খুঁজুন
                               
, ,
           

১০০ কোটির প্রকল্প, ৯৮% টাকা খরচ—তবু ঘাটতি সেবায়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ কোটির প্রকল্প, ৯৮%  টাকা খরচ—তবু ঘাটতি সেবায়

প্রকল্প শেষ। বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকাও খরচ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে সেবার ফলাফল নিয়ে। সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯৫ কোটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত বরাদ্দের ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশই খরচ হয়েছে। অথচ সব সেবা পৌঁছেনি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়।

  • ২১ জেলার নারী-শিশুর স্বাস্থ্য প্রকল্পে পুষ্টি ও শিশুসেবার কয়েকটি সূচক ৭০–৮৬ শতাংশে
  • পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও সরঞ্জাম ব্যবহারে উঠে এসেছে দুর্বলতা

বিশেষ করে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচকে প্রকল্পের অর্জন নেমে এসেছে ৮৫ দশমিক ৬, ৭৬ দশমিক ৮ ও ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশে। বিপরীতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কিছু সূচকে অর্জন ৯৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফলে প্রকল্পের আর্থিক বাস্তবায়ন প্রায় পূর্ণ হলেও সেবার ফলাফলে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বৈষম্য।

৫০ লাখ মানুষের জন্য, ফল একরকম নয়
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চলা ‘২১টি জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা প্রদান’ প্রকল্পের আওতায় আট বিভাগের ২১ জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল।

আইএমইডির প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের হার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা গ্রহণের হার ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নারীস্বাস্থ্যসেবার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও শিশু ও পুষ্টির ক্ষেত্রে একই গতি ধরে রাখা যায়নি।

মূল্যায়নে ৭২০ জনের ওপর জরিপ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৮০ জন ছিলেন প্রকল্পের সেবাগ্রহীতা এবং ২৪০ জন তুলনামূলক গোষ্ঠীর সদস্য। পাশাপাশি নেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার, দলীয় আলোচনা ও কেস স্টাডি।

অর্থনৈতিক লাভ আছে, ব্যবস্থাপনায় ফাঁকও আছে
প্রকল্পের অর্থনৈতিক হিসাবে অবশ্য চিত্র ইতিবাচক। অর্থনৈতিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ৩ দশমিক ৭০ এবং অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর্থিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ১ দশমিক ২৩২ এবং আর্থিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কিন্তু আইএমইডির মূল্যায়নে অর্থের বাইরে উঠে এসেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা। অনুমোদনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়নি। বড় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালকও শুরু থেকে পাওয়া যায়নি।

দুই বছর অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উপসচিব ড. আবুল হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালকের কাজ করেন। পরে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একই দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ আলী।

৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় তা হয়নি। আইএমইডির মতে, এতে প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও সমন্বয় ব্যাহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

পরিকল্পনায় সেপ্টেম্বর, দরপত্রে মার্চ
প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বানের কথা ছিল। বাস্তবে তা করা হয় ২০১৯ সালের মার্চে। ছয় মাসের এই বিলম্বের প্রভাব পড়ে পরবর্তী ক্রয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমেও। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হয় ১৫ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কেনা হয় ৪ হাজার ৫০৮টি সরঞ্জাম। ১২টি জেলার জন্য ১২টি অ্যাম্বুলেন্স কিনতে খরচ হয় আরও ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় কিছু এক্স-রে মেশিনসহ সরঞ্জাম পুরোপুরি স্থাপন ও চালু করা যায়নি। অবকাঠামো ও কারিগরি প্রস্তুতির ঘাটতিকেই এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অডিট আপত্তিতেও প্রায় ২৮ লাখ টাকা
প্রকল্পের শেষ অর্থবছর ২০২০-২১-এ ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টাকার চারটি অডিট আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে করোনাকালে স্যাটেলাইট ক্যাম্পে যাতায়াত বাবদ ১২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬০ টাকা এবং প্রশিক্ষণের নামে ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়ায় হলরুম ও সাউন্ড সিস্টেম বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ৬২০ টাকা এবং আর্থিক ক্ষমতার বাইরে মোটরগাড়ি মেরামতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকা ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এর আগে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও আটটি অডিট আপত্তি উঠেছিল। সেগুলো পরে নিষ্পত্তি হলেও শেষ অর্থবছরের চারটি আপত্তি মূল্যায়নের সময়ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় ছিল।

এখন নজর পরিকল্পনার গলদে
প্রকল্প গ্রহণের আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশ করেছে আইএমইডি। শুরু থেকেই পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী তদারকি কাঠামো নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম যাতে কেনার পর পড়ে না থাকে, সে জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিস্থাপনে আলাদা তহবিল গঠনের সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সেবাকে বিদ্যমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আসল সাফল্য টাকা খরচে নয়
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকের মতে, স্বাস্থ্য প্রকল্পের দুর্বলতা অনেক সময় শুরু হয় প্রকল্প তৈরির সময়ই। পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়া প্রকল্প প্রণয়ন হলে পরিকল্পনা, বাজেট ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এর সঙ্গে বাজেট অনুমোদনে বিলম্ব ও প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের মতো বিষয় যুক্ত হলে বাস্তবায়ন আরও ধীর হয়।

এই প্রকল্পের হিসাব তাই সরল নয়। ৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে—এটি এক দিক। অন্যদিকে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের ঘরে আটকে থাকা আরেক বাস্তবতা। স্বাস্থ্য খাতে প্রকল্পের সাফল্যের শেষ মাপকাঠি অর্থব্যয়ের হার নয়; নির্ধারিত মানুষের কাছে কতটা মানসম্মত সেবা পৌঁছেছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/এম/এএইচ

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন এবং তাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার দাবি জানান।

কর্মসূচির পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়ার অভিযোগ তুলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাসেল আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মানিক পশারীর স্বাভাবিক দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় বাধা দিয়েছেন, তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সোহাগী সামিয়া আরও বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মুসলমানের দাফনপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ঘটনাবলির দোহাই দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করার প্রবণতা সম্পর্কেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আদর্শের ওপর আঘাত এলে আরও বেশি মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেবেন।

তবে দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী যুবদল কখনও পিছপা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে যুবদল নিজেদের ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষের অধিকার রক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।

যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ৪৮ বছর আগে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যুবদল দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য ও বীরত্বের প্রতীক যুবদলকে রাজপথে বারবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অনেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তারপরও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাননি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষাভিত্তিক যে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, তা বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে সংগঠনটি।

যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ছাত্রজীবন থেকেই ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। তারা এখন যুবদলের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্রের পতনেও তাদের সাহসী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রাজশাহীর মাঠে ঢাকার দাপুটে জয়, ইনিংস ব্যবধানে হার স্বাগতিকদের

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর মাঠে ঢাকার দাপুটে জয়, ইনিংস ব্যবধানে হার স্বাগতিকদের

নিজেদের মাঠে ঢাকা বিভাগের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে রাজশাহী বিভাগ। চলতি প্রতিযোগিতায় এটি রাজশাহীর প্রথম পরাজয়। এর আগে দুটি ম্যাচ ড্র করার পাশাপাশি একটিতে জয় পেয়েছিল দলটি। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ ড্র করার পর রাজশাহীকে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ঢাকা বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে ১৪৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করে রাজশাহী। ক্রিজে ছিলেন সাব্বির রহমান ও মেহরাব হোসেন। সাব্বির আগের দিনের ৬৪ রানেই আউট হন। এরপর দলীয় ২৪০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৩ রানে বিদায় নেন মেহরাব। এতে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ঢাকা।

রাজশাহীর হয়ে সানজামুল ২৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৭০.৪ ওভারে ২৫৬ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। ঢাকার বোলারদের মধ্যে আনামুল হক ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন। সুমন খান ৪১ রানে এবং রিপন মন্ডল ৬২ রানে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে ঢাকা বিভাগ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করে অলআউট হয়। জবাবে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৬২ রানে। ফলে ৩৫৯ রানের বড় লিড পায় ঢাকা। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী। এতে ইনিংস ও ১০৩ রানের জয় নিশ্চিত করে ঢাকা বিভাগ।

ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ঢাকা বিভাগের নাঈম শেখ নির্বাচিত হন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি