খুঁজুন
                               
, ,
           

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন এবং তাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার দাবি জানান।

কর্মসূচির পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়ার অভিযোগ তুলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাসেল আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মানিক পশারীর স্বাভাবিক দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় বাধা দিয়েছেন, তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সোহাগী সামিয়া আরও বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মুসলমানের দাফনপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ঘটনাবলির দোহাই দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করার প্রবণতা সম্পর্কেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আদর্শের ওপর আঘাত এলে আরও বেশি মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেবেন।

তবে দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী যুবদল কখনও পিছপা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে যুবদল নিজেদের ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষের অধিকার রক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।

যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ৪৮ বছর আগে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যুবদল দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য ও বীরত্বের প্রতীক যুবদলকে রাজপথে বারবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অনেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তারপরও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাননি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষাভিত্তিক যে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, তা বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে সংগঠনটি।

যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ছাত্রজীবন থেকেই ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। তারা এখন যুবদলের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্রের পতনেও তাদের সাহসী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রাজশাহীর মাঠে ঢাকার দাপুটে জয়, ইনিংস ব্যবধানে হার স্বাগতিকদের

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর মাঠে ঢাকার দাপুটে জয়, ইনিংস ব্যবধানে হার স্বাগতিকদের

নিজেদের মাঠে ঢাকা বিভাগের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে রাজশাহী বিভাগ। চলতি প্রতিযোগিতায় এটি রাজশাহীর প্রথম পরাজয়। এর আগে দুটি ম্যাচ ড্র করার পাশাপাশি একটিতে জয় পেয়েছিল দলটি। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ ড্র করার পর রাজশাহীকে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ঢাকা বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে ১৪৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করে রাজশাহী। ক্রিজে ছিলেন সাব্বির রহমান ও মেহরাব হোসেন। সাব্বির আগের দিনের ৬৪ রানেই আউট হন। এরপর দলীয় ২৪০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৩ রানে বিদায় নেন মেহরাব। এতে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ঢাকা।

রাজশাহীর হয়ে সানজামুল ২৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৭০.৪ ওভারে ২৫৬ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। ঢাকার বোলারদের মধ্যে আনামুল হক ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন। সুমন খান ৪১ রানে এবং রিপন মন্ডল ৬২ রানে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে ঢাকা বিভাগ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করে অলআউট হয়। জবাবে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৬২ রানে। ফলে ৩৫৯ রানের বড় লিড পায় ঢাকা। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী। এতে ইনিংস ও ১০৩ রানের জয় নিশ্চিত করে ঢাকা বিভাগ।

ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ঢাকা বিভাগের নাঈম শেখ নির্বাচিত হন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা, আটকে আছে অভিষেক সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা, আটকে আছে অভিষেক সিনেমা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার ক্যারিয়ার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। একদিকে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে অভিষেক সিনেমা ‘সোলজার’-এর মুক্তি নিয়ে সংশয়। শাড়ি বিতর্ককে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন। সর্বশেষ মামলায় তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাড়ি নিয়ে করা আগের মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হত্যার হুমকির অভিযোগ বাদীর

সানায়া চৌধুরীর অভিযোগ, শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তার নারাজি আবেদন গত রোববার (২৫ অক্টোবর) মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। শুনানি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বাদীর দাবি, আদালতের এ আদেশের পর তানজিন তিশা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং তার বাসায় লোকজন পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নতুন মামলা করেছেন।

সানায়া চৌধুরী বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তানজিন তিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে তিশার প্রশ্ন

নতুন মামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তানজিন তিশা ঘটনাটিকে তার সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ধ্বংসের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযোগ উঠলেই কি তা সত্য হয়ে যায়? আদালতের রায়ের আগেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা কতটা যুক্তিসংগত, সে প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী।

তিশার বক্তব্য, তার কাছে ঘটনার বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তবে সেগুলো কীভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন রেখেছেন। অর্থাৎ, অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

শাড়ি নিয়ে আগের মামলায় জামিন

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন এ্যাপোনিয়া ফ্যাশনের নির্বাহী মো. আমিনুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পছন্দ করার পর সেটি অভিনেত্রীর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। শাড়িটি পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

বাদীর দাবি, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিশা সেটি পরে প্রচার করেননি। এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে একটি শাড়ির ঘটনায় আদালতে আসতে হওয়া তার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি সঠিক ও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনিশ্চয়তায় অভিষেক সিনেমা ‘সোলজার’

আইনি জটিলতার পাশাপাশি তানজিন তিশার প্রথম সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গত বছর শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমাটিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী।

গত বছরের অক্টোবরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। পরে আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওই বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মুক্তির সময় ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া নির্মাতার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। দফায় দফায় শিল্পীদের শিডিউল নেওয়া হলেও শুটিং শেষ না হওয়ায় সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফলে একদিকে একাধিক মামলার আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে প্রথম সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন তানজিন তিশা। তবে মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়; অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি