়

শৈশবে যেখানে পরিবারের বাড়িভাড়া দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেখান থেকে আজ হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হৃতিক রোশন। Hurun India Rich List 2026 অনুযায়ী, তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

তার এই পথচলায় যেমন রয়েছে বলিউডে প্রথম সিনেমার অভাবনীয় সাফল্য, তেমনি রয়েছে দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ার, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং HRX-এর মতো ব্র্যান্ড।

অর্থকষ্টের সেই দিনগুলো তাই এখন হৃতিকের জীবনের অতীত অধ্যায়। একসময় যে পরিবারকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়াই নতুন বাড়িতে থাকতে হয়েছিল, সেই পরিবারের সন্তানই আজ ভারতের ধনী অভিনেতাদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে।

কালের আলো/জেএন

কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় পরিবর্তন আনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় পরিবর্তন আনছে সরকার

মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বাড়াতে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ সংশোধনের জন্য অধ্যাদেশটির খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে। ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বদলাচ্ছে যুদ্ধ, বদলাতে হবে প্রস্তুতিও —ইএমই কোরকে সেনাপ্রধানের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
বদলাচ্ছে যুদ্ধ, বদলাতে হবে প্রস্তুতিও —ইএমই কোরকে সেনাপ্রধানের বার্তা

সামরিক সক্ষমতার দৃশ্যমান অংশ হিসেবে অস্ত্র, সাঁজোয়া যান বা আধুনিক সরঞ্জাম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে সচল রাখার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ কিংবা শান্তিকাল—দুই পরিস্থিতিতেই সামরিক সরঞ্জামের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই) কোর। সময়ের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় কোরটির দায়িত্বও এখন প্রচলিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসস্থ ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে অনুষ্ঠিত ইএমই কোরের চলতি বছরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন এবং ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত দুই দিনের আয়োজনে একদিকে উঠে এসেছে কোরটির ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার। অন্যদিকে, গুরুত্ব পেয়েছে আধুনিক প্রশিক্ষণ, পেশাগত উৎকর্ষ এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি।

  • সৈয়দপুরে অধিনায়ক সম্মেলন ও ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী
  • আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর নির্দেশ
  • ঐতিহ্য, পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতায় গুরুত্ব

প্রযুক্তির পরিবর্তনে বদলাচ্ছে দায়িত্বের ধরন
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ইএমই কোরের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়ক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি কোরটির কার্যক্রম, উন্নয়ন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সামরিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে একটি বাহিনীর প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও প্রয়োজন হচ্ছে বিশেষায়িত জ্ঞান। ফলে শুধু যন্ত্রপাতি মেরামতের প্রচলিত দক্ষতা যথেষ্ট নয়; নতুন প্রযুক্তি বোঝা, দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকর সমাধান দেওয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে এই পরিবর্তিত বাস্তবতাই গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করছে।

যুদ্ধক্ষমতার নেপথ্যে ইএমইর ভূমিকা
একটি সামরিক ইউনিটের অস্ত্র বা যানবাহন প্রযুক্তিগত কারণে অকার্যকর হয়ে পড়লে তার প্রভাব সরাসরি অপারেশনাল সক্ষমতার ওপর পড়ে। সে কারণে সামরিক সরঞ্জামের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি যুদ্ধ প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইএমই কোর দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছে।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ইএমই কোরের বীর সেনানীসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইএমই কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর অস্ত্র, যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে কোরটির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, কোরটির বর্তমান সক্ষমতার আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি—দুটি বিষয়ই পাশাপাশি উঠে এসেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রযুক্তির সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ভিত্তি হতে পারে—আয়োজনের বিভিন্ন বক্তব্যে সেই বার্তাই প্রতিফলিত হয়েছে।

অধিনায়ক সম্মেলনে উন্নয়ন ও দক্ষতার সমীকরণ
বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন মূলত একটি পেশাগত পর্যালোচনা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্র। এখানে কোরের বিভিন্ন ইউনিটের অভিজ্ঞতা, কার্যক্রম ও উন্নয়নের বিষয়গুলো সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। এবারের সম্মেলনেও ইএমই কোরের কার্যক্রম, উন্নয়ন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সেনাবাহিনী প্রধান একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোরের সদস্যদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন। এর তাৎপর্য শুধু প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক ব্যবস্থায় দক্ষ জনবল তৈরি, বিশেষায়িত জ্ঞান ধরে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত তা কাজে লাগানোর সক্ষমতাও এর অন্তর্ভুক্ত।

পুনর্মিলনীতে প্রজন্মের সেতুবন্ধন
একই আয়োজনে ইএমই কোরের ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোমুগ্ধকর কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে তিনি ইএমই কোরের প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। পুনর্মিলনী সাধারণত অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সাংগঠনিক সেতু তৈরি করে। অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিজ্ঞতা এবং কর্মরত সদস্যদের বর্তমান বাস্তবতা যখন একই পরিসরে মিলিত হয়, তখন পেশাগত ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে কোরের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পেশাগত মমত্ববোধ বৃদ্ধিতে এই ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ঐক্য ও ধারাবাহিকতার বার্তা
দুই দিনের অনুষ্ঠানে ইএমই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম, সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও) মেজর জেনারেল আবু বকর সিদ্দিক খান, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও রংপুরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এবিএম ফয়সাল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এবং ইএমই কোরের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়কেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের এমন উপস্থিতি সম্মেলনের পেশাগত গুরুত্বের পাশাপাশি কোরটির কার্যক্রমের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতার যোগসূত্রও তুলে ধরে।

ঐতিহ্যকে শক্তিতে পরিণত করে ভবিষ্যতের পথে
ইএমই কোরের এবারের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনীকে তাই শুধু নিয়মিত সামরিক আয়োজন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর একদিকে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও দীর্ঘদিনের পেশাগত ঐতিহ্যের স্মরণ, অন্যদিকে রয়েছে দ্রুত পরিবর্তনশীল সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর প্রত্যয়। অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রযুক্তিগত দায়িত্ব থেকে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা—ইএমই কোরের ভূমিকার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় আধুনিক প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক ঐক্য এবং অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতাকে একসূত্রে গাঁথার ওপর এবারের আয়োজনের গুরুত্ব নিহিত। দেশ ও জাতির সেবায় নিবেদিত থাকার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই আয়োজন তাই কোরটির অতীতকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির দিকনির্দেশনাও সামনে এনেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সৃষ্টি করা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৃ-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার বিষয়েও তিনি অবগত রয়েছেন বলে জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। সংরক্ষিত নারী আসনে এসব সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের অধিক হারে মনোনয়নের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

রাষ্ট্রপতি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে সবার প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একা কোনো পক্ষের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরলে তিনি অতীতে বঞ্চিতদের এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি