খুঁজুন
                               
, ,
           

উপাচার্য বদলের হিড়িক, অস্থির ক্যাম্পাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
উপাচার্য বদলের হিড়িক, অস্থির ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগের পর দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ চার বছর। কিন্তু সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক উপাচার্যকে অব্যাহতি, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর কিংবা নতুন করে নিয়োগের ঘটনায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোথাও দায়িত্ব নেওয়ার ৩৭ দিনের মাথায় পরিবর্তন, কোথাও ৫৬ দিনের মধ্যেই নতুন উপাচার্য। আর এসব সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া গড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের আন্দোলন, শাটডাউন ও একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার দিকে। চুয়েটের পর ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ সামনে এসেছে। ফলে আলোচনায় এখন শুধু নিয়োগের বৈধতা নয়—উপাচার্য পরিবর্তনের এই ঘনঘটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও একাডেমিক পরিবেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সেটিও।

৫৬ দিনেই শেষ দায়িত্ব
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • ৩৭ ও ৫৬ দিনের মাথায় পরিবর্তন
  • চুয়েটে শাটডাউন, ঢাকা সেন্ট্রালেও আন্দোলনের হুমকি
  • একাডেমিক কার্যক্রমে তৈরি হচ্ছে চাপ

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, অব্যাহতির সময় অধ্যাপক সায়েম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঢাকায় দাপ্তরিক কাজে ছিলেন। সেখানেই তিনি সিদ্ধান্তের কথা জানতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে একাধিক কাজ শুরু করেছিলেন এবং অব্যাহতির দিনও দায়িত্ব পালন করছিলেন। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আগে কোনো ধারণা ছিল না বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পরই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক সমিতির কর্মসূচিতেও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।

৩৭ দিন পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে
এর আগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও ঘটেছে আরও দ্রুত পরিবর্তনের ঘটনা। গত ১৯ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাতকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৩৭ দিন পর ২৫ আগস্ট তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য করা হয়।

এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের পর এত অল্প সময়ের মধ্যে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নিয়োগের ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে প্রতিটি নিয়োগ বা অব্যাহতির পেছনে আলাদা প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট থাকতে পারে। ফলে এসব ঘটনার কারণ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি পৃথকভাবে পর্যালোচনা করাই বাস্তবসম্মত।

ঢাকা সেন্ট্রালেও ক্ষোভ
উপাচার্য পরিবর্তনের নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাত কলেজ নিয়ে গঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলামকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

নতুন নিয়োগের পর শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদায়ী উপাচার্য নুরুল ইসলামকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে দাবি আদায় না হলে ঢাকার রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবমুক্ত কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা থেকেই তারা উপাচার্য নিয়োগে ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা চেয়েছিলেন। নতুন নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তাদের অভিযোগ। চলমান মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বদল শুধু পদে নয়, প্রভাব শ্রেণিকক্ষেও
উপাচার্য পরিবর্তনের অভিঘাত প্রশাসনিক কক্ষের মধ্যেই আটকে থাকে না। শিক্ষক নিয়োগ, পরীক্ষা, অর্থ ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের সঙ্গে উপাচার্যের সিদ্ধান্ত সরাসরি যুক্ত।

শিক্ষাবিদদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে নেতৃত্ব বদলে গেলে নতুন প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় কমে যায় এবং চলমান উদ্যোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। চুয়েটের শাটডাউন পরিস্থিতি দেখিয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম ফায়েজ মনে করেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এমন পরিস্থিতি কমানো সম্ভব হতো। তার বক্তব্য, সার্চ কমিটির মাধ্যমে সিভি সংগ্রহ, প্রার্থীদের শর্টলিস্ট ও প্রয়োজন হলে ভাইভা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরে সম্ভাব্য উপাচার্যদের তালিকা তৈরির কথাও ছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের দাবি, নিয়ম মেনেই নিয়োগ
তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়মের বাইরে যাওয়ার অভিযোগ মানছেন না শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সার্চ কমিটি প্রার্থীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল উপস্থাপন হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আচার্যের কাছে যায়। তার ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়াই নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থিতিশীলতার প্রশ্ন সামনে
বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন কখনো প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই বারবার পরিবর্তন হলে প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা কতটা বজায় থাকে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। চুয়েটে আন্দোলন, গোবিপ্রবিতে দ্রুত স্থানান্তর এবং ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অসন্তোষ—তিনটি ঘটনা ভিন্ন হলেও একটি অভিন্ন বিষয় সামনে এনেছে: উপাচার্য নিয়োগ শুধু একজন ব্যক্তিকে একটি পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্থিতি, একাডেমিক ধারাবাহিকতা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ। তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে শুধু নতুন উপাচার্যের নাম নয়—নিয়োগের প্রক্রিয়া, পরিবর্তনের কারণ এবং একটি প্রশাসনকে কাজ করার জন্য দেওয়া সময়—এই তিনটির স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতাও।

কালের আলো/টিই/এমকে

‘বিষয় না বুঝে কথা বলবেন না’, জামায়াত আমিরকে হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘বিষয় না বুঝে কথা বলবেন না’, জামায়াত আমিরকে হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে বিষয়টি না বুঝে মন্তব্য না করার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিমান চলাচল খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রয়োজন বিবেচনায় অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরকালে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপরাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সুনাম ও সম্মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন—এটি সরকারের মূল্যায়ন।

বোয়িং প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এ চুক্তিতে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ইইউ

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তারা এ অঙ্গীকার করেন। এ সময় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাদের অভিনন্দনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউ ও সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অভিবাসন প্রসঙ্গে তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য দেশকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ইইউ রাষ্ট্রদূতরা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগেও অব্যাহত সহযোগিতার কথা জানান তারা।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউর আরও জোরালো ভূমিকা চান তিনি।

রাষ্ট্রদূতরা রোহিঙ্গা সংকটে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলারসহ সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতরা এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয়, হাইকোর্টের রুল

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয়, হাইকোর্টের রুল

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।

রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, তাদের জন্য নির্বাচনী বিধিমালা ও নির্বাচনী আইন সংশোধন করে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে না কেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি এ বিষয়ে রিটটি করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী বলেন, সরকারি চাকরি ও পুলিশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের বিধান রয়েছে। একইভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন এমন সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষেত্রেও মাদকাসক্তি যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

তার বক্তব্য, জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি মাদকমুক্ত থাকলে তিনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন। এ কারণে নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

আদালতের জারি করা রুলের মাধ্যমে এখন সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি